উদ্ভিদ হরমোন কাকে বলে।উদ্ভিদ হরমোনের বৈশিষ্ট্য।




1)পরিবেশ ও বিজ্ঞানের- ভৌত পরিবেশ: 

1.B.উদ্ভিদের সাড়া প্রদান এবং রাসায়নিক সমম্বয়:

 হরমোন।


সূচিপত্র: 

1) উদ্ভিদ হরমোন সম্পর্কে আলোচনা

2) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1

3) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ)প্রশ্নের মান-1

4) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2

5) রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নের মান-5


1.B.উদ্ভিদের সাড়া প্রদান এবং রাসায়নিক সমম্বয়:

 হরমোন।


1)হরমোন- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ জীবদেহের বিশেষ ধরনের নির্দিষ্ট কতগুলি কোশ বা কোশসমষ্টি (বা প্রাণীদেহের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি) থেকে উৎপত্তি লাভ করে অতি অল্পমাত্রায় কোশে বাহিত হয়েকোশগুলির স্বাভাবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কাজের পর

ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়,তাকে হরমোন বলে।


* হরমোন-শব্দটি গ্রিক শব্দ 'Hormao'থেকে এসেছে,এর অর্থ হল 'আমি জাগ্রত করি'। বেলিস ও স্টারলিং 1905 সালে হরমোন শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।


 2)উদ্ভিদের বিভিন্ন কাজের নিয়ন্ত্রণেরপ্রয়োজনীয়তা এবং হরমোনের ভূমিকা:


 1) সংবেদনশীলতা ও সাড়া প্রদান:

উদ্ভিদ সাধারণত ধীর বৃদ্ধিজ চলনের মাধ্যমে সাড়া প্রদান করে। বিভিন্ন উদ্ভিদ হরমোন কোশের বৃদ্ধি ঘটিয়ে বা K ও CH আয়নের চলাচল নিয়ন্ত্রণের দ্বারা রসস্ফীতির হ্রাসবৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্ভিদের সাড়া প্রদানে সাহায্য করে।


2)বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম:

অনুকূল পরিবেশে কিছু উদ্ভিদ হরমোন(যেমন-জিব্বেরেলিন) বীজ মধ্যস্থ সুপ্ত ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটায়,ফলে বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম ঘটে।


3)উদ্ভিদের অগ্র ও পার্শ্বীয় বৃদ্ধি:

কিছু উদ্ভিদ হরমোন (যেমন-অক্সিন) অগ্রস্থ ভাজক কলা ও পার্শ্বস্থ ভাজক কলার সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে যথাক্রমে উদ্ভিদের অগ্র ও পার্শ্বীয় বৃদ্ধি ঘটায়।


4) মুকুলোদ্‌গম:কিছুকিছু উদ্ভিদ হরমোনের (যে অক্সিন,জিব্বেরেলিন) প্রভাবে অগ্রমুকুল সৃষ্টি হয় ও পাতার কক্ষে কাক্ষিক মুকুল গঠিত হয়,যা থেকে শাখার সৃষ্টি হয়।


5)ফুলফোটা:কোনো কোনো হরমোনেরপ্রভাবে(যেমন-জিব্বেরেলিন) পুষ্পমুকুল গঠিত হয়। পুষ্পমুকুল থেকে ফুল গঠিত হয়।


* উদ্ভিদ হরমোনের প্রকারভেদ:

উদ্ভিদ হরমোন বা ফাইটোহরমোন সাধারণভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি সহায়ক বা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।


1) প্রাকৃতিক হরমোন যেসব হরমোন উদ্ভিদদেহে স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লেষিত হয় এবং এদের রাসায়নিক প্রকৃতি ও কাজ জানা গেছে, তাদের প্রাকৃতিক হরমোন বলে। যেমন- অক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন, অ্যাবসিসিক অ্যাসিড, ইথিলিন (গ্যাসীয় হরমোন) ইত্যাদি।


2) কৃত্রিম হরমোন:প্রাকৃতিক হরমোনের মতো গঠনযুক্ত যেসব হরমোনগুলিকে কৃত্রিমভাবে রসায়নাগারে সংশ্লেষ করা হয়েছে তাদের কৃত্রিম হরমোন বলে। যথা- ইন্ডোল বিউটাইরিক অ্যাসিড (IBA), ইন্ডোল প্রোপিয়োনিক অ্যাসিড (IPA) ইত্যাদি।


* কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ হরমোন:


1)অক্সিন (Auxin-C10HgO2N):

উৎস:মূল ও কাণ্ডের অগ্রস্থ ভাজক কলা, অপরিণত পাতা,ভ্রূণমুকুলাবরণী,পরাগরেণু ইত্যাদি হল অক্সিনের উৎস।


*রাসায়নিক গঠন:অক্সিন হল C, H, O ও N মৌল দ্বারা গঠিত ইন্ডোল বর্ণযুক্ত জৈব অ্যাসিড ধর্মী উদ্ভিদ

হরমোন।


*পরিবহণ:

অক্সিন জলে দ্রবণীয় এবং এর মেরুবর্তী পরিবহণ ঘটে। সক্রিয় পরিবহণ পদ্ধতিতে অক্সিনের মেরুবৃর্তী পরিবহণ ঘটে এবং পাতায় উৎপন্ন অক্সিন ফ্লোয়েমের মাধ্যমে উদ্ভিদের অন্যান্য অঙ্গে পরিবাহিত হয়।


* ভূমিকা:

i) অগ্রস্থ প্রকটতা:

অগ্রমুকুলের দ্বারা কাক্ষিক মূলের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঘটনাকে অগ্রস্থ প্রকটতা বলে। অক্সিন অগ্রস্থ প্রকটতাকে ত্বরান্বিত করে,ফলে উদ্ভিদ লম্বা হয় ও শাখাপ্রশাখার সৃষ্টি ব্যাহত হয়


ii) কোশের আকার বৃদ্ধি:

অক্সিন কোশপর্দাস্থিত প্রোটন পাম্পকে (H+-ATPase) সক্রিয় করে H+-কে কোশপর্দা ও কোশপ্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে প্রেরণ করে, ফলে কোশপ্রাচীরের pH কমে যায় ও এক্সপ্যানসিন উৎসেচক সক্রিয় হয়ে কোশপ্রাচীরকে নমনীয় করে। এর ফলে নতুন কোশ প্রাচীর উপাদান সঞ্চিত হলে কোশের আকার বৃদ্ধি পায়। কোশের আকার বৃদ্ধির এই তত্ত্বটি হল অ্যাসিড গ্রোথ হাইপোথেসিস।


(iii) কোশের বিভাজন:

উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঞ্চলের পোস্ট গুলির বিভাজনে অক্সিন সাহায্য করে।


iv) ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ:

a) ফটোট্রপিক চলন:কাণ্ড ও মূলের আলোকিত অংশের দিকে কম অক্সিন ও আলোর বিপরীত দিকে বেশি অক্সিন সঞ্চিত হয়। যেহেতু কাণ্ডের কোশ বেশি অক্সিন ঘনত্বে ও মূলের কোশ কম অক্সিন ঘনত্বে বেশি সক্রিয় হয়, সেজন্য কাণ্ডের অগ্রভাগ আলোর দিকে (অনুকূল আলোকবর্তী) ও মূল আলোর বিপরীতে (প্রতিকূল আলোকবর্তী) বেঁকে যায়।


b) জিওট্রপিক চলন:

অনুভূমিকভাবে শায়িত চারাগাছে অভিকর্ষের প্রভাবে কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগের ভূমিসংলগ্ন অংশে অধিক অক্সিন ও তার বিপরীতে কম অক্সিন সঞ্চিত হয়। ফলে কাণ্ড অভিকর্ষের বিপরীতে (প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী) ও মূল অভিকর্ষের অনুকূলে (অনুকূল অভিকর্ষবর্তী) বৃদ্ধি পায়।


v) ফলের পরিস্ফুটন:

 পরাগযোগ ও নিষেকের পর ডিম্বাশয়ে অক্সিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ডিম্বাশয় বৃদ্ধি পেয়ে ফল গঠন করে। 

* পরিণতি:IAA-অক্সিডেজের দ্বারা O2-এর উপস্থিতিতে অক্সিন বিনষ্ট হয়।


1.জিব্বেরেলিন (Gibberelin-C19H22O6 )


* উৎস:

প্রধানত পরিণত বীজ,অঙ্কুরিত বীজের বীজপত্র,পাতার বর্ধিষ্ণু অঞ্চল ইত্যাদি হল জিব্বেরেলিনের উৎস।


* রাসায়নিক গঠন:

জিব্বেরেলিন বা জিব্বেরেলিক অ্যাসিড (GA) হল ডাই-টার্পিনয়েডধর্মী এবং জিব্বেন কার্বনকাঠামোক্ত নাইট্রোজেনবিহীন জৈব অম্ল। এটি প্রধানত C, H ও O নিয়ে গঠিত।


*পরিবহণ:

জলে দ্রবণীয় এবং জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাধ্যমে এর পরিবহণ উভয় দিকেই ঘটে।


 ভূমিকা:

i) বীজের সুপ্তাবস্থার ভাঙন:

অনুকূল পরিবেশে জলের উপস্থিতিতে বীজমধ্যস্থ সুপ্ত ভ্রুণ থেকে GA নির্গত হয়ে বিভিন্ন আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচককে (যেমন-অ্যামাইলেজ, প্রোটিয়েজ, রাইবোনিউক্লিয়েজ।


• কয়েকজন জাপানি ডি-গ্লুকোনেজ ইত্যাদি) সক্রিয় করে। সক্রিয় আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচক টুকরো কথা বীজের শস্যকে বিশ্লিষ্ট করে দ্রবণীয় শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিজ্ঞানী কিছু ধান গাছের অতিকায় বৃদ্ধির কারণ নিউক্লিওসাইড ইত্যাদিতে রূপান্তরিত করে যা ভ্রূণ দ্বারা শোষিত অনুসন্ধান করতে গিয়ে 'ব্যাকানে' (Bakanae) হলে ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটে এবং বীজ অঙ্কুরিত হয়।


 ii) মুকুলের রোগের কথা উল্লেখ করেন।

শীতকালে নিম্ন তাপমাত্রায় যেসব মুকুল কুরোসোয়া (1925) 'ব্যাকানে' রোগের কারণ সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তাদের ওপর GA প্রয়োগ করলে তাদের হিসেবে জিব্বেরেলা ফুজিকুরোই নামক ছত্রাক সুপ্তাবস্থা বিনষ্ট হয়ে বৃদ্ধি ঘটে। 


iii) পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি:নিঃসৃত পদার্থকে দায়ী করেন। তারপর 1938 সালে খর্ব বিটপসম্পন্ন উদ্ভিদে নিম্ন মাত্রায় GA প্রয়োগ করলে উদ্ভিদের ইয়াকুতা ও ইয়াশি ছত্রাক নিঃসৃত ওই পদার্থটিকে পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটে। ফলে উদ্ভিদটি স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য সম্পন্ন নাম দেন জিব্বেরেলিন। হয়। GA প্রভাবিত উদ্ভিদের এইরূপ পর্বমধ্য বৃদ্ধিকে বোল্টিং (bolting) বলে। 


iv) ফলের বৃদ্ধি:বাইরে থেকে GA3 প্রয়োগ করলে ফলের আকার বৃদ্ধি পায়।যেমন- আঙুর,কলা প্রভৃতির বৃদ্ধি। এ ছাড়া GA3 প্রয়োগে আঙুরের থোকায় ফলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। 


v) পুষ্প পরিস্ফুটন ও লিঙ্গ পরিবর্তন: বাইরে থেকে GA প্রয়োগ করলে দীর্ঘ দিবা উদ্ভিদ হ্রস্বদিবা অবস্থাতেও ফুল উৎপন্ন করতে পারে। কিছুকিছু হ্রস্ব দিবা উদ্ভিদ GA দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ফুল উৎপন্ন করে। এ ছাড়া শসা, কুমড়ো প্রভৃতি গাছে GA3-এর ঘনত্ব বেশি হলে পুরুষ ফুল ও ঘনত্ব কম হলে স্ত্রীফুল উৎপন্ন হয়।


* পরিণতি:জিব্বেরেলিন-গ্লাইকোসাইডরূপে GA নিষ্ক্রিয় হয।


iii) সাইটোকাইনিন (Cytokinin-C10HgNO):


*উৎস:

নারকেলের তরল শস্যে (ডাব বা নারকেলের জল), ভুট্টার শস্যে, অঙ্কুরিত বীজে এবং বিভিন্ন ফুল

ও ফল, যেমন-আপেল,নাসপাতি, কুল ইত্যাদির নির্যাস হল সাইটোকাইনিনের উৎস।


রাসায়নিক গঠন:

সাইটোকাইনিন হল ক্ষারীয় প্রকৃতির হরমোন। এটি C, H, N ও O-এর যৌগ।


পরিবহণ:এটি জলে দ্রবণীয় এবং জাইলেমের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।


*ভূমিকা:

i) কোশের বিভাজন যথেষ্ট পরিমাণ অক্সিনের (IAA) উপস্থিতিতে সাইটোকাইনিন সাইটোকাইনেসিসে সাহায্য করে কোশ বিভাজনকে ত্বরান্বিত করে।


ii) পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি:

সাইটোকাইনিন প্রয়োগ করলে অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় (অগ্রস্থ প্রকটতা বিনষ্ট হয়) এবং কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।


iii) বার্ধক্য বিলম্বিতকরণ:রিচমন্ড এবং ল্যাংপরীক্ষামূলকভাবে দেখান যে,উদ্ভিদদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো পাতায় সাইটোকাইনিন প্রয়োগ করলে পাতাটির ক্লোরোফিল, প্রোটিন ইত্যাদি

দেরিতে বিনষ্ট হয়। অর্থাৎ পাতাটির বার্ধক্য বিলম্বিত হয়। এই ঘটনাকে রিচমন্ড-ল্যাং প্রভাব (Richmond Lang Effect) বলা হয়।


iv) বীজের সুপ্তাবস্থার ভাঙন:

সাইটোকাইনিন প্রয়োগ করলে লেটুস,তামাক ইত্যাদির বীজের সুপ্তাবস্থা বিনষ্ট হয়:বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম ঘটে।


v) অঙ্গ বিভেদ নিয়ন্ত্রণ:

সাইটোকাইনিন অবিভেদিত কোশপুঞ্জ থেকে সৃষ্টিতে (যেমন-কাণ্ড) সাহায্য করে এবং প্রো প্লাসটিড থেকে প্লাসটিড গঠনে সাহায্য করে।


পরিণতি:

উপযুক্ত মাত্রায় সাইটোকাইনিন কোশীয় বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পর সাইটোকাইনিন অক্সিডেজ উৎসেচক দ্বারা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।


*সংশ্লেষিত বা কৃত্রিম হরমোনের ভূমিকা: 


1)শাখা কলম:

গোলাপ,ডালিয়া,জবা প্রভৃতি উদ্ভিদের শাখার কাটা প্রান্ত কৃত্রিম অক্সিন (NAA, IBA) দ্রবণে ডুবিয়ে মাটিতে বসালে কাটা প্রান্ত থেকে মূল দ্রুত উৎপন্ন হয়,ফলে শাখাটি নতুন চারাগাছ হিসেবে বেড়ে ওঠে। 


2)অপরিণত ফলের মোচন রোধ:

কৃত্রিম অক্সিন (IBA, NAA) ও কৃত্রিম জিব্বেরেলিন প্রয়োগে আঙুর, নাসপাতি, আপেল,টম্যাটো প্রভৃতি গাছের অপরিণত ফলের মোচন রোধ করা সম্ভব হয়েছে।


 3) আগাছা দমন:

বিভিন্ন কৃত্রিম অক্সিন (2.4-D, MCPA, NAA প্রভৃতি) এককভাবে বা মিশ্রণ হিসেবে প্রয়োগ করে আগাছা দমন করা সম্ভব হয়েছে।


4)পার্থেনোকাপি:

আগাছা দমন বিভিন্ন কৃত্রিম অক্সিন (IBA, NAA) ও জিব্বেরেলিন প্রয়োগ করে বীজহীন ফল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।যেমন-বীজহীন আঙুর,তরমুজ, আনারস, টম্যাটো,পেয়ারা,আপেল, নাসপাতি, কলা ইত্যাদি।

কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদনকে পার্থেনোকার্পি বলে এবং পার্থেনোকার্পি পদ্ধতিতে উৎপন্ন ফলকে পার্থেনোকাপিক

ফল বলে।


2) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1


1) হরমোন শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন-

a) বেলিস ও স্টারলিং

b)ওয়েন্ট

c)কুরোসাওয়া

d)জগদীশ চন্দ্র বসু


উত্তর:(a) বেলিস ও স্টারলিং


2)হরমোন হল একটি-

a)উৎসেচক

b) ভৌত সমন্বয়কারী

c) গ্রাহক 

d)রাসায়নিক সমন্বয়কারী


উত্তর:(d)রাসায়নিক সমন্বয়কারী


3)অক্সিন হল একটি-

a) উৎসেচক

b)রেচন পদার্থ

c)প্রাণী হরমোন 

d)উদ্ভিদ হরমোন


উত্তর:(d)উদ্ভিদ হরমোন



4)অক্সিন আবিষ্কার করেন-

a)ওয়েন্ট

b) প্যাভলভ

c)সোয়ান

d) রাসায়নিক সমন্বয়কারী


উত্তর:(a)ওয়েন্ট



5) অক্সিন সম্বন্ধে প্রথম যে উদ্ভিদে পরীক্ষা হয়,সেটি হল-

a) মটর

b) গম

c) ধান

d)যই


উত্তর:(d)যই


6)উদ্ভিদের অগ্রস্থ প্রকটতার জন্য দায়ী উপাদান হল-

a) জিব্বেরেলিন

b) অক্সিন

c)সাইটোকাইনিন

d)উৎসেচক


উত্তর:(b) অক্সিন


7)যে রাসায়নিক পদার্থ থেকে অক্সিন সংশ্লেষিত হয়, সেটি হল-

a)ট্রিপটোফ্যান

c) ভ্যালি

d)লাইসিন

d)টাইরোসিন


উত্তর:(a)ট্রিপটোফ্যান


৪)উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে-

a)সাইটোকাইনিন

b) অক্সিন

c) লাইসিন

d) ফ্লোরিজেন


উত্তর:(b) অক্সিন


9) অক্সিনের প্রবাহ-

a) ঊর্ধ্বমুখী

b)নিম্নমুখী

c) পার্শ্বমুখী

d) সর্বত্র


উত্তর:(b)নিম্নমুখী


10)সাইটোকাইনিন যে হরমোনটির উপস্থিতিতে ভালো কাজ করে সেটি হল-

a)জিব্বেরেলিন

b)অক্সিন

c)ইথিলিন

d)কোনদিনই নয়


উত্তর:(b)অক্সিন


11)ভ্রূণমুকুলাবরণীতে পাওয়া যায়-

a) জিব্বেরেলিন

b) সাইটোকাইনিন

c)অক্সিন

d)ফ্লোরিজেন


উত্তর:(c)অক্সিন


12)জিব্বেরেলিন প্রথম পৃথক্‌করণ এবং নামকরণ করেন-

a)এইচি কুরোসাওয়া

b)কাওয়াসাকি

c)তেইজিরো ইয়াবুটা

d)বেলিস ও স্টারলিং


উত্তর:(c)তেইজিরো ইয়াবুটা


13)মুকুল ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙতে সাহায্য করে যে হরমোন,সেটি হল-

a)অক্সিন

b) সাইটোকাইনিন

c)জিব্বেরেল 

d)ইথিলিন


উত্তর:(c)জিব্বেরেল 


14)বীজের দ্রুত অঙ্কুরোদ্‌গম ঘটায়—

a) ফ্লোরিজেন

b)অ্যাবসিসিক অ্যাসিড

c)জিব্বেরেলিন

d)ইথিলিন


উত্তর:(c)জিব্বেরেলিন


15)আলফা অ্যামাইলেজ উৎসেচকটির সংশ্লেষে সাহায্য করে-

a) সাইটোকাইনিন

b) জিব্বেরেলিন

c) অক্সিন

d) কোনোটিই নয়


উত্তর:(b) জিব্বেরেলিন


16)জিব্বেরেলিনের প্রবাহ-

a)ঊর্ধ্বমুখী

b)ঊর্ধ্ব ও নিম্ন উভয়মুখী

c) নিম্নমুখী

d)কোনোটিই নয়


উত্তর:b)ঊর্ধ্ব ও নিম্ন উভয়মুখী


3) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ)প্রশ্নের মান-1


1)উদ্ভিদদেহে সংবেদনশীলতা ও সাড়াপ্রদানে সহায়ক উপাদানের নাম কী?

উত্তর: হরমোন


2)হরমোন কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী?

উত্তর: হরমোন (গ্রিক 'হরমাও' শব্দজাত) কথাটির আক্ষরিক অর্থ- উত্তেজিত করা বা জাগ্রত করা।


3)হরমোনের রাসায়নিক প্রকৃতি কীরূপ?

উত্তর:হরমোন প্রোটিন-ধর্মী,স্টেরয়েড-ধর্মী, অ্যামিনো-ধৰ্মী,জৈব-অম্লধর্মী- বিভিন্ন প্রকৃতির হতে পারে।


4)উদ্ভিদদেহে সমন্বয়সাধনের কাজ কীসের সাহায্যে ঘটে থাকে?

উত্তর:উদ্ভিদদেহে সমন্বয়সাধনের কাজ বিভিন্ন উদ্ভিদ হরমোন বা ফাইটো-হরমোনের সাহায্যে ঘটে থাকে।


5)হরমোনের পরিণতি কী?

উত্তর:কাজের শেষে হরমোন নির্দিষ্ট উৎসেচকের ক্রিয়ায় বিনষ্ট হয়। যেমন-সাইটোকাইনিন অক্সিডেজ উৎসেচকটি সাইটোকাইনিনকে কার্য সম্পাদনের পর বিনষ্ট করে।


6)একটি প্রাকৃতিক হরমোনের নাম লেখো।

উত্তর:অক্সিন।


7)অক্সিনের রাসায়নিক নাম কী?

উত্তর:ইনডোল অ্যাসেটিক অ্যাসিড (IAA)


9) একটি নাইট্রোজেনঘটিত আম্লিক হরমোনের নাম লেখো, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

উত্তর:অক্সিন।


10)উদ্ভিদের অগ্র ও পার্শ্বীয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে কোন্ হরমোন?

উত্তর:অক্সিন হরমোন।


11)কোন্ হরমোন উদ্ভিদের অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি ঘটায়?

উত্তর:অক্সিন হরমোন।


12)অক্সিনের কীরূপ ঘনত্বে অভিকর্ষজ চলন ভালো হয়?

উত্তর:মূলে আলোর বিপরীত দিকে অক্সিনের ঘনত্ব বেশি হয়। ফলে মূল আলোর বিপরীত দিকে, অভিকর্ষের দিকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়।


13)প্রধান জিব্বেরেলিনটির রাসায়নিক সংকেত কী?

উত্তর:প্রধান জিব্বেরেলিনটির (GA3) রাসায়নিক সংকেত হল Cig H2O ।

14) টারপিনয়েড গোষ্ঠীভূক্ত একটি অম্লধর্মী উদ্ভিদ হরমোনের নাম লেখো।

 উত্তর:জিব্বেরেলিন।


15) জিব্বেরেলিন কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর:জাপানী বিজ্ঞানী এইচি কুরোসাওয়া।


16)জিব্বেরেলিনের প্রাথমিক উৎস কী?

উত্তর:পরিণত বীজ।


17) জিব্বেরেলিন প্রথম কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?

 উত্তর:জিব্বেরেলিন হরমোনটি জিব্বেরেলা ফুজিকুরোই (Gibberella fujikuroi) নামক ছত্রাক থেকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়।


18)জিব্বেরেলিন কার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়?

উত্তর:জিব্বেরেলিন জাইলেম ও ফ্লোয়েম নামক জটিল স্থায়ী কলার মাধ্যমে যথাক্রমে ঊধর্ব ও নিম্ন উভয় দিকেই পরিবাহিত হয়।


19)বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গকারী প্রধান হরমোনটির নাম কী?

উত্তর:জিব্বেরেলিন বা জিব্বেরেলিক অ্যাসিড (GA)। 

20)পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে কোন্ হরমোন?

উত্তর:জিব্বেরেলিন হরমোন।


21)ফলের আকার ও সংখ্যা বৃদ্ধি করে কোন্ হরমোনটি?

উত্তর:জিব্বেরেলিন নামক হরমোন।


22)একটি ক্ষারধর্মী উদ্ভিদ হরমোনের নাম লেখো।

উত্তর:সাইটোকাইনিন বা কাইনিন।


23)কোন্ হরমোন উদ্ভিদের কোশ বিভাজন প্রক্রিয়াতে সাহায্য করে?

উত্তর:সাইটোকাইনিন বা কাইনিন।


24)সাইটোকাইনিনের রাসায়নিক নাম কী?

উত্তর:ফুরফুরাইল অ্যামিনোপিউরিন।


4) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2


1)হরমোন কাকে বলে?

উত্তর:যে জৈবরাসায়নিক পদার্থ কোনো বিশেষ কোশসমষ্টি বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে বিশেষ উপায়ে পরিবাহিত হয়ে জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপের মধ্যে রাসায়নিক সমন্বয়সাধন করে এবং ক্রিয়ার শেষে বিনষ্ট হয়ে যায়,তাকে হরমোন বলে। যেমন-অক্সিন নামক উদ্ভিদ হরমোন।


2)উদ্ভিদদেহে হরমোনের প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর:বৃদ্ধির সাথে সাথে উদ্ভিদদেহে জটিলতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলস্বরূপ দেহের বিভিন্ন কলাকোশের মধ্যে সমন্বয়সাধনের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পায়। এই সমন্বয় সাধনের জন্যই উদ্ভিদদেহে হরমোনের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াসমূহকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই হরমোন এই সমন্বয়সাধনের

কাজ করে থাকে।


3)হরমোনকে রাসায়নিক দূত' বা রাসায়নিক বার্তাবাহক বলে কেন?

উত্তর:হরমোন একপ্রকার রাসায়নিক পদার্থ যা তার ক্ষরণস্থল থেকে দূরবর্তী কোশগুলির রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই কারণে হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলে। তবে কিছু হরমোন ক্ষরণকারী কোশের নিকটবর্তী স্থানেও কাজ করে থাকে।


4)হরমোনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:হরমোনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল-

i) উৎস: হরমোন নির্দিষ্ট কলাকোশ থেকে উৎপন্ন হয়। 

ii) কাজ: হরমোন দূরবর্তী স্থান বাহিত হয় ও কাজ করে থাকে।

iii)মাত্রা: খুব স্বল্প মাত্রায় এগুলি কার্যকরী হয় ও ক্রিয়াশেষে তারা বিনষ্ট হয়।


5) হরমোনকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি-নিয়ন্ত্রক বলার কারণ কী?

উত্তর:হরমোন উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন প্রকার বৃদ্ধি ও বৃদ্ধি-সম্পর্কিত চলনকে নিয়ন্ত্রণ করে,যেমন-অস্ত্র ও পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি,ফলের বৃদ্ধি, ট্রপিক চলন প্রভৃতি। এই কারণে হরমোনকে উদ্ভিদেরবৃ দ্ধি-নিয়ন্ত্রক বলা হয়।


6)উদ্ভিদের 3টি বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হরমোনের নাম লেখো।

উত্তর:উদ্ভিদের বৃদ্ধি যে সমস্ত বিশেষজৈবরাসায়নিক পদার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়,তাদের উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক পদার্থ বলে।

* উদ্ভিদের 3টি বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হরমোন হল-

i)) অক্সিন

ii)জিব্বেরেলিন

iii)সাইটোকাইনিন


7) অক্সিনের রাসায়নিক নাম?

উত্তর:রাসায়নিক নাম: ইনডোল অ্যাসেটিক অ্যাসিড (IAA)।


8)অক্সিনের প্রধান দুটি কাজ লেখো।

উত্তর:অক্সিনের প্রধান দুটি কাজ হল-

i)এটি উদ্ভিদের বিভিন্ন ধরনের উপিক চলন বিশেষত ফোটোট্রপিক ও জিওট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে।

ii)এই হরমোনটির প্রভাবে উদ্ভিদে অগ্রস্থ প্রকটতা দেখা যায় অর্থাৎ অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি ঘটে এবং পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।


9)অক্সিনের ক্ষরণস্থল ও ক্রিয়াস্থল উল্লেখ করো।

উত্তর:ক্ষরণস্থল:অক্সিন উদ্ভিদের বিভিন্ন অগ্রস্থ ভাজক কলা, বিশেষত উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের অগ্রভাগ, ভ্রূণমুকুলাবরণী, কচি পাতা, বর্ধনশীল পাতার কোশ ইত্যাদি স্থান থেকে ক্ষরিত হয়।


10) মূল আলোর উৎসের বিপরীতে বেঁকে যায় কেন?

উত্তর:উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হয় প্রধানত অক্সিন হরমোনের অসম বন্টনের দ্বারা। অক্সিন আলোক উৎসের বিপরীত দিকে বেশি পরিমাণে সঞ্চিত হয়। মূল স্বল্প পরিমাপ বা লঘু ঘনত্বের অক্সিনে বেশি সংবেদনশীল। মূলের ক্ষেত্রে আলোর উৎসের দিকের কোশগুলিতে অক্সিনের পরিমাণ কম থাকে। এই কারণে, ওইদিকের কোশগুলি বেশি বিভাজিত হয় ও মূল আলোর উৎসের বিপরীতে বেঁকে যায়।


11) অক্সিন ও কাইনিনের একটি বিপরীত ক্রিয়া লেখো।

উত্তর:অক্সিন উদ্ভিদের অগ্রস্থ প্রকটতা, অর্থাৎ অগ্রমুকুলের বিকাশ ঘটায়, কাইনিন তা প্রতিরোধ করে। পক্ষান্তরে, কাইনিন কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি ঘটায়, অক্সিন তা প্রতিরোধ করে।


12)পার্থেনোকার্পি কাকে বলে?এই প্রক্রিয়ায় সাহায্যকারী একটি হরমোনের নাম লেখো।

উত্তর:পার্থেনোকার্পি: নিষেক ছাড়াই ডিম্বাশয় থেকে বীজবিহীন ফল উৎপাদনের পদ্ধতিকে পার্থেনোকার্পি বলে।

*পার্থেনোকার্পিতে সাহায্যকারী হরমোন: এই প্রক্রিয়ায় সাহায্যকারী একটি হরমোন হল অক্সিন। পার্থেনোকার্পির দ্বারা লেবু, তরমুজ প্রভৃতি বীজবিহীন ফল উৎপাদন করা হয়।


5) রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নের মান-5


1) উদ্ভিদদেহে হরমোনের সাধারণ কাজগুলি সম্পর্কে লেখো।

উত্তর:উদ্ভিদদেহে হরমোনের সাধারণ কাজগুলি হল-

i)অগ্র ও পার্শ্বীয় বৃদ্ধি:

উদ্ভিদের প্রাথমিক বৃদ্ধি বলতে প্রধানত কাশু ও মূলের অগ্রভাগের বৃদ্ধিকেই বোঝানো হয়। অগ্রস্থ ভাজক কলার কোশের বিভাজনের দ্বারাই এই বৃদ্ধি ঘটে থাকে। একে অগ্রস্থ বৃদ্ধিও বলা হয়। এ ছাড়া, পার্শ্বীয় ভাজক কলার বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ প্রস্থে বৃদ্ধি পায়, যা পার্শ্বীয় বৃদ্ধি নামে পরিচিত। এইভাবে ভাজক কলার বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি হরমোনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন-অক্সিনের প্রভাবে উদ্ভিদের অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি ঘটে।


ii)ফুলের প্রস্ফুটন:

 উদ্ভিদের জননাঙ্গ হল ফুল। পুষ্পমুকুলের পরিস্ফুটনের মাধ্যমে ফুল ফোটে। উদ্ভিদদেহে পুষ্পমুকুলের সৃষ্টি ও তার থেকে ফুল ফোটার ক্ষেত্রে উদ্ভিদ হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।যেমন- জিব্বেরেলিন হরমোনটি ক্যামেলিয়া,জেরানিয়াম প্রভৃতি ফুল ফুটতে সাহায্য করে। চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া প্রভৃতি ফুল ফুটতে অ্যাবসিসিক অ্যাসিড সাহায্য করে।


iii) মুকুলোদপম:

কিছু উদ্ভিদ হরমোনের প্রভাবে কান্ড ও পাতার শীর্ষে থাকা অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি হয় ও গাছটি লম্বায় বাড়ে। যেমন-অক্সিন। আবার অগ্রমুকুলের অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদ হরমোন পাতার কক্ষে উপস্থিত কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি ঘটায় ও নতুন শাখাপ্রশাখা সৃষ্টি করে।


iv)বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম:বীজের সৃষ্টির পর কিছুদিন তা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। উপযুক্ত বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ শর্তের উপস্থিতিতে এই সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ হয়। অর্থাৎ, অঙ্কুরোদ্‌গম ঘটে।যেমন-জিব্বেরেলিন।


v)ট্রপিক চলন:উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রকার ট্রপিক চলন, প্রধানত ফোটো ট্রপিক ও জিও ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে হরমোন প্রধান ভূমিকা পালন করে।যেমন-অক্সিন ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে।


2)উদ্ভিদ হরমোনের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।


উত্তর:উদ্ভিদ হরমোনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ।

i)উৎস: উদ্ভিদের কান্ড ও মূলের অগ্রভাগে উপস্থিত ভাজক কলার কোশগুলি উদ্ভিদ হরমোনের অন্যতম প্রধান উৎসস্থল। এ ছাড়া বীজপত্র, মুকুলিত কচি পাতা, স্তূপমূল, স্তূপমুকুল, বর্ধনশীল পাতার কোশ থেকেও হরমোন ক্ষরিত হয়।


ii)পরিবহণের ধরন: উদ্ভিদ হরমোনগুলি উৎপত্তি স্থানের নিকটবর্তী ও দূরবর্তী স্থান উভয় অঞ্চলেই কার্যকরী হয়। উদ্ভিদ হরমোন উৎসস্থল থেকে প্রধানত ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সংবহন কলার মাধ্যমে কার্যস্থলে পরিবাহিত হয়।


iii)কাজ: অস্ত্র ও পার্শ্বীয় বৃদ্ধি, ফুলের পরিস্ফুটন, বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম, মুকুলোদ্‌গম, সংবেদনশীলতা, জরারোধ প্রভৃতিতে হরমোন সাহায্য করে।


iv)পরিণতি: ক্লিয়ার শেষে উদ্ভিদ হরমোনগুলি বিনষ্ট হয়। বিভিন্ন হরমোন বিভিন্ন উৎসেচক বা অন্য কোনো শর্তের প্রভাবে বিনষ্ট হয়।যেমন-অক্সিন হরমোনটি আলোর প্রভাবে বা ইনডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড অক্সিডেজ নামক উৎসেচকের ক্রিয়ায় বিনষ্ট হয় জিব্বেরেলিন,জিব্বেরেলিন অক্সিডেজের ক্রিয়ায় ও সাইটোকাইনিন, সাইটোকাইনিন অক্সিডেজের ক্রিয়ায় বিনষ্ট হয়।


3)অক্সিনের সংজ্ঞা লেখো।অক্সিনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী ? 


উত্তর:অক্সিন উদ্ভিদের অগ্রস্থ ভাজক কলা থেকে উৎপন্ন নাইট্রোজেনযুক্ত (ইনডোল বর্গযুক্ত) অম্লধর্মী বৃদ্ধি সহায়ক যে উদ্ভিদ হরমোন,মূলত নিম্নাভিমুখে পরিবাহিত হয় এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে, তাকে অক্সিন বলে।


*অক্সিনের বৈশিষ্ট্য

1)অক্সিন উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়তাকারী একপ্রকার হরমোন।

2)এটি একপ্রকার জৈব অ্যাসিড।


3)ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে অক্সিন সংশ্লেষিত হয়।


4)এটি উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গ,প্রধানত

ভ্রূণমুকুলাবরণী, কান্ড ও মূলের অগ্রস্থ ভাজক কলা থেকে উৎপন্ন হয়ে ফ্লোয়েম কলার মাধ্যমে সাধারণত নিম্নাভিমুখে পরিবাহিত হয়। তবে মূলের অগ্রভাগে উৎপন্ন অক্সিন নীচ থেকে কিছুটা ওপরের দিকে পরিবাহিত হয়।


 5)এই হরমোনের সংশ্লেষ সাধারণত আলোক উৎসের বিপরীতে হয়।


6)এর ক্রিয়া প্রধানত মেরুবর্তী এবং এটি ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এটি জলে দ্রবণীয় হওয়ার ফলে ব্যাপন ক্রিয়ার মাধ্যমে সহজেই পরিবাহিত হয়।


7)আলোকের উৎসের বিপরীতে অর্থাৎ অন্ধকারে অক্সিনের ক্রিয়া সর্বাধিক।


8)মূলের ক্ষেত্রে স্বল্প ঘনত্বে এবং কাণ্ডের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অধিক ঘনত্বে অক্সিন কাজ করে।



আরো পড়ুন:

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click Here

অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here


প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here

সিরাজদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click here

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click here 

 

the passing away of bapu question answerUnit 1 Click Here

The passing away of bapu question answer unit 2 Click Here

The passing away of bapu question answer unit 3 Click Here


My Own True family poem Lesson 4 Click Here


শসার স্বাস্থ্য উপকারিতা click Here 

efits for health click hair

চোখ click here

মধুর উপকারিতা click here

শব্দ দূষণ click here 

স্নায়ুর প্রশ্ন উত্তর Click here 


অগ্ন্যাশয় এর প্রশ্ন উত্তর Click here 


একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার

নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর click here 

প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here 

একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here 

বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here 


গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here 

মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here 

বইমেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ প্রবন্ধ রচনা Click here 


একটি গাছ একটি প্রাণ প্রবন্ধ রচনা Click here 


তোমার প্রিয় কবি- কাজী নজরুল ইসলাম প্রবন্ধ রচনা 

মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা প্রবন্ধ রচনা Click here 

ডেঙ্গু- একটি ভয়াবহ রোগ প্রবন্ধ রচনা Click here 



বাংলা ব্যাকরণ কারক ও অকারক সম্পর্ক Click here 


সমাসের প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাক্যের প্রশ্ন উত্তর Click here 


উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়া প্রদান Click here 

উদ্ভিদের চলন Click here 

ন্যাস্টিক চলনের প্রশ্ন উত্তর Click here 

উদ্ভিদ হরমোনের প্রশ্ন উত্তর Click Here 






Post a Comment

0 Comments