1) জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়-এর প্রথম ভাগ-
1.B. উদ্ভিদের চলন
সূচিপত্র:
ক) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1
খ) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-1
গ) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2
ঘ) রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নের মান-5
উদ্ভিদের চলন:
উদ্ভিদের চলন বা "প্লান্ট মোশন" একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা উদ্ভিদের বেঁচে থাকার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখে। উদ্ভিদ তার পরিবেশের সাথে বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, যদিও তাদের চলন সাধারণত প্রাণীদের মতো তীব্র বা চোখে পড়ার মতো নয়, তবুও তারা অনেক ধরনের মাইক্রো-এবং মাক্রো-মুভমেন্ট প্রদর্শন করে। উদ্ভিদের চলন বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে, যেমন গ্র্যাভিটি, আলো, জল, তাপ, এবং অন্যান্য পরিবেশগত উপাদান। এ সব চলন উদ্ভিদের সার্বিক টিকে থাকার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হয়।
1) চলন (Movement):
কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাবে জীবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের ঘটনাকে চলন বলে।
*উদ্ভিদ চলনের প্রকারভেদ (Types of Plant Movement):
a) ট্যাকটিক চলন (Tactic Movement):
বহিস্থ কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে সংঘটিত উদ্ভিদের সামগ্রিক চলনকে আবিষ্ট সামগ্রিক চলন ট্যাকটিক চলন বলে।
*ট্যাকটিক চলনের একটি প্রকারভেদ হল- ফটোট্যাকটিক চলন বা ফটোট্যাকসিস-আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে যখন উদ্ভিদের সামগ্রিক চলন ঘটে, তখন ওইপ্রকার চলন হল ফটোট্যাকটিক চলন বা ফটোট্যাক্সিস।
i) পজিটিভ ফটোট্যাকটিক চলন:
আলোক উদ্দীপকের উৎসের দিকে সংঘটিত ট্যাকটিক চলনকে পজিটিভ ফটোট্যাকটিক চলন বলে। যেমন-বিচ্ছুরিত আলোক উৎসের অভিমুখে ক্ল্যামাইডোমোনাস, ভলভক্স প্রভৃতি শৈবাল এবং ইউলোথ্রিক্স, ক্ল্যাডোফোরা ইত্যাদি শৈবালের চলরেণুর চলন।
ii) নেগেটিভ ফটোট্যাকটিক চলন:
আলোক উদ্দীপকের উৎসের বিপরীতভলভার এর ফটোট্যাকটিক চলন দিকে সংঘটিত ট্যাকটিক চলনকে নেগেটিভ ফটোট্যাকটিক চলন বলে যেমন তীব্র আলোক উৎসের বিপরীতে ক্ল্যামাইডোমোনাস, ভলভক্স প্রভৃতি শৈবালের চলন।
*বক্রচলন(Movement of Curvature):
উত্তর:স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে বাপজানত বা রসস্ফীতিজনিত কারণে উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন নানাভাবে বাঁক সৃষ্টি করে সম্পন্ন হয়, তখন উদ্ভিদের এই ধরনের চলনকে বক্রচলন বলে। বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে সম্পন্ন বক্রচলন হল আবিষ্ট বজ্রচলন।
*আবিষ্ট বক্রচলন:
আবিষ্ট বক্রচলন আবার দু-ভাবে সম্পন্ন হতে পারে। যেমন-
a)ট্রপিক চলন বা ট্রপিজম বা দিকনির্ণীত চলন (Tropic Movement):
উত্তর:বহিস্থ উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে উদ্ভিদ অঙ্গের আবিষ্ট বক্রচলনকে ট্রপিক চলন বা দিকনির্ণীত চলন বলে।
* বহিস্থ উদ্দীপকের প্রকৃতি অনুসারে ট্রপিক চলন প্রধানত তিন ধরনের হয়,যেমন-
1) ফটোট্রপিক চলন বা আলোকবৃত্তিজ চলন:
আলোক উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে উদ্ভিদ অঙ্গের আবিষ্ট বক্রচলনকে ফটোট্রপিক চলন বা আলোকবর্তী চলন বা হেলিওট্রপিক চলন বলে। উদ্ভিদ অঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ফটোট্রপিক চলন দেখা যায়।যেমন:
i)অনুকূল আলোকবর্তী চলন:
এই ধরনের চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ আলোক উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায়। যেমন— উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখাপ্রশাখার আলোর দিকে বৃদ্ধি পাওয়া।
(ii) প্রতিকূল আলোকবর্তী চলন:
এই ধরনের চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ আলোর উৎসের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়। যেমন— আলোর উৎসের বিপরীতে, বৃদ্ধি পায়। যেমন— আলোর উৎসের বিপরীতে মূলের বৃদ্ধি।
iii)তির্যক আলোকবর্তী চলন:
এই ধরনের চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ আলোক রশ্মির সঙ্গে তির্যকভাবে বৃদ্ধি পায়।যেমন-আলোক রশ্মির সঙ্গে পাতার তির্যকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া।
2)জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষবৃত্তিজ চলন:
উত্তর:পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের আবিষ্ট বক্রচলনকে জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষবৃত্তিজ চলন বলে। এইপ্রকার চলনকে গ্র্যাভিট্রপিজম-ও বলা হয়। উদ্ভিদ অঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জিওট্রপিজম চলন দেখা যায়।যেমন-
i) অনুকূল অভিকর্ষবর্তী চলন:
এইপ্রকার চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ অভিকর্ষ বলের অনুকূলে বৃদ্ধি পায়।যেমন-প্রধান মূল অভিকর্ষ বলের অনুকূলে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে বৃদ্ধি পায়।
ii)প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তী চলন:
এইপ্রকার চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ অভিকর্ষ বলের অনুকূলে বৃদ্ধি পায়।যেমন-প্রধানমন্ত্রী অভিকর্ষ বলের অনুকূলে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে বৃদ্ধি পায়।
iii)তির্যক অভিকর্ষবর্তী চলন:
এইপ্রকার চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ অভিকর্ষ বলের সঙ্গে তির্যকভাবে বৃদ্ধি পায়। যেমন- শাখামুলগুলি অভিকর্ষ বলের সঙ্গে তির্যকভাবে বৃদ্ধি পায়।
iv) ডায়াজিওট্রপিক চলন:
এইপ্রকার চলনে উদ্ভিদ অঙ্গ অভিকর্ষ বলের সঙ্গে সমকোণে বৃদ্ধি পায়। যেমন গ্রন্থিকন্দের অনুভূমিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া।
3) হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তিজ চলন:
উত্তর:জলের গতিপথ দ্বারা প্রভাবিত উদ্ভিদ অঙ্গের আবিষ্ট বক্রচলনকে হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তিজ চলন বলে। উদ্ভিদ অঙ্গে বিভিন্ন ধরনের হাইড্রোট্রপিক চলন দেখা যায়। যেমন-
i) অনুকূল জলবৃত্তিজ চলন:
এই ধরনের চলনে উদ্ভিদ অঙ্গের বৃদ্ধি জলের উৎসের অনুকূলে ঘটে। যেমন-মূল জলের উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায়।
ii) প্রতিকূল জলবৃত্তিজ চলন:
এই ধরনের চলনে উদ্ভিদ অঙ্গের বৃদ্ধি জলের উৎসের প্রতিকূলে ঘটে। যেমন—কাণ্ড ও লবণাম্বু উদ্ভিদের শ্বাসমূল জলের উৎসের বিপরীতে বৃদ্ধি পায়।
ক) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1
1)বনচাড়ালের পার্শ্বপত্রে দেখা যায়-
a)জিওট্রপিক চলন
b)প্রকরণ চলন
c)ফোটোন্যাস্টিক চলন
d)সিমোন্যাস্টিক চলন
উত্তর:(b) প্রকরণ চলন
2)বহিস্থ উদ্দীপক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদের সামগ্রিক চলন বা গমনকে বলে-
a)প্রকরণ চলন
b)ট্রপিক চলন
c)ন্যাস্টিক চলন
d)ট্যাকটিক চলন
উত্তর:(d) ট্যাকটিক চলন
3)প্রদত্ত কোন উদ্ভিদে গমন দেখা যায় ?
a)প্যারামেসিয়াম
b)ইউগ্লিনা
c)ক্ল্যামাইডোমোনাস
d)স্পঞ্জ
উত্তর:(c) ক্ল্যামাইডোমোনাস
5)ফোটোট্যাকটিক চলনের উদাহরণ হল-
a)ভলভক্স
b)পাতাশ্যাওলা
c)মসের শুক্রাণু
d)সূর্যমুখী
উত্তর:(a) ভলভক্স
6)আলোক উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ অঙ্গের স্থান পরিবর্তনকে বলে-
a)ফোটোন্যাস্টিক
b)ফোটোট্রপিক চলন
c) ফোটোট্যাকটিক চলন
d) স্বতঃস্ফূর্ত চলন
উত্তর:(c) ফটোট্যাকটিক চলন
7)সূর্যালোকের দ্বারা প্রভাবিত ট্রপিক চলনকে বলে-
a) হাইড্রোট্রপিক চলন
b)জিওট্রপিক চলন
c)কেমোট্রপিক চলন
d)ফোটোট্রপিক চলন
উত্তর:(d) ফটোট্রাফিক চালান
8)অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে বলা হয়—
a)হাইড্রোট্রপিক চলন
b) ফোটোট্রপিক চলন
c) জিওট্রপিক চলন
d) কেমোট্রপিক চলন
উত্তর:(c) জিওট্রাফিক চলন
9)উদ্ভিদ কাণ্ডের আলোর দিকে বৃদ্ধি হল একপ্রকার-
a) ফোটোট্রপিক চলন
b)জিওট্রপিক চলন
c) হাইড্রোট্রপিক চলন
d) কেমোট্রপিক চলন
উত্তর:(a) ফটোট্রপিক চলন
10)উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত চলনকে বলা হয়—
a) ট্রপিক চলন
b) ন্যাস্টিক চল
c) ট্যাকটিক চলন
d) কেমোট্যাকসিস
উত্তর:(b) ন্যাস্টিক চলন
খ) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ) প্রশ্নের মান-1
1) সাইক্লোসিস কী?
উত্তর:কোণীয় অঙ্গাণুসহ সাইটোপ্লাজম অনেকে উদ্ভিদকোশে কোশগহবরেরচ্যারাস্যাশো চরনাকারে চলন সম্পন্ন করলে তাকে সাইক্লোসিস বলে।
2)উদ্ভিদের ক্ষেত্রে উদ্দীপক নিয়ন্ত্রিত চলন প্রধানত কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর:উদ্ভিদের ক্ষেত্রে উদ্দীপক নিয়ন্ত্রিত চলন প্রধানত তিন প্রকারের হয়।এগুলি হল ট্যাকটিক চলনা,ট্রপিক চলন,এবং ন্যাস্টিক চলন।
3)গামানে সাক্ষম একটি উদ্ভিদের নাম লেখো। অথবা,ট্যাকটিক চলন দেখা যায় একটি উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর:ক্ল্যামাইডোমোনাস
4)গাছের কাণ্ডের আলোর দিকে অগ্রসর হওয়া কোন প্রকার চলনের উদাহরণ?
উত্তর:গাছের কান্ডের আলোর দিকে আগ্রাসার হওয়া ট্রপিক (ফোটোট্রপিজম) চলনের একটি উদাহরণ।
5) উদ্ভিদের পাতায় কোন্ প্রকার চলন দেখা যায়?
উত্তর:তীর্যক আলোকবর্তী চলন।
6)অভিকর্ষ-প্রতিকূলবর্তী চলন কোন্ গাছের মূলে দেখা যায়?
উত্তর:লবণাম্বু গাছের শ্বাসমূলো।
7)উদ্ভিদের পার্শ্বীয় মূল ও পার্শ্বীয় শাখা অভিকর্ষের গতিপথের সমকোণে বর্ধিত হয়,এটি কী ধরনের চলন?
উত্তর:তির্যক অভিকর্ষবৃত্তি চলন।
8)‘উদ্ভিদের প্রধান কাণ্ড সর্বদা অভিকর্ষের বিপরীতে বর্ধিত হয়। এটি কী প্রকার অভিকর্ষবৃত্তি চলন?
উত্তর:প্রতিকূল অভিকর্ষবৃত্তি চলন।
9) মূল মাটির মধ্যে জলের উৎসের অভিমুখে বাড়তে থাকে-এটি কী ধরনের চলন?
উত্তর:অনুকূল জলবৃত্তি চলন।
10)কৃয়চূড়া বা তেঁতুলপাতার পত্রকগুলি প্রখর আলো ও অধিক উয়তায় খুলে যায় এবং কম আলো ও কম তাপে মুদে যায়,এটি কী প্রকার চলন?
উত্তর:ফোটোন্যাস্টি।
11)মটর প্রভৃতি লেগুমিনাস উদ্ভিদের পাতায় কোন্ চলন দেখা যায়?
উত্তর:তাপব্যাপ্তি বা থার্মোন্যাস্টি।
গ) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2
1)চলন বলতে কী বোঝ?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় জীব এক জায়গায় স্থির থেকে উদ্দীপকের প্রভাবে সাড়া দিয়ে দেহের কোনো অংশ সঞ্চালন করে, তাকে চলন বলে।
2)চলনের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর:চলনের উদ্দেশ্যগুলি হল-
i)উদ্ভিদের মূলের অগ্রভাগে জলের অন্বেষণের জন্য চলন দেখা যায়।
ii)সূর্যালোক, বাতাস ইত্যাদির সন্ধানে উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখাপ্রশাখার চলন ঘটে। 3 মাটি থেকে জল ছাড়াও খনিজ লবণের সন্ধানে মূলের বিভিন্ন দিকে চলন দেখা যায়।
3)উদ্ভিদ চলন কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর:উদ্ভিদ চলন প্রক্রিয়াকে প্রাথমিকভাবে দুইভাগে ভাগ করা যায়-
i)সামগ্রিক চলন বা গমন
ii) বক্রচলন।
* এই দুই প্রকার চলনই স্বতঃস্ফূর্ত এবং আবিষ্ট বা বাহ্যিক উদ্দীপনা নির্ভর হতে পারে।
4) সাইক্লোসিস কী?এটি কয়প্রকার ও কী কী?
উত্তর: উদ্ভিদকোশে অঙ্গাণুসহ সাইটোপ্লাজমের চক্রাকার চলনকে বলে সাইক্লোসিস।
* এটি দুই প্রকার যেমন—
i)রোটেশন:একটি বৃহৎ কোশীয় ভ্যাকুওলকে কেন্দ্র করে সমস্ত সাইটোপ্লাজম চক্রাকারে চলন করলে তাকে রোটেশন বলে। যেমন—কারা, হাইড্রিলা প্রভৃতি উদ্ভিদের কোশ।
ii)সারকুলেশন:ছোটো ছোটো ভ্যাকুওলকে ঘিরে সাইটোপ্লাজমের চক্রাকার ঘূর্ণনকে বলে সারকুলেশন।যেমন—ট্রাডেসক্যানশিয়া উদ্ভিদ।
5) উদ্ভিদের সামগ্রিক চলন বা গমন বলতে কী বোঝ?
উত্তর:স্বতঃস্ফূর্ত বা বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদ বা উদ্ভিদদেহের কোনো অংশের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন করাকে সামগ্রিক চলন বা গমন বলে। যেমন- ভলভক্স, ক্ল্যামাইডোমোনাস প্রভৃতি শৈবালের চলন।
6)'উদ্ভিদের সামগ্রিক চলন একপ্রকার
গমন'-উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:উদ্ভিদের সামগ্রিক চলনে স্থান পরিবর্তন ঘটে থাকে।যেমন-ফোটোট্যাকটিক চলনে শৈবাল স্বল্প আলোর দিকে গমন করে।অঙ্গ সঞ্চালন দ্বারা স্থান পরিবর্তনকেই গমন বলে। তাই উদ্ভিদের সামগ্রিক চলন হল একপ্রকারের গমন।
7) বক্রচলন কাকে বলে?
উত্তর:মাটিতে আবদ্ধ অবস্থায় একস্থানে স্থির থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা বহিস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রকার অঙ্গ সঞ্চালনকে বক্রচলন বলে।যেমন-ট্রপিক চলন,ন্যাস্টিক চলন,প্রকরণ চলন ইত্যাদি।
8)প্রকরণ চলন কাকে বলে?উদাহরণ দাও।
উত্তর:কোশের রসস্ফীতির তারতম্যের জন্য উদ্ভিদ-অঙ্গের যে স্বতঃস্ফূর্ত বক্ৰচলন দেখা যায়, তাকে প্রকরণ চলন বলে।
*উদাহরণ:বনচাড়ালের যৌগপত্রের পার্শ্বীয় পত্রক দুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পর্যায়ক্রমে ওপরে ও নীচে ওঠানামা করে। এটি একপ্রকার রসস্ফীতিজনিত প্রকরণ চলন।
9)স্বতঃস্ফূর্ত চলন কাকে বলে?আবিষ্ট চলন কাকে বলে?
উত্তর:অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনার প্রভাবে সংঘটিত সামগ্রিক বা বক্রচলনকে স্বতঃস্ফূর্ত চলন বলে। যেমন-প্রকরণ চলন।
*আবিষ্ট চলন: বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাবে সংঘটিত সামগ্রিক বা বক্র চলনকে আবিষ্ট চলন বলা হয়। যেমন-ট্যাকটিক চলন, ট্রপিক চলন প্রভৃতি।
ঘ) রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নের মান-5
1)ট্যাকটিক চলনের বৈশিষ্ট্য লেখো। ফোটোট্যাকটিক চলন বলতে কী বোঝ ? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর:ট্যাকটিক চলনের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি হল— i)এইপ্রকার চলনে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন ঘটে, অর্থাৎ গমন সম্পন্ন হয়।
ii) ট্যাকটিক চলন কোনো বহিস্থ উদ্দীপক ও তার উৎসের অভিমুখ বা গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
iii) সাধারণত অনুন্নত জলজ উদ্ভিদে ও উদ্ভিদের জননকোশে এই চলন ঘটে।
iv)সিলিয়া বা ফ্ল্যাজেলা ট্যাকটিক চলনে সহায়তা করে।
*ফোটোট্যাকটিক চলন:
উত্তর:বাহ্যিক আলোক উদ্দীপক দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যখন কোনো উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ-অংশ সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে,তখন সেই চলনকে ফোটোট্যাকটিক চলন বলে। বিভিন্ন নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এইপ্রকার চলন দেখা যায়। উদাহরণ- ক্ল্যামাইডোমোনাস ও ভলভক্স আলোর স্বল্প তীব্রতায় আলোক-উৎসের দিকে অগ্রসর হয়, কিন্তু উস্নতা বৃদ্ধির কারণে তীব্র আলো থেকে দূরে সরে যায়।
সূর্যের দিকে ক্ল্যামাইডোমোনাস-এর চলন
ফোটোট্যাকটিক চলন
2)উদ্ভিদের যে-কোনো দু-ধরনের ট্রপিক চলন উদাহরণসহ আলোচনা করো।
*উদ্ভিদের ট্রপিক চলন:
উত্তর:উদ্ভিদের ট্রপিক চলন মূলত তিন প্রকার-
i)ফোটোট্রপিক চলন
ii)জিওট্রপিক চলন
iii) হাইড্রোট্রপিক চলন
*বিভিন্ন ধরনের ট্রপিক চলন উদাহরণ সহযোগে আলোচনা করা হল-
i)ফোটোট্রপিক চলন:
উদ্ভিদ-অঙ্গের বক্রচলন যখন আলোর উৎসের গতিপথ বা অভিমুখ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়,তখন তাকে ফোটোট্রপিক বা আলোক-বৃত্তীয় চলন বলে। উদ্ভিদের কান্ড, শাখাপ্রশাখা আলোর উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায়। তাই কাণ্ডকে আলোক-অনুকূলবর্তী বলে। অন্যদিকে, মূল আলোর উৎসের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়। তাই মূলকে আলোক-প্রতিকূলবর্তী বলে।আবার, পাতা আলোর উৎসের সাথে তির্যকভাবে বা লম্বভাবে বৃদ্ধি পায় বলে পাতাকে আলোক- তির্যকবর্তী বলা হয়।
উদাহরণ:একটি জলপূর্ণ কাচের বোতলে কর্কের সাহায্যে একটি চারাগাছ লাগানোর পর চারাগাছটি যদি অন্ধকার ঘরে একটি জানালার পাশে রেখে জানালার একটি পাল্লা খুলে রাখা হয় তবে কয়েকদিন পর দেখা যাবে চারাগাছের ডালপালা জানালার দিকে অর্থাৎ, আলোক-উৎসের দিকে বেঁকে গেছে। একইসঙ্গে লক্ষ করা যাবে যে, চারাগাছের মূল নীচের দিকে অর্থাৎ আলোক-উৎসের বিপরীতে বৃদ্ধি পায়। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, বিটপ অংশ আলোক- অনুকূলবর্তী ও মূল আলোক-প্রতিকূলবর্তী।
ii) জিওট্রপিক চলন:
উদ্ভিদ অঙ্গের বক্রচলন যখন অভিকর্ষের গতিপথ বা অভিমুখ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তখন তাকে জিওট্রপিক বা অভিকর্ষবৃত্তীয় চলন বলে। উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষের দিকে এবং বিটপ অভিকর্ষের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়। তাই মূলকে অভিকর্ষ- অনুকূলবর্তী ও বিটপকে অভিকর্ষ-প্রতিকূলবর্তী বলে।
উদাহরণ:একটি ভিজে ব্লটিং পেপারে একটি অঙ্কুরিত বীজকে পিনের সাহায্যে আটকে ব্লটিং পেপারটিকে একটি দড়ির সাহায্যে অন্ধকার ঘরে খাড়াভাবে ঝুলিয়ে রেখে দেওয়া হল। এর কয়েকদিন পরে দেখা যাবে অঙ্কুরিত বীজের স্তূপমূল নীচের দিকে ও ভ্রূপমুকুল ওপরের দিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয় যে, স্তূপমূল অভিকর্ষের অনুকূলবর্তী এবং ভ্রূপমুকুল অভিকর্ষের প্রতিকূলবর্তী।
iii) হাইড্রোট্রপিক চলন:
উদ্ভিদ-অঙ্গের বক্রচলন যখন জলের উৎসের গতিপথ বা অভিমুখ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে হাইড্রোট্রপিক চলন বা জলবৃত্তীয় চলন বলে। উদ্ভিদের মূলের চলন জলের উৎসের দিকে হয়। তাই মূলকে জল-অনকূলবর্তী এবং বিটপ জলের উৎসের বিপরীত দিকে বৃদ্ধি পায়। তাই বিটপকে জল-প্রতিকূলবর্তী বলে।
উদাহরণ:একটি চালুনিতে কাঠের ভিজে গুঁড়োর ওপর কতকগুলি সতেজ ছোলার বীজ রেখে ঝুলিয়ে দিলে কয়েকদিন পর বীজগুলি অঙ্কুরিত হয়ে অভিকর্ষবৃত্তির কারণে স্তূপমূলগুলিকে চালুনির বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যাবে। এভাবে আরও কয়েকদিন রেখে দিলে দেখা যাবে, স্তূপমূলগুলি আবার চালুনির ভিতর ঢুকে যায়। এর থেকে প্রমাণিত হয়, স্তূপমূলগুলি প্রথমে চালুনির বাইরে অভিকর্ষের টানে নীচের দিকে ঝুলতে থাকে এবং পরে সেগুলি জলের উৎসের দিকে বেঁকে আবার চালুনির ভিতর প্রবেশ করে। অর্থাৎ প্রমাণিত হয় যে, মূলের মধ্যে অনুকূল জলবৃত্তীয় চলন দেখা যায়।
আরো পড়ুন:
প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here
একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here
বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here
গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here
মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here
বইমেলা প্রবন্ধ রচনা Click here
একটি গাছ একটি প্রাণ প্রবন্ধ রচনা Click here
মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা প্রবন্ধ রচনা Click here
বাংলা ব্যাকরণ কারক ও অকারক সম্পর্ক Click here
সমাসের প্রশ্ন উত্তর Click here
বাক্যের প্রশ্ন উত্তর Click here
অগ্ন্যাশয় গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here
উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়া প্রদান Click here
0 Comments