সর্বনাম পদ:
সূচিপত্র:
১)বাংলা সর্বনাম পদ সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর এবং আলোচন
২)সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)
৩) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
১)পদের তৃতীয়ভাগ: সর্বনাম পদ:
* বাক্যের মধ্যে ভাষার সৌন্দর্য রক্ষায় সর্বনামের ভূমিকা অনেকখানি। একই বিশেষ্য পদ বহুবার ব্যবহার হওয়ার ফলে বাক্যের মধ্যে যার সৌন্দর্যহানি ঘটে এবং শ্রুতিকটু লাগে। কিন্তু সর্বনাম প্রয়োগের ফলে ভাষা হয়ে ওঠে শ্রুতিমধুর।
* সর্বনামপদ কাকে বলে?
উত্তর:বিশেষ্য পদের পরিবর্তে বা বদলে যে পদ ব্যবহৃত হয়,তাকে সর্বনাম পদ বলে।যেমন-আমি, তুমি,সে, ইহা, তিনি,কে,কাহারা,কেউ কেউ,কোনো কিছু প্রভৃতি।
* সর্বনাম পদের শ্রেণিবিভাগ:
*সর্বনাম পদকে ৯টি ভাগে ভাগ করা যায়-
১] ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
২] নির্দেশক সর্বনাম
৩] অনির্দেশক সর্বনাম
৪] আত্মবাচক সর্বনাম
৫] প্রশ্নবাচক সর্বনাম
৬] সমষ্টিবাচক বা সাকল্যবাচক সর্বনাম
৭] পারস্পরিক সর্বনাম
৮] সংযোগবাচক সর্বনাম
৯] অন্যাদিবাচক সর্বনাম।
১) ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
যে সর্বনাম পদের সাহায্যে কোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হয়,তাকে ব্যক্তিবাচক সর্বনাম বলে। যেমন:আমি, তুমি, সে প্রভৃতি।
* ব্যক্তিবাচক সর্বনাম পুরুষভেদে তিনপ্রকার-
১.১) উত্তম পুরুষ: আমি, আমরা, আমাদের, আমাকে(মোর, মোরা, মোদের, মম-কবিতায় ব্যবহৃত হয়)।
১.২)মধ্যম পুরুষ: তুমি, তোমার,তোমাদের,তুই, তোকে,তোদের,তোরা,আপনি,আপনার, আপনাকে, আপনাদের।
১.৩) প্রথম পুরুষ: সে,তার,তাকে,তাতে,তাহা,তিনি, তাঁর,তাঁহার,তাঁকে,তাঁহাকে,তাঁদের,তাঁহাদের,তাঁহাতে, এটা,এঁরা,এঁকে,এঁর।
২) নির্দেশক সর্বনাম:যে সর্বনাম পদ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দিষ্ট করে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।যেমন: এ,এরা,এই,ইনি, ইহারা,একে প্রভৃতি।
* নির্দেশক সর্বনামকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-
২.১)সামীপ্যবাচক
২.২) দূরত্ববাচক
২.১) সামীপ্যবাচক সর্বনাম:যে নির্দেশক সর্বনাম কাছের বস্তু বা ব্যক্তিকে নির্দেশ করে,তাকে সামীপ্যবাচক সর্বনাম বলে। যেমন: এ,এরা,ইহা, ইহারা,এই, ইনি প্রভৃতি।(বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত 'এ কোথায় নিয়ে এলে। এঁরা সব চেনা মানুষ।)
২.২) দূরত্ববাচক সর্বনাম:যে নির্দেশক সর্বনাম দূরের বস্তু বা ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, তাকে দুরত্ববাচক সর্বনাম বলে।যেমন: ও,ওরা, উহার,ওঁরা,ওঁকে,ওটা প্রভৃতি।
এক্ষেত্রে ইনি, এঁরা (সামীপ্যবাচক),উনি,ওঁরা (দুরত্ববাচক) সম্মাননীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রে,এরা,এদের (সামীপ্যবাচক), ওরা,ওদের (দুরত্ববাচক) সাধারণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে: এটা, ইহা (সামীপ্যবাচক),ওটা, উহা (দূরত্ববাচক)- তুচ্ছ ব্যক্তি কিংবা বস্তুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।(বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত : ওটা রাখলে কোথায় ? ওরা সকলে মিলে বেড়াতে যাচ্ছে।)
৩) অনির্দেশক সর্বনাম:যে-সর্বনাম পদ কোনো অনির্দিষ্ট বস্তু বা ব্যক্তি বা ভাবের বদলে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দেশক সর্বনাম বলে।যেমন:কিছু,কেউ, কেহ যে-কেউ প্রভৃতি।
৪) আত্মবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম পদ অন্য কারও সাহায্য না নেওয়ার ভাবটিকে বেশ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে,তাকে আত্মবাচক সর্বনাম বলে।যেমন:
আপনি,নিজে,নিজ,আপনার,নিজেদের প্রভৃতি। (বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত:'আমি নিজে হাতে সব রান্না করেছি। তুমি স্বয়ং এসে হাজির হয়েছ যখন যেতেই হচ্ছে।)
৫) প্রশ্নবাচক সর্বনাম:যে সর্বনাম পদের সাহায্যে কোনোকিছু জিজ্ঞাসা করা হয় বা জানতে চাওয়া হয়,তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে।যেমন:কে,কী, কারা,কোন্,কে কে, কী কী, কীসে ইত্যাদি।(বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত-আপনারা কিছু জানেন কি? কোন গাছগুলোর আম মিষ্টি?)
৬) সমষ্টিবাচক বা সাকল্যবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম পদে সমষ্টিবাচক বস্তু, ব্যক্তি বা ভাবের ব্যবহার করা হয়,তাকে সমষ্টিবাচক বা সাকল্যবাচক সর্বনাম বলে।যেমন:সকল,সবাই,সর্ব,সব,উভয়,সব কিছু প্রভৃতি।(বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত-সবে মিলি করি কাজ। সবাই সার বেঁধে দাঁড়াও।)
৭)পারস্পরিক সর্বনাম:পরস্পর অর্থে বা পারস্পরিক সম্বন্ধ বোঝাতে কোনো সর্বনাম পদ ব্যবহৃত
হয়,এদের পারস্পরিক বা ব্যতিহারিক সর্বনাম বলে।যেমন- পরস্পর,নিজে নিজে ইত্যাদি। (বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত-পুরো চকোলেটটা নিজে নিজে খেয়ে নিও না। পরস্পর মুখ দেখাদেখি বন্ধ।)
৮)সংযোগবাচক সর্বনাম:যে সর্বনাম পদের সাহায্যে দুই বা তার বেশি বস্তু কিংবা ব্যক্তির মধ্যে সংযোগকে নির্দেশ করে, তাকে সংযোগবাচক বা সম্বন্ধবাচক সর্বনাম বলে।যেমন:যে, যা, যারা/যাঁরা, যিনি, যেটা, যে যে, যা যা, যেগুলো প্রভৃতি।(বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত-আমি যা যা বলেছি করেছ। তুমি যে ওকে কী জাদু করেছ।)
*সংযোগবাচক সর্বনামেরই একটি শ্রেণি হল সাপেক্ষ সর্বনাম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাবের পূর্ণতার জন্য একটি সংযোগবাচক সর্বনাম অন্য একটি সংযোগবাচক সর্বনামের ওপর নির্ভরশীল হয়।এই
ধরনের সংযোগবাচক সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। অর্থাৎ সাপেক্ষ সর্বনাম কেবল সংযোগস্থাপন করে না, সবসময় একটিকে ব্যবহার করলে আর একটিকেও ব্যবহার করতে হয়। এই নির্ভরশীলতার কারণেই এদের নাম সাপেক্ষ। যেমন:যে-সে, যা-তা, যার-তার, যিনি-তিনি প্রভৃতি।(বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত: যা ভেবেছিলাম তা ঘটেনি। যে পরিশ্রম করবে সে-ই সফল হবে।)
৯)অন্যাদিবাচক সর্বনাম:অন্য,অপর প্রভৃতি বোঝানোর ক্ষেত্রে যে সর্বনাম পদের ব্যবহার হয়, তাকে অন্যাদিবাচক সর্বনাম বলে।যেমন:অন্য, অপর, অমুক প্রভৃতি।(বাক্যে প্রয়োগের দৃষ্টান্ত: তোমার বাড়ির খবর তুমি ছাড়া অন্য কে বলবে! “তুমি বাদে অপর কাউকেই দেখছি না।")
২)সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)
১)সকল নাম ও বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে-পদ ব্যবহৃত হয় তাকে বলে-
ক) অব্যয়
খ)সর্বনাম
গ) বিশেষণ
ঘ) বিশেষ্য
উত্তর:(খ) সর্বনাম
২) সর্বনাম পদের রূপভেদ হয় কোন্ লিঙ্গে-
ক)পুংলিঙ্গে
খ) স্ত্রীলিঙ্গে
গ) ক্লীবলিঙ্গে
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর:(গ)ক্লীবলিঙ্গে
৩)কোটি সর্বনাম পদ তা চিহ্নিত করো-
ক) উনি
খ) নারী
গ)সুন্দর
ঘ) গরম
উত্তর:(ক) উনি
৪) ‘ইনি’-ই মহাকবি। 'ইনি' পদটি-
ক) সাকল্যবাচক সর্বনাম
খ) অনির্দেশক সর্বনাম
গ) নির্দেশক সর্বনাম
ঘ আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর:(গ) নির্দেশক সর্বনাম
৫) সর্বনাম সাধারণত কত প্রকার-
ক)পাঁচ
খ )সাত
গ) আট
ঘ) দশ
উত্তর:(গ) আট
৬)আমি,তুমি শব্দ দুটি কোন্ সর্বনাম-
ক) সম্বন্ধসূচক
খ) নির্দেশক
গ)ব্যক্তিবাচক
ঘ) ব্যতিহারিক
উত্তর:(গ) ব্যক্তিবাচক
৭) উত্তম পুরুষে সর্বনাম প্রাতিপদিকের ক-টি রূপ-
ক) দুটি
খ) তিনটি
গ) পাঁচটি
ঘ) ছ-টি
উত্তর:(ক) দুটি
৮) মধ্যম পুরুষে সর্বনাম প্রাতিপদিকের ক-টি রূপ-
ক) দুটি
খ)তিনটি
গ)পাঁচটি
ঘ) ছ-টি
উত্তর:(খ) তিনটি
৯)প্রথম পুরুষে সর্বনাম প্রাতিপদিকের ক-টি রূপ-
ক) দুটি
খ) তিনটি
গ) পাঁচটি
ঘ) ছ-টি
উত্তর:(ক) দুটি
১০)নির্দেশ করে দেখানোর জন্য যে-সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে বলে-
ক) সমষ্টিবাচক
খ) ব্যতিহারিক
গ) অনিশ্চয়তাদ্যোতক
ঘ) নির্দেশক
উত্তর:(ঘ) নির্দেশক
১১) নির্দেশক সর্বনামকে কত ভাগে ভাগ করা যায়-
ক) চার
খ)পাঁচ
গ) তিন
ঘ)দুই
উত্তর:(ঘ) দুই
১২) কোটি সম্বন্ধসূচক শব্দ-
ক) সব
খ) যেখানি
গ) যিনি
ঘ) সমস্ত
উত্তর:(গ) যিনি
১৩) কে,কি,কী-এইগুলি কোন্ সর্বনাম-
ক) নির্দেশক
খ) সম্বন্ধসূচক
গ)প্রশ্নসূচক
ঘ) ব্যতিহার
উত্তর:(গ) প্রশ্নসূচক
১৪) কেহ,কেউ,কিছু ইত্যাদি শব্দগুলি কী সর্বনাম- ক) নির্দেশক
খ) ব্যতিহার
গ) সমষ্টিবাচক
ঘ) অনির্দেশক
উত্তর:(ঘ) অনির্দেশক
১৫) বিশ্বজিৎ ও অনীক উভয়েই মাঠে উপস্থিত। রেখাঙ্কিত পদটি হল–
ক) সাকল্যবাচক সর্বনাম
খ) আত্মবাচক সর্বনাম
গ) অনির্দেশক সর্বনাম
ঘ) প্রশ্নসূচক সর্বনাম
উত্তর:(ক) সাকল্যবাচক সর্বনাশ
৩) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
১) ব্যাকরণ আলোচনায় সর্বনামের প্রয়োজনীয়তা কতখানি?
উত্তর: বাক্যের মধ্যে ভাষার সৌন্দর্য রক্ষায় সর্বনামের ভূমিকা অনেকখানি। একই বিশেষ্য পদ বহুবার ব্যবহার হওয়ার ফলে বাক্যের মধ্যে ভাষার সৌন্দর্যহানি ঘটে এবং শ্রুতিকটু লাগে। কিন্তু সর্বনাম প্রয়োগের ফলে সেই ভাষা হয়ে ওঠে শ্রুতিমধুর। তাই ব্যাকরণ আলোচনায় সর্বনামের প্রয়োজনীয়তা আছে।
২) সর্বনাম পদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর:বাক্যের মধ্যে কোনো নাম বা ওই জাতীয় কোনো পদের পরিবর্তে বা পূর্বে লিখিত প্রসঙ্গের পুনরুক্তি না-করে যেসব পদ ব্যবহার করা হয় তাদের সর্বনাম বলে। যেমন-আমি, তুমি,সে,ইহা,তিনি,কে, কাহারা,কেউ কেউ, কোনো কিছু প্রভৃতি।
৩) সর্বনাম পদকে ক-টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর:সর্বনামকে মোট ৮টি ভাগে ভাগ করা যায়- যেমন-ব্যক্তিবাচক,নির্দেশক,অনির্দেশক,প্রশ্নবাচক, আত্মবাচক, সমষ্টিবাচক, সাপেক্ষবাচক এবং পারস্পরিক সর্বনাম। এ ছাড়াও সংযোগবাচক সর্বনাম বলে আর একটি শ্রেণির কথাও কেউ কেউ
বলেন।
8) ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কাকে বলে? উদাহরণ দাও। যে-সর্বনাম উত্তম, মধ্যম ও প্রথম—এই তিন পুরুষের
কোনো ব্যক্তিকে বোঝায় তাকে ব্যক্তিবাচক সর্বনাম বলে।যেমন- কে বটেন আপনি? আমি স্বার্থপর নই।
৫)পুরুষভেদে ব্যক্তিবাচক সর্বনামকে ক-টি ভাগেভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর:পুরুষভেদে ব্যক্তিবাচক সর্বনামকে তিন ভাগেভাগ করা যায়।যেমন-
ক) উত্তমপুরুষ
খ) মধ্যম পুরুষ
গ) প্রথমপুরুষ
৬)উত্তমপুরুষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: আমি বা আমরা জাতীয় যাবতীয় বিষয়গুলিকে উত্তমপুরুষ বলে। যেমন-আমরা সিনেমাটি দেখেছিলাম। আমি তো জীবন্ত প্রাণ, আমি এক অঙ্কুরিত বীজ। আমার বেলা যে যায় সাঁজবেলাতে। তুমি বা তোমরা জাতীয় যাবতীয় বিষয়গুলিকে মধ্যমপুরুষ বলে।যেমন:তোমায় দেখেছি শারদপ্রাতে,
৭)মধ্যমপুরুষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর:‘তুই’ কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োগ দেখাও। উত্তর>> ‘তুই’-বন্ধুত্বে, আদর অর্থে, স্নেহ বোঝাতে, তুচ্ছার্থে এবং অনাদর অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
প্রয়োগ—তুই এখন বাড়ি যা। তোদের এই কাজটা শিখতে হবে। তোর কলমটি আমাকে দে।
৮)প্রথমপুরুষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও ।
উত্তর: আমি তুমি ছাড়া যাবতীয় বিষয়গুলিকে প্রথম পুরুষ বলে।যেমন-তিনি যে কী এবং কী নয় এ কথা ঠিক কেউ জানে না। প্রথম পুরুষে দুটি রূপ—‘সে' এবং 'তিনি'।'সে’—যাকে তুমি' বা 'তুই' বলে অভিহিত করা হয়, অনুপস্থিতকালে তার উদ্দেশ্যে 'সে' ব্যবহার করা হয়। যেমন- সে কি এসেছিল? ‘তিনি’-যাকে 'আপনি' বলা হয় তার অনুপস্থিতকালে ‘তিনি’ ব্যবহৃত হয়। যেমন- তিনি একজন সিদ্ধপুরুষ।
৯)নির্দেশক সর্বনাম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে-সর্বনাম কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে নির্দেশ করে,তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন-ইনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রাণপুরুষ। ইনি, উনি, ইহা, উহা, ইহারা, এটা, এগুলি, ওগুলি ইত্যাদি থাকলে নির্দেশক সর্বনাম হয়।
১০)নিদের্শক সর্বনামের ক-টি ভাগ ও কী কী ?
উত্তর: নির্দেশক সর্বনামের দুটি ভাগ-
১)সামীপ্যবাচক সর্বনাম
২) দূরত্ববাচক সর্বনাম
১১)সামীপ্যবাচক সর্বনাম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর:যে-নির্দেশক সর্বনাম কাছের ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে তাকে সামীপ্যবাচক সর্বনাম বলে। যেমন-এ,এরা,এই, ইহারা, ইনি,একে,এটা ইত্যাদি।
১২)দূরত্ববাচক সর্বনাম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে-নির্দেশক সর্বনাম দূরের ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে তাকে দূরত্ববাচক সর্বনাম বলে। যেমন—ও, ওরা, উহারা, উহা, উনি, ওটা ইত্যাদি।
১৩)অনির্দেশক সর্বনাম কাকে বলে? উদাহরণ দাও। উত্তর:যে সর্বনাম কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের পরিবর্তে বসে,তাকে অনির্দেশক সর্বনাম বলে।যেমন-কেউ, কেউ,কেউ, কিছু,কিছু কিছু ইত্যাদি।
১৪)যৌগিক বা মিশ্র সর্বনাম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর:কয়েকটি অনির্দেশক সর্বনাম বিশেষণ বা অব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে-সর্বনাম পদ গঠন করে, তাকে যৌগিক বা মিশ্র সর্বনাম বলে।যেমন-আর কেউ,আর কিছু, অন্য কিছু,অপর কিছু, কেউ না কেউ, কিছু না কিছু, কোনো কিছু, কেউ বা, যে কেউ, যে সে, যা তা ইত্যাদি।
১৫)প্রশ্নবাচক সর্বনাম কাকে বলে? উদাহরণ দাও। উত্তর: যে-সর্বনাম পদে কোনো কিছু জানার ইচ্ছা প্রকাশ পায়,তাকে প্রশ্নসূচক সর্বনাম বলে।যেমন-কে, কি, কী, কোন্টা, কারা, কীসে, কে কে, কী কী, কোন্গুলি, কোনগুলো ইত্যাদি।
আরো পড়ুন:
ডাবের জলে উপকারিতা click Here
দুধের উপকারিতা click here
ওজোন গ্যাস click here
রক্ত সম্পর্কে আলোচনা click here
অস্থি বা হাড়ের কার্যাবলী Click here
থাইরয়েড গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here
প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here
একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here
বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here
গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here
মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here
মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here
ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here
0 Comments