১) ধ্বনি কাকে বলে?ধ্বনির লিখিত রূপের নাম কী? ধ্বনি কয় প্রকার ও কি কি?
উত্তর:মনের ভাব প্রকাশ করার সময় মানুষ যখন তার বাগ্ যন্ত্রের সাহায্যে অর্থবহ আওয়াজ বা শব্দ সৃষ্টি করে, তখন তাকে ধ্বনি বলে।
*ধ্বনির লিখিত রূপের নাম বর্ণ।
*ধ্বনিকে ব্যাকরণগতভাবে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
২)স্বরধ্বনি কাকে বলে? বাংলায় প্রচলিত স্বরধ্বনি কয়টি ও কী কী?
উঃ যে ধ্বনি অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য ছাড়া সম্পূর্ণ রূপে উচ্চারিত হতে পারে না,তাকে স্বরধ্বনি বলে। যেমন-অ, আ,ই, ইত্যাদি।
*বাংলায় প্রচলিত স্বরধ্বনি ১২টি। কেউ কেউ স্বরধ্বনি ১১টি বলে মনে করেন। যেমন- অ
আ, ই, ঈ, উ, ড. খ, ১, এ, ঐ, ও, ঔ। (বাংলায় ৯-এর ব্যবহার নেই বলে অনেকে ১১টি স্বরধ্বনির কথা বলেন )
*শ্বাসবায়ুর গতিপথ অনুসারে স্বরধ্বনিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-
ক)মৌলিক স্বরধ্বনি
খ)যৌগিক স্বরধ্বনি।
ক) মৌলিক স্বরধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর:যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু শুধু মুখ দিয়ে যাতাযাত করে, তাকে বলা হয় মৌলিক স্বরধ্বনি।যেমন-অ,আ,ই,ঈ,উ ইত্যাদি।
খ) যৌগিক স্বরধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর:একটি মৌলিক স্বরধ্বনি ও একটি অর্ধস্বর যখন একসঙ্গে উচ্চারিত হয়,তখন তাকে বলা হয় যৌগিক স্বরধ্বনি বা যৌগিকস্বর।বাংলায় একে দ্বি- স্বর বা যুগ্নস্বর বলা হয়। যেমন-ঐ=ও+ই এবং ঔ=ও+উ।
৩) বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি ও কী কী?
উত্তর: বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। যেমন-অ,আ,ই,উ,এ,ও,অ্যা—এগুলি শুদ্ধ স্বরধ্বনি। এছাড়া বিকৃত 'আ'একটি স্বরধ্বনি আছে।
৪)জিহ্বার অবস্থান অনুসারে মৌলিক স্বরধ্বনিকে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায় ? ভাগগুলিকে উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর:জিহ্বার অবস্থান অনুসারে মৌলিক স্বরধ্বনিকে ২টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি
খ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর:যেসব স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিহবা দন্তের দিকে সম্মুখে প্রসারিত হয়,তাদের সম্মুখ স্বরধ্বনি বলে। যেমন-ই,এ,অ,অ্যা ইত্যাদি।
খ) পশ্চাদ স্বরধ্বনি কাকে বলে?
উত্তর: যেসব স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিহবা বা পশ্চাৎভাগের দিকে আকৃষ্ট হয়, তখন তাকে পশ্চাৎস্বর বলে।যেমন- উ,ও,অ,আ ইত্যাদি।
* সানুনাসিক স্বরধনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর:স্বরধ্বনি যখন বাগযন্ত্র ছাড়াও নাসিকাকে অবলম্বন করে উচ্চারিত হয় তখন তাকে সানুনাসিক বা আনুনাসিক স্বরধ্বনি বলে। যেমন-হাঁসা, কাঁদা, চাঁদ ইত্যাদি।
* উদাহরণ যোগে পার্থক্য দেখাও—দীর্ঘস্বর ও প্রতস্বর।
উত্তর:উচ্চারণের তারতম্য অনুসারে স্বরবর্ণ গুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়-
ক) হ্রস্বস্বর
খ) দীর্ঘস্বর
ক) হ্রস্বস্বর কাকে বলে?
উত্তর:দূর থেকে আহ্বান, গান বা রোদনের সময় যখন কোনো স্বরধ্বনিকে উচ্চারণের সময় বিলম্বিত করা হয় তখন তাকে প্লুতস্বর বলে। এর দীর্ঘস্বরের মতো কোনো লিখিত চিহ্ন নেই। যে কোনো স্বরই দীর্ঘ হয়। অর্থ বুঝে দীর্ঘ করা হয়। বাংলায় দীর্ঘস্বর একমাত্রা, পুতস্বর কমপক্ষে তিনমাত্রা।
খ) দীর্ঘস্বর কাকে বলে?
উত্তর:আ, ঈ, উ, এ, ঐ, ঔ—এই স্বরবর্ণগুলি উচ্চারণ করতে দীর্ঘ সময় লাগে বলে এদের দীর্ঘস্বর বলে। কখনো কখনো গদ্যে বা কবিতায় এই দীর্ঘস্বরের ব্যবহার দেখা যায়।
৫) মৌলিক স্বরধ্বনির শ্রেণীবিভাগ:
১)উচ্চ স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা অপেক্ষাকৃত উঁচুতে অবস্থান করে সেগুলি উচ্চ স্বরধ্বনি। যেমন-ই, উ
২)উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা উচ্চ-মধ্য অবস্থানে থাকে সেগুলি উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি- যেমন-এ, ও
৩)নিম্ন-মধ্য:
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা নিম্ন-মধ্য অবস্থানে থাকে সেগুলি নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি।যেমন- অ্যা,অ।
৪)নিম্ন স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা নিম্ন অবস্থানে থাকে সেগুলি নিম্ন স্বরধ্বনি। যেমন-অ্যা-নিম্ন স্বরধ্বনি একটি।
৫)সম্মুখ স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিহ্বা সামনের দিকে অবস্থান করে সেগুলি সম্মুখ স্বরধ্বনি। যেমন-ই, এ, অ্যা।
৬)কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি:
একমাত্র 'আ' স্বরধ্বনিটি উচ্চারণের সময় আমাদের জিভ সামনে-পিছনে না-গিয়ে কেন্দ্রস্থলেই অনড় থাকে। তাই 'আ'-কে কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি বলা হয়।
৭)পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিহ্বা পিছনের দিকে সরে অবস্থান করে সেগুলি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি। যেমন-উ, ও, অ।
৮)সংবৃত স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের আয়তন অপেক্ষাকৃত কম থাকে বা সংবৃত অবস্থায় থাকে সেগুলি সংবৃত স্বরধ্বনি। যেমন- ই,উ।
৯)অর্ধসংবৃত স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখবিবরের আয়তন একটু কম সংবৃত থাকে সেগুলি অর্ধসংবৃত স্বরধ্বনি। যেমন-এ,ও।
১০)বিবৃত স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের আয়তন অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে বা বিবৃত অবস্থায় থাকে তাকে বিবৃত স্বরধ্বনি বলে। যেমন—আ।
১১)অর্ধবিবৃত স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগহ্বরের আয়তন বিবৃত অপেক্ষা কম আবার অর্ধসংবৃত অপেক্ষা বেশি থাকে সেই স্বরধ্বনিগুলিকে অর্ধবিবৃত স্বরধ্বনি বলে।যেমন-অ্যা,অ।
১২) কুঞ্চিত স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কুঞ্চিত অবস্থায় থাকে সেগুলি কুঞ্চিত স্বরধ্বনি।যেমন-উ, ও, অ।
১২)প্রসারিত স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় ঠোট দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে সেগুলি প্রসারিত স্বরধ্বনি। যেমন-ই, এ,অ্যা।
১৩)দীর্ঘ স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণ করতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে সেগুলি দীর্ঘ স্বরধ্বনি। যেমন-আ, ঈ, উ ইত্যাদি।
১৪)হ্রস্ব স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণ করতে অপেক্ষাকৃত কম সময় লাগে সেগুলিকে হ্রস্ব স্বরধ্বনি বলে।যেমন- অ,ই,উ ইত্যাদি।
১৫)মৌলিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিগুলিকে বিশ্লেষণ করলে অন্য কোনো স্বরধ্বনি পাওয়া যায় না সেগুলি মৌলিক স্বরধ্বনি। যেমন- অ, আ, ই, উ ইত্যাদি।
১৬)যৌগিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিগুলি একাধিক মৌলিক স্বর নিয়ে গঠিত সেগুলি যৌগিক স্বরধ্বনি। যেমন-ঐ,ঔ । বাংলা স্বরধ্বনিতে যৌগিক স্বর লেখার জন্য স্বতন্ত্র দুটি বর্ণ হল ঐ,ঔ।অন্য যৌগিক স্বরগুলি লেখার জন্য স্বতন্ত্র কোনো বর্ণ নেই। যেমন-আও,অও,আই ইত্যাদি।
আরো পড়ুন:
প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here
একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here
বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here
0 Comments