পরিবেশ বিপর্যয় রচনা।পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ কি কি।


পরিবেশ বিপর্যয় রচনা।পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ কি কি।


মানস- মানচিত্র অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা:

পরিবেশ বিপর্যয়: 


সূচিপত্র: 

*বিপর্যয়ের কারণ 

*বৃক্ষনিধন

*গ্লোবাল ওয়ার্মিং 

*বিপর্যয়ের প্রভাব 

*বিপর্যয়ের প্রতিকার 

*সরকারি নীতি ও আইন 

*উপসংহার


*পরিবেশ বিপর্যয়: 


ভূমিকা:

পরিবেশ বিপর্যয় একটি বড় ধরনের পরিবেশগত সমস্যা, যা প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র ও প্রাণিজগতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এটি মানুষের জীবন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দশকে মানুষের অগ্রগতি, শিল্পায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ফলে পরিবেশের ওপর অত্যধিক চাপ পড়েছে, যার ফলস্বরূপ পরিবেশ বিপর্যয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয় বলতে মূলত প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত পরিবর্তনগুলোকেই বোঝানো হয়, যা পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এই রচনায় আমরা পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ, তার প্রভাব, এবং এর থেকে প্রতিকার পেতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, সে সম্পর্কে আলোচনা করব।


*পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণসমূহ:

পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল কারণ দুটি প্রধানভাবে ভাগ করা যায়: প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট।


প্রাকৃতিক কারণ: বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথিবী তৈরি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটছে, যেমন ভূমিকম্প, সুনামি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ইত্যাদি। তবে এসব ঘটনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হলেও, এর প্রভাব কখনও কখনও ব্যাপক হয়।


মানবসৃষ্ট কারণ: মানবসৃষ্ট কারণগুলো পরিবেশ বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। মানুষের অতিরিক্ত উৎপাদন, শিল্পায়ন, এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এইসব কারণে ঘটে নানা ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়:


*বৃক্ষনিধন: মানুষের অতিরিক্ত বনভূমি কাটা পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। বনায়ন তথা গাছপালা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন নিঃসরণ করে। গাছপালা কাটা হলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং পরিবেশে কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধি পায়, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের অন্যতম কারণ।


দূষণ: জল, বায়ু এবং মাটি দূষণ পরিবেশ বিপর্যয়ের আরেকটি বড় কারণ। শিল্প কারখানার বর্জ্য, যানবাহনের নির্গমন, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, এবং গৃহস্থালি বর্জ্য পরিবেশকে দূষিত করছে। এই দূষণের ফলে মানবস্বাস্থ্য, প্রাণীজগৎ এবং জলজ পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে।


*জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং একটি মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ। মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মেরু অঞ্চলের বরফ গলিয়ে সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বাড়াচ্ছে এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে খরা, তাপপ্রবাহ, সাইক্লোন, এবং বন্যার ঘটনা বেড়ে গেছে।


অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ: মানুষের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ যেমন খনিজ, তেল, গ্যাস, পানি ইত্যাদি অতিরিক্তভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে এই সম্পদগুলোর একদিন সমাপ্তি ঘটবে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হবে।


*পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব:

পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবগুলি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এটি সরাসরি মানব সভ্যতা এবং পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করছে।


জীববৈচিত্র্য হ্রাস: বনভূমি নিধন, জল দূষণ, এবং পরিবেশের অন্যান্য বিপর্যয়ের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি এবং উদ্ভিদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যা পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পৃথিবীর অমুল্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি আমাদের খাদ্য সুরক্ষা, ওষুধ, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


মানবস্বাস্থ্য: বায়ু, পানি, এবং মাটি দূষণের কারণে মানুষের শরীরে নানা ধরনের রোগব্যাধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দূষিত বায়ু শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা সৃষ্টি করছে, যেমন হাঁপানি, ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ইত্যাদি। এছাড়াও, দূষিত পানি পান করার কারণে পানিবাহিত রোগ যেমন কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে।


কৃষি উৎপাদন: জলবায়ু পরিবর্তন এবং অস্বাভাবিক আবহাওয়া patterns এর কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খরা, অতিবৃষ্টি, এবং তাপপ্রবাহের কারণে ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় ঘটছে। এতে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ: গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমিকম্প, সুনামি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা এবং অন্যান্য দুর্যোগ এখন প্রায় প্রতি বছরই ঘটছে। এসব দুর্যোগে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে এবং তাদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছে।


সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি: গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলে পৃথিবীর মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে, যার ফলে সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে, যা লাখ লাখ মানুষের বাসস্থান বিপদগ্রস্ত করছে।


*পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে কী করা যেতে পারে?

পরিবেশ বিপর্যয়ের এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:


পরিবেশ বান্ধব শক্তির ব্যবহার: জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সোলার, উইন্ড, এবং জলবিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। এসব শক্তি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক নয় ।


বৃক্ষরোপণ ও বনসংরক্ষণ: বৃক্ষরোপণ এবং বনভূমি সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নতি সম্ভব। গাছপালা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করা হয়, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতে সাহায্য করে।


দূষণ নিয়ন্ত্রণ: শিল্পের বর্জ্য এবং যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির জন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবেশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকার, এনজিও, এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বোঝানোর জন্য নানা প্রচার অভিযান চালাতে হবে।


*সরকারি নীতি ও আইন প্রয়োগ: পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন এবং তাদের যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারকে এ ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।


বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং রিসাইক্লিং: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর চাপ কমানো যেতে পারে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে মাটির দূষণ রোধ করা সম্ভব।


*উপসংহার:

পরিবেশ বিপর্যয় এখন আর কেবল একটি সাধারণ সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব সব জায়গায় বিস্তার লাভ করেছে। আমাদের অগ্রগতির এই সময়ে পরিবেশকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ পরিবেশের অবস্থা উন্নত না হলে মানুষের জীবনযাত্রাও সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সচেতনতা, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা এবং উন্নয়ন একসঙ্গে সম্ভব হয়।


আরো পড়ুন:

একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার বই কেনা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর click here 

তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর click here 


লালন শাহ ফকিরের গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click here 


ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click here 

ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click here 


আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর click here 

আজব শহর কলকেতা প্রবন্ধ প্রশ্ন উত্তর Click here

পঁচিশে বৈশাখ প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click here 


বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান আলোচনা করো। Click here 

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা করো। Click here 

বাংলা কাব্য সাহিত্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদান 

Click here 

চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা Click here 


বাংলা কাব্য সাহিত্যে বিহারীলাল চক্রবর্তী অবদান click here 

বাংলা নাট্য সাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান Click here 

বাংলা নাট্য সাহিত্যে বিজন ভট্টাচার্যের অবদান Click here 

বাংলা গদ্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান Click here 

বাংলা উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথের অবদান Click here 

বাংলা নাট্য সাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান Click here 

বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান Click here 


আড্ডা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click here 


মানস- মানচিত্র অবলম্বনে ইন্টারনেট ও আধুনিক জীবন সম্পর্কে প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা Click here 

শিক্ষায় ও চরিত্র গঠনে খেলাধুলো রচনা Click here 

রক্তদান জীবনদান প্রবন্ধ রচনা Click here 

পরিবেশ বিপর্যয় প্রবন্ধ রচনা Click here 


লৌকিক সাহিত্যের বিভিন্ন দিকে- লোককথা Click here 

লৌকিক সাহিত্যের বিভিন্ন দিক- ধাঁধা Click here 

লৌকিক সাহিত্যের বিভিন্ন দিক- ছড়া Click here







Post a Comment

0 Comments