সূচিপত্র:
ক) কবি পরিচিতি
খ) উৎস
গ) বিষয়সংক্ষেপ
ঘ) নামকরন
ঙ) হাতেকলমে সমাধান
চ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)
ছ) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)
ক)কবি পরিচিতি:
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের,বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দেবী। ইংরেজি সাহিত্যে, এম.এ পাস করার পর তিনি বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপনা করেন।তিনি 'স্বরাজ' পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কিছুকাল কাজ করেছিলেন।১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঝরাপালক' প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল-'ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,মহাপৃথিবী,সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা,বেলা অবেলা কালবেলা' প্রভৃতি। তিনি 'মাল্যবান, সুতীর্থ,জলপাইহাটি,প্রভৃতি উপন্যাস রচনা করেছিলেন। ‘জীবনানন্দ দাশের গল্পগ্রন্থে তাঁর ছোটোগল্পগুলি সংকলিত হয়েছে। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ অক্টোবর মাত্র ৫৫ বছর বয়সে কলকাতায় এই মহান কবির অকালমৃত্যু ঘটে।
খ)উৎস:
জীবনানন্দ দাশের রচিত'পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতাটি'রূপসী বাংলা'কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
গ)সারসংক্ষেপ:
‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় পল্লিপ্রকৃতির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। কবি পাড়াগাঁয়ের দুপুরটিকে বড়ো ভালোবাসেন। সেই শান্ত, অলস দুপুরের রোদে তিনি যেন তাঁর স্বপ্নের গন্ধ খুঁজে পান। তাঁর মনে যেসব গল্প,কাহিনি ও স্বপ্নের দানা বেঁধেছে তা কেবল জানে পল্লিগ্রামের মাঠ আর সেই মাঠের শঙ্খচিল।সেই প্রকৃতির কাছে অনেক যুগ ধরে কবির হৃদয় যে কথা শিখেছে, তা শুধু এই জন্মের বিষয় নয়। কবি উপলব্ধি করেছেন, যে-কোনো স্বপ্নেই থাকে নানা ধরনের বেদনা। শুকনো পাতা, শালিকের ক্লান্ত স্বর, ভাঙা মঠ, নকশাপেড়ে শাড়ি পরা কোনো মেয়ের রোদের মধ্যে দিয়ে হঠাৎ চলে যাওয়া—এই সব কিছুর মধ্যেই কবি যেন বেদনামাখা অতীতের আভাস পেয়েছেন। গ্রামের অলস দুপুরে জলসিড়ি নদীর পাশে ঘাসের মধ্যে এসে পড়েছে বুনো চালতার নুয়ে-পড়া ডালগুলি। হিজল গাছে বাঁধা রয়েছে একটি ঝাঁঝরা-ফোঁপরা ডিঙি।কবির মনে হয় ভাঙাচোরা ডিভিটির মালিক হয়তো আর কোনোদিনই সেটির কাছে ফিরে আসবে না। সমগ্র প্রকৃতিতেই কবি এই অদ্ভুত বিষণ্ণতা ও বেদনার স্পর্শ অনুভব করেছেন। এই বেদনার অনুভূতি পল্লিপ্রকৃতির প্রতি তাঁর অনুরাগকে যেন আরও বাড়িয়ে তুলেছে।তাঁর মনে হয়েছে ডিঙি নৌকোটি যেন সব হারানোর বেদনা নিয়ে কেঁদে কেঁদে নদীর জলে অবিরাম ভেসে চলেছে।
ঘ)নামকরণ:
নামকরণের মধ্য দিয়েই সাহিত্যস্রষ্টা রচনাটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করান। 'পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় পল্লিগ্রামের দুপুরের রোদে কবি যেন স্বপ্নের গন্ধ খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মনে কোন গল্প, কোন্ কাহিনি, কোন স্বপ্ন যে ঘর বেঁধেছে, সেই খবর কেউ না রাখলেও পাড়াগাঁর মাঠ আর সেই খোলামাঠে উড়ে বেড়ানো শঙ্খচিল তার খোঁজ জানে। তাদের কাছেই কবি যেন বহু যুগ ধরে হৃদয় দিয়ে প্রকৃতির সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলি উপলব্ধি করার শিক্ষা নিয়েছেন। স্বপ্ন মানেই তা সর্বদা সুখের নয়। বেদনামাখা স্বপ্নেরও যে অস্তিত্ব আছে, কবি তা অনুভব করেন।
শুকনো পাতা,শালিকের স্বর,ভাঙা মঠ, নকশাপেড়ে শাড়ি পরা মেয়ের রোদের ভিতর দিয়ে 'হলুদপাতার মতো' সরে যাওয়ার মধ্যে কবি একাকিত্বের বেদনা অনুভব করেন। জলসিড়ি নদীর পাশে বুনো চালতা ডালের নুয়ে থাকা,হিজল গাছে বাঁধা ভাঙাচোরা ডিঙির নদীর জলে ভেসে থাকা-এই সব কিছুই কবির মনে বিষণ্ণতার সুর জাগিয়ে তোলে। কবি উপলব্ধি করেন,শান্ত ও গ্রাম্য প্রকৃতির শরীরে দুপুরের রোদে যেন এক অশ্রুসিক্ত বিষণ্ণতার আঁচ লেগে আছে। একাকী যাত্রীহীন সেই ভাঙাচোরা ডিঙিটি আকাশের নীচে গভীর বেদনায় কেঁদে কেঁদে ভাসছে। পল্লিপ্রকৃতির এই বেদনাময়তাই কবির হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সুতরাং বলা যায়, কবিতাটির নামকরণ যথাযথ ও সার্থক হয়েছে।
১)নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও।
১.১)জীবনানন্দ দাশের লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর:জীবনানন্দ দাশের লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম হল 'ঝরাপালক' ও 'রূপসী বাংলা'।
১.২) তাঁর লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
উত্তর:জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম 'ঝরাপালক।
২)নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও।
২.১ 'দু-পহর' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘দু-পহর' শব্দের অর্থ দ্বিপ্রহর অর্থাৎ দুপুরবেলা।
২.২)'কেবল প্রান্তর জানে তাহা'-'প্রান্তর' কী জানে?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশের 'পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় কবির মনে কোন্ কাহিনি এবং কী স্বপ্ন ঘর বেঁধেছে,তা কেবল গ্রামের দিগন্তবিস্তৃত প্রান্তরই জানে।
২.৩)'তাহাদের কাছে/যেন এ জনমে নয় যেন ঢের যুগ ধরে কথা শিখিয়াছে/এ হৃদয়” -কাদের কথা এখানে বলা হয়েছে?
উত্তর:জীবনানন্দ দাশের রচিত পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় ‘তাহাদের বলতে পল্লিগ্রামের প্রান্তর বা মাঠ আর সেই মাঠে উড়ে বেড়ানো শঙ্খচিলের কথা বোঝানো হয়েছে।
২.৪)'জলসিড়িটির পাশে ঘাসে..কী দেখা যায়?
উত্তর:কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত'পাড়াগার দু-পহর ভালোবাসি' শীর্ষক কবিতায় দেখাযায় জলসিড়ির পাশে বেড়ে ওঠা বুনো চালতাগাছের ডালগুলো বহুদিন ধরে নুয়ে আছে, জলে তাদের ছায়া পড়েছে।
২.৫) জলেতার মুখখানা দেখা যায়- জলে কার মুখ দেখা যায় ?
উত্তর:জীবনানন্দ দাশের রচিত 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' শীর্ষক কবিতায় বুনো চালতাগাছের শাখাগুলির যে ছায়া নদীর জলে এসে পড়েছে, তারই মুখের কথা এখানে বলা হয়েছে।
২.৬)“ডিঙিও ভাসিছে কার জলে.'-ডিঙিটি কেমন?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশের রচিত ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় জলে ভাসমান যে ডিঙিটির প্রসঙ্গ রয়েছে, সেটি 'ঝাঁঝরা-ফোঁপরা' অর্থাৎ ভাঙাচোরা।
২.৭)ডিডিটি কোথায় বাঁধা রয়েছে?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় ডিঙিটি জলসিড়ি নদীর পাড়ে হিজল গাছে বাঁধা রয়েছে।
৩)নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও।
৩.১) পাড়াগাঁয়ের দ্বি-প্রহরকে কবি ভালোবাসেন কেন?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় গ্রামবাংলার দুপুরের প্রতি কবির ভালোবাসা ও টান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাড়াগাঁর দুপুরের রোদে বেদনাময় এক স্বপ্নের স্বাদ পান তিনি। গ্রামের চিরপরিচিত মাঠ আর শঙ্খচিলই যেন কেবল তাঁর মনে বাসা-বাঁধা গল্প, কাহিনি বা স্বপ্নের হদিশ রাখে।
*কবি এদের কাছেই জন্ম-জন্ম ধরে হৃদয়ের ভাষা শিখেছেন। তিনি মুগ্ধতার সঙ্গে গ্রামবাংলার অতি তুচ্ছ শুকনো পাতা, শালিকের স্বর, ভাঙা মঠ, গ্রাম্য মেয়ের নকশাপেড়ে শাড়ি পরে চলে যাওয়া প্রভৃতি লক্ষ করেন।
*জলসিড়ি নদীর পাশে নুয়ে থাকা বুনো চালতার ডাল তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মালিকহীন ভাঙাচোরা ডিঙিটি হিজলগাছে বাঁধা অবস্থায় জলে ভাসতে থাকে। ডিঙির মালিক হয়তো-বা আর কোনোদিনই
ফিরে আসবে না।
৩.২)স্বপ্নে যে-বেদনা আছে কবির স্বপ্নে কেন বেদনার অনুভূতি?
উত্তর:জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি কবিমনকে আলোড়িত এবং বিষণ্ণ করেছে। পাড়াগাঁয়ের দুপুরগুলি হারিয়ে যাওয়ায় সেগুলির স্মৃতি কবির কাছে এক বেদনাময় স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। দুপুরের নানা কাহিনি। সেই সব দুপুরের নানান পদ্ম তার হৃদয়ের সংরক্ষিত রয়েছে। পাড়াগাঁয়ের মাঠ, সেখানে উড়ে-বেড়ানো শঙ্খচিল কবির স্মৃতির সঙ্গে মিশে আছে। শুকনো পাতা ঝরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে গেছে শালিকের ঝা। হারিয়ে যাওয়া ছবি। দুপুরের রোদে নকশাপেড়ে শাড়ি পরা মেয়েটি হলুদ পাতার মতোই হারিয়ে গেছে। দুপুরের স্মৃতি কবির মনে ভেসে ওঠে জলসিড়ি নদীর পাশে ঘাসের ওপর নুয়ে পড়া বুনো চালতা গাছটির ছবি।সেখানে ভাঙাচোরা একটি ডিঙিনৌকা নদীর তীরে বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। হয়তো বা সেই ডিত্তির মালিক আর কোনোদিনও ফিরবে না।
*কবি গ্রামবাংলার দুপুরের এইসব স্মৃতি কবির মনে যে স্মৃতিমেদুরতার জন্ম দিয়েছে, তা-ই যেন বেদনাময় স্বপ্নের অনুভূতি নিয়ে ফিরে এসেছে।
৩.৩) প্রকৃতির কেমন ছবি কবিতাটিতে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো ।
উত্তর:কবি জীবনানন্দ দাশের রচিত 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'পাড়াগাঁর দু-শহর ভালোবাসি' শীর্ষক কবিতায় পাড়াগাঁয়ের এক অলস,শান্ত,স্নিগ্ধ ও রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুরের চিত্র অঙ্কন করেছেন।
*আলোচ্য অংশে সেই রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুরের নির্জনতা কবিমনে যে বিষণ্ণতার সৃষ্টি করে, তার আভাস
পাওয়া যায়। গ্রামের উন্মুক্ত সবুজ প্রান্তর আর
সেখানকার শব্দচিলের কাছেই তার মনের খবরা রয়েছে। তাদের কাছেই কবি যুগ-যুগ ধরে যেন কথা শিখেছে।
*যে স্বপ্নে ব্যথা বা যন্ত্রণা আছে, দুপুরের রোধে সেই স্বপ্নেরই পেয়েছেন কবি। শুকনো পাতা,শালিকের কন্ঠস্বর,ভাঙা নির্জন মঠ, দৃষ্টির বাইরে চলে যাওয়া মেয়েটির নকশাপেড়ে শাড়ি-কবির মনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে। যত্নহীন বুনো চালতার নুয়ে পড়া, হিজল গাছে বেঁধে রাখা মালিকহীন ভাঙাচোরা নৌকো সেই বিষন্নতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪)কেঁদে কেঁদে ভাসিতেছে আকাশের তলে"-কবির এমন মনে হওয়ার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ রচিত 'পাড়াগীর দু-পহর ভালোবাসি' শীর্ষক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে হিজল গাছে বাঁধা, নদীর জলে ভেসে থাকা মালিকহীন ভাঙাচোরা ডিঙিনৌকোটির কথা বলা হয়েছে। ডিঙিটির মালিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না।
*কবির মনে হয়,এই ঝাঁঝরা-ফোঁপরা পরে থাকা ডিঙিটির মালিক আর কোনোদিনই তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফিরে আসবেন না। এই দৃশ্যটি কবির মনে করুণার সঞ্চার ঘটায়। ডিঙিটির একাকিত্বে তিনি নিজের একাকিত্বেরই প্রতিফলন লক্ষ করেন।
*জরাজীর্ণ ডিঙিটির এমন অবহেলায়,উপেক্ষায় ও অনাদরে পড়ে থাকার কারণেই কবির মনে হয় সে যেন ‘কেঁদে-কেঁদে ভাসিতেছে আকাশের তলে'।
৪)নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো ।
৪.১)‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' শীর্ষক কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কত সংখ্যক কবিতা? এই কবিতায় কবি জীবনানন্দের কবি-মানসিকতার পরিচয় কীভাবে ধরা দিয়েছে, তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' শীর্ষক কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি আর ইতিহাস কবির মনে যে প্রভাব বিস্তার করেছে, ‘রূপসী বাংলা’র প্রতিটি কবিতায় তারই চিত্র ফুটে উঠেছে।
* ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতাতেও কবি গ্রামবাংলার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।
*দুপুরের রোদ,খোলা প্রান্তর, ভাঙা মঠ, শঙ্খচিল, শালিক, নকশাপেড়ে শাড়ি, বুনো চালতার নুয়ে-পড়া ডাল, জলসিড়ি নদী,জলে ভাসমান ঝাঁঝরা-ফোঁপরা ডিঙি-এসব খণ্ডচিত্রের মধ্য দিয়ে কবি গ্রাম্যপ্রকৃতির এক মনোরম দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন।এই প্রতিটি বিষয়ই কবির মনে বেদনার দেয়।কবির একাকিত্ব বোধ,স্তব্ধ দুপুরে কবির মনে একাকিত্বের অনুভূতি নিবিড় হয়ে আসে। সেই সময় সমস্ত প্রকৃতিজুড়ে কবি সেই বেদনারই বিস্তার লক্ষ করেন।
*কবিরপ্রকৃতি যেমন কবিকে তার আপন মহিমায় ভাবিয়ে তোলে, তেমনই কবিও প্রকৃতির মধ্যেই নিজের ভাবনার প্রতিফলন দেখতে পান।
৪.২) কবিতাটির গঠন-প্রকৌশল আলোচনা করো।
উত্তর:কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি'। এটি একটি সনেটধর্মী কবিতা।
* গীতিকবিতার একটি বিশেষ শাখা হল সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা। কবি এ ধরনের কবিতায় তাঁর আবেগকে মাত্র চোদ্দোটি পক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন।সনেটধর্মী বাংলা কবিতায় সাধারণত চোদ্দোটি পক্তি এবং প্রতিটি পঙ্ক্তিতে চোদ্দোটি বর্ণের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।পাঠ্য ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতাটিও চোদ্দো পঙ্ক্তির কবিতা।
৪.৩)'রৌদ্রে যেন ভিজে বেদনার গন্ধ লেগে আছে'-কবিতায় কীভাবে এই অপরূপ বিষণ্ণতার স্পর্শ এসে লেগেছে, তা যথাযথ পক্তি উদ্ধৃত করে আলোচনা করো।
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি'-কবিতায় কবির প্রকৃতিচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।পাড়াগাঁয়ের দুপুরকে কবি ভালো বেসেছেন। কিন্তু সেই দুপুরের রোদেই আছে ‘ভিজে বেদনার গন্ধ, নিঃসঙ্গতা ও বিষণ্ণতা হারিয়ে যাওয়া আর না-পাওয়ার বেদনাবোধ কবিকে বিষণ্ণ করে তুলেছে। এই জনহীন দুপুরের ধু-ধু প্রান্তর আর শঙ্খচিলের কাছেই তাঁর মনের ঠিকানা রয়েছে, পৃথিবীর আর কেউ তাঁর মনের খবর রাখেনি।
‘রৌদ্রে যেন ভিজে বেদনার গন্ধ লেগে আছে' অর্থে পৃথিবীব্যাপী নিঃসঙ্গতাকেই বোঝানো হয়েছে। নিঃসঙ্গ এবং পরিত্যক্ত ডিঙিটাও তাই ‘কেঁদে-কেঁদে ভাসিতেছে আকাশের তলে'। তার আকুল কান্না যেন বিশ্বজগৎকে ঢেকে দিয়েছে।
চ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)
১)‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
ক) ধূসর পাণ্ডুলিপি
খ) বনলতা সেন
ঘ) রূপসী বাংলা
গ) ঝরাপালক
উত্তর:(ঘ) রূপসী বাংলা
২)জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবে প্রকাশিত হয়?
ক) ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে
খ)১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে
গ) ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে
ঘ) ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর:(খ)১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে
৩)'রৌদ্রে যেন গন্ধ লেগে আছে'-কীসের গন্ধ?
ক) স্বপনের
খ) ব্যথার
গ) যন্ত্রণার
ঘ) ভয়ের
উত্তর:(ক) স্বপনের
৪)“কেবল প্রান্তর/জানে তাহা, আর ঐ প্রান্তরের”—কে জানে?-
ক) শঙ্খচিল
খ) গাঙচিল
গ) হৃদয়
ঘ) তাহারা
উত্তর:(ক) শঙ্খচিল
৫)'যেন ঢের যুগ ধরে কথা শিখিয়াছে'-কে?
ক) পাড়াগাঁর মানুষ
খ) কবির বন্ধু
গ) এ হৃদয়
ঘ)শহরের মানুষ
উত্তর:(গ) এ হৃদয়
৬)নকশাপেড়ে শাড়িখানা কার?
ক) মেয়েটির
খ) বউটির
গ) পিসিমার
ঘ) মাসিমার
উত্তর:(ক) মেয়েটির
৭)'নকশাপেড়ে শাড়িখানা মেয়েটির রৌদ্রের ভিতর' সরে যায়-
ক) লাল পাতার মতো
খ) সবুজ পাতার মতো
গ) হলুদ পাতার মতো
ঘ) কালো পাতার মতো
উত্তর:(গ) হলুদ পাতার মতো
৮)'জলসিড়িটির পাশে'-জলসিড়ি হল-
ক) নদী
খ) পুকুর দিঘি
ঘ) হ্রদ
গ) দিঘি
উত্তর:(ক) নদী
ছ) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)
১)জীবনানন্দ দাশের একটি উপন্যাসের নাম লেখো। উত্তর:জীবনানন্দ দাশের লেখা একটি উপন্যাস হল 'মাল্যবান'।
২)পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতাটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
৩)জীবনানন্দ দাশের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর:জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থের নাম হল 'ঝরাপালক'।
৪)পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় রৌদ্রে কী লেগে থাকার কথা বলেছেন?
উত্তর:পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি’কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ রৌদ্রে স্বপ্নের এবং ভিজে বেদনার গন্ধ লেগে থাকার কথা বলেছেন।
৫)কী স্বপ্ন যে বাঁধিয়াছে ঘর'-স্বপ্ন কোথায় ঘর বেঁধেছে?
উত্তর:কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন তাঁর হৃদয়ে স্বপ্নেরা ঘর বেঁধেছে। এ স্বপ্ন কী তা কেউ জানে না, জানে শুধু প্রান্তর আর প্রান্তরের শঙ্খচিল।
৬)'কেউ তাহা জানেনাকো'-কী না জানার কথা কৰি বলেছেন?
উত্তর:কবির হৃদয়ে কোন গল্প,কী কাহিনি, কী স্বপ্ন ঘর বেঁধেছে সে কথা না জানার কথা বলা হয়েছে।
৭) শঙ্খচিল কেমন দেখতে হয়?
উত্তর:গ্রামবাংলার পাখি শঙ্খচিলের দেহের উপরিভাগ বাদামি বর্ণের হলেও বুক এবং গলা হয় সাদা রঙের।
৮)ঢের যুগ ধরে কাদের কাছে কবির হৃদয় কথা শিখেছে?
উত্তর:যুগ যুগ ধরে শঙ্খচিলদের কাছে কবির হৃদয় কথা শিখেছে।
৯)পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় কোন পাখির উল্লেখ আছে?
উত্তর:পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি'কবিতায় শঙ্খচিল ও শালিকের উল্লেখ আছে।
১০)নকশাপেড়ে শাড়িখানা কোথায় কীভাবে সরে যায়?
উত্তর:নকশাপেড়ে শাড়িখানা রোদের ভিতরে হলুদ পাতার মতো সরে যায়।
১১) জলসিড়িটি কী?
উত্তর:‘পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি' কবিতায় উল্লিখিত জলসিড়ি হল-পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ বাংলাদেশের একটি নদী।
আরো পড়ুন:
বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
অদ্ভুত আতিথেয়তা গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশের প্রশ্ন উত্তর Click Here
বনভোজনের ব্যাপার গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
সবুজ জামা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
চিঠি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
পরবাসী কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
পথচলতি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
ছন্নছাড়া গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি Click Here
দাঁড়াও কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
গড়াই নদীর তীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
নাটোরের কথা গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
জেলখানার চিঠি প্রশ্ন উত্তর Click Here
স্বাধীনতা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
শিকল-পরার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
হওয়ার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
the wind cap lesson 1 part 1 Click Here
the wind cap lesson 1 part 2 Click Here
the wind cap lesson 1 part 3 Click Here
Clouds Lesson 2 part 1 Click Here
Clouds Lesson 2 part 2 click Here
একটি চড়ুই পাখির কবিতা প্রশ্ন উত্তর Click Here
কার দৌড় কতদূর গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here
গাছের কথা প্রশ্ন উত্তর click Here
ঘুরে দাঁড়াও কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here
মাসি পিসি কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here
পরাজয় গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-1 click here
টিকিটের অ্যালবাম গল্পের প্রশ্ন উত্তর part -1 click here
লোকটা জানলই না কবিতা প্রশ্ন উত্তর click Here
Midnight Express Lesson-11 part-1 question answer Click Here
Midnight Express lesson-11 part-2 question answer click Here
Midnight Express Lesson-11 part-3 question answer click Here
চা পানের উপকারিতা click Here
ভেষজ উদ্ভিদ click here
সুভা গল্পের প্রশ্ন উত্তর click here
আদাব গল্পের প্রশ্ন উত্তর click here
সমাসের প্রশ্ন উত্তর Click here
বাক্যের প্রশ্ন উত্তর Click here
মশা কয় প্রকার ও কী কী Click here
0 Comments