বিশেষণ পদ:
সূচিপত্র:
১)বাংলা বিশেষণ পদ সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর এবং আলোচন
২)সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)
৩) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
*পদের দ্বিতীয ভাগ-
১)বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য,সর্বনাম,ক্রিয়া প্রভৃতি পদের অবস্থা, গুণ,ধর্ম,সংখ্যা,পরিমাণ প্রভৃতি বোঝায় তাকে বিশেষণ পদ বলে।যেমন-সত্যিই অপূর্ব দৃশ্য, বিনয়ী মানুষটি সকলের প্রিয়।
* বিশেষণ পদের শ্রেণিবিভাগ:
বিশেষণ পদকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়-
ক)নামবিশেষণ
খ) ক্রিয়াবিশেষণ
ক) নামবিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ নামপদের (বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম প্রভৃতি) অবস্থা,গুণ,ধর্ম,পরিমাণ ইত্যাদি বোঝায়, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
* নামবিশেষণকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়–
১.১) বিশেষ্যের বিশেষণ ১.২)সর্বনামের বিশেষণ ১.৩)বিশেষণের বিশেষণ ১.৪)অব্যয়ের বিশেষণ ১.৫) বিধেয় বিশেষণ।
১১)বিশেষ্যের বিশেষণ:যে বিশেষণ পদ বিশেষ্যের অবস্থা,গুণ,ধর্ম,পরিমাণ প্রভৃতি প্রকাশ করে,তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ বলে।যেমন:সাদা চুল,কাঁচা মাটি, সুন্দর ছবি।
* বিশেষ্যের বিশেষণকে সাতটি ভাগে ভাগ করা যায়-
১.১.১) গুণবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ বিশেষ্যের গুণকে নির্দিষ্ট করে ফুটিয়ে তোলে, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।যেমন: টাটকা খাবার,পরিশ্রমী ছেলে, অচেনা মানুষ,কৃপণ লোক।
১.১.২) অবস্থাবাচক বিশেষণ:যে-বিশেষণ বিশেষ্যের অবস্থার পরিচয় দেয় তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।যেমন-পয়সাওয়ালা মানুষ,গরিব শিশু,ঘুমন্ত বাচ্চা। ফুটন্ত জল।
১.১.৩)পরিমাণবাচক বা মাত্রাবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ বিশেষ্যের পরিমাণ নির্দেশ করে,তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন:ছয় কেজি বোঁদে। দ্বিগুণ শ্রম। অনেক দিন। দশ হাত কাপড়।
১.১.৪) উপাদানবাচক বিশেষণ:যে-বিশেষণ বিশেষ্যটি কোন উপাদানে গঠিত তা নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এঁটেল মাটি। লোহার চেয়ার। কাগুজে ফুল। মেটে রাস্তা।
১.১.৫) সংজ্ঞাবাচক বিশেষণ:সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের পরে তদ্ধিত প্রত্যয় যোগ করে গঠিত হয় সংজ্ঞাবাচক বিশেষণ পদ। যেমন:মোগলাই পদ। ঢাকাই শাড়ি। কাশ্মীরি জাজিম। বেনারসি পান।
১.১.৬) সংখ্যাবাচক বিশেষণ:যে-বিশেষণের সাহায্যে বিশেষ্যের সংখ্যা বোঝানো হয়, তাকে সংখ্যাবাচক বিশেষণ বলে।যেমন-বারো মাস,পাঁচ ছেলে,সাত দিন, আট ঘণ্টা।
১.১.৭)পূরণবাচক বিশেষণ:যে বিশেষণ পদ বিশেষ্যের ক্রম বা পর্যায়ক্রমিক অবস্থানকে প্রকাশ করে, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।যেমন: প্রথম জেনে রাখো পুত্র, একবিংশ শতক,নবম শ্রেণি,পঞ্চম বাহিনী।
*সর্বনামের বিশেষণ:র্যে-বিশেষণ পদ সর্বনামের অবস্থা,গুণ,ধর্ম,পরিমাণ প্রভৃতি প্রকাশ করে,তাকে সর্বনামের বিশেষণ বলে।যেমন:নিষ্ঠুর আমি,পাষাণ সে।
১)বিশেষণের বিশেষণ:যে-বিশেষণ পদ অন্য বিশেষণ পদের অবস্থা, গুণ, ধর্ম, পরিমাণ প্রভৃতি বোঝায়, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বলে। যেমন :ধবধবে সাদা,খুব জোরালো ঠান্ডা, আশ্চর্য ধূর্ত লোক।
২) অব্যয়ের বিশেষণ:যে-বিশেষণ পদ অব্যয় পদকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন- একটু পরেই বেরোব, ছাদের ঠিক ওপরেই ঘুড়ি।
৩) বিধেয় বিশেষণ:বাক্যের বিধেয় অংশে বসে যে বিশেষণ বাক্যের উদ্দেশ্য অংশের কোনো বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে তাকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন-আঁধারি হলো মাদার গাছের তলা। হরিণের চোখ দুটি সুন্দর, মানুষ তখন যাযাবর।
*ক্রিয়াবিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো ক্রিয়া কী অবস্থায়,কোথায়,কখন,কীভাবে সম্পন্ন হয় তা প্রকাশ করে অর্থাৎ ক্রিয়ার বিশেষ অবস্থার পরিচয় দেয়, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।যেমন-চটপট করো,জলদি চলো, দ্রুত যাও।
* প্রয়োগের বৈচিত্র্য অনুসারে ক্রিয়ার বিশেষণ বা ক্রিয়াবিশেষণ তিনপ্রকার-
১) অবস্থাবাচক :যেমন- বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর,চমৎকার লাগছে কিন্তু।
২)কালবাচক:যেমন-বিদ্যালয়ে পৌঁছোনোমাত্র ঘণ্টা পড়ল, সর্বদা সত্যি কথা বোলো।
৩) স্থানবাচক:যেমন-ছাগলগুলো ইতস্তত চলে বেড়ায়। পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।
* ক্রিয়াবিশেষণের বা ক্রিয়াবিশেষণের, গঠনবৈচিত্র্য
• বিভক্তিহীন পদ সহযোগে বিভক্তিযুক্ত পদ সহযোগে
শীঘ্র বেরোও। চটপট করো। ও সহজে বিবাদের মীমাংসা করল। লাটাইটা সোজাভাবে ধরো।
অসমাপিকা ক্রিয়া সহযোগে- মন দিয়ে সবাই কথাটা শুনে রাখো। যা বলবি চেঁচিয়ে বল।
• একই পদের পুনরাবৃত্তি সহযোগে ও ঘুমের ঘোরে থেকে থেকে কিছু বলে উঠছে। তুমি ধরে ধরে লিখলে হাতের লেখা স্পষ্ট হয়।
• প্রত্যয়যুক্ত পদ সহযোগে-একত্র এগিয়ে যাও। ক্রমশ এগোতে হবে।
• অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক পদ সহযোগে-ছেলেটি হনহনিয়ে হেঁটে গেল।আগুন লকলকিয়ে জ্বলে।বাংলা ভাষায় বিশেষণ পদের প্রয়োগ অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। একটিমাত্র পদ থেকে একাধিক পদ বা বাক্যাংশ, আবার ধ্বন্যাত্মক শব্দ, শব্দদ্বৈত কিংবা প্রত্যয়াত্ত শব্দ-সবই বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ সমস্তই বাক্যে প্রয়োগের রকমফের। তাই প্রয়োগবৈচিত্র্যের নিরিখেও বিশেষণ পদের বিভিন্ন প্রকারভেদ আছে।
* প্রয়োগ অনুসারে বিশেষণ পদের শ্রেণিবিভাগ:
১)একপদী বিশেষণ:যে বিশেষণ পদ একটিই পদের সাহায্যে গঠিত হয়, তাকে একপদী বিশেষণ পদ বলে। যেমন:রঙিন চুড়ি,নিস্তব্ধ রাত্রি,ছেঁড়া জামা।
২) বহুপদী বিশেষণ:দুই বা দুইয়ের বেশি পদ সমাসবদ্ধ হয়ে বিশেষ্য পদের আগে বসে বিশেষণের কাজ করলে তাকে বহুপদী বিশেষণ পদ বলে।যেমন: প্রাণ কেড়ে নেওয়া হাসি,পিছনে ফেলে আসা দিন।
৩)প্রশ্নবাচক বিশেষণ:কেন,কী,কত,কেমন প্রভৃতি, প্রশ্নবাচক পদ যখন বাক্যে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়,তখন তাদের প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: ‘কেমন পুতুল বলো দেখি তুমি? কীসের শব্দে গা ছমছম করে?
৪)সর্বনামীয় বিশেষণ: সর্বনাম পদকে বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করা হলে তাকে সর্বনামীয় বিশেষণ বলে। যেমন: যত মত তত পথ,এত ধার,কোনো কোনো ছাত্র কথায় কান দেয় না।
৫) বাক্যাশ্রয়ী বিশেষণ:একটি বাক্যখণ্ড বা বাক্যাংশ যখন সেই বাক্যস্থিত কোনো পদকে বিশেষিত করে তখন তাকে বাক্যাশ্রয়ী বিশেষণ বলে।যেমন: আমাদের সব পেয়েছির দেশ শান্তিনিকেতন সবারই প্রিয়।কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে অমলা সকলের মন জয় করেছে।
৬) তদ্ধিতান্ত বিশেষণ: বিশেষ্য পদের পরে তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত বিশেষণ পদকে তদ্ধিতান্ত বিশেষণ বলে।যেমন:দৈনন্দিন জীবন, বৈঠকী মেজাজ,জলীয় বাষ্প।
৭)কৃদন্ত বিশেষণ:কৃৎ প্রত্যয়যোগে বিশেষণ পদ গঠন করা হলে তাকে কৃদন্ত বিশেষণ বলে। যেমন:চলন্ত গাড়ি,অচেনা মানুষ। মুগ্ধ দৃষ্টি, জ্যান্ত স্মৃতি।(এদের ক্রিয়াজাত বিশেষণও বলা হয়।)
৮)অব্যয়জাত বিশেষণ:কোনো অব্যয় বা অব্যয়জাত বিশেষণ যখন নিজেই অন্য কোনো পদকে বিশেষিত করে, তখন তাকে অব্যয়জাত বিশেষণ বলে। যেমন: ‘আর (গত অর্থে) বছরে খুব ভালো আম হয়েছিল। ‘আচ্ছা মুশকিলে ফেললে দেখছি।
৯) শব্দদ্বৈতাশ্রয়ী বিশেষণ: বাক্যের অন্তর্গত কোনো পদকে যখন কোনো শব্দদ্বৈত বিশেষিত করে, তখন তাকে শব্দদ্বৈতাশ্রয়ী বিশেষণ বলে। যেমন:দলে দলে মানুষ,দারুণ দারুণ খাবার।
১০) ধ্বন্যাত্মক বিশেষণ: প্রত্যয়ান্ত ধ্বন্যাত্মক শব্দ বাক্যস্থিত কোনো পদকে যখন বিশেষিত করে, তখন তাকে ধ্বন্যাত্মক বিশেষণ বলে।যেমন:ফুরফুরে হাওয়া, টনটনে জ্ঞান, কড়কড়ে নোট,
১১)সম্বন্ধ বিশেষণ:‘র,এর-বিভক্তিযুক্ত সম্বন্ধপদ যখন বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে সম্বন্ধ বিশেষণ বলে।যেমন:'গরমের ছুটি। গোলাপের গন্ধ।’
১২) পদান্তরিত বিশেষণ:অন্য পদ থেকে বিশেষণ পদে রূপান্তরিত পদ যখন কোনো পদকে বিশেষিত করে, তখন তাকে পদান্তরিত বিশেষণ বলে। যেমন : শারদীয় উৎসব। ঘরোয়া খাবার।
২)সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)
১)যে-পদ বিশেষ্য বা অন্য কোনো পদের গুণ, অবস্থা,প্রকৃতি,সংখ্যা,পরিমাণ প্রভৃতি বোঝায় তাকে বলে-
ক)বিশেষণ পদ
খ) বিশেষ্য পদ
গ) সর্বনাম পদ
ঘ) অব্যয় পদ
উত্তর:(ক) বিশেষ সম্পদ
২)বিশেষণ-
ক) বিশেষ্যের আগে বসে
খ) সর্বনামের আগে বসে
গ) অব্যয়ের আগে বসে
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর:(ক) বিশেষ্যের আগে
৩)প্রাচীন সভ্যতা'এখানে প্রাচীন-
ক) সর্বনামের বিশেষণ
খ) সংখ্যা বিশেষণ
গ) ক্রিয়াবিশেষণ
ঘ) বিশেষ্যের বিশেষণ
উত্তর:(ঘ) বিশেষ্যের বিশেষণ
৪) নাম বিশেষণ-
ক) দুপ্রকার
খ) তিনপ্রকার
গ) চারপ্রকার
ঘ) পাঁচপ্রকার
উত্তর:(ঘ) পাঁচপ্রকার
৫)টাটকা খবর'-এর 'টাটকা' একটি-
ক) পরিমাণবাচক বিশেষণ
খ) গুণবাচক বিশেষণ
গ) উপাদানবাচক বিশেষণ
ঘ) অবস্থানবাচক বিশেষণ
উত্তর:(খ) গুণবাচক বিশেষণ
৬) বিশেষ্যের মাত্রা নির্দেশকারী বিশেষণ পদটি হল- ক) পরিমাণবাচক বিশেষণ
খ) গুণবাচক বিশেষণ
গ) উপাদানবাচক বিশেষণ
ঘ) অবস্থানবাচক বিশেষণ
উত্তর:(ক) পরিমাণবাচক বিশেষণ
৭) কোটি সর্বনামীয় বিশেষণ-
ক) শীতল জল
খ) মদীয় ভবন
গ) তুলতুলে নরম
ঘ) নেহাত ছোটো
উত্তর:(খ) মোদীয় ভবন
৮) বারো মাসে তেরো পার্বণ-
ক) সর্বনামীয় বিশেষণ
খ) বিশেষ্যের বিশেষণ
গ) গুণবাচক বিশেষণ
ঘ) সংখ্যাবাচক বিশেষণ
উত্তর:(ঘ) সংখ্যাবাচক বিশেষণ
৯) 'চৌঠা আশ্বিনে আমি কলকাতা থেকে রওনা হলাম-রেখাঙ্কিত পদটি কোন ধরনের বিশেষণ?
ক) সম্বন্ধ বিশেষণ
খ) বিশেষণের বিশেষণ
গ) সর্বনামের বিশেষণ
ঘ) পূরণবাচক বিশেষণ
উত্তর:(ঘ) পূরণবাচক বিশেষণ
১০)সাধু বাংলায় পূরণবাচক বা ক্রমবাচক বিশেষণ
ক) বাংলা থেকে আগত
খ) সংস্কৃত থেকে আগত
গ) হিন্দি থেকে আগত
ঘ) ইংরেজি থেকে আগত
উত্তর:(খ) সংস্কৃত থেকে আগত
১১)এদের মধ্যে কোনটি সম্বন্ধ বিশেষণ-
ক) তাড়াতাড়ি শেষ করো
খ) পঁচিশে বৈশাখ
গ) নানা রঙের দিন
ঘ) ধীরে ধীরে চলো
উত্তর:(গ) নানা রঙের দিন
১২) চুপি চুপি সরে পড়ল' এটি-
ক) পদান্তরিত বিশেষণ
খ) বাক্যাশ্রয়ী বিশেষণ
গ) ধ্বন্যাত্মক বিশেষণ
ঘ) শব্দদ্বৈতাশ্রয়ী বিশেষণ
উত্তর:(ঘ) শব্দদ্বৈতাশ্রয়ী বিশেষণ
১৩)কোটি পদান্তরিত বিশেষণের উদাহরণ নয়-
ক) জলীয় বাষ্প
খ) বৈঠকি মেজাজ
গ) টিপটিপ বৃষ্টি
ঘ) দৈনন্দিন জীবন
উত্তর:(গ) টিপটিপ বৃষ্টি
১৪)যে বিশেষণ বাক্যের অন্য কোনো বিশেষণের অবস্থা,প্রকৃতি প্রভৃতি নির্দেশ করে তাকে বলে-
ক) ক্রমবাচক বিশেষণ
খ) বিশেষণের বিশেষণ
গ) বিশেষ্যের বিশেষণ
ঘ) সম্বন্ধ বিশেষণ
উত্তর:(খ) বিশেষণের বিশেষণ
১৫) উপাদানবাচক বিশেষণের একটি উদাহরণ হল-
ক) মূর্খ তারা
খ) দৈনিক সংবাদপত্র
গ) গনগনে আঁচ
ঘ) মেটে কলসি
উত্তর:(ঘ) মেটে কলসি
১৬) অজ্ঞ যারা, মূর্খ তারা' এটি-
ক) সর্বনামের বিশেষণ
খ) বিশেষণের বিশেষণ
গ) বিশেষ্যের বিশেষণ
ঘ) পূরণবাচক বিশেষণ
উত্তর:(ক) সর্বনামের বিশেষণ
১৭) অতিশয় চালাক লোক। রেখাঙ্কিত পদটি-
ক) বিশেষণের বিশেষণ
খ) ক্রিয়াবিশেষণ
গ) বিশেষ্যের বিশেষণ
ঘ) সর্বনামীয় বিশেষণ
উত্তর:(ক) বিশেষণের বিশেষণ
১৮)কৃৎ ও তদ্ধিত প্রত্যয় নিষ্পন্ন পদ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়-
ক)একপদী বিশেষণে
খ) বহুপদী বিশেষণে
গ) বাক্যাশ্রয়ী বিশেষণে
ঘ) প্রশ্নবাচক বিশেষণে
উত্তর:(ক) একপদী বিশেষণে
১৯) বিশেষ্যের বিশেষণের একটি উদাহরণ হল-
ক) কুচকুচে কালো
খ) পরাধীন দেশ
গ) রূপের মেয়ে
ঘ) খাগের কলম
উত্তর:(খ) পরাধীন দেশ
২০) বস্তু বিশেষণ ও ব্যক্তি বিশেষ্যকে বিশেষিত করে-
ক) ক্রিয়াবিশেষণ
খ) নাম বিশেষণ
গ) সম্বন্ধ বিশেষণ
ঘ) বিশেষণের বিশেষণ
উত্তর:(গ) সম্বন্ধ বিশেষণ
৩) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
১)বিশেষণ পদ কাকে বলে?
উত্তর: যে-পদ বিশেষ্য, বিশেষণ, অব্যয়, সর্বনাম, ক্রিয়া ইত্যাদি পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, পরিমাণ, সংখ্যা ইত্যাদি নির্দেশ করে। তাকে বিশেষণ পদ বলে।যেমন-অনেক,ছোটো, জটিল, অল্প, ভালো ইত্যাদি।
২)বিশেষ্যের বিশেষণ পদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর:যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্যের দোষ, গুণ, অবস্থা বা প্রকৃতি, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষ্যের বিশেষণ পদ বলে।যেমন-নীল আকাশ, কোমল শিশু ইত্যাদি।
৩) বিশেষণের বিশেষণ পদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: বিশেষণ শব্দের অর্থের তীব্রতা, বিস্তার, আধিক্য, পুনরাবৃত্তি ইত্যাদি বোঝানোর জন্য বিশেষণের আগে যে-পদ ব্যবহার করা হয়, সেগুলিকে বিশেষণের বিশেষণ পদ বলে।যেমন-গাঢ় লাল, তুলতুলে নরম ইত্যাদি।
৪)সর্বনামের বিশেষণ পদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে-বিশেষণ পদ কোনো সর্বনাম পদের দোষ, গুণ,অবস্থা বা প্রকৃতি, সংখ্যা,পরিমাণ বা বর্ণ ইত্যাদি বোঝায় তাকে সর্বনামের বিশেষণ পদ বলে। যেমন—মূর্খ তুই কিছু জানিস? অনভিজ্ঞ ওই লোকটির দ্বারা কিছু হবে না।
৫)অব্যয়ের বিশেষণ পদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে-বিশেষণ পদ কোনো অব্যয়ের দোষ, গুণ, অবস্থা বা প্রকৃতি ইত্যাদি বোঝায় তাকে অব্যয়ের বিশেষণ পদ বলে।যেমন-আচ্ছা বিপদ তো, এখন কী করি? বেশ, এটাই হবে ইত্যাদি।
৬) ক্রিয়ার বিশেষণ পদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও। উত্তর: যে বিশেষণ পদ কোনো বাক্যের ক্রিয়ার সময়, স্থান, প্রকৃতি অর্থাৎ দ্রুততা, ব্যাপ্তি, তীব্রতা ইত্যাদি বোঝায় তাকে ক্রিয়ার বিশেষণ পদ বলে। যেমন—সচকিতে বীরবর দেখিলা সম্মুখে। লোকটি চেঁচিয়ে বলল ইত্যাদি।
৭)বিশেষণ পদ অন্য পদের আগে না পরে বসে?
উত্তর: বিশেষণ পদ অন্য পদের আগে বসে।
৮) সংখ্যা বিশেষণ পদ বলতে কী বোঝো?
উত্তর:যে-বিশেষণ পদ দ্বারা বিশেষ্য পদের কোনো সংখ্যা বা পরিমাপ নির্দেশ করা হয়, তাকে সংখ্যা বিশেষণ পদ বলে। যেমন-এক, দুই শত, সহজ ইত্যাদি।
৯)পূরণবাচক বিশেষণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও। উত্তর:যে-বিশেষণ পদ দ্বারা বিশেষ্য পদের কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা ক্রম বোঝায় তাকে পূরণবাচক বা ক্রমবাচক বিশেষণ পদ বলে। যেমন- মেয়েটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান পেয়েছে। বাইশে শ্রাবণ।
১০) সম্বন্ধ বিশেষণ বলতে কী বোঝ?
উত্তর:যে বিশেষণ পদ কোনো সম্বন্ধ পদের (র, এর, কার) যোগে গঠিত হয়,তাকে সম্বন্ধ বিশেষণ হিসেবে নামকরণ করা যেতে পারে।এই সম্বন্ধ বিশেষণ পদ সাধারণত বস্তু বিশেষ্য ও ব্যক্তি-বিশেষ্যকে বিশেষিত করে থাকে।যেমন-গোলাপজলের গন্ধ আমার ভারি ভালো লাগে। গরমের ছুটিতে বেড়াতে যাব।
১১)একপদী বিশেষণ বলতে কী বোঝ?
উত্তর:যে বিশেষণ একটিমাত্র শব্দ দিয়ে তৈরি এবং যখন একটিমাত্র পদ বাক্যে বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয় তাকে একপদী বিশেষণ বলে চিহ্নিত করা যায়। এ ধরনের বিশেষণে একটির অধিক শব্দ থাকে না।যেমন-বড়ো গাছ,মন্দ লোক,চলতি সন।
১২) বহুপদী বিশেষণ কাকে বলে?
উত্তর:যে বিশেষণ পদ দুটি পদ বা বহু পদ দিয়ে গঠিত হয়ে বিশেষ্যের আগে বসে বিশেষণের কাজ করে তাকে বহুপদী বিশেষণ বলা হয়। যেমন-রাত জাগা মানুষের দল বাড়ি ফেরে। পিছন ফেলে আসা দিনগুলির জন্য মন কাঁদে।
আরো পড়ুন:
ডাবের জলে উপকারিতা click Here
দুধের উপকারিতা click here
ওজোন গ্যাস click here
রক্ত সম্পর্কে আলোচনা click here
অস্থি বা হাড়ের কার্যাবলী Click here
থাইরয়েড গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here
প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here
একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here
বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here
গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here
মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here
মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here
ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here
0 Comments