ছড়ার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।ছেলে ভুলানো ছড়া।


ছড়ার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।ছেলে ভুলানো ছড়া।



সূচিপত্র:

ক) সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন(Type-1) প্রশমান-২

খ) সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Type-2) প্রশ্নমান-৩

গ) রচনাধর্মী বা বর্ণনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নমান-৫


আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারায়-লৌকিক সাহিত্যের নানা দিকের 'ছড়া' নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো।:একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার।


ক) সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন(Type-1) প্রশমান-২


১) ছড়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

ছড়া একটি ছোট কবিতা যা সাধারণত ছন্দময় এবং সহজ ভাষায় লেখা হয়। এটি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী, এবং তাদের শেখার প্রক্রিয়া সহজ ও আনন্দময় করে তোলে। ছড়ায় রুচিশীলতা এবং মৌলিক শিক্ষামূলক উপাদান থাকে।


উদাহরণ:

রঙিন পাখি, হাসে মিষ্টি,

উড়ে যায় আকাশে, ঝোড়ো হাওয়ায়,

সাথে গায় গানের সুর,

শোনো তার মিষ্টি বর্ণনা।


২)ছড়ার মূল বৈশিষ্ট্য হল:

এটি ছোট, ছন্দময় এবং সহজ ভাষায় লেখা হয়। এতে সাধারণত শিশুদের জন্য উপযোগী বিষয়বস্তু থাকে, যা আনন্দদায়ক ও শিক্ষামূলক। ছড়ার শব্দের মিল, লয়, এবং পুনরাবৃত্তি শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তাদের শেখার প্রক্রিয়া সহজ করে।


৩)একটি খেলার ছড়া ও একটি মেয়েলি ছড়ার উদাহরণ দাও।

খেলার ছড়া:

ছোট্ট বাচ্চা খেলতে যায়,

গোল্লাছুট আর দড়ি টানায়,

পেপে বেড়ায়, খেলায় মজা,

হাসি হাসি চলে সবে।


মেয়েলি ছড়া:

সোনা মেয়েটি ফুলের মতো,

হাসে সে তেমনি মধুর,

গোফে মুগ্ধ তার ঝিলমিল,

চলছে সে, আলোর মতো।


৪)খেলার ছড়ার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তর:খেলার ছড়াগুলি খেলাধুলোর সঙ্গে যুক্ত। শৈশব-কৈশোরের অকারণ আনন্দ, অপার বিস্ময়, এলোমেলো স্বাধীনতা এইসব ছড়ায় জীবন্ত হয়ে ওঠে।

৫)মেয়েলি ছড়া বলতে কী বোঝ?একটি মেয়েলি ছড়ার উদাহরণ দাও।

উত্তর:মেয়েলি ছড়ায় তাদের জীবনের নানা দিক- যেমন,প্রেম,সংসার,বা সামাজিক জীবনের ভাবনা ও অভিজ্ঞতাকে প্রতিফলিত করে। এই ধরনের ছড়ায় স্নেহ, আবেগ, বা হাস্যরসের অনুভূতি থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ:

"বড় ভালোবাসা মনের মাঝে,

হাসিমুখে থাকি সব সাঝে।

তুমি আসবে বলে খুঁজি পথ,

অপেক্ষায় দিনগুলো কাটে শত।"

এখানে মেয়েলি অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, যেখানে একটি মেয়ের অপেক্ষা ও ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।


খ) সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Type-2) প্রশ্নমান-৩


১) বাংলায় ঘুমপাড়ানি ছড়া গুলির বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপেলেখো।

উত্তর: বাংলা ‘ঘুমপাড়ানি ছড়া'গুলির কেন্দ্রে রয়েছে শিশু। তাকে ঘুম পাড়ানোর নানা প্রণালী এই ছড়াগুলিতে ফুটে উঠেছে। এখানে রয়েছে এক ধরনের সর্বজনীন আবেদন। আবার ঘুমপাড়ানি ছড়াকার যখন বলেন-'দোল দোল দুলুনি/রাঙ্গা মাথায় চিরুনি/ বর আসবে এখুনি /নিয়ে যাবে তখুনি '-তখন শিশুর আকর্ষণীয় শয্যা দোলনাকে আশ্রয় করে এমন এক ছবি তুলে ধরা হয় যা আমাদের সকলকেই শৈশবে পৌঁছে দেয়।এই চিত্র ছড়ার প্রাণ। আবার নিদ্রাহীন শিশুকে ঘুমপাড়ানোর জন্য যখন ‘ঘুমপাড়ানি মাসি' পিসি-কে আহ্বান করা হয় তখন ছড়া যেন অলৌকিকের প্রকাশ হয়ে যায়।এইভাবেই ঘুমপাড়ানি ছড়া শিশুমনকে আকৃষ্ট করে,তার চোখে নিদ্রার আবেশ তৈরি করে দেয়। বাংলা ঘুমপাড়ানি ছড়া গুলিতে মা বা মাতৃসমাজের স্নেহভরা মনের মায়াময় বিস্তার ঘটে।


২) বাংলা ছেলেভুলানো ছড়াগুলির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যা জান লেখো।

উত্তর:সংসারের বিভিন্ন কাজের ফাঁকে শিশুকে ভুলিয়ে রাখার জন্যই ছেলেভুলানো ছড়াগুলির সৃষ্টি, মায়ের মুখেই ছেলেভুলানো ছড়ার বিকাশ।দু হাঁটুর উপরে শিশুকে বসিয়ে দোল দিতে দিতে মা ছড়া কাটেন, আর শিশু সেই সুরের মায়াজালে আটকে পড়ে।ঘুমপাড়ানি ছড়াগুলি ছেলেভুলানো ছড়ার অন্তর্গত হলেও শিশুদের ভোজন,শয়ন,বিশ্রাম,কান্না ইত্যাদি নানাকিছু ছেলেভুলানো ছড়ায় অন্তর্গত।'এ দুধ খায় রে /সোনা মুখ যার রে।/ঘন দুধের ছানা, সবাই বলে দেনা,। কান্না থামানোর জন্যও থাকে অজস্র আয়োজন-

“হাল করিয়া হাসিয়া দুব দুধ খাইতে গাই।

রাখাল রাখিতে দুব শ্যামের ছোট ভাই।”

কখনও ছেলে ভুলানোর জন্য বিয়েকে কেন্দ্র করে তোলা হয়। শিশুকে শোনাতে গিয়ে ছড়া যেন এক সর্বমানবিক ব্যঞ্জনা লাভ করে। সোনা, মানিক, মনা, কচি,বাপ,ইত্যাদি স্নেহের সম্বোধনে ছেলেভুলানো ছড়ায় মাতৃহৃদয়ের অসামান্য প্রকাশ ঘটেছে।


৩) ছড়ার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।যে-কোনো দুই ধরনের হুড়ার উদাহরণ দাও।

উত্তর: লোক সাহিত্যের প্রথম সৃষ্টি ছড়া। ছড়ার মধ্যে সুর থাকলেও ছড়া কিন্তু লোকসংগীত নয়। কোনো একটি বিশেষ ভাবনাকে অবলম্বন করে লোকসংগীত রচিত হয়। কিন্তু ছড়ায় কোনো বিশেষ ভাবের সন্ধান পাওয়া যায় না।গীতিকার মতো,কাহিনি নয়, ছড়ায় যা থাকে তা হল কথার ছবি আঁকার চেষ্টা। আবার ছড়ার সঙ্গে যখন হাততালি দিয়ে শিশুকে দোলানো ও নাচানো হয়, তখন শিশুর মধ্যে যে শারীরিক অনুভবের সঞ্চার হয়, তার সামাজিক তাৎপর্য অসীম।

* ঘুমপাড়ানি ছড়ার উদাহরণ হল—

'ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি

মোদের বাড়ি এসো'


গ) রচনাধর্মী বা বর্ণনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নমান-৫


১) ছড়ার সংজ্ঞা দিয়ে লোকসাহিত্যে ছড়ার বিশিষ্টতাআ

লোচনা করো।

উত্তর ছড়া: সংস্কৃত ছটা থেকে প্রাকৃত ছড়া এবং প্রাকৃত ছড়া থেকে বাংলা ছড়ার উৎপত্তি | এর অর্থ পরম্পরা, গ্রাম্যকবিতা ইত্যাদি । প্রাথমিকভাবে ছড়া বলতে বোঝানো হত মুখে মুখে রচিত এক বিশিষ্ট প্রকরণকে যার সঙ্গে কোনো-না- কোনো ভাবে লোকজীবনের সংযোগ থাকত, আর যার রচনাশৈলীতে থাকত ছন্দ ও ধ্বনিময়তার সুরেলা বিস্তার ।

 *ছড়ার বিশিষ্টতা: লোকসাহিত্যের প্রথম সৃষ্টি ছড়া। ছড়ার মধ্যে সুর থাকলেও ছড়া কিন্তু কখনোই লোকসংগীত নয়। ছড়ার সুরে লোকসংগীতের সুরের মতো বৈচিত্র্য থাকে না। পক্ষান্তরে, কোনো একটি বিশেষ ভাবকে অবলম্বন করে লোকসংগীত রচিত হয়। কিন্তু ছড়ায় এরকম কোনো বিশেষ ভাবের সন্ধান পাওয়া যায় না। গীতিকার মতো কাহিনি নয়, ছড়ায় যা থাকে তা হল কথার ছবি আঁকার চেষ্টা। আবার প্রবাদের মতো ব্যঙ্গপ্রাধান্যও ছড়ায় নেই। সমাজের নানা অসংগতিকে ব্যঙ্গের দ্বারা প্রকাশ করাই প্রবাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে শিশুমনের সঙ্গে ছড়ার যোগ থাকায় তার মধ্যে স্নেহ এবং আবেগের প্রকাশ ঘটে। সমালোচনা কিংবা আক্রমণহীন প্রশান্তিই ছড়ার প্রাণ | আবার ছড়ার সঙ্গে যখন হাততালি দিয়ে শিশুকে দোলানো ও নাচানো হয়, তখন শিশুর মধ্যে যে শারীরিক অনুভবের সঞ্চার হয়, তার সামাজিক তাৎপর্য অসীম | এভাবেই লোকসাহিত্যে ছড়াগুলি বিষয়, ব্যঞ্জনা এবং প্রয়োগের দিক থেকে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে।


২)‘খেলার ছড়াগুলি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো।

 উত্তর: খেলার ছড়াগুলি শিশুদের নিজেদের সৃষ্টি। কখনও ছড়াকে অবলম্বন করেও খেলার পরিকল্পনা হয়। এখানে দু ধরনের ছড়া পাওয়া যায়-

১) বাইরের খেলাভিত্তিক ছড়া:

 বাইরের গ্রামীণ খেলার অন্যতম হাডুডুকে নিয়ে লেখা ছড়া_'চু যা চরপে যাব। /পাতি নেবুর মাতি খাব।'

২) অন্দরের খেলাভিত্তিক ছড়া:

বৃষ্টির দিনে যখন বাইরে যাওয়া যায় না, তখন সেই সময় ঘরের মধ্যে খেলায় কাউকে চোর ইত্যাদি বানানোর জন্য ছড়া কাটা হত—

আপন বাপন চৌকি চাপন,

ওল, ঢোল, মামার খোল

ওই মেয়েটি খাটিয়া চোর।

কখনও নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হলে তাকে মান্যতা দেওয়ার জন্য বলা হত— “আড়ি আড়ি আড়ি/কাল যাব বাড়ি/পরশু যাব ঘরযকি করবি কর... | খেলার ছড়াকে কখনও প্রশ্নোত্তরের আকারেও রূপ দেওয়া হয়। এই ধরনের খেলার ছড়ায় দেখা যায়, খেলোয়াড়রা হাত ধরাধরি করে দু-দলে বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি দাঁড়ায়। একদল সুর করে ছড়া বলে সামনে পিছনে হাঁটে এবং অন্যদল থেকে একজনকে নিজের দলে টেনে নিয়ে আসে। এইসময় প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে যে ছড়াটি বলা হয়, সেটি হল—

এলাডিং বেলাডিং সইলো

একটি খবর আইল ।

কীসের খবর আইল?

রাজামশাই একটি বালিকা চাইল ।

কোন্ বালিকা চাইল?

এর উত্তরে প্রতিপক্ষ দলের একটি বালিকার নাম বলে তাকে নিজের দলে নিয়ে আসার চেষ্টা চলে। উলটো দলও একইভাবে একই কাজ করে। খেলার ছড়া সংঘবদ্ধতা এবং শৃঙ্খলাবোধ জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে।


আরো পড়ুন:

একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার বই কেনা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর click here 

তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর click here 


লালন শাহ ফকিরের গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click here 


ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click here 

ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click here 


আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর click here 

আজব শহর কলকেতা প্রবন্ধ প্রশ্ন উত্তর Click here

পঁচিশে বৈশাখ প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click here 


বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান আলোচনা করো। Click here 

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা করো। Click here 

বাংলা কাব্য সাহিত্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদান 

Click here 

চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা Click here 


বাংলা কাব্য সাহিত্যে বিহারীলাল চক্রবর্তী অবদান click here 

বাংলা নাট্য সাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান Click here 

বাংলা নাট্য সাহিত্যে বিজন ভট্টাচার্যের অবদান Click here 

বাংলা গদ্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান Click here 

বাংলা উপন্যাসে শরৎচন্দ্রের অবদান click here 




আড্ডা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click here 


মানস- মানচিত্র অবলম্বনে ইন্টারনেট ও আধুনিক জীবন সম্পর্কে প্রবন্ধ রচনা Click here 

বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা Click here 

শিক্ষায় ও চরিত্র গঠনে খেলাধুলো রচনা Click here 


লৌকিক সাহিত্যের বিভিন্ন দিকে- লোককথা Click here 

লৌকিক সাহিত্যের বিভিন্ন দিক- ধাঁধা Click here 

লৌকিক সাহিত্যের বিভিন্ন দিক- ছড়া Click here










Post a Comment

0 Comments