অব্যয় পদ কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি।সমুচ্চয়ী অব্যয় কাকে বলে উদাহরণ দাও।


অব্যয় পদ কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি।সমুচ্চয়ী অব্যয় কাকে বলে উদাহরণ দাও।



অব্যয় পদ:

সূচিপত্র: 

১)বাংলা অব্যয় পদ সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর এবং আলোচন।

২)সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)

৩) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)


১)পদের চতুর্থ ভাগ: অব্যয় পদ:

অব্যয় পদ:লিঙ্গ, বচন, পুরুষ কিংবা বিভক্তি ভেদে যে পদের কোনো পরিবর্তন হয় না অবস্থাতেই ব্যয় বা রূপান্তর ঘটে না যার তাকেই অব্যয় পদ বলে। যেমন-অথবা,অকস্মাৎ,কিংবা,কিন্তু,সঙ্গে,সাথে,না, অথচ,তবু,ওরে,নাকি,তো প্রভৃতি।


বাংলা ভাষায় উৎসগত বিচারে দু-ধরনের অব্যয় পদ প্রচলিত। এক ধরনের অব্যয় সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে,যেগুলি প্রধানত সাধুভাষায় ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে আধুনিক মান্য চলিত বাংলায় এদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম। পরিবর্তে আর-এক ধরনের অব্যয় পদ চলিত বাংলায় বহুল ব্যবহৃত; সেগুলিই হল খাঁটি বাংলা অব্যয়ের সার্থক উদাহরণ। সেইসঙ্গে এখন আবার সংস্কৃত অব্যয়গুলিকেও সহজ করে নিয়ে বাংলায় ব্যবহার করা হচ্ছে। তাহলে সংস্কৃত (তৎসম) এবং খাঁটি বাংলা অব্যয়গুলিকে প্রথমে চিনে নেওয়া যাক-

** সংস্কৃত অব্যয়-অবশ্য,অথবা,অন্যথা,ইতি,ইতস্তত, কেবল,প্রতি,প্রত্যহ,কিংবা,বিনা,বৃথা,সঙ্গে,পশ্চাৎ,নিতান্তএকত্র,একদা, প্রায়, সহসা, সর্বদা, সুতরাং, নতুবা প্রভৃতি।

খাঁটি বাংলা অব্যয়-অথচ,আবার,যেমন,তেমন,কেন, ওরে, আবার,তবু,চমৎকার,ছি ছি,হায়,ঈশ,আহা,বাপ রে,তো,কাজেই,বুঝি,নাই,গুলো ইত্যাদি।


* অব্যয় পদের শ্রেণিবিভাগ:

অব্যয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হল বাক্যের সঙ্গে বাক্যের সংযোগস্থাপন। তবে অব্যয়ের কোনো অবস্থাতেই কোনো পরিবর্তন না ঘটলেও ক্ষেত্রবিশেষে এদের অর্থপার্থক্য ঘটে। অর্থাৎ এরা বাক্যে সবসময় একই অর্থে ব্যবহৃত হয় না। আবার এরা যেমন বাক্যগঠনের সময় যোগসূত্র রক্ষা করে, তেমনই অন্য কোনো পদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন না করেও বাক্যের ভাব বা অর্থটিকে পরিস্ফুট করে।

যেমন-আমরা রথের মেলায় যাব এবং পাঁপড় ভাজা খাব। >‘এবং’ অব্যয়টি সংযোগস্থাপনের কাজ করছে। আমি নয় থেকেই যাবো।বনে নয় মনে মোর পাখি আজ গান গায়।>‘নয়' অব্যয়টি দুটি বাক্যে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়নি।

উদাহরণগুলি থেকে স্পষ্ট, কাজের প্রকৃতি অনুসারে অব্যয় পদ বিভিন্ন রকমের।আবার,এই প্রতিটি ভাগকে নানা শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-


১)পদান্বয়ী অব্যয়:

যে অব্যয় পদ বাক্যের মধ্যে স্থিত দুটি পদের মাঝে সম্বন্ধ বা অন্বয় বা সম্পর্ককে স্থাপন করে,তাকে পদান্বয়ী অব্যয় বলে।যেমন:সঙ্গে, আগে,ভিতরে, মতো,পর্যন্ত, অবধি, জন্য ইত্যাদি।


*পদান্বয়ী অব্যয়কে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়-

১.১) উপমাবাচক বা সাদৃশ্যবাচক (পদান্বয়ী) অব্যয়: বাক্যস্থিত দুটি পদের তুলনা বোঝাতে উপমাবাচক বা সাদৃশ্যবাচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন : মতো, মতন, হেন, সম, ন্যায়, তুল্য, পারা, যেন, প্রায় প্রভৃতি।


১.২) সীমাবাচক (পদান্বয়ী) অব্যয়: সীমা বোঝাতে বাক্যে যে অব্যয়ের প্রয়োগ করা হয়,তাকে সীমাবাচক অব্যয় বলে।যেমন:থেকে,পর্যন্ত,অবধি, তক প্রভৃতি।


১.৩) অবস্থানবাচক (পদান্বয়ী অব্যয়): অবস্থান বোঝাতে বাক্যে যে অব্যয়ের প্রয়োগ করা হয়, তাকে অবস্থানবাচক অব্যয় বলে।যেমন:সামনে,সমুখে, পিছনে,পিছে,পাশে, নীচে, মাঝে, বাইরে,আগে ইত্যাদি।


১.৪) ব্যতিরেকাত্মক (পদান্বয়ী) অব্যয়: বিনা,ছাড়া, ভিন্ন,বাদে প্রভৃতি অর্থে বাক্যে ব্যতিরেক বোঝাতে যে অব্যয়ের ব্যবহার হয়, তাকে ব্যতিরেকাত্মক অব্যয় বলে।যেমন:বই,ব্যতীত,ছাড়া,বাদে,ভিন্ন, বিনা, বিনি প্রভৃতি।


২)সমুচ্চয়ী (বা বাক্যান্বয়ী অব্যয়:

 সমুচ্চয় শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘সমাহার’। যে সমস্ত অব্যয় পদ একাধিক পদের কিংবা বাক্যাংশের বা বাক্যের মধ্যে সংযোজন,বিয়োজন কিংবা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী (বা বাক্যান্বয়ী) অব্যয় বলে। যেমন: ও, এবং, আর, না, কিংবা, নইলে, নতুবা, কিন্তু, অথচ, তবু, কেন-না প্রভৃতি।


*সমুচ্চয়ী অব্যয়কে আট ভাগে ভাগ করা যায়-

২.১)সংযোজক (সমুচ্চয়ী) অব্যয়:যে-অব্যয় পদ দুই বা তার বেশি পদ কিংবা বাক্যকে সংযুক্ত করে, তাকে সংযোজক অব্যয় বলে। যেমন:ও,আর,এবং ইত্যাদি।


২.২) বিয়োজক বা বৈকল্পিক (সমুচ্চয়ী) অব্যয়:যে অব্যয় পদ দুই বা তার বেশি পদ কিংবা বাক্যকে পৃথক বা আলাদা করার কাজে ব্যবহৃত হয়, তাকে বিয়োজক অব্যয় বলে। এই অব্যয় পদ দুই বা তার বেশি বিষয়ের মধ্যে যে কোনো একটিকে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় বলে একে বৈকল্পিক অব্যয়ও বলে। যেমন: না, অথবা, নয়, বা, কিংবা প্রভৃতি।


২.৩) সংকোচক (সমুচ্চয়ী) অব্যয়:যে-অব্যয় পদ প্রত্যাশিত ফল না বুঝিয়ে তার বিপরীত ফলটিকে বোঝায়, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে। যেমন- অথচ, কিন্তু, তবু, বরঞ্জু, তথাপি প্রভৃতি।


২.৪) ব্যতিরেকাত্মক (সমুচ্চয়ী) অব্যয়: যে অব্যয় পদ ভেদ কিংবা অভাব অর্থে প্রযুক্ত হয়,তাকে

ব্যতিরেকাত্মক (সমুচ্চয়ী) অব্যয় বলে। যেমন: নইলে, নচেৎ,নতুবা, যদি না প্রভৃতি।


২.৫) সংশয়বাচক (সমুচ্চয়ী) অব্যয়:যে অব্যয় পদ মনের সন্দেহ বা সংশয় প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়, তাকে সংশয়বাচক অব্যয় বলে।যেমন:বুঝি,পাছে, যদি প্রভৃতি। 


২.৬) হেতুবাচক (সমুচ্চয়ী) অব্যয়: যে অব্যয় পদের সাহায্যে দুটি বাক্যের মধ্যে কারণ নির্দেশ করে সম্পর্ক বা সম্বন্ধ স্থাপন করা হয়,তাকে হেতুবাচক অব্যয় বলে।যেমন:বলে,কেন-না,এইজন্য, কারণ, এ কারণে,যেহেতু প্রভৃতি। 


২.৭) নিত্যসম্বন্ধী বা সাপেক্ষ (সমুচ্চয়ী) অব্যয়: পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি অব্যয় যখন দুটি বাক্যকে সংযুক্ত করে একটি বাক্যে পরিণত করে এবং এদের সবসময় জোড়ায় ব্যবহৃত করতে হয় অর্থাৎ এরা পৃথকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না, তখন তাকে নিত্যসম্বন্ধী বা সাপেক্ষ অব্যয় বলে।যেমন:যেই-সেই, যত-তত, যখন-তখন, বরং-তথাপি, হয়-নয়, পাছে-তাই, যেই-অমনি, যদি-তবে,যেমন-তেমন প্রভৃতি।


২.৮) সিদ্ধান্তবাচক (সমুচ্চয়ী) অব্যয়:যে-অব্যয় পদ সিদ্ধান্ত বা মীমাংসার ভাব প্রকাশ করে দুটি বাক্যকে সংযুক্ত করে, তাকে সিদ্ধান্তবাচক অব্যয় বলে। যেমন:তাই,কাজেই, সুতরাং, অতএব প্রভৃতি।


৩) অনন্বয়ী অব্যয়:

যে সমস্ত অব্যয় পদের সঙ্গে বাক্যের অন্য কোনো পদের কোনো সরাসরি সম্বন্ধ বা সম্পর্ক থাকে না, তাদের অনন্বয়ী (বা আবেগসূচক) অব্যয় বলে। যেমন:শাবাশ, বাঃ, অ্যাঁ, ওগো, ছি ছি, আহা, ওরে, ওহে প্রভৃতি।


*অনন্বয়ী অব্যয়কে সাতটি ভাগে ভাগ করা যায়-

৩.১) প্রশংসাসূচক (অনম্বয়ী) অব্যয়:যে অব্যয় পদ প্রশংসা,আনন্দ, হর্ষ প্রভৃতি প্রকাশ করে, তাকে প্রশংসাসূচক অব্যয় বলে।যেমন:বাঃ,সাবাস, চমৎকার,বেশ, খাসা প্রভৃতি।


৩.২) বিস্ময়বাচক (অনন্বয়ী) অব্যয়: যে অব্যয় পদ মনের বিস্ময়ের ভাবকে প্রকাশ করে, তাকে বিস্ময়বাচক অব্যয় বলে।যেমন:অ্যাঁ, আহা,তাইতো, বাঃ, হায় হায়,একি প্রভৃতি। 


৩.৩) ঘৃণা,বিরক্তি,আক্ষেপসূচক (অনন্বয়ী) অব্যয়: যে অব্যয় পদের সাহায্যে মনের ঘৃণা,বিরক্তি,শোক, আক্ষেপ প্রভৃতি প্রকাশ করা হয়,তাকে ঘৃণা,বিরক্তি,আক্ষেপসূচক অব্যয় বলে। যেমন: ধিক্‌, ছি, এঃ, আহা রে,কী জ্বালা, দূর ছাই প্রভৃতি।


৩.৪) সম্মতি বা অসম্মতিজ্ঞাপক (অনন্বয়ী) অব্যয়: যে অব্যয় পদ মনের সম্মতি কিংবা অসম্মতিকে প্রকাশ করে,তাকে সম্মতি বা অসম্মতিজ্ঞাপক অব্যয় বলে।যেমন:হ্যাঁ, যা বলেছ, আচ্ছা,না, না তো, খবরদার, উঁহু প্রভৃতি। 


৩.৫) সম্বোধনসূচক (অনন্বয়ী) অব্যয়:যে অব্যয় পদের সাহায্যে কাউকে সম্বোধন বা আহ্বান করা হয়,তাকে সম্বোধনসূচক অব্যয় বলে।যেমন:ওরে, ওহে, হে,ওগো, ওলো,এ প্রভৃতি।


৩.৬) প্রশ্নবোধক (অনন্বয়ী) অব্যয়:যে অব্যয় পদ মনের জিজ্ঞাসা বা কৌতূহলকে প্রকাশ করে, তাকে প্রশ্নবোধক অব্যয় বলে। যেমন;কি,কেন,কেমন, নাকি প্রভৃতি।


৩.৭) বাক্যালংকার (অনন্বয়ী অব্যয়:যে অব্যয় পদ বাক্যের অর্থের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব বিস্তার না-করে কেবল বাক্যটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয় তাকে বাক্যালংকার (বা আলংকারিক) অব্যয় বলে। যেমন:বড়ো, তো,না প্রভৃতি।


৪) ধ্বন্যাত্মক অব্যয়:

যে সমস্ত অব্যয় পদ কোনো বাস্তব ধ্বনি অথবা কোনো অনুভূতিগ্রাহ্য সূক্ষ্ম ভাব কিংবা অবস্থার ধ্বনিগত ব্যঞ্জনাকে ফুটিয়ে তোলে, তাদের ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যেমন:হু হু, সোঁ সোঁ,কলকল, ঝমঝম, সুনসান, ছমছম, রিমঝিম, টুপটাপ প্রভৃতি।


* ধ্বন্যাত্মক অব্যয়কে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-


৪.১)বাস্তব শ্ৰুতিগ্রাহ্য (বা অনুকার) ধ্বন্যাত্মক অব্যয়:

বাস্তবে শোনা যায় এমন বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণে যেসব ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের প্রয়োগ ঘটে, তাদের বাস্তব শ্রুতিগ্রাহ্য (বা অনুকার) ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।যেমন: হাহা,খিলখিল, খুকখুক,টিপটিপ, ঝমঝম,তরতর, কলকল,গমগম,গটগট,গরগর, ভকভক প্রভৃতি।


 ৪.২)ভাবপ্রকাশক ধ্বন্যাত্মক অব্যয়:যে সমস্ত ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বাস্তব ধ্বনির বদলে সুক্ষ্ম অনুভূতিগ্রাহ্য কোনো ভাব বা অবস্থার ব্যঞ্জনাকে প্রকাশ করে,তাকে ভাবপ্রকাশক ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।যেমন:খাঁ খাঁ,ধড়ফড়, টনটন,ছলছল, কুচকুচে,প্রভৃতি। 


২)সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)

১)যেসব পদের লিঙ্গ, বচন,পুরুষ এবং বিভক্তিভেদে কোনো পরিবর্তন ঘটে না তাদের বলে-

ক) সন্ধি

খ) অব্যয়

গ) বাচ্য

ঘ) প্রত্যয়

উত্তর:(খ) অব্যয়


২)বাংলা অব্যয় সাধারণত পদের সঙ্গে পদের, বাক্যের সঙ্গে বাক্যের-

ক)সংযোগস্থাপন করে 

খ) দূরত্ব সৃষ্টি করে

গ) সংযোগস্থাপন করে দূরত্ব সৃষ্টি করে

ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর:(ক) সংযোগ স্থাপন করে


৩) যেসব শব্দ দুটি পদ,বাক্য বা বাক্যাংশকে যুক্ত করে তাদের বলে-

ক) আবেগসূচক অব্যয়

খ) আলংকারিক অব্যয়

গ) সংযোজক অব্যয়

ঘ) অনুকার অব্যয়

উত্তর:(গ) সংযোজক অব্যয়


৪) আবেগসূচক অব্যয় হল-

ক) সৌন্দর্যের বাহন

খ)আবেগের বাহন

গ) সংযোগের বাহন

ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর:(খ) আবেগের বাহন


৫) আবেগসূচক অব্যয়-

ক) সরাসরি বাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে

খ)একটু দূরে অবস্থান করে

গ) বিযুক্ত থাকে

ঘ)সবকটি

উত্তর:(খ) একটু দূরে অবস্থান করে


৬)বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে-

ক) ধ্বন্যাত্মক অব্যয় 

খ) সংযোজক অব্যয়

গ) সংশয়সূচক অব্যয়

ঘ) আলংকারিক অব্যয়

উত্তর:(ঘ) আলংকারিক অব্যয়


৭)'পিসিমা তো ভয়ে কেঁদেই ফেললেন।'-চিহ্নিত পদটি কোন শ্রেণির অব্যয়?

ক) সংযোজক অব্যয়

খ) প্রশ্নবোধক অব্যয় 

গ) অসম্মতিসূচক অব্যয় 

ঘ) বাক্যালংকার অব্যয়

উত্তর:(ঘ) বাক্যলংকার অব্যয়


৮) বাক্যালংকার অব্যয় হল-

ক) ছিঃ ছিঃ

খ) অথচ

গ) তৎসম

 ঘ)তো

উত্তর:(ঘ) তো


৯) অনুকার অব্যয়ের অপর নাম-

ক) আলংকারিক অব্যয়

খ) সংযোজক অব্যয় 

গ)ধ্বন্যাত্মক অব্যয়

ঘ) আবেগসূচক অব্যয়

উত্তর:(গ) ধন্যাত্মক অব্যয়


১০)যে অব্যয় দ্বারা কাউকে সম্বোধন করা হয় তাকে বলে-

ক) সাদৃশ্যসূচক অব্যয়

খ) সংশয়সূচক অব্যয়

গ) সম্মতিসূচক অব্যয়

ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর:(ঘ) কোনোটিই নয়


১১) দুটি অব্যয় পদ মিলে হয়-

ঘ) প্রশ্নসূচক অব্যয়

ক) অনুকার অব্যয়

খ) সাপেক্ষ শব্দজোড় 

গ) সংযোজক অব্যয়

উত্তর:(খ)সাপেক্ষ শব্দজোড়


১২) কোনটি আলংকারিক অব্যয় নয়-

ক) বটে 

খ) না-হোক

গ) কত-না

ঘ) অতএব

উত্তর:(ঘ) অতএব


১৩)অনুকার অব্যয় দুই শ্রেণির।যথা-

ক) ধ্বনিপ্রকাশক ও ভাবপ্রকাশক

খ) সম্বোধন ও সাদৃশ্যসূচক

গ) সংশয় ও সম্মতিসূচক

ঘ) আবেগ ও সংযোজক

উত্তর:(ক) ধ্বনিপ্রকাশক ও ভাবপ্রকাশক


১৪) দুটি সমুচ্চয়ী অব্যয় একইসঙ্গে ব্যবহৃত হয়ে- ক)সাপেক্ষ শব্দজোড় গঠন করে 

খ) নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় গঠন করে

গ) সংশয়সূচক অব্যয় গঠন করে

ঘ) প্রশ্নসূচক অব্যয় গঠন করে

উত্তর:(খ) নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় গঠন করে


১৫)ক্রিয়াবিশেষণবাচক একটি অব্যয়ের উদাহরণ হল-

ক)পাছে

খ)খ হলে

গ)বুঝি 

ঘ) সদা

উত্তর:(ঘ) সদা


১৬)কোনটি ধ্বনিপ্রকাশক অনুকার অব্যয়-

ক)গনগনে

খ) মুচমুচে

গ) ঘুটঘুটে

ঘ) টুকটুকে

উত্তর:(খ) মুচমুচে


৩) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)

১)অব্যয় কাকে বলে?

উত্তর: লিঙ্গ,বচন,পুরুষ এবং বিভক্তিতে যেসব পদের মূল রূপের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, তাদের অব্যয় বলে।


২)সংযোজক অব্যয় কাকে বলে?

উত্তর:যে সমস্ত অব্যয় পদ দুই বা তার বেশি বাক্য বা পদকে যুক্ত করে বাক্যের অন্বয়ের বৈচিত্র্য আনে, তাকে সংযোজক অব্যয় বলে। যেমন-ও, এবং,কিন্তু, আর, সুতরাং, অথচ প্রভৃতি।


২)একটি সংযোজক অব্যয়ের উদাহরণ দাও।

উত্তর:একটি সংযোজক অব্যয়ের উদাহরণ হল- ‘ও’–অজয় ও বিজয় হলেন ধীমানবাবুর দুই ছেলে।


৩)আবেগসূচক অব্যয় কাকে বলে?

উত্তর:যে-সমস্ত অব্যয় পদ বিস্ময়,আনন্দ,বেদনা, দুঃখ,উল্লাস,ঘৃণা প্রভৃতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় তাকে আবেগসূচক অব্যয় বলে।

যেমন-বাঃ,উঃ,ওগো,সাবাস,ছিঃ ছিঃ,হায় হায় প্রভৃতি।


৪)একটি আবেগসূচক অব্যয়ের উদাহরণ দাও।

উত্তর:একটি আবেগসূচক অব্যয়ের উদাহরণ হল— ‘হরি হরি’।


৫)আলংকারিক অব্যয় কাকে বলে?

উত্তর:যেসকল অব্যয় বাক্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থের কোনো পরিবর্তন না-ঘটিয়ে বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তাদের আলংকারিক অব্যয় বলে। যেমন -সে তো হেসেই খুন।


৬)একটি আলংকারিক অব্যয়ের উদাহরণ দাও।


উত্তর:একটি আলংকারিক অব্যয়ের উদাহরণ হল- 'বটে'- লোকটির সাহস বটে।


৭)ধ্বন্যাত্মক অব্যয় কাকে বলে?

উত্তর: বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণে সৃষ্ট যেসব অব্যয় কোনো অনুভূতি, ভাব বা অবস্থাকে প্রকাশ করে তাদের ধ্বন্যাত্মক বা অনুকার অব্যয় বলে। যেমন-ছল্ ছল্, খাঁ খাঁ, টন্‌ টন্‌, খল খল্‌ প্রভৃতি।


৮)একটি ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের উদাহরণ দাও।

উত্তর:একটি ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের উদাহরণ হল – 'ঠকঠক' করে কাঁপছে।


৯)সম্বোধনসূচক অব্যয় কাকে বলে?উদাহরণ দাও।

উত্তর:যে-অব্যয়ের দ্বারা কাউকে সম্বোধন করা হয় তাকে সম্বোধনসূচক অব্যয় বলে।যেমন-ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল।


১০) সাদৃশ্যসূচক অব্যয় কাকে বলে?

উত্তর:দুটি ভিন্ন ধরনের ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়ের মধ্যে সাদৃশ্য কে বোঝাতে এই ধরনের অব্যয়ের প্রয়োগ ঘটে। যেমন: মতো,পারা, রায় ন্যায়, তুল্য, সম,যেন ইত্যাদি।


১১) প্রশ্নসূচক অব্যয় কাকে বলে?

উত্তর:জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন বোঝাতে যেসকল অব্যয় পদ ব্যবহার করা হয় তাকে প্রশ্নসূচক অব্যয় বলে। যেমন:এত দেরি করছ কেন?


১২)না-সূচক অব্যয় বা অসম্মতিসূচক অব্যয় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে-অব্যয়ের সাহায্যে অসম্মতি,অস্বীকার অর্থাৎ মনের নেতিবাচক ভাব বোঝানো হয় তাকে অসম্মতিসূচক অব্যয় বলে। যেমন:নয়,নহে,না,নেই, উঁচু প্রভৃতি।


১৩)'ন্যায়' একটি কী ধরনের অব্যয়?

উত্তর:'ন্যায়' একটি সাদৃশ্যসূচক অব্যয়।


১৪) নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় কাকে বলে?

উত্তর: দুটি সমুচ্চয়ী অব্যয় একইসঙ্গে ব্যবহৃত হলে তাকে নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় বলে।


 ১৫)একটি নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয়ের উদাহরণ দাও।

উত্তর: একটি নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয়ের উদাহরণ হল- যেমন: কর্ম তেমন ফল।


১৬) ক্রিয়াবিশেষণবাচক অব্যয় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর:বাক্যের ভিতর যে-অব্যয় পদ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া বিশেষণবাচক অব্যয় বলে।


আরো পড়ুন:

প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here 

একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here 

বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here 

গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here 

মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here 

বইমেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ প্রবন্ধ রচনা Click here 

তোমার প্রিয় কবি- কাজী নজরুল ইসলাম প্রবন্ধ রচনা 

মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা প্রবন্ধ রচনা Click here 
ডেঙ্গু- একটি ভয়াবহ রোগ প্রবন্ধ রচনা Click here 


ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here 

ব্যঞ্জনধ্বনি প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর part-1 Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর Part-2 Click here 

সন্ধির প্রশ্ন উত্তর Click here 

শব্দ গঠনের প্রথম পর্যায় উপসর্গ ও অনুসর্গ প্রশ্ন উত্তর

শব্দ গঠনের দ্বিতীয় পর্যায় ধাতু ও প্রত্যয় প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাংলা শব্দভাণ্ডারের প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাংলা শব্দ কয় প্রকার ও কি কি Click here 

পদ কয় প্রকার ও কি কি Click here 
পদের দ্বিতীয় ভাগ- বিশেষণপদ Click here 


পদের চতুর্থ ভাগ অব্যয় পদ Click here 



















Post a Comment

0 Comments