ক) সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন(Type-1) প্রশমান-২
খ) সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Type-2) প্রশ্নমান-৩
গ) রচনাধর্মী বা বর্ণনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নমান-৫
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ধারায়-লৌকিক সাহিত্যের নানা দিকের 'ধাঁধা' নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো।:একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার।
ক) সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন(Type-1) প্রশমান-২
১) ধাঁধা বলতে কী বোঝো?
উত্তর:ধাঁধা শব্দটির অর্থ হলো উপদেশ প্রদান করা। আদিম কাল থেকে গোটা পৃথিবীতে ধাঁধার সঙ্গে মন্ত্র বা ম্যাজিকের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে ধাঁধা বলা হয়।
২)ধাঁধার সঙ্গে শিক্ষা ও উপদেশ প্রদানের বিষয়টি কিভাবে জড়িত বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ধাঁধা কেবল মনোরঞ্জন নয়, তা চিন্তাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানে সহায়ক। এটি ধৈর্য, মনোযোগ এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। ধাঁধা সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা লজিক্যাল চিন্তা এবং দৃষ্টিভঙ্গি আরও পরিষ্কার করে। তাই, ধাঁধার মধ্যে শিক্ষা এবং উপদেশ থাকে, যা জীবনের নানা পরিস্থিতিতে সহায়ক হতে পারে
৩)প্রবাদের সঙ্গে ধাঁধার পার্থক্য কোথায়?
উত্তর:প্রবাদ এবং ধাঁধার মধ্যে মূল পার্থক্য হল-
১)প্রবাদের উদ্দেশ্য হল জীবনের শিক্ষা বা উপদেশ দেওয়া, যা সাধারণত অভিজ্ঞতা বা সামাজিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এটি এক ধরনের অঙ্গীকার বা উপদেশ যা মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলে।
২) ধাঁধা মূলত মেধা ও চিন্তাশক্তি পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হয়, যা সমাধান করতে বুদ্ধিমত্তা এবং যুক্তি প্রয়োজন। ধাঁধা সাধারণত একটি প্রশ্ন বা সমস্যা হিসেবে উপস্থাপিত হয়, যার সঠিক উত্তর খুঁজতে হয়, তবে প্রবাদ একটি শিক্ষামূলক বক্তব্য বা মন্তব্য।
৪) ধাঁধা কী? ধাঁধার বৈশিষ্ট্য লেখো।
ধাঁধা একটি মনোজ্ঞ বুদ্ধির খেলা যা মানুষের মেধা, যুক্তি, এবং চিন্তা করার ক্ষমতা পরীক্ষা করে। এটি সাধারণত প্রশ্ন বা রূপক আকারে থাকে, যা সমাধান করার জন্য কিছু সময় বা চিন্তা প্রয়োজন হয়। ধাঁধা সাধারণত এমন কিছু নির্দেশনা দেয় যা প্রথমে সোজা বা স্পষ্ট মনে না হয়, তবে যদি সঠিকভাবে চিন্তা করা যায়, তবে তার মধ্যে একটি লুকানো উত্তর থাকে।
খ) সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (Type-2) প্রশ্নমান-৩
১)প্রাচীনকালে ধাঁধার প্রয়োগ কীভাবে ঘটত?
উত্তর:প্রাচীনকালে প্রাচীন সভ্যতাগুলির মধ্যে ধাঁধা ছিল বুদ্ধির খেলা, শিক্ষণীয় উপাদান, এবং মজার খেলা।এখানে কিছু মূল দৃষ্টিভঙ্গি নিম্নে দেওয়া হল-
শিক্ষণ ও বুদ্ধির বিকাশ:
প্রাচীনকাল থেকে ধাঁধা বাচ্চাদের এবং তরুণদের মেধার বিকাশে সাহায্য করার জন্য ব্যবহৃত হত। এই ধাঁধাগুলি তাদের চিন্তাভাবনা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং মনোযোগের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করত।
রাজনৈতিক বা কৌশলগত প্রয়োগ:
রাজা বা শাসকগণ মাঝে মাঝে ধাঁধা বা রহস্যমূলক প্রশ্ন দিয়ে শত্রু বা রাজ্যের জনগণের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা বা কৌশলগত দক্ষতা পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করতেন।
সামাজিক আড্ডা বা বিনোদন:
প্রাচীন সভ্যতাগুলিতে মেলা, উৎসব বা সামাজিক আড্ডায় ধাঁধা এক জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যম ছিল। মানুষ একে অপরকে ধাঁধা দিতে এবং তার সমাধান খুঁজে বের করার মাধ্যমে আনন্দ পেত।
গল্প ও সাহিত্যে:
পুরাণ, গল্প ও সাহিত্যে ধাঁধার উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। অনেক কিংবদন্তি, যেমন গ্রীক সাহিত্যে "সফোক্লিস" ও হোমারের কাব্যগ্রন্থে ধাঁধার উল্লেখ পাওয়া যায়।
২)বাংলা ধাঁধার বিষয়বৈচিত্র উল্লেখ করো:
বাংলা ধাঁধার বিষয়বৈচিত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও রুচিশীল। এটি নানা দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা এবং মননশীলতা পরীক্ষা করে। সাধারণত, ধাঁধাগুলি বিভিন্ন ধরনের হয়: প্রাকৃতিক পরিবেশ, জ্যামিতিক চিত্র, গাণিতিক সমস্যা, জীবজন্তু, আঞ্চলিক সংস্কৃতি, পুরনো রীতি-রেওয়াজ, সামাজিক জীবন, বিভিন্ন পেশা, বা দৈনন্দিন অভ্যাসের সাথে সম্পর্কিত। কিছু ধাঁধা ভাষার খেলা বা শব্দের সাথে সম্পর্কিত, আবার কিছু ধাঁধা ধাঁধার গঠন বা ভঙ্গির উপর নির্ভর করে। ধাঁধা একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যা শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের মননশীলতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক। এটি মস্তিষ্কের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায়।
৩)ধাঁধায় বাঙালির গার্হস্থ্য জীবনের পরিচয় দাও।
বাঙালি গার্হস্থ্য জীবনে ধাঁধা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। এটি প্রায়ই বাঙালি পরিবারগুলিতে এক ধরনের মজার বা শিক্ষামূলক কার্যকলাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছোট-বড় সকলেই এই ধাঁধা সমাধানে মগ্ন হয়ে থাকে, যা মনোরঞ্জন এবং মেধা বিকাশে সহায়ক। বাঙালি গার্হস্থ্য জীবনে ধাঁধা শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, বরং এটি পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেও এক সেতু তৈরি করে, কারণ ধাঁধা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করে, একে অপরের সঙ্গে মজা করতে এবং সহানুভূতি বাড়াতে সাহায্য করে।
বাঙালি ধাঁধা সাধারণত শব্দের খেলা, চিত্রের ভিত্তিতে প্রশ্ন বা রহস্য সমাধানের ধরণে হয়। যেমন—"কেন এক গাছের ছায়া দুইটি?" অথবা "নদীর মাঝে কি দেখা যায়?" এই ধাঁধাগুলি একটি ভাবনা বা উপলব্ধি সৃষ্টি করে, যা সমাধানের জন্য মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে সক্রিয় করে।
এছাড়াও, বাঙালি ধাঁধার মধ্যে সৃজনশীলতা ও ভাষার প্রতি এক বিশেষ শ্রদ্ধা পরিলক্ষিত হয়। ধাঁধার উত্তর সাধারণত সহজ, কিন্তু তা ভাবনা জাগানিয়া এবং মজাদার হয়। বাঙালি গার্হস্থ্য জীবনে ধাঁধার উপস্থিতি একটি ঐতিহ্যগত রূপ ধারণ করেছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। পরিবারের সদস্যরা, বিশেষত পিতা-মাতা এবং দাদা-দাদি, সন্তানদের সঙ্গে ধাঁধা খেলার মাধ্যমে তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং যুক্তি চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকে।
অতএব, বাঙালি গার্হস্থ্য জীবনে ধাঁধা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য উপকারী।
গ) রচনাধর্মী বা বর্ণনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নমান-৫
১)ধাঁধার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। অন্তত দুটি ধাঁধার উদাহরণ দাও।
উত্তর:ধাঁধা প্রশ্ন আকারে থাকে,ধাঁধা সাধারণত একটি প্রশ্ন বা রূপক আকারে উপস্থাপিত হয়, যেখানে একটি সমস্যা বা গাণিতিক পরিস্থিতি দেওয়া হয় এবং তার সঠিক উত্তর খুঁজে বের করতে বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, "একটি জিনিস কখনো গরম, কখনো ঠান্ডা, কখনো ছোট, কখনো বড়—তা কী?"
২. বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা
ধাঁধা সমাধান করতে মস্তিষ্কের কার্যক্রমের পরিসীমা বৃদ্ধি পায়। এটি সাধারণত সৃজনশীল চিন্তা, যুক্তি এবং মেধার ব্যবহার চায়। ধাঁধা সমাধানের জন্য প্রায়ই মানুষের চিন্তা বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হয়, যা একে আরও চ্যালেঞ্জিং এবং রোমাঞ্চকর করে তোলে।
৩. অস্পষ্ট বা গোপন অর্থ
ধাঁধা কখনও সরাসরি প্রশ্ন করে না, বরং এর মধ্যে গোপন বা অস্পষ্ট অর্থ থাকে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে প্রথমবার পড়ে বা শোনার পর এর সঠিক উত্তর বোঝা কঠিন হয়। তবে, কিছু চিন্তা বা বিশ্লেষণের পর সঠিক উত্তর বের করা সম্ভব হয়।
৪. অন্তর্নিহিত শিক্ষা
ধাঁধা সমাধান করার মাধ্যমে মানুষের মেধা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি তাদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান দক্ষতা এবং ধৈর্য্য উন্নত করে। অনেক ধাঁধা শিক্ষা ও মজার মাধ্যমে শিখতে সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য।
৫. বিভিন্ন ধরনের ধাঁধা
ধাঁধা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে—যেমন শব্দধাঁধা, গাণিতিক ধাঁধা, চিন্তাধাঁধা, দৈনন্দিন জীবনধাঁধা ইত্যাদি। প্রতিটি ধরনের ধাঁধার সমাধান পদ্ধতি এবং চিন্তা ধরণ আলাদা হতে পারে।
উদাহরণ:
একটি সাধারণ ধাঁধা হতে পারে: "কী এমন একটি জিনিস, যা যত বেশি ব্যবহার করা হয়, ততই তীক্ষ্ণ হয়?" উত্তর হলো: পেন্সিল।
এভাবে ধাঁধা মানুষের চিন্তা শক্তি ও সৃজনশীলতার প্রয়োগে সহায়ক হিসেবে কাজ করে, এবং এটি প্রায়ই সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
আরো পড়ুন:
একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার বই কেনা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর click here
তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর click here
লালন শাহ ফকিরের গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click here
ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click here
ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click here
আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর click here
আজব শহর কলকেতা প্রবন্ধ প্রশ্ন উত্তর Click here
পঁচিশে বৈশাখ প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click here
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান আলোচনা করো। Click here
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান আলোচনা করো। Click here
বাংলা কাব্য সাহিত্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদান
চরিত্র গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা Click here
বাংলা কাব্য সাহিত্যে বিহারীলাল চক্রবর্তী অবদান click here
বাংলা নাট্য সাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান Click here
বাংলা নাট্য সাহিত্যে বিজন ভট্টাচার্যের অবদান Click here
বাংলা গদ্যে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান Click here
বাংলা উপন্যাসে শরৎচন্দ্রের অবদান click here
আড্ডা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click here
মানস- মানচিত্র অবলম্বনে ইন্টারনেট ও আধুনিক জীবন সম্পর্কে প্রবন্ধ রচনা Click here
বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা Click here
শিক্ষায় ও চরিত্র গঠনে খেলাধুলো রচনা Click here
লৌকিক সাহিত্যের বিভিন্ন দিকে- লোককথা Click here
লৌকিক সাহিত্যের বিভিন্ন দিক- ধাঁধা Click here
0 Comments