সূচিপত্র:
ক) কবি পরিচিতি
খ) উৎস
গ) বিষয়সংক্ষেপ
ঘ) নামকরন
ঙ) হাতেকলমে সমাধান
চ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)
ছ) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)
ক) কবি পরিচিতি:
প্রখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক,প্রাবন্ধিক তথা অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা হরিদাস চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ইংরেজদের সওদাগরি অফিসের কেরানি। মেধাবী ছাত্র সুনীতিকুমার ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মতিলাল 'শীল ফ্রি স্কুল' থেকে এনট্রান্স পাস করেন।এরপর স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে এফ.এ, প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বি.এ এবং এম.এ পাস করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে কিছুকাল চাকরি করার পর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্বনিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে যান। ওই সময় তিনি বিভিন্ন ভাষা নিয়ে প্রচুর কাজ করেছেন। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভারতের জাতীয় অধ্যাপক হন। তাঁর লেখা একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'The Origin and Development of the Bengali Language'। বাংলা ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে তিনি অজস্র প্রবন্ধ রচনা করেছেন।এ বিষয়ে রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল- 'বাঙ্গালা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা'।এছাড়াও তিনি নানাবিষয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল-রবীন্দ্রসঙ্গমেব,শ্যামদেশ,পশ্চিমের যাত্রী,ইউরোপভ্রমণ,জাতি সংস্কৃতি সাহিত্য,ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা,ভারত সংস্কৃতি,মনীষী স্মরণে,সংস্কৃতি কী' প্রভৃতি।'জীবনকথা' নামে রচিত তাঁর আত্মজীবনীটি বাংলা সাহিত্যের এক অন্যতম সম্পদ। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের জীবনাবসান ঘটে।
খ)উৎস:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথচলতি' রচনাংশটি তাঁর ‘পথচলতি ’গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
গ) বিষয়সংক্ষেপ:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'পথচলতি' গদ্যাংশে গয়ায় অবস্থিত তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে দেহরাদুন এক্সপ্রেসে চড়ে কলকাতায় ফেরার ঘটনা বর্ণনা করেছেন।সেটি সম্ভবত ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের শীতকালের ঘটনা। স্টেশনে পৌঁছে লেখক দেখলেন, ট্রেন ঠিক সময়ে এলেও তাতে অসম্ভব ভিড়। তাঁর কাছে ছিল দ্বিতীয় শ্রেণির রিটার্ন টিকিটের ফিরতি অংশ। সমস্ত ট্রেনটাকে একবার ঘুরে দেখার জন্য তিনি ইঞ্জিনের দিকে এগোলেন। সেখানে দেখলেন একটি বড়ো তৃতীয় শ্রেণির বগির কাছে একেবারেই লোকজনের ভিড় নেই। কাছে গিয়ে দেখলেন কয়েকজন কাবুলিওয়ালা সেটি দখল করে রয়েছে। সাধারণ যাত্রী,রেলের কর্মচারী বা পুলিশ কেউই তাদের হুংকার আর জবরদস্তির জন্য সেদিকে ঘেঁষছেন না।
ফারসি ভাষায় কিছু কথাবার্তা বলতে পারেন বলে লেখক তাদের কামরাটি খুলে ভিতরে ঢুকতে গেলেন। তখনই কাবুলিওয়ালাদের পশতু ভাষায় নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন তিনি। তিনি ওইসব প্রশ্নের উত্তর দিলেন ফারসিতে। ফারসি আফগানিস্তানের শিক্ষিতজনের ভাষা, উচ্চ ও ভদ্রসমাজের ভাষা,
সরকারি ভাষা। সেই ফারসি ভাষা না জানার জন্য তাদের সঙ্গে সামান্য উপহাস আর তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কথা বলেন লেখক। গাড়ির ভেতরের একজন যুবক বলে যে, সে ফারসি জানে। এরপর সে লেখকের কাছে জানতে চায়, তিনি কী চান। তখন লেখক তাকে জানান, তিনি কলকাতায় যাবেন, তাঁকে ওই কামরায় একটু জায়গা দেওয়া হোক। তারা পরস্পরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে থাকে। এরপর লেখক ফারসি জানেন বলে তাঁকে সম্মানের সাথে দেখতে থাকে সকলে। এমন সময় ইশারায় দলের অনুমতি পেয়ে সেই যুবক লেখককে ভিতরে আসতে বলে। ভিতরে এসে লেখক অবাক হয়ে লক্ষ করেন, তারা তাঁকে পুরো একটি বেঞ্চ ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। উত্তর-পশ্চিম সীমান্তপ্রদেশ আর ইংরেজ অধীনস্থ পাঠান-উপজাতি অঞ্চলের এই মানুষগুলির সঙ্গে এরপর লেখক হিন্দুস্থানি আর বাংলায় বেশিরভাগ কথাবার্তা বলতে বলতে এগিয়ে চললেন কলকাতার দিকে। সেই ষোলো জন কাবুলিওয়ালার মধ্যে আগা সাহেবের কথা লেখক বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের বরিশালের পটুয়াখালি বন্দরকে কেন্দ্র করে আগা-সাহেবের ব্যাবসা। তিনি শীতবস্ত্র আর হিং বিক্রি করতেন। পাশাপাশি চাষিদের টাকাও ধার দিতেন।
এরপর দীর্ঘ রেলযাত্রায় সময় কাটাবার উদ্দেশ্যে লেখক পাঠানদের পশতু ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি খুশ-হাল-খাঁ খট্টকের গজল শোনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কাবুলিওয়ালাদের কাছ থেকে তিনি তা শুনলেনও। এ ছাড়াও আদম খাঁ আর দুরখানির মহব্বতের কিসসাও তাঁকে শোনাল কাবুলিরা। এইভাবে সেই কামরাটিতে যেন পশতু-সাহিত্যগোষ্ঠী বা সম্মেলন ঘটে গেল। লেখক তাঁর কথাবার্তার মাধ্যমে কাবুলিওয়ালাদের সম্ভ্রম আদায় করে নিলেন। রাতে গভীর ঘুমের পর ভোরে উঠেই লেখক কাবুলিওয়ালাদের রোজার প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখলেন। পটুয়াখালির বৃদ্ধ আগা খাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতে লেখক দেখলেন,গাড়ি আসানসোলে এসে পড়ল।অবশেষে ট্রেন কলকাতা এসে পৌঁছোল ।
ঘটনাটির পর বহুদিন পেরিয়ে গেলেও লেখক তাঁর সেই সহযাত্রীদের কথা ভুলতে পারেননি। খুঁটিনাটি সব কিছু বর্ণনার গুণে, বৈঠকি ঢংয়ে গল্পগুলি তুলে ধরার মধ্য দিয়ে রচনাংশটি অত্যন্ত মনোগ্রাহী হয়ে উঠেছে।
ঘ)নামকরণ:
যে কোনো সাহিত্যের ক্ষেত্রেই নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।নামের মাধ্যমেই লেখক তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করেন। রচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে পাঠকের ধারণা তৈরি হয় নামের মধ্য দিয়েই। নামকরণ বিভিন্ন দিক থেকে হতে পারে। কখনও তা হয় চরিত্র অনুসারে, কখনও বা হয় ব্যঞ্জনাধর্মী। ভাষাতত্ত্ববিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একবার গয়ায় অবস্থিত তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে ট্রেনে করে কলকাতায় ফিরছিলেন।সেই রেলযাত্রার কাহিনি তিনি পাঠ্যাংশে তুলে ধরেছেন।পথচলার বিবরণ হিসেবেই‘পথচলতি” নামটি গ্রহণযোগ্য।এই রেলযাত্রাটি লেখকের কাছে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে কাবুলিওয়ালাদের সহযাত্রী হওয়ার দুর্লভ অভিজ্ঞতার কারণে। একজন ভদ্রলোকের পাঠান দেশে পাঠানদের মধ্যে দিন কাটানোর অভিজ্ঞতার কথা লেখক সম্ভবত 'প্রবর্তক' পত্রিকায় পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু কাবুলিওয়ালাদের মধ্যে সময় কাটানোর নিজস্ব অভিজ্ঞতা তাঁর এই প্রথম।দেহরাদুন এক্সপ্রেসে চড়ে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের এক শীতের রাতে কলকাতা ফেরার সময়ে ষোলো জন কাবুলিওয়ালার মধ্যে তিনিই ছিলেন একা বাঙালি। কীভাবে যে তিনি তাদের কাছে পরম আদরণীয়, শ্রদ্ধেয় ও 'আলেম' হয়ে উঠেছিলেন-সেই বিবরণই শুনিয়েছেন লেখক। সেইসঙ্গে আলোচনা করেছেন বরিশালের এক ব্যবসায়ী কাবুলিওয়ালার কথা, পশতু কবি খুশ-হাল খাঁ খট্টক, কিংবা আদম খাঁ-দুরখানির কিসসার প্রসঙ্গ। রচনাটি সমস্ত ঘটনাই পথে ঘটেছে বলে রচনাটির নামকরণটি সার্থক ও যথার্থ হয়েছে।
ঙ) হাতেকলমে সমাধান:
১)নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
১.১)সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীর নাম কী?
উত্তর: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীটির নাম হল- 'জীবনকথা'।
১.২)ভাষাতত্ত্ব বিষয়ে কোন গ্রন্থ রচনার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন?
উত্তর :"The origin and Development of the Bengali Language "- নামে ভাষাতত্ত্ব গ্রন্থেরজন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
২)নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও।
২.১)লেখকের কোন্ ট্রেন ধরার কথা ছিল?
উত্তর: লেখকের গয়া স্টেশন থেকে ‘দেহরাদুন এক্সপ্রেস' ট্রেন ধরার কথা ছিল।
২.২) একটাতৃতীয় শ্রেণির বগির কাছে একেবারেই লোকের ভিড়নেই কেন?
উত্তর:একটা তৃতীয় শ্রেণির বগির কাছে একেবারেই লোকের ভিড় ছিল না,কারণ,ট্রেনের সেই অংশটি ছিল কাবুলিওয়ালাদের দখলে।
২.৩ )পাঠানদের মাতৃভাষা কী?
উত্তর:পাঠানদের মাতৃভাষা হল ‘পশতু’।
২.৪) বৃদ্ধ পাঠানের ডেরা বাংলাদেশের কোথায় ছিল?
উত্তর: বৃদ্ধ পাঠানের ডেরা ছিল বাংলাদেশের বরিশালঅঞ্চলের পটুয়াখালি বন্দরে ।
২.৫)খুশ-হাল খাঁ খট্টক কে ছিলেন?
উত্তর: খুশ-হাল খাঁ খট্টক ছিলেন আওরঙ্গজেবের সমসাময়িক এবংপাঠানদেরপশতু ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি।
২.৬) আদম খাঁ ও দূরখানির কিসসার কাহিনি কেমন?
উত্তর:আদম খাঁ ও দুরখানির মহব্বতের কিসসার কাহিনি হল 'দিল- 'ভাঙা কাহিনি' অর্থাৎ বেদনার আখ্যান।
২.৭) এই পাঠ্যে কোন্ বাংলা মাসিকপত্রের উল্লেখ আছে?
উত্তর:এই পাঠ্যে ‘প্রবর্তক' নামে বাংলা মাসিকপত্রের উল্লেখ আছে।
২.৮)রোজার উপোসের আগে কাবুলিওয়ালারা ভরপেট কী খেয়েছিলেন?
উত্তর:রোজার উপোসের আগে কাবুলিওয়ালারা ভরপেট বড়ো-বড়ো পাঠান'রোটা' আর কাবাব খেয়েছিলেন।
২.৯)‘তসবিহ' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর:‘তসবিহ’শব্দের অর্থ মুসলমানদের ‘জপমালা’।
২.১০) আরবি ভাষায় ঈশ্বরের নিরানব্বইটি পবিত্র ও সুন্দর নামকে কীবলা হয় ?
উত্তর:আরবি ভাষায় ঈশ্বরের নিরানব্বইটি পবিত্র ও সুন্দর নামকে ‘নব্বদ্ও নও অসমা-ই-হাসানা' বলা হয়।
৭)প্রসঙ্গ উল্লেখ করে টীকা লেখো-কাবুলিওয়ালা, পশতু,ফারসি,আফগানিস্তান,বরিশাল,গজল,উর্দু, নমাজ।
কাবুলিওয়ালা:
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অধিবাসীদের মধ্যে যারা বাংলাদেশে নানা জিনিসপত্র বিক্রি ও সুদের কারবার করতে আসেন,তাদেরকেই সাধারণত কাবুলিওয়ালা বলা হয়।পাঠ্যাংশে দেহরাদুন এক্সপ্রেসের একটি কামরায় ষোলো জন কাবুলিওয়ালার সম্পর্কে উল্লিখিত হয়েছে। লেখক যাত্রাপথে এদের সঙ্গী হন এবং সাংস্কৃতিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের কাছে বিপুল সম্মান অর্জন করেন।
পশতু:
পশতু আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের কিছু অংশ, বেলুচিস্তান এবং পাঞ্জাবের অংশবিশেষে প্রচলিত ভাষা ছিল। কমবেশি ৪০ লক্ষ লোক এই ভাষায় কথা বলে থাকেন। ইন্দো-ইরানীয় ভাষার ইরানীয় উপশাখা থেকে উদ্ভূত একটি আধুনিক ভাষা হল পশতু।পাঠ্য রচনাংশে পশতু ভাষার কবি খুশ-হাল খাঁ খট্টকের এবং আদম খাঁ-দুরখানির মহব্বতের কিসসার প্রসঙ্গ এসেছে।
ফারসি:
সমগ্র ইরানে ব্যবহৃত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় উপগোষ্ঠীর অন্যতম ভাষা এটি। আধুনিক ফারসি ভাষায় ইরানের উত্তর-পশ্চিমাংশের কথ্য ভাষার প্রভাব লক্ষ করা যায়। আরবি লিপিকে সামান্য সংশোধিত ও পরিবর্তিত করে ফারসি ভাষা লেখা হয়ে থাকে। পাঠ্যাংশে আফগানিস্তানের শিক্ষিত জনের ভাষা, উচ্চ ও ভদ্রসমাজের ভাষা, সরকারি ভাষা হিসেবে ফারসি ভাষার কথা বলা হয়েছে। এই ভাষায় লেখক কতখানি দক্ষ ছিলেন,তার পরিচয় পাওয়া যায়।
আফগানিস্তান:
ভারতের একটি প্রতিবেশী দেশ হল-আফগানিস্তান। কাবুল আফগানিস্তানের রাজধানী।এখানে বিভিন্ন জাতি ও ভাষার সমাবেশ লক্ষ করা যায়। পূর্ব আফগানিস্তানের পশতুভাষীরা ওয়াজিরি, আফ্রিদি ইত্যাদি নামে এবং কাবুল উপত্যকার উপজাতিভুক্ত মানুষরা পাঠান নামে পরিচিত। পশ্চিম
আফগানিস্তানের তাজিকরা ফারসিভাষী। পাঠ্যাংশে কাবুলিওয়ালাদের বাসভূমির প্রসঙ্গ আলোচনায় আফগানিস্তানের কথা উঠে এসেছে।
বরিশাল:
বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি জেলা,মহকুমা, থানা ও শহর। জেলাটির আয়তন ৯,৭৯৮ বর্গকিলোমিটার। এই জেলার প্রধান নদীগুলির মধ্যে রয়েছে- কীর্তনখোলা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া, হরিণঘাটা, বালেশ্বর, বিষখালি, আড়িয়ালখাঁ প্রভৃতি।পূর্ববঙ্গের শস্যাগার হিসেবেও এই জেলা প্রসিদ্ধ। মধ্যযুগে এই জেলার নাম ছিল চন্দ্রদ্বীপ ও পরে হয় বাকলা। ১৭৬৫ থেকে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই জেলা বাখরগঞ্জ নামে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকে। বালাম চাল, নারকেল, সুপারি, ডালশুক্তি, ঝিনুক প্রভৃতি এই জেলার প্রধান রপ্তানিদ্রব্য। পটুয়াখালিতে বিভিন্ন প্রকার নিব, বড়পাইকী ও উজিরপুরে ছুরি, কাঁচি, জাঁতি, রামদা, শাঁখের করাত তৈরি হয়। পটুয়াখালি ছাড়াও ঝালকাঠি, ভোলা, দৌলত খাঁ প্রভৃতি এখানকার ব্যাবসাবাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র।পাঠ্যাংশে আগা সাহেবের ব্যাবসাকেন্দ্র হিসেবে বরিশালের পটুয়াখালি বন্দরের প্রসঙ্গ এসেছে। কাবুলিওয়ালা আগা-সাহেব যে বরিশালি ভাষাতেও দক্ষতা অর্জন করেছেন,লেখক সে কথাও জানাতে ভোলেননি।
গজল:
ফারসি ভাষায় প্রণয় সংগীত হল গজল। গজল কয়েকটি ‘শের’ নিয়ে গঠিত।গজলের প্রতিটি পক্তি একই ছন্দে লিখিত হয়।গজলের শেষ শেরে সাধারণভাবে গীতিকারের ছদ্মনাম থাকে। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে গয়া থেকে কলকাতায় আসার পথে ট্রেনে লেখক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ঘটনাচক্রে ষোলো কাবুলিওয়ালার সহযাত্রী হয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময়,লেখক তাদের মধ্যে কেউ পশতু ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি খুশ হাল খাঁ খট্টকের গজল জানেন কি না জানতে চান। তখন একজন পাঠান ব্যক্তি উৎসাহিত হয়ে তাঁকে পশতু ভাষায় রচিত খুশ-হাল খাঁ খট্টকের গজল গেয়ে শোনায়
উর্দু:
তুর্কি শব্দ ‘ওর্দু' থেকে এসেছে উর্দু। এর অর্থ শিবির বা ক্যাম্প। এটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার ভাষা।পাকিস্তান,ভারত, আফগানিস্তান ছাড়াও বিশ্বের নানান দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা উর্দুতে কথা বলেন। দেহরাদুন এক্সপ্রেসে কাবুলিওয়ালাদের সঙ্গে গয়া থেকে কলকাতা ফেরার সময় লেখক তাঁর দুই সহযাত্রীকে পশতু ভাষায় নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় নিমগ্ন থাকতে দেখেছিলেন। তাঁর পশতু ভাষা জানা না থাকলেও উর্দু জানার সুবাদে তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু সহজেই বুঝতে পেরেছিলেন।
নমাজ:
'নমাজ' শব্দটি ফারসি। আরবিতে বলা হয় 'সালাত'। ইসলাম ধর্ম যে পাঁচটি মূলভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, তার মধ্যে নমাজ হল দ্বিতীয়। নমাজকে ইসলাম ধর্মের শ্রেষ্ঠ স্তম্ভ বলে। ইসলাম ধর্মে সারাদিনে পাঁচবার নমাজ পড়া অবশ্য কর্তব্য রূপে চিহ্নিত হয়েছে।এ ছাড়াও নানা উপলক্ষ্যে নমাজ পড়া হয়ে থাকে। ইসলাম ধর্মে মনে করা হয়,নমাজ সমস্ত রকমের অপকর্ম ও পাপ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
৮)নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর কয়েকটি বাক্যে লেখো।
৮.১)স্টেশনে পৌঁছে লেখক কী দেখেছিলেন?
উত্তর:ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পথচলতি’ রচনাংশে গয়া থেকে লেখকের কলকাতায় ফেরার এক চমকপ্রদ বর্ণনা রয়েছে। লেখক সম্ভবত ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে ঘটনাটি ঘটেছিল। একটি মধ্যম শ্রেণির রিটার্ন টিকিটের ফিরতি অংশ সঙ্গে নিয়ে লেখক দেহরাদুন এক্সপ্রেস ধরার জন্য স্টেশনে এসেছিলেন।ট্রেন সেদিন সময়মতো এলেও কোনো এক অজানা কারণে গাড়িতে সেদিন অসম্ভব ভিড় ছিল। মধ্যম শ্রেণির কামরায় ওঠা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। দ্বিতীয় শ্রেণির কামরা গুলিতে মানুষজন মেঝেতে বিছানা করে,কোথাও বা বসে অথবা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।সমস্ত ট্রেনের অবস্থা দেখার জন্য লেখক ইঞ্জিনের দিকে এগোলেন।দেখলেন,তৃতীয় শ্রেণির একটি বড়ো ‘বগির কাছে একেবারেই লোকের ভিড় নেই।লেখক সামনে গিয়ে দেখলেন যে সেটি জনা কয়েক কাবুলিওয়ালা দখল করে রেখেছে।
৮.২) দুই চারটি ফারসি কথা বলতেপারার ক্ষমতা লেখককে কী রকম সাহসদিয়েছিল ?
উত্তর: ‘পথচলতি' শীর্ষক রচনাংশে লেখক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় যে সময়ের কথা বলেছেন, সেসময়ও ফারসি ছিল আফগানিস্তানের শিক্ষিত জনের ভাষা। উচ্চ ও ভদ্রসমাজের ভাষা,সরকারি ভাষা হওয়ার কারণে তার সম্মান ছিল অনেক। পাঠানদের মাতৃভাষা পশতুর তখন তেমন সম্মান ছিল না। সেই সম্মান না থাকার কারণ হল পশতুভাষী লোকেদের মধ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অভাব। তা ছাড়া,পশতু ভাষায় সাহিত্যও তেমনভাবে রচিত হয়নি।গল্পের শুরুতে, গয়া থেকে কলকাতা যাওয়ার জন্য স্টেশনে পৌঁছে লেখক দেখেছিলেন, কাবুলিওয়ালাদের দখল করা একটি কামরাতেই একমাত্র কিছুটা জায়গা খালি রয়েছে। লেখক মনে করলেন, কাবুলিওয়ালাদের মধ্যে ফারসি বলাটা যখন শিক্ষা ও আভিজাত্যের লক্ষণ, তখন তিনি যদি তাদের সঙ্গে ফারসিতে দু-একটাও কথা বলেন, তাহলে তারা বাঙালির মুখে ফারসি শুনে হকচকিয়ে যাবে আর তারপরে হয়তো তাঁর জন্য জায়গাও ছেড়ে দিতে পারে।
৮.৩)'আলেম' শব্দের মানে কী?লেখককে কারা,কেন 'এক মস্ত আলেম' ভেবেছিলেন?
উত্তর: 'আলেম' বা 'আলিম' শব্দের অর্থ হল 'সর্বজ্ঞ পণ্ডিত ব্যক্তি'।অর্থাৎ যিনি সব কিছু জানেন।
উত্তর:দেহরাদুন এক্সপ্রেসের তৃতীয় শ্রেণির কামরার কাবুলিওয়ালারা সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'এক মস্ত আলেম' ভেবেছিলেন।বাঙালি হয়েও তিনি যেভাবে ফারসি ভাষায় অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কথাবার্তা বলতে শুরু করেন,তাতে তারা হতভম্ব হয়ে পড়ে।তাদের ফারসি জ্ঞানের অভাবের সুযোগ নিয়ে লেখক কথা বলতে গিয়ে সামান্য তাচ্ছিল্যের ভাব দেখিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একটি অল্পবয়সি ছেলে ফারসি জানে বলে দাবি করে এবং সে লেখকের অভিপ্রায় জানতে চায়। লেখক জানান তিনি কলকাতা শহরে যাবেন আর সে কারণেই তিনি ওই কামরায় জায়গা পেতে চাইছেন। এ কথা শুনে ছেলেটি দলের অনুমতি পেয়ে লেখককে ভিতরে আসতে বলে।লেখকের এই ফারসি জ্ঞানের কারণেই কাবুলিওয়ালারা তাঁকে ‘এক মস্ত আলেম' ভেবেছিলেন।
চ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)
১)‘পথচলতি’ গল্পটি রচনা করেছেন-
ক)শিবনাথ শাস্ত্রী
খ) অমিয় চক্রবর্তী
গ) এস ওয়াজেদ আলি
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর:(ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
২)পথচল্লি’ গল্পের ব্যাপারটা খুব সম্ভবত ঘটেছিল- ক) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে
খ) ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে
গ) ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে
ঘ)১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে
উত্তর:(ক) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে
৩)পথচলতি’ রচনায় কথক কোথা থেকে ফিরছিলেন?-
ক)গয়া
খ) পাটনা
গ) রাজগির
ঘ)বিহার
উত্তর:(ক)গয়া
৪)‘পথচতি' রচনায় লেখক শ্বশুরালয় গয়া থেকে ফিরছিলেন-
ক)দেহরাদুন এক্সপ্রেসে
খ)গীতাঞ্জলএক্সপ্রেসে
গ) দানাপুর এক্সপ্রেসে
ঘ) জগন্নাথ এক্সপ্রেসে
উত্তর:(ক)দেহরাদুন এক্সপ্রেসে
৫)‘পথচতি’ গল্প অনুযায়ী আফগানিস্তানের শিক্ষিত মানুষদের ভাষা হল-
ক) পশতু
খ) আরবি
গ) ফারসি
ঘ) ফরাসি
উত্তর:(ঘ) ফরাসি
৬)কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষা ছিল-
ক)পশতু
খ) ফারসি
গ) উর্দু
ঘ) আরবি
উত্তর:(ক)পশতু
ছ) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)
১)সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর:সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হল ‘The Origin and Development of the Bengali Language'!
২)রেলের কর্মচারী বা পুলিশ এর ত্রি-সীমানাতেও ঘেঁষছে না।”-না ঘেঁষার কারণ কী?
উত্তর:রেলের কর্মচারী বা পুলিশ দেহরাদুন এক্সপ্রেসের একটি তৃতীয় শ্রেণির বগির কাছে ঘেঁষছিল না কারণ, সেই কামরা দখল করেছিল কিছু জবরদস্ত চেহারার কাবুলিওয়ালা। তারা হুংকার দিয়ে কাউকে সেই কামরায় উঠতে দিচ্ছিল না। তাই ভয় পেয়ে রেল কর্মচারীরা সেই বগির কাছে ঘেঁষছিল না।
৩)পশতু’ কাদের ভাষা?
উত্তর:পশতু’ হল আফগানিস্তানের অল্পশিক্ষিত নিম্নশ্রেণির কাবুলিওয়ালা পাঠানদের মাতৃভাষা।
৪)আফগানিস্তানে শিক্ষিতজনের ভাষা কী?
উত্তর:আফগানিস্তানে শিক্ষিতজনের ভাষা হল ফারসি।
৫)আফগানিস্তানে ফারসি ভাষার তিনটি গুরুত্ব লেখো।
উত্তর:আফগানিস্তানে ফারসি হল শিক্ষিতজনের ভাষা,উচ্চ ও ভদ্রসমাজের ভাষা,সরকারি ভাষা।
৬)পাঠানদের মাতৃভাষা কী?
উত্তর:পাঠানদের মাতৃভাষা হল ‘পশতু’।
৭)“সাহস হচ্ছে খালি এই জন্য”-কীসের কারণে সাহস হচ্ছিল?
উত্তর:লেখকের সাহস হয়েছিল কারণ তিনি ফারসি ভাষায় দু-চারটি কথা বলতে পারতেন। এর জোরেই তিনি পাঠানদের কামরায় জায়গা করে নিয়েছিলেন।
আরো পড়ুন:
বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
অদ্ভুত আতিথেয়তা গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশের প্রশ্ন উত্তর Click Here
বনভোজনের ব্যাপার গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
সবুজ জামা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
চিঠি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
পরবাসী কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
পথচলতি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
ছন্নছাড়া গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি Click Here
দাঁড়াও কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
গড়াই নদীর তীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
নাটোরের কথা গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
স্বাধীনতা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
শিকল-পরার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
হওয়ার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
the wind cap lesson 1 part 1 Click Here
the wind cap lesson 1 part 2 Click Here
the wind cap lesson 1 part 3 Click Here
Clouds Lesson 2 part 1 Click Here
Clouds Lesson 2 part 2 click Here
একটি চড়ুই পাখির কবিতা প্রশ্ন উত্তর Click Here
কার দৌড় কতদূর গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here
গাছের কথা প্রশ্ন উত্তর click Here
ঘুরে দাঁড়াও কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here
মাসি পিসি কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here
পরাজয় গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-1 click here
পটলবাবু ফিল্মস্টার গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
টিকিটের অ্যালবাম গল্পের প্রশ্ন উত্তর part -1 click here
লোকটা জানলই না কবিতা প্রশ্ন উত্তর click Here
Midnight Express Lesson-11 part-1 question answer Click Here
Midnight Express lesson-11 part-2 question answer click Here
Midnight Express Lesson-11 part-3 question answer click Here
চা পানের উপকারিতা click Here
ভেষজ উদ্ভিদ click here
সুভা গল্পের প্রশ্ন উত্তর click here
আদাব গল্পের প্রশ্ন উত্তর click here
সমাসের প্রশ্ন উত্তর Click here
বাক্যের প্রশ্ন উত্তর Click here
মশা কয় প্রকার ও কী কী Click here
0 Comments