সূচিপত্র:
ক) লেখক পরিচিতি
খ) গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
গ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) প্রশ্নের মান-১
ঘ) কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-১
ঙ) কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৩
চ) কমবেশি ১৫০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৫
ক)লেখক পরিচিতি: সত্যজিৎ রায়:
ভূমিকা:
তিনি বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রজগতের প্রানপুরুষ। বাংলা চলচ্চিত্রের বিপুল সম্ভাবনার দ্বার যেমন তিনি খুলে দিয়েছেন তেমনই বাংলা সাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করেছেন।
জন্ম ও বংশপরিচয়:
উত্তর কলকাতার বিখ্যাত রায়চৌধুরী পরিবারে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২ মে রবিবার সত্যজিৎ রায়ের জন্ম হয়। পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং পিতা সুকুমার রায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অমর স্রষ্টা।পাঁচ বছর বয়সেই তাঁর পিতা মারা।সত্যজিতের ডাক নাম ছিল মানিক।
বাল্যজীবন ও শিক্ষাজীবন:
১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে মায়ের সঙ্গে শান্তিনিকেতনে গিয়ে প্রথম রবীন্দ্রনাথকে দেখেন সত্যজিৎ রায়। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে সত্যজিৎ বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে ভরতি হন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করে তিনি শিল্পশিক্ষার জন্য শান্তিনিকেতনে যান। সেখানে শিল্পী বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়কে তিনি শিল্পগুরু হিসেবে পান। এখানেই প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতি সত্যজিতের গভীর অনুরাগ জন্মায়। পরবর্তীকালে তিনি নিজেই বলেছিলেন যে, শান্তিনিকেতনে না গেলে তিনি পথের পাঁচালী করতেই পারতেন না। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা শেষ না করেই তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন।
কর্মজীবন: ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিখ্যাত বিজ্ঞাপন কোম্পানি ডি জে কিমারে চাকরি নেন। পরে এই কোম্পানির আর্ট ডিরেক্টরের পদে উন্নীত হন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের প্রচ্ছদ অঙ্কনে এবং অলংকরণে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দেন। ১৯৬৫-তে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রচ্ছদ-প্রদর্শনীতে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ক্যামেরায় ছবি তুলে বয়েজ ওন পেপার পত্রিকার পুরস্কার লাভ করেন।
চলচ্চিত্রের জগতে সত্যজিৎ:
বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী কে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্রে রূপায়িত করেছিলেন। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র 'পথেরপাঁচালী' অত্যন্ত উচ্চমানের সৃষ্টিতে পরিণত হল।সারাবিশ্বে প্রশংসা পেলেন সত্যজিৎ রায়। এ ছবির প্রকৃতির মাধুর্য, অপু-দুর্গার শৈশবজীবন, দুঃখ দারিদ্র্যের সঙ্গে জীবনের সংগ্রাম বাংলা চলচ্চিত্রকে এক নতুন পথ দেখাল।এরপর অপরাজিত, অপুর সংসার,দেবী,তিনকন্যা,অভিযান,জলসাঘর, চারুলতা,অশনি সংকেত,গুপী গাইন বাঘা বাইন, হীরক রাজার দেশের মতো বহু অসাধারণ চলচ্চিত্র সৃষ্টি করলেন তিনি।তাঁর সৃষ্ট ফেলুদা চরিত্র বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র। তাঁর কল্পবিজ্ঞান কাহিনির প্রধান চরিত্র প্রোফেসর শঙ্কু বাংলা শিশু কিশোর সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ চরিত্র।
পুরস্কার ও সম্মান:
বর্ধমান এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ‘ডিলিট' উপাধি, ‘দাদাসাহেব ফালকে' সম্মান এবং বিশ্বের চলচ্চিত্রজগতের শ্রেষ্ঠ সম্মান 'অস্কার'-এ ভূষিত হন সত্যজিৎ রায়। ভারত সরকার তাঁকে 'ভারতরত্ন' উপাধিতে সম্মানিত করেছেন।
জীবনাবসান:
১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ এপ্রিল সত্যজিৎ রায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
খ) বিষয়সংক্ষেপ:
কথকের কাছে তারক চাটুজ্যের সূত্রে প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রিটি হাতে পায়।ডায়রির প্রথম ঘটনা হল- শঙ্কুর মঙ্গল অভিযানের বিবরণ। তিনি নিজের তৈরি রকেটে ভৃত্য প্রহ্লাদ, পোষা বেড়াল নিউটন এবং যন্ত্রমানব বিধুশেখরকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলের উদ্দেশে পাড়ি দেন। এ ছাড়াও বটিকা-ইন্ডিকা, ফিশ পিল, মহাকাশ অভিযানের উপযুক্ত পোশাক, হেলমেট, দূরবিন, ক্যামেরা, অস্ত্র প্রভৃতি তাঁর সঙ্গে ছিল। প্রায় বারো দিন পর তাঁরা মঙ্গলগ্রহে গিয়ে পৌঁছোন। প্রথমে কোনো প্রাণী তাঁদের নজরে আসেনি। স্বচ্ছ পেয়ারার জেলির মতো লাল জলের নদী, যার জল খেলে মুহূর্তে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়; সেই নদীর পাশে বেশ কিছুক্ষণ নিরুপদ্রবেই কেটেছিল। একমাত্র বিধুশেখর বিপদের আশঙ্কায় রকেট থেকে নামেনি। কিন্তু তার পূর্বাভাস মিলে যায়। হাত তিনেক লম্বা,মাছের মতো ডানাওয়ালা,সবুজ চোখের এক ধরনের মানুষ, জন্তু এবং মাছের সংমিশ্রণে তৈরি প্রাণীর দল বা ‘মঙ্গলীয় সৈন্য'-এর দল তাঁদের আক্রমণ করে।
বিধুশেখর এই সময়ে রকেট থেকে নেমে রুখে দাঁড়ায়। তারপর শঙ্কু যন্ত্রমানব বিধুশেখরকে দু-ভাগ করে রকেটে এনে তোলেন এবং জ্ঞান হারান। কোনো এক অজ্ঞাত উপায়ে রকেট ফের মহাকাশে পাড়ি দেয়। নানান অঘটনের হাত থেকে সকলকে বাঁচিয়ে নিয়ে সেই রকেট টাফা নামে এক নতুন গ্রহে গিয়ে পৌঁছোয়। সেখানে আর-এক দল নতুন প্রাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। অনেকটা অতিকায় পিঁপড়ের মতো দেখতে যদিও তারা মানুষের বর্তমান অবস্থার থেকে অনেকটা পিছিয়ে। তবে এদের সঙ্গে প্রোফেসর শঙ্কুর আদানপ্রদান জমে ওঠে এবং পারস্পরিক রসিকতার মধ্যে দিয়ে কাহিনি শেষ হয়।
গ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) প্রশ্নের মান-১
১)সুন্দরবনের সে ব্যাপারটা মনে আছে তো?-ব্যাপারটি হল-
ক) তুষারপাত
খ)মহাকাশ অভিযান
গ)উল্কাপাত
ঘ) বাঘের উপদ্রব
উত্তর:(গ) উল্কাপাত
২) প্রোফেসর শঙ্কুর খাতার সঙ্গে তারক চাটুজ্যে আর যা নিয়ে এসেছিলেন,তা হল-
ক)ছাল ও সাপের খোলস
খ)গোসাপের ছাল
গ)উদ্ধার পাথর
ঘ) সাপের খোলস
উত্তর:(খ) গোসাপের ছাল
৩)মহাকাশযান থেকে দেখা মঙ্গলগ্রহের সরু সরু লাল সুতোগুলি হল-
ক) ঘাস আর গাছপালা
খ) নানা রকমের প্রাণী
গ) বরফের পাহাড়
ঘ) লাল রঙের নদী
উত্তর:(ঘ) লাল রঙের নদী
৪)প্রোফেসর শঙ্কুর সঙ্গীদের মধ্যে থেকে মঙ্গলগ্রহে নামতে চায়নি-
ক)বিধুশেখর
খ) নিউটন
গ) প্রহ্লাদ
ঘ) এদের কেউ নয়
উত্তর:(ক) বিধুশেখর
৫) মঙ্গলীয় সৈন্যদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ ছিল-
ক) তাদের দৃষ্টিশক্তি কম ছিল
খ)তারা উড়তে জানত না
গ) তারা ভালো ছুটতে পারত না
ঘ) তারা সাঁতার জানতো না
উত্তর:(ঘ)তারা ভালো ছুটতে পারত না
৬)মঙ্গলীয় সৈন্যদের কামড়ে দেওয়ার ফলে নিউটনের-
ক)মৃত্যু হয়েছিল
খ)দেহ অবশ হয়ে
গ) খাবারে অরুচি হয়েছিল
ঘ)দেহ অবশ হয়ে
উত্তর:(গ) খাবারে অরুচি হয়েছিল
৭)শঙ্কু মঙ্গলের পরে যে গ্রহে পৌঁছেছিলেন,তা হল-
ক) প্লুটো
খ)টাফা
গ)তোফা
ঘ) ক্ৰেয়ল
উত্তর:(খ)টাফা
৮)নতুন গ্রহের গায়ের জোনাকির আলো শঙ্কুকে মনে করিয়ে দিয়েছিল–
ক) ছোটোবেলার
ক) ছোটোবেলার স্বপ্নের স্বপ্নের কথা খ্র ল্যাবরেটরিতে বিস্ফোরণের কথা গ্র গোল গাছের পাশে উল্কাপাতের কথা কথা
কোনোটিই নয়
৮) নতুন গ্রহের লোকেরা বসবাস করত-
ক) সুন্দর ঘরবাড়িতে
খ)ল্যাবরেটরিতে
গ) নদীর তীরে
ঘ) মাটির ভেতরের গর্তে
উত্তর:(ঘ)মাটির ভেতরের গর্তে
৯)কলকাতার জাদুঘরে যেটা আছে সেটা তার প্রায় দ্বিগুণ-উক্তিটি যে-বস্তুকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তা হল একটি-
ক) উল্কাপিণ্ড
খ)রোবট
গ)মমি
ঘ)প্রাচীন যুগের পাথর
উত্তর:(ক) উল্কাপিণ্ড
১০)প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রিটি তারকবাবু পেয়েছিলেন সুন্দরবনের-
ক) ঝড়খালি অঞ্চলে
খ)মাথারিয়া অঞ্চলে
গ)বাদা অঞ্চলে
ঘ) সজনেখালি অঞ্চলে
উত্তর:(খ)মাথারিয়া অঞ্চলে
১১)প্রোফেসর শঙ্কুর চাকরের নাম ছিল-
ক) আহ্লাদ
খ)কণাদ
গ)প্রহ্লাদ
ঘ)জন্মাদ
উত্তর:(গ)প্রহ্লাদ
ঘ) কম-বেশি ২০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-১
১)প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রি কীভাবে পাওয়াগিয়েছিল?
উত্তর:সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চলে উল্কাপাতের ফলে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল,তার মাঝখান থেকে জনৈক তারক চাটুজ্যে শঙ্কুর ডায়রিটি খুঁজে পান।
২)লেখক শঙ্কুর ডায়রিটা কোথা থেকে পেয়েছিলেন?
উত্তর:লেখক ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুর ডায়রিটা
পেয়েছিলেন তারক চাটুজ্যের কাছ থেকে।
৩)সুন্দরবনের কাছে কোন ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর;একটা বড়ো উল্কাখণ্ড সুন্দরবনের মাথারিয়া অঞ্চলে এসে পড়েছিল।
৪)প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রিটির বিশেষত্ব কী ছিল? উত্তর:প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রির লেখার রং বদলায়। এটি ছেঁড়ে না,পোড়ে না,টানলে বড়ো হয় আর ছাড়লে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়।
৫) একটা বিশ্রী কাণ্ড ঘটে গেল'-কাণ্ডটি কী?
উত্তর:হঠাৎ বহু বছর পরে আয়নায় নিজেরই চেহারা দেখে প্রোফেসর শঙ্কু চমকে চিৎকার করে উঠেছিলেন,তাঁর কাছে এটাই বিশ্রী কাণ্ড।
৬)প্রহ্লাদকে প্রোফেসর শঙ্কু শিক্ষা দিয়েছিলেন কেন?
উত্তর:আয়নার উপর থেকে প্রহ্লাদ পুরোনো ক্যালেন্ডার সরিয়ে নেওয়ায়,শঙ্কু নিজের চেহারা দেখে চিৎকার করে ওঠেন এবং রেগে গিয়ে তাকে শিক্ষা দেন।
৭)প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর মঙ্গল অভিযানে প্রহ্লাদকে
নিতে চেয়েছিলেন কেন?
উত্তর:প্রহ্লাদ বোকা হলেও বেশ সাহসী ছিল। শত্রু জানতেন। কমবৃদ্ধির লোকেরা কখনো কখনো খুব সাহসী হয়। কারণ ভয়। পাওয়ার কারণ কী সেটা বুঝতেও তাদের সময় লাগে। প্রহ্লাদকে এই জন্যই শঙ্কুর তাঁর সঙ্গে অভিযানে নিতে চেয়েছিলেন।
মালে যাওয়ার পথে মহাকাশযানে বসে প্রহ্লাদ
(উত্তর বাইরের দৃশ্য সম্পর্কে নির্বিকার প্রহ্লাদ মহাকাশযানে। বসে প্রথমে রামায়ণ ও পরে মহাভারত পড়ত।
৮)ডায়রি লিখতে লিখতে এক কান্ড হয়েগেল-কাণ্ডটি কী ঘটেছিল?
উত্তর:মহাকাশযানে মঙ্গলে যাওয়ার পথে বিধুশেখর প্রথমে চুপচাপ থাকলেও একদিন হঠাৎ হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে রকেটটা উলটো দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে-এখানে সেই কাণ্ডের কথা বলা হয়েছে।
৯)শঙ্কুর রকেটে কত মন জিনিস নেওয়া যায়?
উত্তর:শঙ্কুর রকেটে কুড়ি মন পর্যন্ত জিনিস নির্ভয়ে নেওয়া যায়।
১০)শঙ্কুর রকেটের পোশাকের আস্তিনে কী ঢুকেছিল?
উত্তর: শঙ্কুর রকেটের পোশাকটার আস্তিনে
কতকগুলি উচ্চিংড়ে ঢুকেছিল।
১১)স্যাকারিনের মতো দেখতে সেই ঘুমের বড়ি
খেয়ে শঙ্কর কী হয়েছিল?
উত্তর:স্যাকারিনের মতো দেখতে সেই ঘুমের বড়ির চার ভাগের এক ভাগ খেয়েছিলেন শঙ্কু। সকালে উঠে দ্যাখেন ভয়ের চোটে স্বপ্ন দেখে তাঁর দাড়ির বাঁদিকটা একেবারে পেকে গেছে।
১২)নিউটন কে? তাকে শঙ্কু কী খাইয়েছিলেন?
উত্তর:নিউটন হল শঙ্কুর পোষা বিড়াল।তাকে শঙ্কু মঙ্গল অভিযানে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাছের বদলে 'Fish Pill' খাইয়েছিলেন।
১৩)মঙ্গলে পদার্পণের আগে বিধুশেখর কী করেছিল?
উত্তর:মঙ্গলে পদার্পণের আগে বিধুশেখর বিপদের
পূর্বাভাস দিয়ে প্রোফেসর শঙ্কুকে সতর্ক করতে চেয়েছিল।
ঙ) কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৩
১)'পড়ে দেখো। গোল্ড মাইন'-বক্তা কাকে উদ্দেশ্য
করে এ কথা বলেছেন এবং প্রসঙ্গটাই বা কী ছিল?
উত্তর:সত্যজিৎ রায়ের রচিত‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' গল্পের অন্যতম চরিত্র তারক চাটুজ্যে উদ্দেশ্য
উদ্ধৃত কথাগুলি গল্পের লেখক তথা কথককে
উদ্দেশ্য করে বলেছেন।
* গোল্ড মাইন' শব্দটির অর্থ স্বর্ণখনি। তারক চাটুজ্যে মাঝে মধ্যেই গল্পটল্প এনে লেখকের কাছ থেকে পাঁচ-দশ টাকা আদায় করে নিয়ে যেতেন। এবার কিন্তু তিনি সঙ্গে করে যা এনেছেন তা একেবারে চমকে দেওয়ার মতো। একটি লাল মলাটের খাতা, যেটি দীর্ঘ পনেরো বছর নিরুদ্দেশ থাকা প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রি। আগাগোড়া সেটি পড়ে তারকবাবুর মনে হয়েছে লেখাটি চমকপ্রদ। তাই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
২)বিধুশেখর বলল, ‘গবাক্ষ উদ্ঘাটন করহ!-বিধুশেখরের কথায় শঙ্কুর কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল?
উত্তর:সত্যজিৎ রায়ের রচিত‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' গল্পে,বিধুশেখরের কথায় শঙ্কু গবাক্ষ অর্থাৎ জানলা খুলতেই, তাঁর সামনে এক চোখ ঝলসানো দৃশ্য তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য যেন চোখ ঝলসানো দৃশ্য-শঙ্কর
অভিজ্ঞতা অন্ধ করে দিল। দৃষ্টি ফিরে পেয়ে তাঁর মনে
হল, তিনি এক অবিশ্বাস্য জগতের মধ্য দিয়ে উড়ে চলেছেন। যতদূর তাঁর চোখ যায়, দেখেন আকাশময় কেবল বুদ্দ ফুটছে আর ফাটছে। যেন অসংখ্য সোনার বল আপনা থেকে বড়ো হতে হতে হঠাৎ ফেটে সোনার ফোয়ারা হয়ে ছড়িয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে।
৩)মঙ্গলে যাত্রার সময়ে শঙ্কুরা যে খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন তার উল্লেখ করো।
উত্তর:সত্যজিৎ রায়ের রচিত‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' গল্পে,পাঁচ বছরের মতো রসদ সঙ্গে নিয়ে শঙ্কু বিধুশেখর,নিউটন,প্রহ্লাদ এই তিন সহযাত্রীর সঙ্গে মঙ্গল যাত্রা করেন। নিউটনের জন্য যে ফিসপিল নেওয়া হয়েছিল তার একটা খেলেই নিউটনের সাত দিনের খাওয়া হয়ে যায়। শঙ্কু তাঁর নিজের এবং প্রহ্লাদের জন্য কেবল নিয়েছিলেন বটফলের রস থেকে তৈরি বড়ি-বটিকা-ইন্ডিকা। যার একটা বড়ি খেলেই পুরো চব্বিশ ঘণ্টার জন্য খিদে তেষ্টা মিটে যায়। এরকম এক মন বড়ি তাঁরা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
চ) কমবেশি ১৫০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-৫
১)লেখক কার কাছ থেকে প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রিটি পেয়েছিলেন?ডায়রিটির বিশেষত্ব কী ছিল?
উত্তর:সত্যজিৎ রায় রচিত ‘ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' গল্পে প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কুর বিচিত্র ডায়রিটি লেখক পেয়েছিলেন তারক চাটুজ্যের কাছ থেকে।
ডায়রিটির বিশেষত্ব:
বিজ্ঞানী প্রোফেসর শঙ্কুর ডায়রিটা প্রথমবার লেখকের কাছে যখন পৌঁছোয় তখন তিনি দেখেছিলেন ডায়রিতে ব্যবহৃত কালির রং ছিল সবুজ। কিন্তু পুজোর পর খাতাটি আলমারি থেকে বের করার পরই লেখকের খটকা লাগে কারণ তিনি দেখেন কালির রং লাল। মনের ভুল ভেবে খাতাটা পকেটে রাখেন। বাড়ি ফিরে আবার খাতাটা খুলতেই লেখকের বুক ধড়াস করে ওঠে কারণ কালির রং তখন ছিল নীল। তারপর এক আশ্চর্য অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। লেখকের চোখের সামনেই ডায়রির কালি নীল থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ডায়রির কালির রঙের পরিবর্তন এক রহস্য গড়ে তোলে।এমনকি ডায়রিটি লেখকের হাত থেকে পড়ে যাওয়ার পর লেখকের কুকুর ভুলো তাতে দাঁত বসালেও ওই খাতার কাগজ তার কামড়ে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। লেখক বিস্মিত হয়ে যান।দেশলাই দিয়ে আগুন জ্বালিয়েও এবং পাঁচ ঘণ্টা উনুনের মধ্যে ডায়রিটা ফেলে রাখলেও কালির রং বদলেই চলে কিন্তু ডায়রি পোড়ে না। আশ্চর্যের কথা,যে ডায়রিকে লেখকের একসময় অক্ষয়, অবিনশ্বর মনে হয়েছিল, তা শেষপর্যন্ত, ডেয়োপিঁপড়ের পেটে যায়, বিস্ময়ে হতভম্ব লেখক এই আশ্চর্য ডায়রির কাহিনির সত্য-মিথ্যা বিচারের ভার পাঠকদের হাতেই ছেড়ে দেন।
২)'মঙ্গল যে কত অমঙ্গল হতে পারে,সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।' -প্রোফেসর শঙ্কুর এই আক্ষেপের কারণ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর:সত্যজিৎ রায়ের রচিত 'ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' নামক কল্পবিজ্ঞানের কাহিনিতে প্রোফেসর শঙ্কুর সদল বলে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছোনোর প্রথম দিনেই তাঁদের এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা হয়।
অদ্ভুত কান্ডকারখানা। সূর্যের আলোয় চারিদিক ঘুরে দেখবেন বলে ভাবছিলেন প্রোফেসর শঙ্কু। এমন সময় তিনি একটা আঁশটে গন্ধ পান। পাশাপাশি ‘তিত্তিড়ি’ আওয়াজের অদ্ভুত শব্দও তাঁর কানে আসে। এসময়ই তিনি দেখেন, তাঁর ভৃত্য প্রহ্লাদ বিকট চিৎকার করে নিউটনকে হাতে নিয়ে রকেটের দিকে ছুটছে। জন্তুর আক্রমণ, লম্বায় প্রায় তিন হাত, পা-ওয়ালা, হাতের বদলে মাছের মতো ডানা, বিরাট মাথা, দন্তহীন হাঁ, একটা প্রকাণ্ড সবুজ চোখ এবং সর্বাঙ্গে মাছের মতো আঁশবিশিষ্ট একটি অদ্ভুত জন্তু তাদের পিছু নিয়েছে। শঙ্কু তক্ষুনি তাঁর সবচেয়ে সাংঘাতিক অস্ত্র নিয়ে জন্তুটির পিছু নেন। প্রহ্লাদ কোনোমতে রকেটে উঠে গেলেও বিধুশেখর জন্তুটির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ইতিমধ্যে প্রায় দু-তিনশো জন্তু রকেটের দিকে এগিয়ে আসে। রকেটের সামনে প্রথম আসা জন্তুটিকে বিধুশেখর কুপোকাত করে দেয়। কিন্তু অসংখ্য জন্তুর সঙ্গে যুদ্ধের ফল মারাত্মক হবে ভেবে শঙ্কু বিধুশেখরকে অচল করে দেন। বুদ্ধিবলে প্রাণরক্ষা, বুদ্ধি প্রয়োগ করে বিধুশেখরকে দুটি ভাগে ভাগ করে নিয়ে কোনোক্রমে মহাকাশযানে পৌঁছোন শঙ্কু। এভাবেই মঙ্গলীয় জন্তুদের হাত থেকে বেঁচে যান তাঁরা।
৩)প্রোফেসর শঙ্কুরা কীভাবে মঙ্গলীয় সৈন্যদের কবলে পড়েছিলেন?কীভাবে তারা মুক্তি পেয়েছিলেন?
উত্তর:সত্যজিৎ রায়ের রচিত 'ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুদের ওপরে মঙ্গলীয় সৈন্যদের আক্রমণের ঘটনাটা ঘটেছিল মঙ্গলে অবতরণের পরে প্রথম দিনই। অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা- সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে টিলার উপরে উঠে যখন প্রোফেসর শঙ্কু জায়গাটা ভালো করে ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করছেন সেইসময় একটা আঁশটে গন্ধ আর একটা অদ্ভুত শব্দ শুনতে পান তিনি। আওয়াজের উৎস খুঁজতে গিয়ে এক বিকট চিৎকার তাঁর কানে আসে। আর দেখেন প্রহ্লাদ ডান হাতের মুঠোয় নিউটনকে নিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে রকেটের দিকে যাচ্ছে। না মানুষ, না জন্তু, না মাছ—এমন জন্তুর পিছু নেওয়া; তার পিছু নিয়েছে যে জিনিসটা সেটা মানুষও নয়, জন্তুও নয়, মাছও নয়। শঙ্কু প্রহ্লাদকে রক্ষার জন্য জন্তুটিকে অনুসরণ করেন। পরে জানা যায় নদীর ধারে নিউটন এরকম একটা জন্তুকে কামড়ে দেওয়াতেই নাকি এই তাড়া করা। জন্তুটা ধীর গতি হওয়ায় প্রহ্লাদ রকেটে উঠে পড়তে সক্ষম হয়।
*বিধুশেখরের কেরামতি: বিধুশেখর রকেট থেকে নেমে জন্তুটাকে রুখে দাঁড়ায়। এমন সময় একটা দমকা হাওয়ার সঙ্গে আঁশটে গন্ধ পেয়ে দেখা যায় বিকট ঝিঁ ঝি-র মতো শব্দ করে আরও দু-তিনশো জন্তু রকেটের দিকে এগিয়ে আসছে। বিধুশেখর লোহার হাতের এক আঘাতে পিছু নেওয়া জন্তুটাকে মাটিতে ফেলে দেয়। মঙ্গলীয় সেনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া বেগতিক বুঝে বিধুশেখরকে বোতাম টিপে বন্ধ করে কোনোরকমে দুভাগ করে তাকে প্রহ্লাদের সাহায্যে টেনে রকেটে তোলেন শঙ্কু। হাজারখানেক মঙ্গলীয় সৈন্য তখন প্যাশ গজের মধ্যে। তারপরে কেবিনের দরজা বন্ধ করেই শঙ্কু জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরতে দেখেন রকেট উড়ে চলেছে।
৪)"আমরা দু ঘন্টা হলো মঙ্গলগ্রহে নেমেছি।”-ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' গল্প অবলম্বনে মঙ্গলগ্রহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর:সত্যজিৎ রায়ের রচিত 'ব্যোমযাত্রীর ডায়রি' গল্পে,১৩ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে এক মাসেরও বেশি সময় পরে নিজস্ব উদ্ভাবিত রকেটে প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর সঙ্গী প্রহ্লাদ,বিধুশেখর এবং নিউটনকে নিয়ে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছান।সেখানে গাছপালা, মাটি, পাথর সবই নরম রবারের মতো। সামনে বিশ হাত দূরে একটা লাল নদী বয়ে যাচ্ছিল, যার জল স্বচ্ছ পেয়ারার জেলির মতো। নদীর জল লাল হওয়ায় আকাশ থেকে নদীগুলোকে লাল সুতোর মতো দেখায়। ঘাস,গাছপালার রং সবুজের বদলে নীল, আর আকাশ নীলের বদলে সবুজ। কোনো প্রাণীর সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। আবহাওয়া ঠান্ডা তো নয়ই, বরং গরমের দিকে। কিন্তু মধ্যে মধ্যে বয়ে আসা বাতাস হাড় কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। নদীর জলে অমৃতের স্বাদ, তা শরীর এবং মনর সমস্ত ক্লান্তিকে দূর করে দেয়। যদিও এর পরেই মঙ্গলগ্রহের বিভীষিকার সঙ্গে শঙ্কুর পরিচয় ঘটে। এরা হল মঙ্গলগ্রহের প্রাণী। তারা মানুষ বা জন্তু বা মাছ কোনোটাই নয়। অথচ এই তিনের সঙ্গেই কিছু মিল আছে। জন্তুটি লম্বায় প্রায় তিন হাত, এদের পা থাকলেও হাতের বদলে রয়েছে ডানা, মুখ দন্তহীন। সংখ্যায় দু-তিনশো এরকম জন্তুর হাত থেকে কোনোরকমে নিজেদের রক্ষা করে পালাতে সমর্থ হয়েছিলেন প্রোফেসর শঙ্কু এবং তাঁর সঙ্গীরা।
আরো পড়ুন:
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের প্রশ্ন
উত্তর Click Here ইলিয়াস গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here দাম গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click
Here নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click Here হিমালয় দর্শন গল্পের প্রশ্ন
উত্তর Click Here ভাঙার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here আবহমান কবিতার প্রশ্ন
উত্তর Click Here আমরা কবিতা প্রশ্ন উত্তর click Here খেয়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর click
আকাশের সাতটি তারা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
Here নিরুদ্দেশ গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here চন্দ্রনাথ গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-1 click
Here চন্দ্রনাথ গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-2 click Here
ব্যোমযাত্রীর ডায়েরির প্রশ্ন উত্তর Click Here
কর্ভাস গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
Teles of Bhola grandpa Lesson1 Unit 1 Click Here
Teles of Bhola grandpa Unit 2 Click Here
All about a Dog Lesson 2-Unit -1 -Click Here
All about a Dog Lesson 2 Unit 2 Click Here
Autumn poem Lesson 3 Part 1 Click Here
A Day in the zoo Lesson 4 Part 1 Click Here
A Day in the zoo Lesson 4 part 2 Click Here
All Summer in a Day Lesson 5 part 1 Click Here
The price of bananas part 1 click Here
The price of bananas part 2 click Here
Hunting snake poem question answer click Here
Cucumber is beneficial for the body click Here
ডাবের জলে উপকারিতা click Here
দুধের উপকারিতা click here
ওজোন গ্যাস click here
রক্ত সম্পর্কে আলোচনা click here
অস্থি বা হাড়ের কার্যাবলী Click here
থাইরয়েড গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here
প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here
একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here
বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here
গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here
মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here
মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here
ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here
0 Comments