বাংলা শব্দ ভান্ডার কয়টি ও কি কি।শব্দ ভান্ডার বলতে কী বোঝো।

 

বাংলা শব্দ ভান্ডার কয়টি ও কি কি।শব্দ ভান্ডার বলতে কী বোঝো।



বাংলা শব্দভাণ্ডার


সূচিপত্র: 

১) বাংলা শব্দভাণ্ডার সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর এবং আলোচনা।

২) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)

৩) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)


১) বাংলা শব্দভাণ্ডার:

বিভিন্ন উৎস থেকে নানারকম শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নেওয়ার বিষয়টিকে বাংলা শব্দভাণ্ডার বলা হয়।যে ভাষার শব্দভাণ্ডার যত সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ হয়, সেই ভাষা তত ঐশ্বর্যশালী বলে মনে করা হয়। তাই প্রতিটি ভাষার শব্দভাণ্ডার সেই ভাষার নিরিখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো ভাষার এই সুবিশাল শব্দ উপাদানের মধ্যে জাতির বিভিন্ন ভাষাগত বৈশিষ্ট্য এবং ভাষিক ইতিহাসের একটা প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায়।পৃথিবীর অনেক আধুনিক ভাষার তুলনায় বাংলা ভাষা বয়সে অপেক্ষাকৃত নবীন। তবে এই হাজার বছরের সময়কালে বাংলা ভাষা এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডারের অধিকারী হয়ে উঠেছে।


*বাংলা শব্দভাণ্ডারের শ্রেণিবিভাগ:

বাংলা শব্দভান্ডার প্রধানত তিনভাগে বিভক্ত-

ক) মৌলিক বা নিজস্বশব্দ

খ) আগন্তুক বা কৃতঋণশব্দ

গ) নবগঠিত শব্দ।


ক) মৌলিক শব্দ:

যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে অপরিবর্তিত কিংবা পরিবর্তিত ভাবে বাংলা ভাষায় এসেছে সেগুলিকে মৌলিক শব্দ বলে।

মৌলিক শব্দগুলি তিনটি ভাগে বিভক্ত-

i)তৎসম শব্দ

ii) অর্ধতৎসম শব্দ

iii) তদ্ভব শব্দ।


খ) তৎসম শব্দ:

যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই অর্থাৎ সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত ভাবে বাংলা ভাষায় এসেছে,তাদের তৎসম শব্দ বলে।


 'তৎসম' শব্দটির অর্থ হল 'তৎ' অর্থাৎ তার বা সংস্কৃতের এবং সম' অর্থে সমান।কিন্তু এখানে  তৎসম শব্দের উচ্চারণ সংস্কৃতের মতো হয় না। তৎসম শব্দকে কখনো কখনো সিদ্ধ তৎসম এবং অসিদ্ধ তৎসম-এই দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।

 তৎসম শব্দের উদাহরণ-সূর্য, চন্দ্র,জ্যোৎস্না, বজ্র, পুত্র, অশ্ব, বন্যা, বর্ষা, পাত্র, সিংহ,শক্তি, ডিম্ব, বন্ধু, কন্যা, কৃষ্ণ প্রভৃতি।


গ) অর্ধতৎসম শব্দ:

যেসব সংস্কৃত শব্দ প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে নাগিয়ে লোকমুখে বাংলা উচ্চারণের সময় কিঞ্চিৎ পরিবর্তন ও বিকৃতি লাভ করেছে সেগুলিকে অর্ধতৎসম শব্দ বলে।

যেমন:ক্ষুধা > খিদে,নিমন্ত্রণ > নেমন্তন্ন,সূর্য > সুয্যি

গৃহিণী > গিন্নি,বৈদ্য > বন্দি,জ্যোৎস্না > জোছনা

রাত্রি > রাত্তির,ঘৃণা > ঘেন্না,গ্রাম > গেরাম

প্রণাম > পেন্নাম,শ্রী > ছিরি

বিশ্রী > বিচ্ছিরি,প্রদীপ > পিদিম,কুৎসিত > কুচ্ছিত।


ঘ)তদ্ভব শব্দ:

যেসব সংস্কৃত শব্দ পরিবর্তিত হয়ে প্রাকৃত এবং অপভ্রংশ স্তরের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক বিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এসেছে, তাদের তদ্ভব শব্দ বলে।

তদ্ভব-শব্দটির অর্থ হল সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত বা জাত। বাংলা ভাষায় প্রচুর তদ্ভব শব্দ আছে। এর বিবর্তনের রূপরেখাটি স্পষ্ট করার জন্য সংস্কৃত > প্রাকৃত > বাংলা–এভাবে দেখানো হয়।

যেমন:সংস্কৃত > প্রাকৃত > বাংলা,কার্য > কব্জ > কাজ

মৃত্তিকা > মট্টিআ > মাটি,সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ কাষ্ঠ > কাঠ > কাঠ,মৎস্য > মচ্ছ > মাছ

সর্প > সল্প > সাপ,চন্দ্ৰ > চান্দ > চাঁদ,বধু > বহু > বউ

কৃষ্ণ > কন্হ > কানু,হস্ত > হয় > হাত,গাত্র > গাঅ > গা।


ঙ) আগন্তুক শব্দ:

সংস্কৃত ভাষা বাদে অন্যান্য দেশি এবং বিদেশের বিভিন্ন ভাষা থেকে যেসব শব্দ সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে,সেই শব্দগুলিকে আগন্তুক বা কৃতঋণ শব্দ বলে।


*এই আগন্তুক শব্দ তিনপ্রকার-

i) দেশি শব্দ

ii) প্রাদেশিক শব্দ

iii) বিদেশি শব্দ।


i) দেশি শব্দ:

বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলি এদেশের প্রাচীনতর অধিবাসী অস্ট্রিক কিংবা দ্রাবিড় [সাঁওতাল,মুন্ডা,কোল,শবর,তামিল,তেলুগু]গোষ্ঠীর ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে, এদেরকেই দেশি শব্দ বলে।

যেমন:টাক, কুড়ি, খোকা, চাঙ্গা, ঢিল, তেঁতুল, দরমা, মাগুর, ঢোল, ছানা, ঢেউ, মুড়ি, পাঁঠা, ডাব, ডোবা, কুলো, ঝাঁটা, ঢেঁকি, কাতলা, খুকি, উচ্ছে, কুকুর, থোড়, পেট, বাদুড়, টঙ্গ, পিলে (দ্রাবিড়), ঢ্যাঙা, ধামা, ঝিঙে, ঢকঢক, গাড়ি, খড়, ঝোল, ঢ্যাঁড়শ, ঘোড়া, টুপি, টোপর, টাঙ্গি, ডাগর, চিংড়ি, ঝাঁকা প্রভৃতি।


ii) প্রাদেশিক শব্দ:

ভারতের অন্যান্য প্রদেশের বিভিন্ন ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় এসেছে,তাদের প্রাদেশিক বা প্রতিবেশী শব্দ বলে।যেমন:

**হিন্দি শব্দ:

খানা,কচুরি, বন্ধ, পলু, ডেরা, তাঁবু, গুন্ডা, জওয়ান, চালু, লোটা, ডেরা, চাহিদা, মজদুর, খানা, বিমা, ঝান্ডা, চড়াই, ফালতু, দাঙ্গা, বাত, বেলচা, খাট্টা, টিন, চামেলি।

**মারাঠি শব্দ:বর্গী, চৌথ, চামচা, পেশোয়া,পেয়ারা।

 ** পাঞ্জাবি শব্দ:ভাঙড়া।

 ** তেলুগু শব্দ: প্যান্ডাল, পিলে।

 **তামিল শব্দ: নারকেল, চুরুট, পিলে। 

**গুজরাটি শব্দ:হরতাল,গরবা, তকলি,খাদি, চরকা।


iii) বিদেশি শব্দ:

যেসব শব্দ ভারতের বাইরের বিভিন্ন ভাষা অর্থাৎ আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পোর্তুগিজ প্রভৃতি বিদেশি ভাষা থেকে নানান সূত্রে বাংলা ভাষায় এসেছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে বিদেশি শব্দ বলে। যেমন:চশমা, স্কুল, চেয়ার, আইন, নকল,লুচি প্রভৃতি।


**উৎস অনুসারে বিভিন্ন বিদেশি শব্দের উদাহরণ-


* আরবি শব্দ:

আদাব, আক্কেল, আইন, তামাশা, তাজ্জব, নকল, দুনিয়া, এলাকা, কাবাব, দেমাক, জাহাজ, সফর, আতর, আয়েশ, সাহেব, খবর, জেলা, বদল, খেতাব, সহিস, খুন, জবাব, বিদায়, জলদি, বকেয়া, কেতাব, প্রভৃতি।


* ফারসি শব্দ:

আয়না, আরাম, কামান, খরচ, চশমা, গোলাপ, সেতার, আন্দাজ, কারসাজি, চালাক, ওস্তাদ, শোরগোল, সাল, সওদা, খানসি, পেয়াদা, পশম, নমুনা, খোদা, সেরা, হাজার প্রভৃতি।


 **ইংরেজি শব্দ:

অফিস, পেন, চেয়ার, টেবিল, পেনসিল, ট্রেন, বাস, ট্রাম, টিকিট, রেল, ফ্যান, লাইট, মোটর, পাইপ, বিস্কুট, কেক, পকেট, পাউডার, চেন, ক্লাস, হুক, ফ্রেম, বল, ব্যাট, সিগন্যাল, রাবিশ, কর্ক, কেটলি, ব্ল্যাকবোর্ড, টেলিফোন, অর্ডার, নম্বর, সিনেমা প্রভৃতি।


**পোর্তুগিজ শব্দ:

বারান্দা, বাসন, বোতাম, বোমা, সাবান, তামাক, রেস্ত, পিস্তল, চাবি, আতা, বালতি, কামরা, কাবার, সায়া, নিলাম, মিস্ত্রি, আচার, আনারস, বেহালা, পিপে, ফিতা, পেরেক, আলকাতরা, আলপিন, আলমারি, ইস্পাত প্রভৃতি।


* ফরাসি শব্দ:

শেমিজ, কার্তুজ, কুপন, রেস্তোরাঁ, আঁতাত, কাফে, ব্যালে। * চিনা শব্দ : চা, তুফান, চিনি, কাগজ, লিচু।


 **রুশ শব্দ: বলশেভিক, সোভিয়েত, স্পুটনিক, ভদকা, কমরেড।


**ইতালীয় শব্দ: ম্যাজেন্টা, ম্যালেরিয়া।

**জার্মান শব্দ: নাৎসি, কিন্ডারগার্টেন।

**ওলন্দাজ শব্দ: হরতন, রুইতন, তুরুপ।

**গ্রিক শব্দ:

সুড়ঙ্গ, দাম, কোণ, ময়দা। * জাপানি শব্দ : রিকশা, সুনামি, হাসনুহানা, টাইফুন, সুমো।


**বর্মি শব্দ: লুঙ্গি, ঘুগনি, ঠোঙা।

**তুর্কি শব্দ: কাঁচি, উজবুক, আলখাল্লা।

**স্পেনীয় শব্দ:ডেঙ্গু, কুইনাইন, চকোলেট।


চ)নবগঠিত শব্দ:

বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ তৈরি হয়েছে যা একাধিক ভাষার সংমিশ্রণে গঠিত বা অন্য ভাষা থেকে অনূদিত বা খণ্ডিত,এই সমস্ত শব্দকে নবগঠিত শব্দ বলা হয়।

নবগঠিত শব্দকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়-

i) সংকর বা মিশ্র শব্দ

ii) অনূদিত শব্দ

iii) জোড়কলম শব্দ

iv) মুণ্ডমাল শব্দ

v)খণ্ডিত শব্দ।


ছ) সংকর বা মিশ্র শব্দ:

কোনো একটি ভাষার শব্দের সঙ্গে আর একটি ভাষার শব্দ, প্রত্যয় কিংবা উপসর্গ যুক্ত হয়ে যে নতুন জোড় শব্দটি তৈরি করে, তাকে সংকর বা মিশ্র শব্দ বলে।যেমন:

*হেড (ইংরেজি/বিদেশি) + পণ্ডিত (তৎসম) = হেডপণ্ডিত, মাস্টার (ইংরেজি/বিদেশি) + মশাই (তদ্ভব) = মাস্টারমশাই।

ক্লাস (ইংরেজি/বিদেশি) + ঘর (বাংলা) = ক্লাসঘর।

শ্বেত (তৎসম) +পাথর (তদ্ভব) = শ্বেতপাথর।

 চক্র (তৎসম) +রেল (ইংরেজি/বিদেশি) = চক্ররেল।হাত (তদ্ভব)+ সাফাই (ফারসি/বিদেশি)=হাতসাফাই, ডাক্তার (ইংরেজি/বিদেশি) + খানা (বিদেশি প্রত্যয়) = ডাক্তারখানা।


জ) অনূদিত শব্দ:

ইংরেজি প্রভৃতি ভাষা থেকে ভাষান্তরিত শব্দকে অনূদিত শব্দ বলা হয়।

যেমন: ইনটারনেট > অন্তর্জাল, গ্লোবাল ওয়ার্মিং > বিশ্ব উয়ায়ন, টিয়ার গ্যাস > কাঁদানে গ্যাস, প্রভৃতি।


ঝ)জোড়কলম শব্দ:

কোনো শব্দের সঙ্গে অন্য একটি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করলে তাকে জোড়কলম শব্দ বলে।

যেমন:ধোঁয়া + কুয়াশা = ধোঁয়াশা, নিশ্চল + চুপ = নিশ্চুপ প্রভৃতি।


ঞ) মুণ্ডমাল শব্দ:

কোনো একটি শব্দগুচ্ছের প্রত্যেকটি শব্দের প্রথম বর্ণগুলির সমাবেশ ঘটিয়ে যখন একটি শব্দ তৈরি হয়, তাকে মুণ্ডমাল শব্দ বলে।যেমন:ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট= ডি এম,ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার = বিডিও প্রভৃতি।


২) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো।(MCQ)

১) ভাষার মুখ্য উপাদান-

ক) বর্ণ 

খ) বাক্য 

গ) অর্থ 

ঘ) শব্দ 

উত্তর:(ঘ) শব্দ 


২) মৌলিক শব্দগুলিকে বিভক্ত করা যায়-

ক) দুটি ভাগে 

খ) তিনটি ভাগে 

গ) পাঁচটি ভাগে 

ঘ) কোনটিই নয়

উত্তর:(খ) তিনটি ভাগে 


৩)তৎসম' মানে-

ক) বাংলার সমান

খ) ইংরেজির সমান

গ) তুর্কির সমান

ঘ) সংস্কৃতের সমান

উত্তর:(ঘ) সংস্কৃতের সমান 


৪) ঠেলাগাড়ি' শব্দটি হল—

ক) মিশ্র শব্দ

খ) অনূদিত শব্দ

গ) আগন্তুক শব্দ

ঘ) তদ্ভব শব্দ

উত্তর:(ক) মিশ্র শব্দ

 

৫) সুনামি' শব্দটি কী ধরনের শব্দ?

 ক) ইংরেজি শব্দ

খ) জাপানি শব্দ

গ) পোর্তুগিজ শব্দ

ঘ) ফরাসি শব্দ

উত্তর:(খ) জাপানি শব্দ 


৬) গাড়ি' শব্দটি-

ক) দেশি শব্দ

খ) বিদেশি শব্দ

গ) ইংরেজি শব্দ

ঘ) পোর্তুগিজ শব্দ

উত্তর:(ক) দেশি শব্দ 


৭) আগন্তুক শব্দকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়-

ক) একটি 

খ) দুটি 

গ) তিনটি 

ঘ) চারটি 

উত্তর:(ক) দুটি 


৮) বাংলায় এমন কিছু শব্দ আছে,যেগুলি একাধিক ভাষার শব্দের সংমিশ্রনে গঠিত, সেগুলি হল-

ক) আগন্তুক শব্দ 

খ) তদ্ভব শব্দ 

গ)  তৎসম শব্দ 

ঘ) নবগঠিত শব্দ 

উত্তর:(ঘ) নবগঠিত শব্দ


৯) ফোন- এই শব্দটি কি ধরনের শব্দের উদাহরণ-

ক) তদ্ভব শব্দের 

খ) দেশি শব্দের 

গ) খন্ডিত শব্দের 

ঘ) অর্ধ তৎসম শব্দের 

উত্তর:(গ) খন্ডিত শব্দের 


১০) মিশ্র শব্দ-কোন প্রকার শব্দভাণ্ডারের অন্তর্গত-

ক) নবগঠিত 

খ) মৌলিক 

গ) কৃতঋণ 

ঘ) আগন্তুক 

উত্তর:(ক) নবগঠি


৩) অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)

১) বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে উৎসের বিচারে

ক-টি ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর: বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে উৎসের বিচারে আমরা | প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করতে পারি- (i) মৌলিক বা নিজস্ব, (ii) আগন্তুক বা কৃতঋণ। এ ছাড়া ভাষাতাত্ত্বিকেরা নবগঠিত শব্দ। বলে আর একটি বিভাগের কথা বলেন।


২)মৌলিক বা নিজস্ব শব্দ কাকে বলে?

উত্তর>> যেসব শব্দ প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা (বৈদিক/সংস্কৃত) থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলায় এসেছে সেগুলিকে মৌলিক শব্দ

বলে।


৩)মৌলিক বা নিজস্ব শব্দগুলিকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর: মৌলিক বা নিজস্ব শব্দগুলিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—(ক) তৎসম, (খ) অর্ধতৎসম এবং (গ) তদ্ভব।


8) তৎসম শব্দ বলতে কী বোঝ?

উত্তর: যেসব শব্দ প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা (বৈদিক/সংস্কৃত) থেকে অপরিবর্তিতভাবে বাংলায় এসেছে সেগুলিকে তৎসম শব্দ বলে।


৫)তৎসম শব্দকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর: তৎসম শব্দকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 

ক) সিদ্ধ তৎসম

খ) অসিদ্ধ তৎসম।


ক)সিদ্ধ তৎসম শব্দ কাকে বলে? উদাহরণ দাও। উত্তর: সংস্কৃত ব্যাকরণসিদ্ধ তৎসম শব্দগুলি সিদ্ধ তৎসম। যেমন–সূর্য, চন্দ্র, জ্যোৎস্না, কৃষ্ণ ইত্যাদি।


খ)অসিদ্ধ তৎসম শব্দ কাকে বলে? উদাহরণ দাও। যে-শব্দগুলি সংস্কৃত ব্যাকরণসিদ্ধ নয় অথচ মৌখিক

স্তরে প্রচলিত ছিল, সেই তৎসম শব্দগুলি অসিদ্ধ তৎসম শব্দ। যেমন- কৃষাণ, চল, ঘর, ডাল ইত্যাদি।


৬)অর্ধতৎসম শব্দ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর “যেসব শব্দ প্রাচীন ভারতীয় আর্য (বৈদিক/সংস্কৃত) থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে না-এসে লোকমুখে উচ্চারণের সময় কিঞ্চিৎ পরিবর্তন ও বিকৃতি লাভ করেছে সেগুলিকে অর্ধতৎসম শব্দ বলে। যেমন—কৃষ্ণ > কেষ্ট, ক্ষুধা > খিদে, বৈদ্য > বদ্দি ইত্যাদি।


৭)তদ্ভব শব্দ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

 উত্তর:যেসব শব্দ প্রাচীন ভারতীয় আর্য (বৈদিক/সংস্কৃত) থেকে জন্মলাভ করে প্রাকৃত এবং অপভ্রংশের স্তরের মধ্য দিয়ে ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে বাংলায় এসেছে তাদের তদ্ভব শব্দ বলে।যেমন :

সংস্কৃত > প্রাকৃত > বাংলা,কার্য > কজ্জ > কাজ

মৃত্তিকা > মট্টিয়া > মাটি,খাদ্য > খজ্জ > খাজা।


৮)আগন্তুক বা কৃতঋণ শব্দ কাকে বলে?

উত্তর:যেসব শব্দ সংস্কৃতের নিজস্ব উৎস থেকে বা অন্য ভাষা থেকে সংস্কৃত হয়ে না-এসে অন্য ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে সেই শব্দগুলি আগন্তুক বা কৃতঋণ শব্দ।


৯)আগন্তুক বা কৃতঋণ শব্দকে কত ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?

উত্তর:আগন্তুক বা কৃতঋণ শব্দ দুই শ্রেণির—(ক) দেশি, (খ) বিদেশি।


১০)নবগঠিত শব্দকে কত ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?

উত্তর:নবগঠিত শব্দকে আমরা দু-ভাগে দেখাতে পারি। যেমন-ক) অবিমিশ্র,খ) মিশ্র।


CONTENTS:

আরো পড়ুন:

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের প্রশ্ন

উত্তর Click Here ইলিয়াস গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here দাম গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click

 Here নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click Here  হিমালয় দর্শন গল্পের প্রশ্ন

উত্তর Click Here ভাঙার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here  আবহমান কবিতার প্রশ্ন

উত্তর Click Here আমরা কবিতা প্রশ্ন উত্তর click Here  খেয়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর click

Here  নিরুদ্দেশ গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here  চন্দ্রনাথ গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-1 click

Here  চন্দ্রনাথ গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-2 click Here 


ব্যোমযাত্রীর ডায়েরির প্রশ্ন উত্তর Click Here 

কর্ভাস গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here 



Teles of Bhola grandpa Lesson1 Unit 1 Click Here

Teles of Bhola grandpa Unit 2 Click Here


All about a Dog Lesson 2-Unit -1 -Click Here

All about a Dog Lesson 2 Unit 2 Click Here


Autumn poem Lesson 3 Part 1 Click Here


A Day in the zoo Lesson 4 Part 1 Click Here

A Day in the zoo Lesson 4 part 2 Click Here


All Summer in a Day Lesson 5 part 1 Click Here

The price of bananas part 1 click Here 

The price of bananas part 2 click Here 

Hunting snake poem question answer click Here 

Cucumber is beneficial for the body click Here



ডাবের জলে উপকারিতা click Here 

দুধের উপকারিতা click here

ওজোন গ্যাস click here 

রক্ত সম্পর্কে আলোচনা click here 


অস্থি বা হাড়ের কার্যাবলী Click here 

থাইরয়েড গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here 



প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here 

একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here 

বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here 

গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here 

মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here 

বইমেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ প্রবন্ধ রচনা Click here 


ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here 

ব্যঞ্জনধ্বনি প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর part-1 Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর Part-2 Click here 

সন্ধির প্রশ্ন উত্তর Click here 

শব্দ গঠনের প্রথম পর্যায় উপসর্গ ও অনুসর্গ প্রশ্ন উত্তর

শব্দ গঠনের দ্বিতীয় পর্যায় ধাতু ও প্রত্যয় প্রশ্ন উত্তর Click here 

বাংলা শব্দভাণ্ডারের প্রশ্ন উত্তর Click here 





















Post a Comment

0 Comments