পরবাসী কবিতার প্রশ্ন উত্তর।পরবাসী কবিতার সারাংশ।



পরবাসী কবিতার প্রশ্ন উত্তর।পরবাসী কবিতার সারাংশ।



সূচিপত্র:

ক) কবি পরিচিতি 

খ) উৎস

গ) বিষয়সংক্ষেপ 

ঘ) নামকরন

ঙ) হাতেকলমে সমাধান 

চ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)

ছ) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) 



ক) কবি পরিচিতি:

 বিষ্ণু দে ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার পটলডাঙায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম অবিনাশ চন্দ্র দে। বঙ্গবাসী কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন। এরপর ইংরেজি সাহিত্যে তিনি বি.এ এবং এম.এ পাস করেন।পড়াশোনা শেষ করে বিষ্ণু দে রিপন কলেজে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি কল্লোল,পরিচয়,ইত্যাদি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাটির নাম'নিরুক্ত'। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য জানিনা কাব্যগ্রন্থ গুলি হল-চোরাবালি,পূর্বলেখ, সন্দীপের চর,অন্বিষ্ট,স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ, প্রভৃতি। তাঁর লেখা প্রবন্ধগ্রন্থ হল-রুচি ও প্রগতি,সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,সাহিত্যের দেশ বিদেশ, প্রভৃতি। তিনি ফরাসি লেখক ভেরকরের 'La Silence de La Mer'-এর অনুবাদ করেছেন ‘সমুদ্রের মৌন' নামে। এ ছাড়াও এলিয়টের কবিতা,হে বিদেশী ফুল,আঠারোটি কবিতা,আফ্রিকায় এশিয়ায় মুরলী মৃদঙ্গ তুর্যে,তাঁর অনুবাদ-দক্ষতার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার 'জ্ঞানপীঠ'লাভ করেছেন।তাঁর রচিত আত্মজীবনীটির নাম-'ছড়ানো এই জীবন'। সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার,নেহরু স্মৃতি পুরস্কার,সোভিয়েত ল্যান্ড পুরস্কার লাভ করেছেন। এই বিখ্যাত কবি ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে পরলোকগমন করেন।


খ)উৎস:

বিষ্ণু দের রচিত'পরবাসী' কবিতাটি 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।


গ)সারসংক্ষেপ:

কবি বিষ্ণু দের রচিত ‘পরবাসী' কবিতায় বিপন্ন প্রকৃতির জন্য কবির বেদনা এবং যন্ত্রণার ছবি ফুটে উঠেছে। কবি আমাদের দেশের প্রকৃতির মনোরম রূপ এই কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। অবাক দৃষ্টিতে কবি দেখেছেন টিলার পলাশের ঝোপে বনময়ূরের হঠাৎ আনন্দে নেচে ওঠা। সেই নৃত্যের সৌন্দর্য কবিকে মনে করায় কত্থক নাচের কথা। নির্জন সেই বনভূমিতে তাঁবুর ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন কবি। তখন তিনি সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল জলরাশিকে ময়ূরের নাচের ছন্দে ছন্দে আন্দোলিত হতে দেখেছেন। শান্ত ও নিরীহ প্রাণী হরিণকে গোপনে তিনি যেমন জল খেতে দেখেছেন, তেমনই তাঁর চোখে পড়েছে লোভী ও হিংস্র চিতার নিঃশব্দ আনাগোনা।চিতার সেই নিঃশব্দ চলার মধ্যে বন্যপ্রাণের যে গতিময়তা ফুটে উঠেছে, তার মধ্যে কবি খুঁজে পেয়েছেন কথাকলি নাচের ছন্দকে। কিন্তু এরপরেই কবি প্রকৃতির কুৎসিত রূপটি তুলে ধরেছেন। সুন্দরী প্রকৃতিকে নিজের সীমাহীন লোভ আর সভ্যতা-বিস্তারের প্রবল বাসনায় ধ্বংস করেছে মানুষ। কুঠারের আঘাতে বনভূমি ধ্বংস করেছে অথচ গড়ে তুলতে পারেনি আদর্শ বসতি। ধু-ধু প্রান্তরে বয়ে চলে বাতাস। কবির আক্ষেপ,অরণ্য ও প্রকৃতিকে মানুষ ধ্বংস করেছে। গ্রাম ধ্বংস হলেও গড়ে ওঠেনি সেই শহর যা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে দু-হাত ভরে গ্রহণ করতে পারে। ময়ূর-সহ প্রকৃতির সমস্ত সুন্দর বস্তুই আজ মানুষের লোভের শিকার হয়ে পণ্যে পরিণত হয়েছে।কবি চেয়েছেন,মানুষের এই সব হঠকারী কাজকর্মের প্রতিবাদ হোক নদী-গাছ-পাহাড় তাদের হারিয়ে যাওয়া মর্যাদা আর গুরুত্ব ফিরে পাক। প্রকৃতির কোলে মানুষ তার যথাযোগ্য স্থানটিকে খুঁজে নিক। ধূসর মরুভূমির মতো নিষ্প্রাণ, দূষিত পৃথিবী আবার সুন্দর এবং মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠুক।


ঘ)নামকরণ:

কবিতার নামকরণ নানাভাবেই হতে পারে। কবি বিষ্ণু দে রচিত ‘পরবাসী' কবিতায় কবি নিজেকে ‘পরবাসী' মনে করেছেন।‘পরবাসী' শব্দটি এসেছে 'প্রবাসী' থেকে,যার অর্থ হল-'যে অন্যের ভূমিতে বাস করে।' কবির কাছে তাঁর বহুদিনের চেনা,পরিচিত মাতৃভূমি আজ হয়ে উঠেছে অপরিচিত।মানুষের অবিচারে, লোভে প্রকৃতি ধ্বংস হয়েছে, কেড়ে নিয়েছে সে বন্যপ্রাণীর আজন্ম বাসভূমি। মানুষ আর প্রকৃতির কোলে তার শান্তির আশ্রয় খুঁজে পায় না। চিরকালীন আশ্রয় লুপ্ত হয়ে যাওয়ার যন্ত্রনাই কবিকে নিজভূমে ‘পরবাসী' করে তুলেছে। কবির এই আক্ষেপই ফুটে উঠেছে কবিতাটিতে। কবে এমন দিন আসবে, যেদিন স্বভূমিতে ‘পরবাসী' হওয়ার বেদনা থেকে তিনি মুক্তি পাবেন। আবার তিনি ফিরে পাবেন মাতৃরূপী প্রকৃতির কোলে শান্তির আশ্রয়। এই অর্থে আলোচ্য কবিতায় ‘পরবাসী' নামকরণটিকে যথার্থ ও সার্থক হয়েছে। 


)নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও ।


১.১) কবি বিষ্ণু দেরপ্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

 উত্তর: কবি বিষ্ণুদের রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম হল- উর্বশী ও আর্টেমিস।


১.২) তাঁর লেখা দুটি প্রবন্ধের বইয়ের নাম লেখো।

উত্তর: কবি বিষ্ণু দে রচিত দুটি প্রবন্ধের বই হল ‘রুচি ও প্রগতি’ এবং ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ'।


ঙ) হাতেকলমে সমাধান:

৩) নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও।


৩.১) পথ কীসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে?

উত্তর:কবি বিষ্ণু দে রচিত ‘পরবাসী' কবিতায় উল্লিখিত পথ বনের মধ্যে এঁকেবেঁকে প্রকৃতির তালে তাল মিলিয়ে চলে।


৩.২) চিতার চলে যাওয়ার ছন্দটি কেমন?

উত্তর: ‘পরবাসী' কবিতায় বর্ণিত চিতার চলে যাওয়ার ছন্দে রয়েছে লোভ ও হিংসার মনোভাব ।


৩.৩)ময়ূর কীভাবে মারা গেছে?

উত্তর: ‘পরবাসী' কবিতায় ময়ূরের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কবি মানুষের সীমাহীন লোভকে এবং সুন্দর জিনিসমাত্রেই তাকে পণ্যে পরিণত করার মনোভাবকে চিহ্নিত করেছেন।


৩.৪ প্রান্তরে কার হাহাকার শোনা যাচ্ছে?

উত্তর:‘পরবাসী' কবিতায় প্রকৃতি ধ্বংস করে তৈরি হওয়া ধূসর, রুক্ষ প্রান্তরে শুকনো হাওয়ার হাহাকার শোনা যাচ্ছে। 


৩.৫) পলাশের ঝোপে কবি কী দেখেছেন?

উত্তর:‘পরবাসী' কবিতায় কবি নিটোল টিলার লাল পলাশের ঝোপে ময়ূরকে হঠাৎ প্রাণের আনন্দে নেচে উঠতে দেখেছেন,যা দেখে তাঁর কত্থক নাচের কথা মনে পড়েছে।


৪ )নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর কয়েকটি বাক্যে লেখো।

৪.১)জঙ্গলের কোন কোন প্রাণীর কথা কবি এই কবিতায় বলেছেন ?

উত্তর:কবি বিষ্ণু দের রচিত ‘পরবাসী' কবিতায় ছোট্ট খরগোশ, বনময়ূর, হরিণ ও চিতার কথা বলেছেন কবি। এই প্রাণীগুলি প্রকৃতির বুকে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াত।


৪.২)সেতারের বিশেষণে কবি সোনালি শব্দের ব্যবহার করেছেন কেন ?

উত্তর: ‘পরবাসী' কবিতায় কবি বিষ্ণু দে নদীর কুলকুল শব্দকে সেতারের সুরেলা আওয়াজের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সূর্যের আলোয় নদীর জল আলোকিত হয়ে উঠেছে। সোনালি আলোয় সেজে ওঠা সেই নদীর নাচের ছন্দ কবির কাছে সেতারের সংগীতের তাল ও ছন্দের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। তাই সেতারের বিশেষণ হিসেবে 'সোনালি' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।


৪.৩) কথক ও কথাকলির কথা কবিতার মধ্যে কোন্ প্রসঙ্গে এসেছে?

উত্তর:কথক হল উত্তর ভারতের অন্যতম ধ্রুপদি নৃত্যকলা। লখনউ ও জয়পুরেই এই নৃত্যের উদ্ভব বলে মনে করা হয়ে থাকে। কথাকলি হল দক্ষিণ ভারতের কেরলের নৃত্যশৈলী। কথাকলি নাচের বিষয়বস্তু হল রামায়ণ-মহাভারত ও পুরাণের কাহিনি। কবিতায় বনময়ূরের নাচের প্রসঙ্গে কথক এবং চিতার চলাফেরার প্রসঙ্গে কথাকলির কথা উল্লিখিত হয়েছে।


৪,৪) ‘সিন্ধুমুনির হরিণ-আহ্বান' কবি কীভাবে শুনেছেন?

উত্তর:'সিন্ধুমুনির হরিণ-আহ্বান' উল্লেখের মধ্য দিয়ে কবি রামায়ণে উল্লিখিত সিন্ধুমুনির কাহিনিটি তুলে ধরেছেন। অন্ধমুনির পুত্র সিন্ধু রাত্রিবেলায় কলশি নিয়ে নদীতে জল ভরতে গেছিলেন। রাজা দশরথ তখন ভুল করে হরিণ জল খেতে এসেছে ভেবে শব্দভেদী বাণ নিক্ষেপ করেন। এর ফলে সিন্ধুমুনির মৃত্যু হয় এবং দশরথও অন্ধমুনির অভিশাপে পরবর্তীকালে পুত্রশোকে প্রাণ হারান। সিন্ধুমুনি নিজের অজ্ঞাতসারেই আপন মৃত্যুকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কবির মনে হয়েছে, হরিণ একইভাবে তার জল খাওয়ার শব্দে আহ্বান জানিয়েছে চিতাবাঘকে। ফলে অনিবার্যভাবেই নিজের মৃত্যুকেও ডেকে এনেছে সে।


৪.৫)'ময়ূর মরেছে পণ্যে'-এই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ কী?

 উত্তর:‘ময়ূর মরেছে পণ্যে'-কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থ হল মানুষের ক্রমবর্ধমান,সীমাহীন লোভের শিকার হয়েছে ময়ূর। ময়ুরের সৌন্দর্যই তার ধ্বংসের কারণ। সুদৃশ্য পালকের কিংবা সুস্বাদু মাংসের লোভে মানুষ তাকে নির্বিচারে হত্যা করে পণ্যের সামগ্রী করে তুলেছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আসলে পণ্য সভ্যতার আগ্রাসনে প্রকৃতির ধ্বংসের কথাই উঠে এসেছে।


৫ )নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো।


৫.১)বিরামচিহ্ন ব্যবহারের কবিতাটির শেষ স্তবকের বিশিষ্টতা কোথায় ?এর থেকে কবির মানসিকতার কী পরিচয় পাওয়া যায় ?


উত্তর: কবি বিষ্ণু দে রচিত ‘পরবাসী' কবিতাটি পাঁচটি স্তবকে বিন্যস্ত। প্রতিটি স্তবকে চারটি করে পক্তি রয়েছে। কবিতার শেষ স্তবকটি বিরামচিহ্ন ব্যবহারের দিক থেকে বিশিষ্ট এবং প্রতিটি পঙ্ক্তিই প্রশ্নবোধক বাক্য ।


* কবিতার শেষ স্তবকে কবি যে প্রশ্নগুলি তুলেছেন, তার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মনের একরাশ আক্ষেপ আর হতাশা। কবি অবাক হয়ে ভেবেছেন, একদল মানুষ নির্বিচারে প্রকৃতিকে লুঠ করে চলেছে। এদেশের সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ না করে কেন এমন অসহায়ভাবে নীরব হয়ে আছে! নিজের দেশের নদী-গাছ-পাহাড়ের এই অমর্যাদা কী করে সহ্য করছে তারা? এইসব মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কবি প্রশ্নগুলো তুলে ধরেছেন।



৫.২)কবি নিজেকে পরবাসী বলেছেন কেন?

উত্তর:কবি বিষ্ণু দের রচিত 'পরবাসী' কবিতায় কবি নিজেকে নিজের মাতৃভূমিকেই ‘পরবাসী' মনে করেছেন। যে ব্যক্তি অন্যের দেশে বাস করে, তাকেই প্রবাসী বা পরবাসী বলা হয়। অতীতে দেখা কবির চেনা প্রকৃতিকে কবি ধ্বংসের মুখোমুখি হতে দেখেছেন। তিনি দেখেছেন মানুষ কীভাবে নষ্ট করেছে গ্রাম,বনভূমি,নির্বিচারে হত্যা করেছে বন্যপ্রাণী আর পাখির দলকে। কবি নাগরিকদের হাতে প্রকৃতির হত্যাকাণ্ড দেখেছেন, কিন্তু নগরের উত্থান দেখেননি। বন কেটে তৈরি হওয়া রুক্ষ প্রান্তরে আজ শুধুই শুকনো হাওয়ার হাহাকার। চেনা স্বদেশ আজ তাঁর নিজের কাছেই সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়ে উঠেছে। তাই কবি নিজেকে পরবাসী বলেছেন।


৫.৩)'জঙ্গল সাফ,গ্রাম মরে গেছে,শহরের/পত্তন নেই..'প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এই পঙ্ক্তিটির প্রাসঙ্গিকতা বিচার করো।


উত্তর:কবি বিষ্ণু দের রচিত ‘পরবাসী' কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।

আলোচ্য অংশে,মানুষই তার লোভের কারণে বনভূমি ধ্বংস করেছে। লোভের বশে মানুষ গ্রাম বিনষ্ট করেছে, অথচ আদর্শ নগরের পত্তন ঘটাতে পারেনি। নগর বানাতে গিয়ে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে গেছে মানুষ। প্রকৃতির সৌন্দর্য আর ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, বন্যপ্রাণীরাও মানুষের লোভের শিকার হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত নগরসভ্যতার বিকাশ ঘটেনি।


৫.৪)পরবাসী কবিতার প্রথম তিনটি স্তবক এবং শেষ দুটি স্তবকের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তানিজের ভাষায় লেখো।


উত্তর:কবি বিষ্ণু দের রচিত ‘পরবাসী’ কবিতাটি পাঁচটি স্তবকে বিন্যস্ত। প্রতিটি স্তবকে মোট চারটি করে পক্তি রয়েছে। ‘পরবাসী' কবিতাটির প্রথম তিন স্তবকে কবি অতীতের স্মৃতিচারণা করেছেন। গভীর বনভূমির মধ্যেকার আলো অন্ধকারের পথ, রাতের আলোয় জ্বলতে থাকা বন্যজন্তুর চোখ, ছোট্ট খরগোশ, বনময়ূর, হরিণ আর চিতা- নিবিড় অরণ্য, ছন্দে বয়ে চলা নদী আজও তাঁর স্মৃতিতে জীবন্ত। সেই সুন্দর অরণ্যপ্রকৃতি আর প্রাণচঞ্চল গ্রামগুলি আজ হারিয়ে গেছে। সেখানে শুষ্ক বাতাসের বয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে কবি নিজের হাহাকার প্রকাশ করেছেন। শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ তার আদি বাসস্থান প্রকৃতিকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। হারিয়ে গেছে বনভূমি। গ্রাম তার সমস্ত প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে  নিঃস্ব, তৈরি হয়নি কোনো আদর্শ শহরও।এই দেশের নদী,গাছ,পাহাড়ের মর্যাদা রাখতে তারা কেন সোচ্চার হচ্ছে না! 


৫.৫)‘পরবাসী' কবিতাটি কবির ভাবনায় কেমন করে এগিয়েছে তা কবিতা অনুসারে আলোচনা করে বোঝাও।


উত্তর: কবি বিষ্ণু দের রচিত ‘পরবাসী' কবিতাটির প্রথম তিনটি স্তবকে রয়েছে কবির স্মৃতিকথা। তাঁর স্মৃতিতে জেগে উঠেছে অতীতের অরণ্যপ্রকৃতি ও গ্রাম্য সৌন্দর্যের ছবি। সেখানে প্রকৃতির মধ্যে ভারতীয় নৃত্যকলার বিভিন্ন শৈলীকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। আলোছায়াময় অরণ্যপথ যেন নাচের তালে তালে এগিয়ে গেছে এই কবিতায়। রাত্রির অন্ধকারে বন্যজন্তুর চোখ জ্বলে ওঠা বা ছোট্ট খরগোশের নেচে নেচে চলার মধ্যেও একটা ছন্দের প্রভাব লক্ষ করেছেন কবি। যখন হঠাৎ ময়ূর মনের আনন্দে নেচে উঠেছে, তার মধ্যে কবি ভারতীয় নৃত্যকলা কথকের রূপকে দেখেছেন। কবির মন সেই নাচের ছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছে নদীর কুলকুল ধ্বনিতে ছুটে যাওয়ার ছন্দকে। হরিণের জল খাওয়ার দৃশ্য কবিকে যেমন আপ্লুত করেছে, তেমনই হিংস্র চিতার চলার ছন্দ কবিকে মনে করিয়ে দিয়েছে কথাকলি নাচের কথা।

*পরের দুটি স্তবকে কবি ফিরেছেন বাস্তবে। সেখানে শুধুই রুক্ষতার ছবি আর হারানোর হাহাকার। উন্নতির লোভে,সভ্যতার বন ধ্বংস হয়েছে, গ্রাম মরে গেছে, বসতি গড়ে ওঠেনি, নগরের পত্তনও হয়নি। সজীব, সুন্দর প্রকৃতিকে হারিয়ে ফেলার নৈরাশ্য কবির কথায় ধরা পড়েছে।


 ৫.৬)'পরবাসী'কবিতার নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে কবির কী কী চিন্তা কাজ করেছে বলে তোমার মনে হয়তুমি কবিতাটির বিকল্প নাম দাও এবং সে নামকরণের ক্ষেত্রে তোমার যুক্তি সাজাও।


উত্তর:কবি বিষ্ণু দের রচিত পরবাসী কবিতায় মানুষের হাতে প্রকৃতির নির্বিচারে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ছবি তুলে ধরেছেন।তাঁর চেনা অরণ্য আর গ্রাম্য প্রকৃতিকে তিনি এখন আর কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না। বনকে মানুষ নির্বিচারে ধ্বংস করেছে অথচ কোনো আদর্শ নগর সে গড়ে তুলতে পারেনি। শুকনো হাওয়ায় আর গাছের পাতা নেচে ওঠে না, শূন্য প্রান্তরে হাওয়া হাহাকার করে ফেরে। এই হাহাকার আসলে কবিরও।এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ নীরব। মানুষের প্রতিবাদহীন এই নীরবতায় কবি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে নিজেকে ‘নিজভূমে পরবাসী' আখ্যা দিয়েছেন।


*কবিতাটির আমি বিকল্প নাম দিতে চাই, 'হারানো সময়'।কবি যে সময়টিকে হারিয়ে ফেলেছেন তার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে মানবসভ্যতার সোনালি অতীতও।


৬) টীকা লেখো-কত্থক, সেতার, কথাকলি, সিন্ধুমুনি,পণ্য।


কত্থক:

উত্তর:ভারতের অন্যতম ধ্রুপদি নৃত্যকলা হল কত্থক। লখনউ ও জয়পুরকেই এই নৃত্যের জন্মস্থান বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এই কবিতায় ময়ূরের নৃত্য প্রসঙ্গে কবি কত্থক নাচের উপমাটি ব্যবহার করেছেন।


 সেতার:

সেতার তিনটি প্রধান তারের সমাহারে তৈরি একটি অতুলনীয় বাদ্যযন্ত্র। এই তারযন্ত্রটির গঠনে ‘বীণা' যন্ত্রের প্রভাব লক্ষ করা যায়। উত্তর এশিয়া অঞ্চল থেকে উত্তর ভারতে এই যন্ত্রটি প্রথম এসেছিল। এই কবিতায় নদীর কুলকুল জলধ্বনি কবিকে মনে করিয়ে দিয়েছে সেতারের সুর-ঝংকারের কথা।


 কথাকলি:

দক্ষিণ ভারতের কেরলের নাচ কথাকলি। এই নাচের বিষয়বস্তু রামায়ণ-মহাভারত ও পুরাণের কাহিনি। সাধারণত এই নৃত্যনাট্য মন্দির প্রাঙ্গণে বা খোলা জায়গাতেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এটি প্রধানত পুরুষ প্রধান নৃত্য। এই কবিতায় চিতার হিংস্র, শক্তিশালী ও সাহসী চলাফেরা প্রসঙ্গে এই উপমাটি ব্যবহৃত হয়েছে।


সিন্ধুমুনি:

জনৈক মুনিকুমার হলেন সিন্ধুমুনি। ইনি সরযূ নদীর তীরে বাস করতেন।একবার যুবক বয়সে রাজা দশরথ সরযূতীরে রাত্রে শিকার করতে আসেন, তখন মুনিকুমার কলশিতে জল ভরছিলেন। শব্দটিকে হরিণের জলপানের শব্দ অনুমান করে দশরথ শব্দভেদী বাণ ছোড়েন। পিতামাতার সামনেই সিন্ধুমুনির মৃত্যু হয়। বৃদ্ধ অন্ধমুনি দশরথকে পুত্রশোকে মৃত্যুর অভিশাপ দিয়ে চিতায় আরোহণ করেন। রামায়ণের অযোধ্যাকাণ্ডে এই কাহিনি বর্ণিত আছে। কবিতায় হরিণ আহ্বান প্রসঙ্গে সিন্ধুমুনি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।


পণ্য:

পণ্য শব্দটির অর্থ ক্রয়-বিক্রয় করা। আর পণ্য হল বিক্রয়যোগ্য দ্রব্য।


চ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)


১) রাতের আলোয় থেকে থেকে কী জ্বলে?-

ক) জোনাকি

খ) আলেয়া

গ) কোনোটিই নয়

ঘ) জন্তুর চোখ

উত্তর:(ঘ) জন্তুর চোখ


২) “নিটোল টিলার পলাশের ঝোপে দেখেছি”–কবি দেখেছেন-

ক) খরগোশ

খ) বনময়ূর

গ হরিণ

ঘ)বাঘ

উত্তর:(খ) বনময়ূর


৩)কবি দেখেছেন বনময়ূরের নৃত্য—কী নৃত্য?

ক) মণিপুরি

খ) কখক

গ) কুচিপুড়ি

ঘ) ভারতনাট্যম

উত্তর:(খ) কখক


৪)নদীর কিনারে চুপিচুপি জল খায়-

ক) শিয়াল

খ) হরিণ

 গ) ময়ূর

ঘ) কাক

উত্তর:(খ) হরিণ


৫)“চুপি-চুপি আসে..জল খায় !”কে ?

ক) চিতাবাঘ

খ) বানর

গ) হরিণ

ঘ) ময়ূর

উত্তর:(গ) হরিণ


৬)সিন্ধুমুনি কার পুত্র ছিলেন?-

ক) বিশ্বামিত্র মুনির

খ)কণ্বমুনির

গ) অন্ধমুনির

ঘ) অগস্ত্যমুনির

উত্তর:(গ) অন্ধমুনির


৭)‘পরবাসী' কবিতায় উল্লিখিত 'সিন্ধুমুনির কথা আমরা জানতে পারি-

ক) মহাভারত থেকে

খ) বেদ থেকে

গ) গীতা থেকে

ঘ)রামায়ণ থেকে

উত্তর:(ক) মহাভারত থেকে


৮)"ময়ূর মরেছে”-

ক) বাঘের কারণে

খ) সাপের কারণে

গ) মানুষের লোভের কারণে 

ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর:(গ) মানুষের লোভের কারণে 


ছ) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) 


১)পরবাসী' কবিতার কবির নাম কী?

উত্তর:‘পরবাসী' কবিতার কবির নাম বিষ্ণু দে।


২)পথ কীসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে?

উত্তর:পরবাসী' কবিতায় কবি বিষ্ণু দে বলেছেন যে, পথ প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এঁকেবেঁকে চলে।


৩)নেচে কারা লাফ দেয়?

উত্তর:পরবাসী' কবিতা অবলম্বনে বলা যায়, নেচে নেচে লাফ দেয় কচি-কচি খরগোশের দল।


৪)পরবাসী' কবিতায় পলাশের ঝোপে কবি কী দেখেছেন?


উত্তর:পরবাসী' কবিতায় পলাশের ঝোপে কবি বিষ্ণু দে দেখেছেন বনময়ুরের আনন্দনৃত্য।


৫)পরবাসী' কবিতায় কত্থক শব্দটি কোন প্রসঙ্গে এসেছে?


উত্তর:পরবাসী কবিতায় চঞ্চল বনময়ূরের নৃত্যশৈলীকে কখক বলেছেন কবি।


৬)‘পরবাসী’ কবিতায় কোন দুটি নৃত্যশৈলীর কথা উল্লেখিত হয়েছে?


 উত্তর:“পরবাসী” কবিতায় 'কত্থক' ও 'কথাকলি'-এই দুটি নৃত্যশৈলীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


৭)সিন্ধুমুনির চরিত্রটি কোন মহাকাব্যের অন্তর্গত?


উত্তর:সিন্ধুমুনির চরিত্রটি ‘রামায়ণ' মহাকাব্যের অন্তর্গত।


৮)'শুনেছি সিন্ধুমুনির হরিণ আহ্বান”- সিন্ধুমুনির হরিণ আহবানের পৌরাণিক প্রসঙ্গটি লেখো।


উত্তর:অন্ধমুনির পুত্র সিন্ধুমুনি যখন নদী থেকে কলশিতে জল ভরছিলেন তখন রাজা দশরথ সেই শব্দকে হরিণের জলপানের শব্দ ভেবে শব্দভেদী বাণ ছোড়েন। এতে সিন্ধুমুনির মৃত্যু হয় ৷ সিন্ধুমনি কার


৯)"শুনেছি সিন্ধুমুনির হরিণ আহ্বান”-হাতে তিরবিদ্ধ হন?

উত্তর:রামায়ণের কাহিনি অনুসারে সিন্ধুমুনি রাজা দশরথের হাতে তিরবিদ্ধ হন।


১০)পরবাসী' কবিতায় পরবাসী কে?

'পরবাসী' কবিতাটিতে পরবাসী হলেন স্বয়ং কবি বিষ্ণু দে এবং কবিরই মতন সব প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ।


১১)ময়ূর কীভাবে মারা গেছে?

উত্তর:ময়ূরের সুদৃশ্য পালক ও তার সুস্বাদু মাংস, যেগুলির পণ্য হিসেবে বাজারে দাম আছে,সেগুলির জন্য চোরাশিকারীর দল ময়ূরকে মেরে ফেলেছে।


আরো পড়ুন:

 বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

অদ্ভুত আতিথেয়তা গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here

চন্দ্রগুপ্ত নাট্যাংশের প্রশ্ন উত্তর Click Here

বনভোজনের ব্যাপার গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here

সবুজ জামা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

চিঠি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here 

পরবাসী কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here 

পথচলতি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here 

ছন্নছাড়া গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here 

পাড়াগাঁর দু-পহর ভালোবাসি Click Here 

দাঁড়াও কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here 

গড়াই নদীর তীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here 

নাটোরের কথা গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here 

জেলখানার চিঠি প্রশ্ন উত্তর Click Here 

স্বাধীনতা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here 

শিকল-পরার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here 

হওয়ার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here 






the wind cap lesson 1 part 1 Click Here 

the wind cap lesson 1 part 2 Click Here

the wind cap lesson 1 part 3 Click Here


Clouds Lesson 2 part 1 Click Here

Clouds Lesson 2 part 2 click Here 


একটি চড়ুই পাখির কবিতা প্রশ্ন উত্তর Click Here

কার দৌড় কতদূর গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here 

গাছের কথা প্রশ্ন উত্তর click Here 

ঘুরে দাঁড়াও কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

মাসি পিসি কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

পরাজয় গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-1 click here


টিকিটের অ্যালবাম গল্পের প্রশ্ন উত্তর part -1 click here

লোকটা জানলই না কবিতা প্রশ্ন উত্তর click Here 

পটলবাবু ফিল্মস্টার গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here 


Midnight Express Lesson-11 part-1 question answer Click Here 

Midnight Express lesson-11 part-2 question answer click Here 

Midnight Express Lesson-11 part-3 question answer click Here 


চা পানের উপকারিতা click Here 

ভেষজ উদ্ভিদ click here 

সুভা গল্পের প্রশ্ন উত্তর click here 

আদাব গল্পের প্রশ্ন উত্তর click here 


সমাসের প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাক্যের প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here 
ব্যঞ্জনধ্বনি প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর part-1 Click here 
ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর Part-2 Click here 

শব্দ গঠনের প্রথম পর্যায় উপসর্গ ও অনুসর্গ প্রশ্ন উত্তর Click here 

শব্দ গঠনের দ্বিতীয় পর্যায় ধাতু ও প্রত্যয় প্রশ্ন উত্তর Click here 


মশা কয় প্রকার ও কী কী Click here 

চোখের প্রশ্ন উত্তর Click here 
অগ্ন্যাশয় এর প্রশ্ন উত্তর Click here 


মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

পদ কয় প্রকার ও কি কি Click here 
পদের দ্বিতীয় ভাগ- বিশেষণপদ Click here 



পদের পঞ্চম ভাগ ক্রিয়াপদ Click here 
































 



 

Post a Comment

0 Comments