সূচিপত্র:
ক) লেখক পরিচিতি
খ) উৎস
গ) গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
ঘ) নামকরন
ঙ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) প্রশ্নের মান-১
চ) কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-১
ছ) কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৩
জ) কমবেশি ১৫০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৫
ক) লেখক পরিচিতি:
জন্ম ও শৈশব:
বঙ্কিমচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁটালপাড়া গ্রামে। বাবা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডেপুটি কালেক্টরের পদে কাজ করতেন।
ছাত্রজীবন:
গ্রামের পাঠশালার বঙ্কিমচন্দ্রের বিদ্যাচর্চার শুরু হলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁর শিক্ষা আরম্ভ হয় মেদিনীপুরে।বাবা যাদবচন্দ্র তখন সেখানে কর্মরত ছিলেন। মেদিনীপুরের ইংরেজি স্কুলের ছাত্র হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র মেদিনীপুর থেকে কাঁটালপাড়ায় ফিরে আসেন।কিছুদিন বাড়িতে পড়াশোনার পর ভরতি হন হুগলি কলেজে। ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে হুগলি কলেজ ছেড়ে বঙ্কিমচন্দ্র আইন পড়ার জন্য ভরতি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। তার আগেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্রের বয়স যখন এগারো,তখন পাঁচ বছরের একটি মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথমা স্ত্রী মারা গেলে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি হালিশহরের বিখ্যাত চৌধুরী পরিবারের মেয়ে রাজলক্ষ্মী দেবীকে বিয়ে করেন।
কর্মজীবন:
বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে নিযুক্ত হন। চাকরি উপলক্ষ্যে তাঁকে বহু জায়গায় ঘুরতে হয়েছিল। দীর্ঘ তেত্রিশ বছর যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করার পর ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
সাহিত্যজীবন:
ছাত্রাবস্থাতেই বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। তাঁর অনেক গদ্য-পদ্য রচনা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর-এ প্রকাশিত হত। বঙ্কিমচন্দ্র প্রথম উপন্যাস রচনা করেন ইংরেজিতে। Rajmohan's Wife নামে তাঁর এই উপন্যাসটি ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে ইন্ডিয়ান ফিল্ড পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম বাংলা উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি যেমন- দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬), মৃণালিনী (১৮৬৯), বিষবৃক্ষ (১৮৭৩), ইন্দিরা (১৮৭৩), যুগলাঙ্গুরীয় (১৮৭৪), চন্দ্রশেখর (১৮৭৫), রাধারাণী (১৮৭৭), রজনী (১৮৭৭), কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮), রাজসিংহ (১৮৮২), আনন্দমঠ (১৮৮২), দেবী চৌধুরানী (১৮৮৪), সীতারাম (১৮৮৭)।
প্রবন্ধসাহিত্যের তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হল- লোকরহস্য (১৮৭৪), বিজ্ঞানরহস্য (১৮৭৫), কমলাকান্ডের দপ্তর (১৮৭৫), বিবিধ সমালোচনা (১৮৭৬), সাম্য (১৮৭৯), বিবিধ প্রবন্ধ (১৮৮৭) প্রভৃতি।
জীবনাবসান:
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
খ) উৎস:
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত রাধা রানী, গল্পংশটি 'রাধারানী' উপন্যাস থেকে গৃহীত হয়েছে।
গ) বিষয়সংক্ষেপ:
রাধারাণী এক গরিব বিধবা মায়ের মেয়ে।এক সময় বড়লোক হলেও জ্ঞাতির সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমায় হেরে যায়। ফলে তার মা নিঃস্ব হয়ে যান। কুটিরে বসবাস এবং পরিশ্রম করে কোনোরকমে তাঁর দিন চলত। কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় মা ও মেয়ের উপবাস চলতে লাগল। এই সময়ে মায়ের পথ্যের চিন্তায় অস্থির হয়ে রাধারাণী বন থেকে ফুল তুলে মালা গাঁথল। রথের হাটে তা বিক্রি করে মায়ের পথ্যের জন্য অর্থসংগ্রহ করা। কিন্তু বৃষ্টিতে রথের মেলা ভেঙে গেল। রাধারাণী অনেক অপেক্ষা করার পরও বৃষ্টি থামল না,মেলাও জমল না। অন্ধকার পথে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রাধারাণী যখন বাড়ি ফিরছিল তখন তার চোখ থেকেও বৃষ্টির মতোই জল গড়িয়ে পড়ছিল। এই সময়ে হঠাৎই এক পথিক তার ঘাড়ের উপরে এসে পড়ে এবং তার কান্নার কারণ জানতে চায়।বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্য দিয়ে রাধারাণীর অবস্থা,বাসস্থান ইত্যাদি জেনে নিয়ে সেই পথিক পিছল পথে হাত ধরে তাকে নিয়ে চলে। রাধারাণীর গাঁথা মালাটিও সে বাড়ির ঠাকুরকে পরানোর জন্য কিনে নেয়। কিন্তু দাম নিয়েই রাধারাণীর সন্দেহ হয় যে তাকে পয়সার বদলে টাকা দেওয়া হয়েছে কি না। সে বাড়িতে ফিরে তা প্রদীপ জ্বালিয়ে যাচাই না করা পর্যন্ত পথিককে দাঁড়াতে বলে। আগুন জ্বালিয়ে সে দেখে যে তার অনুমান ঠিক। তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাইরে এসে রাধারাণী দেখে পথিক চলে গিয়েছে। এরই মধ্যে কাপড়ের দোকানের মালিক পদ্মলোচন সাহা একজোড়া শান্তিপুরি শাড়ি রাধারাণীর জন্য এনে বলে যে এক বাবু দাম মিটিয়ে দিয়ে তাকে এই শাড়ি দিয়ে যাওয়ার কথা বলে গেছেন। সকলেই অবাক হল তার পরিচয় নিয়ে। রাধারাণী সেই টাকা ভাঙিয়ে বাজার করে আনল,মার জন্য সামান্য কিছু রান্না করল। এরপর মাকে ভাত বেড়ে দেওয়ার জন্য যখন ঘর ঝাঁট দিচ্ছে তখন সে একটি নোট কুড়িয়ে পেল। তাতে রাধারাণীর নাম লেখা আছে। দাতার নামও লেখা আছে—রুক্মিণীকুমার রায়। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তার খোঁজ তারা পেল না। রাধারাণীরা নোটটি না ভাঙিয়ে তুলে রাখল, কারণ তারা গরিব হলেও লোভী নয়।
ঘ) নামকরণ:
রাধারাণী নামে এক পিতাহারা বালিকা মায়ের পথ্যের অর্থ সংগ্রহের জন্য বন থেকে ফুল তুলে একটি মালা গাঁথে এবং রথের মেলায় যায় সেটি বিক্রির জন্য। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে তার মালা বিক্রি হয়নি। ফলে কাঁদতে কাঁদতে সে যখন বাড়ির পথ ধরেছে-রাত্রির অন্ধকারে তার সঙ্গে পরিচয় ঘটে এক পথিকের। পথিকটি সব শুনে রাধারাণীর মালাটি কিনে নেয়। শুধু তাই নয়, মালার দাম চার পয়সা হলেও তার বদলে সে রাধারাণীকে টাকা দেয়। যাওয়ার সময়ে কাপড় ব্যবসায়ী পদ্মলোচনের দোকানে রাধারাণীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাপড়ের দামও দিয়ে যায় সেই পথিক এবং সকলের আড়ালে রাধারাণীর বাড়িতে একটা নোট রেখে যায়। এই যাবতীয় ঘটনা ও কাজকর্মের মাঝখানে ছিল রাধারাণী। তার নির্লোভ, সৎ, চরিত্রকে তুলে ধরাই ছিল গল্পকারের লক্ষ্য। গল্পে যাবতীয় ঘটনা তাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে। তাই এই পরিপ্রেক্ষিতে চরিত্রকেন্দ্রিক নামকরণ যথার্থ ও সার্থক হয়েছে।
ঙ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) প্রশ্নের মান-১
১) রাধারাণী' রচনাংশটি নেওয়া হয়েছে-
ক) ইন্দিরা উপন্যাস থেকে
খ) রাধারাণী উপন্যাস থেকে
গ) সীতারাম উপন্যাস থেকে
ঘ) বিষবৃক্ষ থেকে
উত্তর:(খ) রাধারাণী উপন্যাস থেকে
২) রাধারাণী' রচনাংশের ঘটনার সময়-
ক) শীতকাল
খ) বর্ষাকাল
গ) শরৎকাল
ঘ) বসন্তকাল
উত্তর:(খ) বর্ষাকাল
৩) রাধারাণী রথ দেখতে গিয়েছিল-
ক) শান্তিপুরে
খ) শ্রীরামপুরে
গ) মায়াপুরে
ঘ) মাহেশে
উত্তর:(ঘ) মাহেশে
৪) মাহেশ অঞ্চলটি যে জেলার অন্তর্গত-
ক)হুগলি
খ) হাওড়া
গ) পূর্ব মেদিনীপুর
ঘ) বর্ধমান
উত্তর:(ক)হুগলি
৫)'তাহাদিগের অবস্থা পূর্বে ভাল ছিল।'-অবস্থা ভালো ছিল-
ক) রুক্মিণীকুমারের
খ) রাধারাণীদের
গ) পদ্মলোচনের
ঘ) এদের কারও নয়
উত্তর:(খ) রাধারাণীদের
৬) রাধারাণী বালিকা হলেও, তার বয়স হয়েছিল-
ক) আট-নয় বছর
খ) দশ-এগারো বছর
গ)দশ বছর
ঘ) বারো বছর
উত্তর:(খ) দশ-এগারো বছর
৭)রাধারাণীদের সম্পত্তির অর্থমূল্য ছিল-
ক)কুড়ি লক্ষ টাকা
খ) তিরিশ লক্ষ টাকা
গ) আট লক্ষ টাকা
ঘ) দশ লক্ষ টাকা
উত্তর:(ঘ) দশ লক্ষ টাকা
৮)রাধারাণীর বিধবা মা মামলা হেরেছিলেন-
ক) হাইকোর্টে
খ) প্রিবি কৌন্সিলে
গ লোয়ার কোর্টে
ঘ) সুপ্রিমকোর্টে
উত্তর:(ক) হাইকোর্টে
৯) রাধারানীর বাড়ি ছিল-
ক)শান্তিপুরে
খ) মাহেশের
গ)শ্রীরামপুরে
ঘ)নদীয়ায়
উত্তর:(গ)শ্রীরামপুরে
১০) অপরিচিত ব্যক্তিটি রাধারানী মালার দাম নির্ধারণ করেছিলেন-
ক) এক পয়সা
খ) চার পয়সা
গ)দু পয়সা
ঘ) তিন পয়সা
উত্তর:(খ) চার পয়সা
১১) রাধারানীর এই কাপড়।-কোন কাপড়?
ক) কুঞ্জদার শান্তিপুরে
খ) বিষ্ণুপুর বালুচরী
গ) বাংলাদেশী ঢাকাই
ঘ) শ্রীরামপুরের বেনারসি
উত্তর:(ক) কুঞ্জদার শান্তিপুরে
১২) রাধারানীর কথা শুনিয়া কিছু বিস্মিত হইল'- বিস্মিত হয়েছিল-
ক) রাধারানীর মা
খ) পদ্মলোচন সাহা
গ) রুক্সিণীকুমার রায়
ঘ) এদের কেউ নয়
উত্তর:(খ) পদ্মলোচন সাহা
১৩) তাহারা দরিদ্র কিন্তু লোভী নহে'- এই মন্তব্য কার-
ক) পদ্মলোচন এর
খ) রাধারানীর
গ) লেখকের
ঘ) রাধারানীর মায়ের
উত্তর:(গ) লেখকের
১৪) অপরিচিত ভদ্রলোকের নাম ছিল রুক্সিণী কুমার রায়, তা জানা গিয়েছিল-
ক) শান্তিপুর থেকে
খ) শ্রীরামপুর থেকে
গ)রাধারানীর মায়ের কাছ থেকে
ঘ)ঝাঁট দিতে গিয়ে কুড়িয়ে পাওয়ার নোট থেকে
উত্তর:(ঘ)ঝাঁট দিতে গিয়ে কুড়িয়ে পাওয়ার নোট থেকে
চ) কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-১
১)মাহেশে কে গিয়েছিল?
উত্তর:সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'রাধা রানী'গল্পংশটি'রাধারানী'উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,রাধারাণী নামের এক বালিকা মাহেশে রথ দেখতে গিয়েছিল।
২)রাধারাণীদের অবস্থা পূর্বে কেমন ছিল?
উত্তর: সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিতা রাধারানী গল্পংশটি রাধারানী উপন্যাস থেকে গৃহীত হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,রাধারাণীদের অবস্থা পূর্বে ভালো ছিল।সে এক সময় বড়লোকের মেয়ে ছিল। কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে এক জ্ঞাতির মামলায় তারা সর্বস্ব হারিয়েছিল।
৩)কাদের ‘বড়োমানুষের মেয়ে' বলা হয়েছে ?
উত্তর:জ্ঞাতির কাছে মোকদ্দমায় হেরে যাওয়ার আগে রাধারাণী ও তার মায়ের অবস্থা খুব ভালো ছিল। তাই তাদের ‘বড়োমানুষের মেয়ে' বলা হয়েছে।
৪)'সর্বস্ব লইয়া মোকদ্দমা'-কার সঙ্গে কার মোকদ্দমা চলেছিল লেখো।
উত্তর:সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত
'রাধারাণী'গল্পংশটি রাধারানী উপন্যাস থেকে গৃহীত হয়েছে।আলোচ্য অংশে রাধারাণীর মায়ের সঙ্গে তাদেরই এক জ্ঞাতির বাড়িঘর, বিষয়সম্পত্তি সব কিছু নিয়েই মোকদ্দমা চলেছিল।
৫) ডিক্রিদার সব নেওয়ার পর রাধারাণীরা কী করল?
উত্তর:ডিক্রিদার তাদের সব সম্পত্তি নেওয়ার পর রাধারাণীদের নগদ যা ছিল তা খরচ ও ওয়াশিলাত দিতে শেষ হয়। শেষে গহনাদি বিক্রি করে তার মা প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করেন।
৬) রাধারাণীর মায়ের নগদ টাকা কীভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল?
উত্তর:মামলার খরচ এবং ওয়াশিলাত বা ক্ষতিপূরণ দিতেই রাধারাণীর মায়ের নগদ টাকা শেষ হয়ে গিয়েছিল।
৭)রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না।-কেন?
উত্তর:সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাধা রানী গল্পংশটি 'রাধারানী' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,ভিটেমাটি হারিয়ে রাধারাণীর মা কুঁড়েঘরে থেকে অনাহারে দৈহিক পরিশ্রম করে কোনোরকমের দিন কাটাতেন। তাই আর মেয়ের বিয়ে দিতে পারেনি।
৮)রাধারাণীর মা কখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল?
উত্তর:অনাহারে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে রাধারাণীর মা রথের ঠিক আগেই অসুস্থ হয়েছিলেন, তবে রথের দিন তার অবস্থা খুব গুরুতর হয়ে পড়েছিল।
৯) রাধারাণী কোথায় মালা বিক্রি করতে গিয়েছিল?
উত্তর: রাধারাণী মাহেশের রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়েছিল।
১০) রাধারাণীর রথের মেলা যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: অসুস্থ ও উপোসি মায়ের পথ্যের প্রয়োজনে কয়েকটি বনফুলের মালা গেঁথে রথের হাটে বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে রাধারাণী রথের মেলা গিয়েছিল।
ছ) কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৩
১)'মোকদ্দমাটি বিধবা হাইকোর্টে হারিল।' কী নিয়ে মোকদ্দমা এবং তাতে হেরে বিধবার অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর:সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'রাধারানী' গল্পংশটি "রাধারানী" উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। রাধারাণীর মার সঙ্গে তাদের একজন জ্ঞাতি সম্পত্তির অধিকার নিয়ে।রাধারাণীর মা হাইকোর্টে মোকদ্দমা হেরে তাদের ভিটে থেকে উচ্ছেদ করা হল। প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হারাতে হল। নগদ টাকা যা ছিল তা মামলার খরচে চলে গেল
রাধারাণীর মা যাবতীয় অলংকার বিক্রি করে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ল।
২)'কিন্তু আর আহারের সংস্থান রহিল না।'-
রাধারাণীর মা-র দৈন্যদশার কারণ কী ?
উত্তর:সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'রাধা রানী'গল্পংশটি 'রাধারানী' উপন্যাস থেকে গৃহীত হয়েছে।ধারাণীর মা হাইকোর্টে হেরে যায়। জ্ঞাতি ডিক্রি জারি করে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তির দখল নেয়। রাধারানীর মা সবকিছু শোধ করতে বাকি সব অর্থ চলে যায়। গয়না ইত্যাদি বিক্রি করে রাধারাণীর মা প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করলেও খাবার জোগাড়ের অবস্থা তাদের আর থাকে না।
৩)'রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না।'রাধারাণীর বিয়ে দিতে না পারার কারণ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর:বিবাহ দিতে না পারার কারণ সম্পত্তির অধিকার নিয়ে এক জ্ঞাতির সঙ্গে মামলায় হেরে যাওয়ায় রাধারাণীর বিধবা মার প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়। নগদ টাকা যেটুকু ছিল তা ইত্যাদিতে ব্যয় হয়ে যায়। গয়নাগাটি বিক্রি করে রাধারাণীর মা প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করায় তারা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে যায়।এই দারিদ্র্যের কারণেই দৈহিক পরিশ্রম করে কোনো রকমে বেঁচে থাকা রাধারাণীর মার পক্ষে রাধারাণীর বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
৪)'তাহাতেই মার পণ্য হইবে।'-কে এরকম ভেবেছিল?তার ভাবনা সূত্রটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:জ্ঞাতির সঙ্গে মোকদ্দমায় সর্বস্ব হারিয়ে রাধারাণীর বিধবা মা করে থাকতে করতে শুরু করেন এবং দৈহিক শ্রমের দ্বারা দিন কাটান।কিন্তু গভীর অসুখে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি পরিশ্রমের ক্ষমতা হারান। রথের দিনে মায়ের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণে তাঁর জন্য পথ্যের প্রয়োজন হয়। রাধারাণী বন থেকে কিছু ফুল তুলে এনে মালা গেঁথে সিদ্ধান্ত নেয় রথের হাটে সেটি বিক্রি করেই মায়ের পথ্য জোগাড় করবে।
৫)'কণ্ঠস্বর শুনিয়া রাধারাণীর রোদন বন্ধ হইল।'-কার কণ্ঠস্বর শুনে কেন রাধারাণীর রোদন বন্ধ হয়েছি?
উত্তর:বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাধারানী গল্পংশটি রাধারানী উপন্যাস থেকে গৃহীত হয়েছে।
আলোচ্য অংশে এক অপরিচিত পথিক রথের মেলায় রাধারাণীর ঘাড়ের ওপরে এসে পড়েছিল তার গলার আওয়াজ শুনে রাধারাণীর কান্না বন্ধ হয়েছিল।
* বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ার কারণে মালা বিক্রি না হওয়ায় রাধারাণী যখন কাঁদছে, অন্ধকারে কেউ তার ঘাড়ের উপরে এসে পড়ে। ভয়ে রাধারাণী উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে ওঠে। তখন সেই অপরিচিত ব্যক্তি প্রশ্ন করেন।
কে গা তুমি কাঁদ?'-গলার আওয়াজে রাধারাণী বুঝতে পারে মানুষটি দয়ালু স্বভাবের। তাই তার কান্না বন্ধ হয়েছিল।
৬)'অগত্যা রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল।' রাধারাণীর কেঁদে কেঁদে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাধা রানী গল্প অংশটি রাধারানী উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে, রাধারাণী বুনফুলের মালা গেঁথে রথের মেলায় গিয়েছিল,তা বিক্রি করে মার পথ্য সংগ্রহ করতে। কিন্তু রথ অর্ধেক টানা হওয়ার পরেই প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যায়। রাধারাণী তবুও মেলায় ভিড় আরও জমবে এবং তার মালাও বিক্রি হবে এই আশায় বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে। কিন্তু রাত হওয়ার পরেও বৃষ্টি না থামায় তার আশা ভেঙে যায়। মালা বিক্রি না হওয়ায় রাধারাণী অন্ধকারে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির পথ ধরল।
৭)'রাধারাণীর ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকুতে ইহা বুঝিতে পারিল।'-কার বুদ্ধিকে ক্ষুদ্র বুদ্ধি বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: রাধারাণীর বুদ্ধিকে ক্ষুদ্র বুদ্ধি বলা হয়েছে।
*এগারো বছরও পূর্ণ না হওয়া মেয়েটির বুদ্ধি এমনিতেই অপরিণত।একইসঙ্গে বনফুলের মালা বিক্রি করতে গিয়ে সে যে অবস্থায় পড়েছে তা-ও তার পক্ষে যথেষ্ট বিড়ম্বনার। অন্ধকার পথে দুর্যোগের মধ্যে একা রাধারাণী যে পরিণত মানুষের মতো বুদ্ধিপ্রয়োগ করতে পারবে না,পরিস্থিতির সাপেক্ষে রাধারাণী তাই অতি ক্ষুদ্রবুদ্ধি'।
জ) কমবেশি ১৫০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৫
১)'রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না।'রাধারাণীর পরিচয় দাও। কে কেন তার বিবাহ দিতে পারেনি?
উত্তর:সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত'রাধা রানী' গল্পাংশটি "রাধারানী" উপন্যাস থেকে গৃহীত হয়েছে। রাধারাণী ছিল একটি মেয়ে, যার বয়স এগারো বছরও পূর্ণ হয়নি বড়োলোকের মেয়ে হলেও তাদের অবস্থা ভালো ছিল না। সর্বোপরি রাধারাণীর বাবাও বেঁচে ছিল না।
* রাধারাণীর মা রাধারাণীর বিয়ে দিতে পারেননি। এককালে অবস্থাপন্ন হলেও রাধারাণীর পরিবার মামলায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল। একজন জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে রাধারাণীর মোকদ্দমা হয়, এবং হাইকোর্টে তিনি হেরে যান। তার ফলে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বেহাত হয়ে যায়। নগদ যেটুকু ছিল সেটুকুও ক্ষতিপুরণ দিতে চাল যায়। রাধারাণীর মা অলংকার ইত্যাদি বিক্রি করে প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করেন। কিন্তু সর্বস্ব হারিয়ে তাঁদের খাবার জোগাড়ের অবস্থাও থাকে না। রাধারাণীর বিধবা মা একটি কুটিরে আশ্রয় নিয়ে শারীরিক পরিশ্রমের দ্বারা দিন কাটাতে থাকেন। কিন্তু এই তীব্র দারিদ্র্যের কারণে রাধারাণীর মা রাধারাণীর বিয়ে দিতে পারেন না।
২)'অগত্যা রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল।'- রাধারাণী কোথা থেকে ফিরল?সে কাঁদছিল কেন?
উত্তর:বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'রাধারাণী' রচনাংশে রাধারাণী নামের মেয়েটি মাহেশের রথের মেলা থেকে ফিরছিল।
* পথ্যসংগ্রহের প্রচেষ্টায় রাধারাণী তার অসুস্থ মার জন্য বনফুলের একটি মালা গেঁথে সেটি বিক্রি করার জন্য রথের মেলায় গিয়েছিল। কিন্তু রথের দড়ি অর্ধেক টানার পরেই বৃষ্টি আরম্ভ হয়।বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ার ফলে তার মালা কেউ কেনে না। রাধারাণী মনে মনে ভেবেছিল যে বৃষ্টি কিছুটা থামলে হয়তো আবার মেলা জমবে। তাই সে বৃষ্টিতে ভিজেই অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু বৃষ্টি থামে না। ফলে মেলায় লোকের ভিড়ও হয় না।
* সন্ধ্যা পারে রাত হয়। তারপর চারপাশে অন্ধকার নেমে আসে। কাদাময় পিছল পথে কোনো কিছুই দেখা যায় না। মায়ের অসুস্থতা, খাদ্যের অভাব ইত্যাদির কথা ভেবে রাধারাণী চিন্তা ও হতাশায় কাতর হয়ে পড়ে। এই অসহায় অবস্থা থেকেই সে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির পথে ফিরতে থাকে।
0 Comments