ক্রিয়াপদ কাকে বলে উদাহরণসহ ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ করো।ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব।

 

ক্রিয়াপদ কাকে বলে উদাহরণসহ ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ করো।ক্রিয়ার কাল ও ক্রিয়ার ভাব।



ক্রিয়া পদ:


সূচিপত্র: 

১)বাংলা ক্রিয়াপদ, ক্রিয়ার কাল, ক্রিয়ার ভাব সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর এবং আলোচন।

২) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)প্রশ্নের মান-১

৩)অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ) প্রশ্নের মান-১


১)পদের পঞ্চম ভাগ: ক্রিয়াপদ:


ক্রিয়াপদ:

যে পদের দ্বারা কোনো কাজ করা বোঝায়,তাকে বলা হয় ক্রিয়াপদ। ক্রিয়াপদের মূল হল ধাতু। এবার তাহলে আমাদের জানা দরকার ধাতু ও ক্রিয়ার সম্পর্ক কী,ধাতুই বা কী?


ধাতু ও ক্রিয়ার সম্পর্ক:

ধাতু সম্পর্কে একটু জ্ঞান না থাকলে ক্রিয়াপদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা করা যাবে না। ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত করেই তৈরি হয় ক্রিয়াপদ। তাই বলা হয় ক্রিয়ার আধার হল ধাতু।


* উৎপত্তিগতভাবে ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ:

উৎপত্তিগতভাবে ক্রিয়াপদকেও তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।যেমন-

ক) মৌলিক ক্রিয়া

খ) সাধিত ক্রিয়া

গ) সংযোগমূলক ক্রিয়া


ক) মৌলিক ক্রিয়া:যখন মৌলিক ধাতুর সঙ্গে সরাসরি ধাতুবিভক্তি যুক্ত হয়ে কোনো ক্রিয়াপদ সৃষ্টি হয়, তখন সেই ক্রিয়াকে বলা হয় মৌলিক ক্রিয়াপদ। যেমন:চলিল,কাঁদছে,করিলাম,পড়ছি,দেখছে,শুনিল ইত্যাদি।


খ) সাধিত ক্রিয়া:মৌলিক ধাতুর সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে গঠিত হয় সাধিত ধাতু,এই সাধিত ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত করে গঠিত হয় সাধিত ক্রিয়াপদ। যেমন:দেখাইল, বিষাইল, শনশনিয়ে, বেতাইল, গুনগুনিয়ে, হাতাইল, চমকাচ্ছে, চলিবে ইত্যাদি।


গ) সংযোগমূলক ক্রিয়া:নামপদ তথা বিশেষ্য, বিশেষণ, ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে হ,পা,দে,কর ইত্যাদি মৌলিক ধাতু যখন ধাতুবিভক্তি যোগে একটি মাত্র ক্রিয়ার অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বলা হয় সংযোগমূলক ক্রিয়া। যেমন:বই পড়ছেন, মানুষ হও, টুইটুই করছে, যাপন করেন, শয়ন কর, মন দাও ইত্যাদি।


*অর্থ সম্পর্কের ভিত্তিতে ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ:

অর্থ সম্পর্কের ভিত্তিতে ক্রিয়াপদকে দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়ে থাকে।যেমন-

ক) সমাপিকা ক্রিয়া

খ) অসমাপিকা ক্রিয়া


ক) সমাপিকা ক্রিয়া:বাক্যের অর্থকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে যে ক্রিয়া, তাকে বলে সমাপিকা ক্রিয়া।


যেমন-মন্দিরা এখন বই পড়ছে। আমরা কাল বেড়াতে যাব। ছেলের দল ফুটবল খেলছে। রমা বাড়ি ফিরেছে।

খ) অসমাপিকা ক্রিয়া:বাক্যের অর্থকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে না যে ক্রিয়া, তাকে বলে অসমাপিকা ক্রিয়া।

যেমন-সুলেখা বাড়ি গিয়ে পড়তে বসবে। আমি খেয়ে এসেছি। সে রচনাটা লিখতে থাকবে। তুমি এলে আমি বেরোব।


* কর্ম সম্পর্ক অনুসারে ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ:

কর্ম সম্পর্কের ভিত্তিতে ক্রিয়াপদকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।যেমন-

ক) সকর্মক ক্রিয়া

খ) অকর্মক ক্রয়া

গ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া


ক) সকর্মক ক্রিয়া:শ্যামলী গান গাইছে। অরুণা ছবি আঁকছে। ছেলেরা খেলা করছে।

শিক্ষার্থীগণ প্রদত্ত বাক্য তিনটি দ্যাখো। প্রথম বাক্যের ক্রিয়াপদ ‘গাইছে’, দ্বিতীয় বাক্যে ‘আঁকছে", তৃতীয় বাক্যে করছে'। ‘গাইছে' ক্রিয়াটির কর্ম ‘গান’, ‘আঁকছে' ক্রিয়ার কর্ম ছবি' এবং 'করছে' ক্রিয়াটির কর্ম 'খেলা'। তোমরা জান যে ক্রিয়াকে কী বা কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা হল কর্ম। তাহলে প্রদত্ত বাক্যগুলির ক্রিয়াদের কর্ম আছে। তাই গাইছে, আঁকছে, করছে—এই ক্রিয়াগুলি হল সকর্মক ক্রিয়া। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি—যেসকল ক্রিয়ার কর্ম আছে তাদের বলা হয় সকর্মক ক্রিয়া।


খ) অকর্মক ক্রিয়া:সুলেখা লিখছে। ছেলের দল খেলছে। মেয়েরা গাইছে ৷

শিক্ষার্থীগণ দ্যাখো, প্রদত্ত বাক্য তিনটিতে ক্রিয়াপদ হল যথাক্রমে লিখছে, খেলছে, গাইছে। এই ক্রিয়াগুলিকে ‘কী’ দিয়ে প্রশ্ন করেও কোনো উত্তর পাবে না। অর্থাৎ এই ক্রিয়াপদগুলির ‘কর্ম’ নেই। তাই এরা হল অকর্মক ক্রিয়া। তাহলে আমরা বলতে পারি—যেসকল ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাদের বলে অকর্মক ক্রিয়া।


গ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া: শ্যামলবাবু ছাত্রকে বাংলা পড়ান। মা শিশুকে চাঁদ দেখান ৷

প্রথম বাক্যে ক্রিয়াপদ ‘পড়ান’-কে ‘কী’ দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাব 'বাংলা' আবার কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাব ‘ছাত্রকে’। একইভাবে দ্বিতীয় বাক্যের ক্রিয়াপদ ‘দেখান'। 'দেখান' ক্রিয়াকে 'কী' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাই চাঁদ’, ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাই ‘শিশুকে’। অর্থাৎ প্রথম বাক্যের ‘পড়ান’ এবং দ্বিতীয় বাক্যের ‘দেখান’ ক্রিয়াপদগুলির দুটি করে ‘কর্ম’ আছে। তাই এই ক্রিয়াপদগুলি হল দ্বিকর্মক ক্রিয়াপদ।

ক্রিয়াকে ‘কী’ দিয়ে প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায় তা হল মুখ্যকর্ম (যেমন: বাংলা, চাঁদ)। মুখ্যকর্ম সাধারণত বস্তুবাচক। আবার ক্রিয়াকে 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা হল গৌণকর্ম (যেমন : ছাত্রকে শিশুকে)। গৌণকর্ম হল প্রাণীবাচক কর্ম।


*পঙ্গু ধাতু:যেসকল ধাতুকে সকলপ্রকার কালের (অতীতবর্তমান,ভবিষ্যৎ) সকলপ্রকার রূপে ব্যবহার করা যায় না, তাদের বলে পঙ্গু ধাতু। 

যেমন:'আছ, ‘বট্’ ধাতুর অতীত ও ভবিষ্যৎ রূপ নেই, শুধু বর্তমান রূপ আছে। তাই এরা পঙ্গু ধাতু।


*পঙ্গু ক্রিয়া:যেসকল ক্রিয়াপদের রূপ সকল কালের সকল বিভাগে ব্যবহার করা যায় না,তাদের বলে পঙ্গু ক্রিয়া।

যেমন:‘আছ’ ধাতু ও ‘ট্' ধাতুর ক্রিয়া। ‘আছ' ধাতুর নিত্যবৃত্ত এবং ভবিষ্যৎ কালে ‘থাক্’ ধাতুর ক্রিয়ার রূপকে ব্যবহার করা হয়।


ক্রিয়ার কাল:

যেসময়ে ক্রিয়া বা কোনো কাজ অনুষ্ঠিত হয়,তাকেই বলে ক্রিয়ার কাল। কাল অর্থাৎ সময়ের ওপর নির্ভর করেই ক্রিয়ার রূপ বদলায়। শুধু সমাপিকা বা বিধেয় ক্রিয়ারই কাল হয়।


*ক্রিয়ার কাল প্রধানত তিনপ্রকার-

১)অতীত কাল

২)বর্তমান কাল

৩) ভবিষ্যৎ কাল


১)অতীত কাল:

কোনো কাজ পূর্বে বা আগে হয়ে গিয়েছে বোঝালে তাকে অতীত কাল বলে।


 *অতীত কাল চারপ্রকার-

১.১)সাধারণ বা নিত্য অতীত কাল:যে কাজটি অল্প আগে শেষ হয়ে গেছে তার ক্রিয়ারূপকে বলে সাধারণ বা নিত্য অতীত কাল।যেমন,তুমি ভোজ খেলে।,আমি বিদ্যালয়ে গেলাম।'


১.২)ঘটমান অতীত কাল:অতীত কালের কোনো কাজ কিছুক্ষণ ধরে চলছিল বোঝালে তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।যেমন:রাম তখন ঘুমাইতেছিল। আমি খেলিতেছিলাম।


১.৩)পুরাঘটিত অতীত কাল:অতীত কালে যে-কাজটি ঘটে গিয়েছে কিন্তু তার প্রভাব কিংবা ফল এখন আর বর্তমান নেই এমন বোঝালে তাকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।যেমন:পুলিশ আসবার আগেই চোরটিকে ধরা গিয়েছিল। 


১.৪) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:অতীত কালে কোনো কাজ নিয়মিত হত কিংবা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বোঝালে তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন : 'মায়ের মুখে মহাভারত পড়া শুনিত।’, ‘তার মন উদাস হয়ে যেত।', ‘শিক্ষক মহাশয় ছাত্রদের পড়াতেন।, 'আমরা বাগানে বসতাম।’, ‘তিনি প্রত্যহ আমাদের বাড়ি আসতেন।’


২)বর্তমান কাল:

কোনো কাজ চিরকাল ঘটে এবং বর্তমান সময়ে চলছে বোঝালে তাকে বর্তমান কাল বলে।


*বর্তমান কাল চারপ্রকার-

২.১)সাধারণ বা নিত্য বর্তমান কাল:

যে ক্রিয়ার কাজ সাধারণত বা বরাবর ঘটে অথবা চিরন্তন সত্য বোঝাতে ক্রিয়ার যে রূপ ব্যবহার হয়, তাকে সাধারণ বা সামান্য বা নিত্য বর্তমান কাল বলে। যেমন : 'আমি ভাত খাই।’, ‘সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।’, ‘সে বই পড়ে।’, ‘ওরা চিরকাল টানে দাঁড়।'

এই ক্রিয়ার কালকে অতীতে ঘটা কোনো ঘটনার ঐতিহাসিক বর্ণনায় ব্যবহার করলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে। যেমন : সুলতান মামুদ ভারত আক্রমণ করেন।


২.২)ঘটমান বর্তমান কাল:যে ক্রিয়ার কাজ এখনও চলছে তাকে ঘটমান বর্তমান বলে। যেমন:সুমন খেলছে। খুব বৃষ্টি হচ্ছে।


২.৩)পুরাঘটিত বর্তমান কাল:বর্তমান কালের যে ক্রিয়ার কাজটি শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল বা রেশ এখনও রয়ে গেছে, এমন বোঝাতে যে-কাল ব্যবহৃত হয়, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। যেমন:আমি স্নান করেছি। শুনেছি সে চাকরি পেয়েছে।


২.৪)বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:ক্রিয়ার সাহায্যে বর্তমান কালের আদেশ,অনুরোধ,মিনতি, উপদেশ ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা হয়। যেমন: ওঠো নিজের কাজ করো। এখানে এসো।


৩)ভবিষ্যৎ কাল: যে ক্রিয়াপদে কাজটি ভবিষ্যতে ঘটবে বোঝায় তাকে ক্রিয়ার ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কালের চারটি ভাগ-


৩.১)সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল: কোনো কাজ সাধারণভাবে ভবিষ্যতে ঘটবে বোঝালে তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।যেমন:আমরা সবাই বেড়াতে যাব। যে করেই হোক কাবুল পৌঁছোবেন।


৩.২)ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল:কোনো কাজ ভবিষ্যতে অনেকক্ষণ ধরে চলতে থাকবে বোঝালে তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।যেমন: অরুণ তখন পড়তে থাকবে। সে বাজাতে থাকবে।


৩.৩)পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:অতীতে বা বর্তমান কালে কোনো কাজ হয়তো হয়েছিল বা হয়েছে এরূপ সন্দেহ প্রকাশ পেলে তাকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।যেমন: হয়তো আমি কথা বলে থাকব। আমরা তখন ঘুমিয়ে থাকব।


৩.৪)ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা:যে ক্রিয়াপদের দ্বারা ভবিষ্যতের কোনো আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝায়, তাকে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা বলে। যেমন:ভালো হয়ে চলবে। তুমি কাল স্কুলে যেও। ‘অহংকারী হোয়ো না। মন দিয়ে লেখাপড়া করবে।



* ক্রিয়ার ভাব:

যে রূপ বা ভঙ্গির দ্বারা ক্রিয়ার কাজের পদ্ধতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে। ইংরেজিতে একে বলে mood।

*ক্রিয়ার ভাব ছারপ্রকার হলেও আমরা নির্দেশক ভাব,অনুজ্ঞা ভাব,এবং সংযোজক ভাব,- এই তিনটি ভাব নিয়ে আলোচনা করবো।


১)নির্দেশক বা নির্ধারক বা অবধারক ভাব:

যে সমাপিকা ক্রিয়ার দ্বারা কোনো কাজ সাধারণভাবে নির্দেশ বা নির্ধারণ বা অবধারণ করা বোঝায়, তাকে সেই ক্রিয়ার নির্দেশক ভাব বলে। নির্দেশক ভাব ক্রিয়ার বর্তমান,অতীত এবং ভবিষ্যত এই তিনটি কালেরই হয়।



২)অনুজ্ঞা বা নিয়োজক ভাব:

যে ক্রিয়ার দ্বারা বক্তার আদেশ,উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝায়,সেই ক্রিয়ার ভাবকে অনুজ্ঞা ভাব বলে। শুধু বর্তমান এবং ভবিষ্যত করলেই অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন:বিপদে মোরে রক্ষা করো। এখানে এসো।


ক)সংযোজক ভাব:

কোনো ক্রিয়া একই বাক্যের অন্তর্গত অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হলে,যে ক্রিয়াটির ওপর নির্ভরশীল হয় সেই ক্রিয়ার ভাবকে সংযোজক ভাব বলে। নির্দেশক ভাব এবং অনুজ্ঞা ভাবের জন্য নির্দিষ্ট,বিভক্তি-চিহ্ন থাকলেও সংযোজক ভাবের কোনো নির্দিষ্ট চিহ্ন নেই।এক্ষেত্রে সংযোজক ভাবের বিভক্তি নির্দেশক ভাবের মতোই হয়ে থাকে এবং নির্দেশক ভাবের ক্রিয়ার সঙ্গেই যদি, যেন প্রভৃতি অব্যয় যোগ করে সংযোজক ভাবের রূপ দেওয়া হয়।


*গঠনভেদে ক্রিয়ার প্রকারভেদ:

গঠনভেদে বা উৎপত্তির বিচারে ক্রিয়ার বারোটি কালকে (প্রয়োজনে ক্রিয়ার কালের ছকটি আর একবার দেখে নাও) প্রধান দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-

১) মৌলিক (বা সরল) কাল

২] যৌগিক কাল


১)মৌলিক (বা সরল) কাল:

যে সমস্ত কালে ধাতু নিজেই প্রত্যয় ও বিভক্তি যোগে ক্রিয়াপদ তৈরি করে অর্থাৎ অন্য কোনো ধাতুর সাহায্যের দরকার হয় না,তাকে মৌলিক কাল বলে। যেমন:সাধারণ (বা নিত্য) অতীত, সাধারণ (বা নিত্য) বর্তমান,নিত্যবৃত্ত অতীত এবং সাধারণ ভবিষ্যৎ-এই চারটি হল মৌলিক কাল।(সাধারণ অতীত-করলাম, করালে,বলল। নিত্যবৃত্ত করতাম,করাতেন,খেত প্রভৃতি।)


২)যৌগিক (বা মিশ্র) কাল:

যে সমস্ত কালে 'ইয়া' বা 'ইতে’ বিভক্তিযুক্ত মূল ধাতু কখনও ‘আছ' আবার কখনও ‘থাক্’ ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রত্যয় ও বিভক্তি সহযোগে ক্রিয়াপদ গঠন করে, তাকে যৌগিক কাল বলে।

যেমন:ঘটমান অতীত,পুরাঘটিত অতীত, ঘটমান বর্তমান,পুরাঘটিত বর্তমান,ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ-এই ছ-টি হল যৌগিক কাল। 


২) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ) প্রশ্নের মান-১


১)ক্রিয়াপদ কি?

A) বাক্যের বিষয়

B) বাক্যের মূল কাজ 

C) বাক্যের অবস্থা

D) বাক্যের বিশেষণ

সঠিক উত্তর: B) বাক্যের মূল কাজ


২)নীচের কোনটি ক্রিয়া নয়?

A) খাওয়া

B) হাসা

C) বই

D) দৌড়ানো

সঠিক উত্তর: C) বই


৩)কোনটি অবস্থা বাচক ক্রিয়া?

A) লিখা

B) খাওয়া

C) দাঁড়ানো

D) বসা

সঠিক উত্তর: C) দাঁড়ানো


৪)"সে খেলেছে” বাক্যে কোন কাল ব্যবহার করা হয়েছে?

A) বর্তমান কাল

B) অতীত কাল

C) ভবিষ্যৎ কাল

D) অনির্দিষ্ট কাল

সঠিক উত্তর: B) অতীত কাল


৫)"সে বই পড়ছে” বাক্যে কোন ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A) কাজ

B) অবস্থা

C) সহায়ক ক্রিয়া

D) ঐতিহ্যিক ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: A) কাজ


৬)ক্রিয়া কি নির্দেশ করে?

A) কীভাবে কোনো কাজ করা হবে

B) কোনো ব্যক্তি বা বস্তু কি কাজ করছে

C) কাজের সময়কাল

D) সবগুলো

সঠিক উত্তর: D) সবগুলো


৭)কোন বাক্যে সহায়ক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A) সে পড়ে

B) সে পড়ছে

C) সে পড়বে

D) সে পড়েছিল

সঠিক উত্তর: B) সে পড়ছে


৮)"সে গান গাইছে” বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A) কর্মবাচক ক্রিয়া

B) অবস্থা বাচক ক্রিয়া

C) সহায়ক ক্রিয়া

D) যৌক্তিক ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: A) কর্মবাচক ক্রিয়া


৯)"সে বাড়িতে ছিল” বাক্যে কোন কাল ব্যবহৃত হয়েছে?

A) বর্তমান কাল

B) অতীত কাল

C) ভবিষ্যৎ কাল

D) অনির্দিষ্ট কাল

সঠিক উত্তর: B) অতীত কাল


১০)সে দ্রুত দৌড়াচ্ছে" বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A) কর্মবাচক ক্রিয়া

B) সহায়ক ক্রিয়া

C) অবস্থাবাচক ক্রিয়া

D) উৎসাহজনক ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: A) কর্মবাচক ক্রিয়া


১১)"তুমি ভালো আছো” বাক্যে কোন ক্রিয়া ব্যবহার হয়েছে?

A) কর্মবাচক ক্রিয়া

B) অবস্থা বাচক ক্রিয়া

C) সহায়ক ক্রিয়া

D) গতিপথ ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: B) অবস্থা বাচক ক্রিয়া


১৩)"আমি খাবে” বাক্যে কোন ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A) সহায়ক ক্রিয়া

B) ভবিষ্যৎ কাল ক্রিয়া

C) অতীত কাল ক্রিয়া

D) কর্মবাচক ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: B) ভবিষ্যৎ কাল ক্রিয়া


১৪)"সে হাঁটছে” বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A) কর্মবাচক ক্রিয়া

B) সহায়ক ক্রিয়া

C) অবস্থা বাচক ক্রিয়া

D) অপরিবর্তনশীল ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: A) কর্মবাচক ক্রিয়া


১৫)'তুমি যদি আসো, আমি যাব” বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A) শর্তবাচক ক্রিয়া

B) কর্মবাচক ক্রিয়া

C) অবস্থা বাচক ক্রিয়া

D) সহায়ক ক্রিয়া

সঠিক উত্তর: A) শর্তবাচক ক্রিয়া


১৬)সে বসে আছে” বাক্যে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?

A) কর্মবাচক ক্রিয়া

B) সহায়ক ক্রিয়া

C) অবস্থা বাচক ক্রিয়া

D) অপরিবর্তনশীল ক্রিয়া


৩)অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ) প্রশ্নের মান-১

১😁.প্রশ্ন: ক্রিয়াপদ কী?

উত্তর: ক্রিয়াপদ একটি শব্দ যা কোনো কাজ, ঘটনা বা অবস্থাকে প্রকাশ করে। উদাহরণ: খাওয়া, লেখা, চলা।


২. প্রশ্ন: ক্রিয়ার কাল কী?

উত্তর: ক্রিয়ার কাল হল সেই সময় যা ক্রিয়াপদ দ্বারা প্রকাশিত কাজ বা ঘটনার সময়কে নির্দেশ করে। তিনটি প্রধান কাল: বর্তমান কাল, অতীত কাল, ভবিষ্যৎ কাল।


৩. প্রশ্ন: বর্তমান কাল কী?

উত্তর: বর্তমান কাল সে কাল যেখানে কাজ বা ঘটনা বর্তমানে ঘটছে। উদাহরণ: সে বই পড়ে।


৪. প্রশ্ন: অতীত কাল কী?

উত্তর: অতীত কাল সে কাল যেখানে কাজ বা ঘটনা অতীতে ঘটেছে। উদাহরণ: সে বই পড়েছিল।


৫. প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ কাল কী?

উত্তর: ভবিষ্যৎ কাল সে কাল যেখানে কাজ বা ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে। উদাহরণ: সে বই পড়বে।


৬. প্রশ্ন: ক্রিয়ার ভাব কী?

উত্তর: ক্রিয়ার ভাব হল ক্রিয়ার মাধ্যমে কাজের ধরন বা স্বভাবের প্রকাশ। মোট তিনটি প্রধান ভাব: সাধারণ ভাব, অনুমান ভাব, কামনা ভাব।


৭. প্রশ্ন: সাধারণ ভাব কী?

উত্তর: সাধারণ ভাব হল যখন কোনো কাজ বা ঘটনা সাধারণভাবে ঘটে। উদাহরণ: আমি লিখি।


৮. প্রশ্ন: অনুমান ভাব কী?

উত্তর: অনুমান ভাব হল যখন কোনো কাজ বা ঘটনা অনুমান বা সম্ভাবনা হিসাবে ঘটে। উদাহরণ: সে হয়তো আসবে।


৯. প্রশ্ন: কামনা ভাব কী?

উত্তর: কামনা ভাব হল যখন কোনো কাজ বা ঘটনা ইচ্ছা বা কামনা হিসাবে প্রকাশিত হয়। উদাহরণ: আমি চাই, সে আসুক।


১০. প্রশ্ন: "সে খাবে" বাক্যে ক্রিয়াপদ কী এবং এর কাল কী?

উত্তর: "খাবে" ক্রিয়াপদ এবং এটি ভবিষ্যৎ কাল।


১১. প্রশ্ন: "তুমি লিখছো" বাক্যে ক্রিয়াপদ কী এবং এর কাল কী?

উত্তর: "লিখছো" ক্রিয়াপদ এবং এটি বর্তমান কাল।


১২. প্রশ্ন: "সে খেলেছিল" বাক্যে ক্রিয়াপদ কী এবং এর কাল কী?

উত্তর: "খেলেছিল" ক্রিয়াপদ এবং এটি অতীত কাল।


১৩. প্রশ্ন: "আমি আসব" বাক্যে ক্রিয়াপদ কী এবং এর কাল কী?

উত্তর: "আসব" ক্রিয়াপদ এবং এটি ভবিষ্যৎ কাল।


১৪. প্রশ্ন: "তুমি কি বলছো?" বাক্যে ক্রিয়াপদ কী এবং এর ভাব কী?

উত্তর: "বলছো" ক্রিয়াপদ এবং এর ভাব হল সাধারণ ভাব।


১৫. প্রশ্ন: "সে হয়তো আসবে" বাক্যে ক্রিয়াপদ কী এবং এর ভাব কী?

উত্তর: "আসবে" ক্রিয়াপদ এবং এর ভাব হল অনুমান ভাব।


আরো পড়ুন: 

ডাবের জলে উপকারিতা click Here 

দুধের উপকারিতা click here

ওজোন গ্যাস click here 

রক্ত সম্পর্কে আলোচনা click here 


অস্থি বা হাড়ের কার্যাবলী Click here 

থাইরয়েড গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here 



প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here 

একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here 

বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here 

গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here 

মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here 

বইমেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ প্রবন্ধ রচনা Click here 

তোমার প্রিয় কবি- কাজী নজরুল ইসলাম প্রবন্ধ রচনা 

মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা প্রবন্ধ রচনা Click here 
ডেঙ্গু- একটি ভয়াবহ রোগ প্রবন্ধ রচনা Click here 


ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here 

ব্যঞ্জনধ্বনি প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর part-1 Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর Part-2 Click here 

সন্ধির প্রশ্ন উত্তর Click here 

শব্দ গঠনের প্রথম পর্যায় উপসর্গ ও অনুসর্গ প্রশ্ন উত্তর

শব্দ গঠনের দ্বিতীয় পর্যায় ধাতু ও প্রত্যয় প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাংলা শব্দভাণ্ডারের প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাংলা শব্দ কয় প্রকার ও কি কি Click here 

পদ কয় প্রকার ও কি কি Click here 
পদের দ্বিতীয় ভাগ- বিশেষণপদ Click here 


পদের চতুর্থ ভাগ অব্যয় পদ Click here 
পদের পঞ্চম ভাগ ক্রিয়াপদ Click here 


















Post a Comment

0 Comments