সংবেদনশীলতা বা উত্তেজিত বলতে কী বোঝো।উদ্দীপক কত প্রকার ও কী কী।


সংবেদনশীলতা বা উত্তেজিত বলতে কী বোঝো।উদ্দীপক কত প্রকার ও কী কী।



1) জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়-এর প্রথম ভাগ-

1.A.উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান:


সূচিপত্র: 

ক)উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান সম্পর্কে আলোচনা।

খ) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1

গ) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-1

ঘ) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2

ঙ) রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নের মান-5


ক)উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল-

*জীবের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সব সময়পরিবর্তনশীল।তোমরা নিশ্চয় খেয়াল করে দেখেছো গ্রীষ্মকালের সব দিনের সমান গরম থাকে না। আবার যে-কোনো দিনে সকাল থেকে সন্ধের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে গরম বা আলোর তীব্রতা সমান থাকে না। পরিবেশের এই ধরনের কোন কোন পরিবর্তন অনুকূল ও সুবিধা প্রদানকারী, আবার কোন কোনটি প্রতিকূল বা ক্ষতিকর। উদ্ভিদ ও প্রাণী পরিবেশের এইসব পরিবর্তনের সাপেক্ষে সাড়া দেয়।


1) পরিবেশের পরিবর্তন শনাক্তকরণ এবং উদ্ভিদের সাড়া প্রদানের পদ্ধতি (Detection of Change in Environment and Mechanism of Response in Plants):


*উদ্দীপক (Stimulus):পরিবেশের যেসব পরিবর্তন জীবের দ্বারা শনাক্ত হয় এবং জীবের সাড়া প্রদানে সাহায্য করে, তাদের উদ্দীপক বলে। 


* বহিস্থ উদ্দীপক:(External stimuli):যে সমস্ত উদ্দীপক জীবদেহের বাইরের পরিবেশে উৎপন্ন হয়, তারা হল বহিস্থ উদ্দীপক। যেমন:আলো, উষ্ণতা অভিকর্ষ বল ইত্যাদি।


*অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক (Internalstimuli):জীবদেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশগত উদ্দীপকগুলিকে অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক বলে।যেমন-হরমোন, ক্যালশিয়াম আয়ন (Ca2+) ইত্যাদি।


*যান্ত্রিক উদ্দীপক: স্পর্শ, ঘর্ষণ, চাপ ইত্যাদি যখন উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।


*রাসায়নিক উদ্দীপক:কোনো বস্তুর আণবিক বা রাসায়নিক গঠন যখন উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। যেমন— হরমোন, Ca2+।


*পরিবেশগত উদ্দীপক:আলো,উষ্ণতা, বিদ্যুৎশক্তি যখন উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।


*সংবেদনশীলতা (Sensitivity):জীবের যে কোনো ধরনের পরিবর্তন শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী সাড়া প্রদানের ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে।যেমন- কুমড়ো বা লাউ গাছের আকর্ষগুলি গাছের ডাল বা কঞ্চির সংস্পর্শে এলে তাদেরকে স্প্রিং-এর মতো জড়িয়ে ধরে। লজ্জাবতী পাতাকে স্পর্শ করলে পত্রকগুলি মুড়ে যায়।

অধিকাংশ উদ্ভিদ নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থাকে, তাই প্রাণীদের তুলনায় উদ্ভিদের সাড়া প্রদানের ঘটনা আমাদের কম চোখে পড়ে। উদ্দীপকের উপস্থিতিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির থেকে উদ্ভিদেরা তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালন ঘটায় বা চলন সম্পন্ন করে। উদ্ভিদের সাড়া প্রদান বলতে সাধারণত ধীর বৃদ্ধিজ চলন বা রসস্ফীতিজনিত চলনকে বোঝায়। প্রাণীদের চোখ, নাক, কান প্রভৃতি অঙ্গের মতো উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড বা পাতা ততটা বিশেষিত (specialized) না হওয়া সত্ত্বেও উদ্ভিদ কীভাবে উদ্দীপনা গ্রহণ করে ও সেই অনুসারে সাড়া দেয়।


2)উদ্ভিদের সাড়া প্রদানের পদ্ধতি (Mechanism of response in plant):


i)উদ্দীপনার উপলব্ধিকরণ:

উদ্ভিদের কোন প্রকার কোশ বা কলা বা রঞ্জক পদার্থ নির্দিষ্ট উদ্দীপনা গ্রাহক হিসেবে কাজ করে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা না গেলেও মনে করা হয় উদ্ভিদের যে অংশে উদ্দীপনা প্রয়োগ করা হয়, তা উদ্দীপনা গ্রাহক হিসেবে কাজ করে।


ii)উদ্দীপনার পরিবহণ:

উদ্ভিদদেহে উদ্দীপনা গৃহীত হলে ধারাবাহিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তা সিগন্যাল (signal)-এ রূপান্তরিত হয় এবং প্লাজমোডেসমাটার মাধ্যমে সাড়া প্রদানকারী অঙ্গের কোশ বা কলাতে পরিবাহিত হয়। ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল বা কেমিক্যাল ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে উদ্দীপনার পরিবহণ ঘটে।


iii) সাড়া প্রদান:

নির্দিষ্ট সিগন্যাল,সাড়া প্রদানকারী অঙ্গের কোশ বা কলাতে পৌঁছালে ওই কোশ বা কলার বৃদ্ধি বা রসস্ফীতির মাধ্যমে উদ্ভিদ সাড়া প্রদান করে।


উদাহরণ : a) লজ্জাবতী গাছের পাতাগুলি দ্বিপক্ষল ও উপাধান পত্রমূল বা স্ফীত পত্রমূলবিশিষ্ট। পাতার শীর্ষের কোনো একটি পত্রককে স্পর্শ করলে উদ্দীপনা প্রথমে পত্রকের মূলদেশের কোশে (Pulviniule) পরিবাহিত হয়ে রসস্ফীতির হ্রাস ঘটায়। কোশগুলির রসস্ফীতির হ্রাসের কারণে পাতার শীর্ষদেশ থেকে পত্রমূলের দিকে পত্রকগুলি ক্রমান্বয়ে জোড়ায় জোড়ায় বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্দীপনা পাতার উপাধান অংশে পৌঁছালে সমগ্র পাতাটি ঝুলে পড়ে।


 b) বনচাঁড়াল-এর পাতাগুলি ত্রিফলক প্রকৃতির। পাতার পার্শ্বীয় দুটি পত্রক ক্ষুদ্রাকার এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃন্ত কোশের রসস্ফীতির হ্রাসবৃদ্ধির ফলে পত্রক দুটি উপবৃত্তাকার পথে পর্যায়ক্রমে ওপরে ও নীচে ওঠানামা করে কিন্তু শীর্ষ পত্রকটির কোশ পরিবর্তন ঘটে না। পত্রক দুটি একটি সম্পূর্ণ আবর্তন (180°) সম্পন্ন করতে দুই মিনিট সময় নেয়। এটি হল একপ্রকার প্রকরণ চলন।


ক)সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ)প্রশ্নের মান-1

1)পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন অনুযায়ী জীবের সাড়া প্রদানের ক্ষমতাই হল-

a) উপযোজন

b)সংবেদনশীলতা

c) উদ্দীপক 

d)আত্তীকরণ

Answer:(b) সংবেদনশীলতা 


2)উদ্দীপক হল এক ধরনের-

a) সংবেদন

b) প্রত্যক্ষণ

c)সাড়া

d)শক্তি

Answer:(d) শক্তি


3) সংবেদনশীলতা দেখা যায় হয়-

 a)কেবল প্রাণীতে

 b)প্রাণী এবং উদ্ভিদ উভয়েই

c) কেবল উদ্ভিদে

d) এদের কোনোটিতেই নয়

Answer:(b) প্রাণী এবং উদ্ভিদ উভয়ই


4) একটি অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার উদাহরণ হল-

a)কোশের রসস্ফীতিজনিত চাপের পরিবর্তন

b)আলোর তীব্রতার পরিবর্তন

c) অভিকর্ষ

d) স্পর্শ

Answer:(a) কোশের রসস্ফীতিজনিত চাপের পরিবর্তন


5) জগদীশ চন্দ্র বসু বনচাড়াল ছাড়া অপর কোন্ উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করেন?

a)লজ্জাবতী

b)টিউলিপ

c)সূর্যমুখী

d)কোনোটিই নয়

Answer:(a) লজ্জাবতী


6) উদ্ভিদের সাড়া পরিমাপক যন্ত্রটি হল-

a) ক্রেসকোগ্রাফ

b)সিসমোগ্রাফ

c)আর্কমিটার

b)হাইগ্রোমিটার


শূন্যস্থান পূরণ করো:

7)সকল জিবি কোনো না কোনো উদ্দীপনায়------দেয়।


8)লজ্জাবতী লতা-----------উদ্দীপনায় সারা দেয়। 


9)নিম্ন শ্রেণীর উদ্ভিদে সামগ্রিক চলন বা------দেখা যায়।


খ) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-1


1) বাহ্যিক উত্তেজনায় জীবের সাড়া দেওয়ার ধর্মকে কী বলে?

উত্তর: উত্তেজিতা।


2)পরিবেশে অবস্থাগত পার্থক্যে  জীবদেহে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে,তাকে কী বলে?

উত্তর:উদ্দীপক।


3)উদ্দীপক কয় প্রকার ও কী কী?

উত্তর:উদ্দীপক দুই প্রকার-বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ।


4)একটি অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের নাম লেখো।

উত্তর:অক্সিন হরমোন।


5)বাহ্যিক উদ্দীপকের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর:আলো।


6)বাহ্যিক উদ্দীপকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ-অঙ্গের বক্রচলনকে কী বলে?

উত্তর:আবিষ্ট বক্রচলন।


7)মাটিতে আবদ্ধ অবস্থায় উদ্ভিদের অঙ্গ সঞ্চালনকে কী বলে?

উত্তর:বক্রচলন।


৪) প্রকরণ চলন কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?

উত্তর:বনচাড়ালের উপপত্রকের চলন।


9)কোন বিজ্ঞানী প্রথম প্রমাণ করেন যে,বিনা আঘাতেও উদ্ভিদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়?


উত্তর:বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু প্রথম প্রমাণ করেন যে,বিনা আঘাতেও উদ্ভিদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।


গ) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2


1)উদ্দীপক ও উদ্দীপনা বলতে কী বোঝ?

উত্তর:পরিবেশের যে পরিবর্তনগুলি জীবের দ্বারা শনাক্ত হয় এবং যাদের উপস্থিতিতে জীব সাড়া প্রদান করে, তাদের উদ্দীপক বলে।

*উদ্দীপকের উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট একপ্রকার শক্তি যা জীব অনুভব করতে পারে, তাকে উদ্দীপনা বলে।


2.উদ্দীপক ও উদ্দীপনার সম্পর্ক কী ?উদ্দীপক কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর:উদ্দীপকের উপস্থিতিতেই জীবদেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।পরিবেশের সমস্ত জীবই কম বেশি উদ্দীপকের উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।অর্থাৎ উদ্দীপক কারণ হলে উদ্দীপনা তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

*উদ্দীপকের প্রকারভেদ:উৎস অনুযায়ী উদ্দীপক দুই প্রকার বাহ্যিক উদ্দীপক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক।


3)বাহ্যিক উদ্দীপক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক কাকে বলে?

উত্তর:যে উদ্দীপক জীবদেহের বাইরে বা বাহ্যিক পরিবেশে উৎপন্ন হয়ে জীবদেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, তাকে বাহ্যিক উদ্দীপক বলে।যেমন রোহিণী জাতীয় উদ্ভিদ কোনো শক্ত অবলম্বনের সংস্পর্শে (স্পর্শ উদ্দীপনা) এলে সেটি জড়িয়ে ধরে বৃদ্ধি পায়।


4)অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক:জীবদেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে সৃষ্ট উদ্দীপক যা জীব দেহে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে,তাকে অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক বলে।

যেমন-উদ্ভিদদেহ অভ্যন্তরে উৎপন্ন হরমোন অক্সিন, উদ্ভিদ বৃদ্ধির উদ্দীপনার জোগান দেয়।


5)সংবেদনশীলতা বলতে কী বোঝ?উদাহরণ দাও।

উত্তর:পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তনগুলি শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী সাড়াপ্রদানের ধর্ম বা ক্ষমতাকেই সংবেদনশীলতা (sensitivity) বলে।

উদাহরণ:লজ্জাবতী লতার পাতাকে স্পর্শ করলে পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে।এটি উদ্ভিদের সংবেদশীলতার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।


6)একটি উদাহরণের মাধ্যমে উদ্ভিদের সাড়াপ্রদানের ঘটনাটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:উদ্ভিদের সংবেদনশীলতার বা সাড়াপ্রদানের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল লজ্জাবতী উদ্ভিদ লজ্জাবতী উদ্ভিদের পাতাকে স্পর্শ করলে,তার পত্রকগুলি নুয়ে পড়ে।এটি স্পর্শ উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদানের ঘটনা।


7) উদ্ভিদ কীভাবে সাড়াপ্রদান করে?

উত্তর:উদ্ভিদ বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের প্রভাবে সৃষ্ট উদ্দীপনায় সাড়াপ্রদান করে। সাধারণত এই সাড়াপ্রদান অত্যন্ত ধীর এবং তা মূলত বৃদ্ধিঘটিত বা রসস্ফীতিজনিত হয়ে থাকে।উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়াপ্রদানের ঘটনা প্রায় বিরল (ব্যতিক্রম—লজ্জাবতী, বনচাড়াল)। অধিকাংশ উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন বা চলনের মাধ্যমে সাড়াপ্রদান করে।


8)ক্রেসকোগ্রাফ কী?

উত্তর:ক্রেসকোগ্রাফ (crescograph) হল বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু আবিষ্কৃত একপ্রকার অত্যন্ত সুবেদী যন্ত্র,যার সাহায্যে উদ্ভিদের সামান্য সাড়াপ্রদানের ঘটনাও পরিমাপ করা যায়। বিজ্ঞানী বসু এই যন্ত্রের সাহায্যে লজ্জাবতী লতা ও বনচাড়াল উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান-সংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করেন।


ঘ) রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নের মান-5

1)উদ্ভিদ কীভাবে পরিবেশ-পরিবর্তন শনাক্ত করে? উদাহরণের মাধ্যমে উদ্ভিদের সাড়াপ্রদানের বিষয়টি বুঝিয়ে লেখো।


*উদ্ভিদের পরিবেশ পরিবর্তন শনাক্তকরণ:

উত্তর:সকল জীবই উদ্দীপনার প্রভাবে কম বেশি সংবেদনশীলতা দেখায়। আগে মনে করা হত যে, পরিবেশের কোনো পরিবর্তনই উদ্ভিদ শনাক্ত করে না। কিন্তু বাস্তবে উদ্ভিদও প্রাণীর মতোই পরিবেশের পরিবর্তন শনাক্ত করে ও তাতে সাড়াপ্রদান করে। যদিও উদ্ভিদের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের প্রভাবে সাড়া প্রদানের ঘটনা প্রাণীদের তুলনায় অনেক কম দেখা যায়। অধিকাংশ উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থাকে বলে তথা গমনে অক্ষম হওয়ায়, তারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন বা চলনের মাধমে সাড়াপ্রদান করে। 


*উদ্ভিদের সাড়াপ্রদানের উদাহরণ:

উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান সাধারণত অত্যন্ত ধীর ঘটনা এবং তা মূলত উদ্ভিদ-অঙ্গের বৃদ্ধিজনিত বা রসস্ফীতিজনিত হয়ে থাকে। উদ্ভিদজগতে দ্রুত সাড়াপ্রদানের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। উদ্ভিদের দ্রুত সাড়াপ্রদান বা সংবেদনশীলতার দুটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল- i)লজ্জাবতী লতার পাতাগুলি স্পর্শ করলে তার পত্রকগুলি গুটিয়ে যায় ও নুইয়ে পড়ে

এক্ষেত্রে স্পর্শ উদ্দীপক হল সাড়াপ্রদানের কারণ।

ii)বনচাঁড়াল নামক গাছের ত্রিফলকযুক্ত পাতার বৃত্তের পাশের ছোটো পত্ৰক দুটি ক্রমাগত ওঠানামা করতে থাকে। এই চলনটি শুধুমাত্র দিনের বেলায় অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার প্রভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে।


2) উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা প্রমাণের ক্ষেত্রে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর কৃতিত্ব কী ? বৃদ্ধিজ ও প্রকরণ চলন কাকে বলে?

*বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর অবদান:

উত্তর:উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা প্রমাণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি লজ্জাবতী লতা ও বনচাড়াল উদ্ভিদ দুটি নিয়ে তাদের সাড়াপ্রদান সংক্রান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করেন। তিনি নিজের আবিষ্কৃত ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে উদ্ভিদ দুটির চলন নির্ণয় করে উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা প্রমাণ করেন। ক্রেসকোগ্রাফ একটি অত্যন্ত সুবেদী যন্ত্র যা উদ্ভিদের সামান্যতম সাড়াপ্রদানও পরিমাপ করতে পারে।এই যন্ত্রের সাহায্যে প্রাপ্ত গ্রাফ পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানী বসু আবিষ্কার করেন যে-

i) প্রাণীর মতোই,উদ্ভিদদেহেও ছন্দোবদ্ধ ক্রিয়া সম্পন্ন হয় যা উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা তথা চলন নিয়ন্ত্রণ করে।

ii) বাহ্যিক বিভিন্ন উদ্দীপনা, যেমন-স্পর্শ,তাপ, ঠান্ডা, বিষ প্রভৃতি কোশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটায় যা উদ্ভিদের সাড়াপ্রদানে সাহায্য করে।

* বৃদ্ধিজ চলন ও প্রকরণ চলন:

উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের অসমান বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্ভিদ-অঙ্গের যে চলন সম্পন্ন হয়, তাকে বৃদ্ধিজ চলন বলে। যেমন—ক্রমাগত একই দিকে বৃদ্ধির কারণে উদ্ভিদের আকর্ষের অবলম্বনের চারপাশে পেঁচিয়ে যাওয়া। কোশের রসস্ফীতির তারতম্যের জন্য উদ্ভিদের পরিণত অংশে যে চলন দেখা যায়, তাকে প্রকরণ চলন বলে। যেমন, বনচাড়ালে পার্শ্বীয় পত্রকের চলন।


আরো পড়ুন:

শসার স্বাস্থ্য উপকারিতা click Here 

efits for health click hair

চোখ click here

মধুর উপকারিতা click here

শব্দ দূষণ click here 

স্নায়ুর প্রশ্ন উত্তর Click here 



একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার

নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর click here 


প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here 

একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here 

বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here 


গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here 

মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here 

বইমেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ প্রবন্ধ রচনা Click here 


একটি গাছ একটি প্রাণ প্রবন্ধ রচনা Click here 


তোমার প্রিয় কবি- কাজী নজরুল ইসলাম প্রবন্ধ রচনা 

মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা প্রবন্ধ রচনা Click here 

ডেঙ্গু- একটি ভয়াবহ রোগ প্রবন্ধ রচনা Click here 



বাংলা ব্যাকরণ কারক ও অকারক সম্পর্ক Click here 


সমাসের প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাক্যের প্রশ্ন উত্তর Click here 

অগ্ন্যাশয় গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here 

হৃদপিন্ডের প্রশ্ন উত্তর Click here 


উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়া প্রদান Click here 





Post a Comment

0 Comments