অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব।অতিবেগুনি রশ্মির দুটি ব্যবহার লেখ।


আলোর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হলো:


সূচিপত্র: 

ক) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1

খ) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ)প্রশ্নের মান-1

গ) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2


আলো এবং তার ক্ষতিকারক প্রভাবের বিষয়ে আলোচনা করতে হলে প্রথমে আলো কি, তার প্রকারভেদ এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখা প্রয়োজন। আলো আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ, তবে এর কিছু ক্ষতিকারক প্রভাবও রয়েছে। অতিবেগুনি (UV) রশ্মি ত্বক এবং চোখের ক্ষতি করতে পারে, যেমন ত্বকের ক্যান্সার এবং মাকুলার ডিজেনারেশন। দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল স্ক্রিনের আলো আমাদের চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা ডিজিটাল চোখের ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও, রাতের বেলা অযথা আলো থাকার কারণে ঘুমের মান হ্রাস পায়, যা শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই আলো ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।


আলো এবং তার প্রকারভেদ:

১.প্রাকৃতিক আলো: 

প্রাকৃতিক আলো হলো সূর্য থেকে উদ্ভূত আলোর প্রবাহ, যা আমাদের জীবনকে আলোকিত করে। এটি গাছপালা ও প্রাণীজগতের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি Photosynthesis প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। প্রাকৃতিক আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন তাপ, উজ্জ্বলতা এবং রঙের তীব্রতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সকালবেলা সূর্যের প্রথম আলো আমাদের মনোবল বাড়ায়, আর সন্ধ্যায় সূর্যের অস্ত যাওয়া এক ধরনের প্রশান্তি দেয়। প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব এবং এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী, কারণ এটি ভিটামিন ডি উৎপাদনে সহায়ক।


অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব।অতিবেগুনি রশ্মির দুটি ব্যবহার লেখ।


২.কৃত্রিম আলো: বর্তমানে আমরা কৃত্রিম আলোর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। যদিও কৃত্রিম আলো আমাদের জীবনের বিভিন্ন দিককে উন্নত করেছে,

কৃত্রিম আলো হলো সেই আলো যা প্রাকৃতিক সূর্যালোকের পরিবর্তে মানুষের তৈরি। এটি বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন হয়, যেমন বাল্ব, LED, ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প ইত্যাদি। কৃত্রিম আলোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো অন্ধকার পরিবেশে visibility বৃদ্ধি করা। এটি আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্প স্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে কাজের স্থান, সড়ক, পার্ক ইত্যাদি উজ্জ্বল করা হয়। বিভিন্ন রঙের এবং তীব্রতার কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃত্রিম আলো আরও উন্নত এবং কার্যকর হয়ে উঠেছে, যেমন স্মার্ট লাইটিং সিস্টেম যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবেশের অনুযায়ী সামঞ্জস্য করতে পারে। তবুও এটি কিছু ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে।


অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব।অতিবেগুনি রশ্মির দুটি ব্যবহার লেখ।

ক্ষতিকারক প্রভাব:

১. নিদ্রাহীনতা: কৃত্রিম আলোর অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো এটি মানুষের ঘুমের চক্রে ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে, রাতের বেলায় স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং টিভির স্ক্রিনের আলো নিদ্রাহীনতার কারণ হতে পারে। এর ফলে মেলাটোনিনের উৎপাদন কমে যায়, যা ঘুমের জন্য অপরিহার্য।


২. দৃষ্টিশক্তির সমস্যা: দীর্ঘক্ষণ কৃত্রিম আলোর মধ্যে কাজ করা বা স্ক্রিনে সময় কাটানো দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে। এটি চোখের ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ফোকাসে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।


৩. মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব: আলোর অভাব বা অতিরিক্ত আলো উভয়ই মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আলো পরিবর্তনের কারণে ডিপ্রেশন এবং উদ্বেগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, শীতের সময় সূর্যের আলো কমে যাওয়ার ফলে সিজনাল এফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (SAD) হতে পারে।


৪. ত্বকের সমস্যা: UV রশ্মি ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন বার্ধক্য, ত্বক ক্যান্সার, এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা। কৃত্রিম UV আলোর ব্যবহারে (যেমন সান বেড) ত্বকের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৫. শারীরিক স্বাস্থ্য: গবেষণায় দেখা গেছে, অধিক রাতের আলোতে কাজ করা বা ঘুমানোর অভাব শারীরিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলে। এটি স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


আলো ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিকার:

আলোর ক্ষতিকারক প্রভাব কমানোর জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:


১.স্মার্টফোন এবং কম্পিউটারের ব্যবহার সীমিত করা: রাতের বেলায় স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো উচিত। যদি প্রয়োজন হয়, ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে।


২.নিদ্রা তৈরির পরিবেশ তৈরি করা: ঘুমানোর সময় ঘরটি অন্ধকার রাখা এবং কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমানো উচিত।


৩.প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ: সম্ভব হলে দিনের বেলায় বেশি করে প্রাকৃতিক আলোতে থাকার চেষ্টা করা উচিত।


৪.ব্রেক নেওয়া: দীর্ঘক্ষণ একসাথে কাজ করলে মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।


৫.সুরক্ষা ব্যবস্থা: UV রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রীন ব্যবহার করা প্রয়োজন।


উপসংহার:

আলো আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ, কিন্তু এর কিছু ক্ষতিকারক প্রভাব রয়েছে যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সচেতনতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা এই প্রভাবগুলো কমাতে পারি এবং আমাদের জীবনকে স্বাস্থ্যকর রাখতে পারি। তাই, আলো ব্যবহারে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।


ক) সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো(MCQ) প্রশ্নের মান-1


১. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV রশ্মি) মানব দেহের জন্য কতটা ক্ষতিকারক?

A) সুরক্ষা প্রদান করে

B) ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে

C) কোন ক্ষতি করেনা

D) ত্বককে সুরক্ষিত রাখে


উত্তর: B) ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে


২. অতিবেগুনি রশ্মি কোন ধরনের ক্ষতি করতে পারে?

A) চোখের ক্ষতি

B) ত্বকের ক্ষতি

C) বায়ুমণ্ডলের ক্ষতি

D) উপরোক্ত সকল


উত্তর: D) উপরোক্ত সকল


৩. দীর্ঘসময় সূর্যের আলোতে থাকা শরীরের জন্য কী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে?

A) ত্বকের জ্বালা

B) সানবার্ন

C) চোখের ক্ষতি

D) সকল উত্তর


উত্তর: D) সকল উত্তর


৪. সানস্ক্রিন কিভাবে আমাদের সাহায্য করে?

A) সূর্যের আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করে

B) অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে

C) ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে

D) শুধুমাত্র সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করে


উত্তর: B) অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে


৫. তীব্র আলোর মধ্যে বেশি সময় থাকার ফলে কোন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়?

A) চোখের মাচন

B) রেটিনার ক্ষতি

C) স্নায়ুজনিত রোগ

D) ত্বকের ইনফেকশন


উত্তর: B) রেটিনার ক্ষতি


৬. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক হয় কোন সময়?

A) সকাল ৬টা থেকে ৯টা

B) দুপুর ১২টা থেকে ৩টা

C) বিকাল ৫টা থেকে ৭টা

D) রাত ৮টা থেকে ১২টা


উত্তর: B) দুপুর ১২টা থেকে ৩টা


৭. কোন ধরনের UV রশ্মি চোখে ক্ষতি করতে পারে?

A) UV-A

B) UV-B

C) UV-C

D) সমস্ত উপরের


উত্তর: D) সমস্ত উপরের


৮. আলোর অতিরিক্ত প্রদর্শনের ফলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

A) ঘুমের সমস্যা

B) অস্থিরতা

C) অন্ধত্ব

D) বিষণ্নতা


উত্তর: A) ঘুমের সমস্যা


৯. কোন ধরনের আলোর কারণে চোখে ক্ষতি হতে পারে?

A) দৃশ্যমান আলো

B) অতিবেগুনি রশ্মি

C) ইনফ্রারেড রশ্মি

D) সকল


উত্তর: B) অতিবেগুনি রশ্মি


১০. অতিবেগুনি রশ্মি বিশেষ করে কোন ধরনের ত্বকে বেশি ক্ষতি করে?

A) ত্বক যাদের অন্ধকার

B) ত্বক যাদের ফর্সা

C) ত্বক যাদের মসৃণ

D) ত্বক যাদের শুষ্ক


উত্তর: B) ত্বক যাদের ফর্সা


১১. সূর্যের আলো বেশি গ্রহণ করলে কোন ধরনের ত্বকের সমস্যা হতে পারে?

A) ত্বকের বার্ধক্য

B) ত্বকে ফোসকা

C) ত্বকের ক্যান্সার

D) সকল


উত্তর: D) সকল


১২. অতিবেগুনি রশ্মি থেকে দেহকে রক্ষা করার জন্য কী পরামর্শ দেওয়া হয়?

A) গ্লাস ব্যবহার করা

B) সানস্ক্রিন ব্যবহার করা

C) ছাতা ব্যবহার করা

D) সকল


উত্তর: D) সকল


১৩. কোন ধরনের লাইটে বসবাস করলে বেশি ক্ষতি হতে পারে?

A) কম তাপমাত্রার লাইট

B) উচ্চ তাপমাত্রার লাইট

C) কোনো ক্ষতি নেই

D) শুধু রোদ


উত্তর: B) উচ্চ তাপমাত্রার লাইট


১৪. অতিরিক্ত আলোতে কাজ করার ফলে শরীরের কী ক্ষতি হতে পারে?

A) মাইগ্রেন

B) অস্থিরতা

C) ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া

D) সকল


উত্তর: D) সকল


১৫. কতটা সময় ধরে সূর্যের আলোতে অবস্থান করলে ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে?

A) ৫ মিনিট

B) ১৫ মিনিট

C) ৩০ মিনিট

D) ১ ঘণ্টা


উত্তর: C) ৩০ মিনিট


১৬. অন্ধকারে খুব বেশি আলো ব্যবহার করার ফলে কি হতে পারে?

A) চোখের ক্ষতি

B) মস্তিষ্কের ক্ষতি

C) হৃদযন্ত্রের সমস্যা

D) কোন ক্ষতি হয় না


উত্তর: A) চোখের ক্ষতি


১৭. আলোর অতিরিক্ত প্রভাবে চোখের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?

A) কর্নিয়া

B) মাকুলা

C) রেটিনা

D) স্নায়ু


উত্তর: C) রেটিনা


১৮. অতি তীব্র আলোতে চোখের কী সমস্যা হতে পারে?

A) চোখে ব্যথা

B) চোখে জল আসা

C) অন্ধত্ব

D) সকল


উত্তর: D) সকল


১৯. আলোর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে ত্বকের উপর কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

A) বলিরেখা

B) ত্বকে কালো দাগ

C) ত্বকের মেলানিন কমে যাওয়া

D) সকল


উত্তর: D) সকল


২০. সানস্ক্রিন কতটা কার্যকরী হতে পারে?

A) UV রশ্মি প্রতিরোধ করে

B) ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে

C) ত্বককে সুরক্ষিত রাখে

D) উপরের সব


উত্তর: D) উপরের সব


খ) অতিসংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।(SAQ)প্রশ্নের মান-1


১. অতিবেগুনি রশ্মি (UV রশ্মি) কী এবং এটি কীভাবে ক্ষতিকারক হতে পারে?

উত্তর: অতিবেগুনি রশ্মি (UV রশ্মি) হলো এমন এক ধরনের রশ্মি যা সূর্যের আলো থেকে নির্গত হয়। এটি মানব দেহের ত্বক এবং চোখের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে, কারণ অতিরিক্ত UV রশ্মি ত্বকে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে এবং চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


২. সূর্যের আলোতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: সূর্যের আলোতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে ত্বকের বার্ধক্য, সানবার্ন, ত্বকের ক্যান্সার এবং চোখের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া UV রশ্মি ত্বকের মেলানিন কমিয়ে দিতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের মধ্যে চোখের রেটিনার ক্ষতি ঘটাতে পারে।


৩. সানস্ক্রিন কীভাবে কাজ করে এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: সানস্ক্রিন UV রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। এটি ত্বকে একটি প্রটেকটিভ বARRIER তৈরি করে, যা UV-A এবং UV-B রশ্মি প্রবাহিত হতে দেয় না। এটি ত্বকের ক্যান্সার এবং সানবার্ন থেকে রক্ষা করে।


৪. অতিরিক্ত আলোতে থাকার কারণে চোখের উপর কী প্রভাব পড়ে?

উত্তর: অতিরিক্ত আলোতে থাকার ফলে চোখে দৃষ্টি সমস্যা, চোখের মাচন, এবং লেন্সের সমস্যা হতে পারে। এর ফলে রেটিনার ক্ষতি, দীর্ঘ সময়ের জন্য অন্ধত্বও হতে পারে।


৫. UV রশ্মি কতটা সময় ধরে আমাদের ত্বকে প্রভাব ফেলতে পারে?

উত্তর: UV রশ্মি ত্বকের উপর প্রভাব ফেলতে পারে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে। তবে, দীর্ঘ সময় UV রশ্মির প্রভাবে ত্বক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেমন সানবার্ন, ত্বকের বার্ধক্য বা ক্যান্সারের ঝুঁকি।


৬. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) তিনটি প্রকার কী কী?

উত্তর: UV রশ্মি তিনটি প্রকারে বিভক্ত:


UV-A: দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য, ত্বকের গভীরে প্রবাহিত হয়।

UV-B: মাঝারি তরঙ্গদৈর্ঘ্য, ত্বকে সানবার্ন সৃষ্টি করে।

UV-C: ক্ষতিকারক, কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে শোষিত হয় এবং আমাদের উপর পৌঁছায় না।

৭. চোখের সুরক্ষার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?

উত্তর: চোখের সুরক্ষার জন্য UV সুরক্ষা গগলস (sunglasses) ব্যবহার করা উচিত, যা UV-A এবং UV-B রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করবে। এছাড়া, দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকার সময় ছাতা ব্যবহার করাও কার্যকর।


৮. কীভাবে অতিরিক্ত আলো শরীরের ঘুমের প্যাটার্নে প্রভাব ফেলতে পারে?

উত্তর: অতিরিক্ত আলো, বিশেষ করে রাতে, শরীরের মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এটি ঘুমের প্যাটার্নকে ব্যাহত করে এবং ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।


৯. সানবার্ন কী এবং এটি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

উত্তর: সানবার্ন হলো ত্বকের শীঘ্র ক্ষতি হওয়া, যা অতিরিক্ত সূর্যের আলো বা UV রশ্মির প্রভাবে ঘটে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করা, শীতল পোশাক পরিধান করা এবং অতিরিক্ত সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।


১০. UV রশ্মির কারণে ত্বকে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর: UV রশ্মির কারণে ত্বকের বার্ধক্য, ত্বকে কালো দাগ, সানবার্ন, এবং ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে। এর কারণে ত্বকের কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।


১১. দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকার ফলে চোখের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?

উত্তর: দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকার ফলে চোখের রেটিনা, কর্নিয়া এবং লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা দৃষ্টিহীনতা সৃষ্টি করতে পারে।


১২. অত্যধিক আলোর প্রভাবে শরীরে কী ধরনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: অত্যধিক আলোর প্রভাবে শরীরে হরমোনাল ব্যালান্সে সমস্যা, মাইগ্রেন, এবং মনোভাবগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এতে স্নায়ুতন্ত্রের উপরও প্রভাব পড়ে।


১৩. অতিবেগুনি রশ্মি এবং ত্বকের ক্যান্সারের মধ্যে কী সম্পর্ক আছে?

উত্তর: অতিবেগুনি রশ্মির এক্সপোজার ত্বকের কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। UV-B রশ্মি ত্বকের ক্যান্সার, বিশেষ করে মেলানোমা সৃষ্টি করতে পারে।


১৪. আলোর অতিরিক্ত প্রদর্শন আমাদের মনোভাব এবং মেজাজের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে?

উত্তর: অতিরিক্ত আলো শরীরের ঘুমের প্যাটার্নকে প্রভাবিত করে এবং মনোভাব ও মেজাজে পরিবর্তন আনতে পারে। এতে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং মনঃস্থৈর্য দেখা দিতে পারে।


১৫. রাতে অতিরিক্ত আলোতে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর কেন?

উত্তর: রাতে অতিরিক্ত আলোতে থাকা শরীরের মেলাটোনিন উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায়, যার ফলে ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ এবং অবসাদ হতে পারে। এটি শরীরের প্রাকৃতিক সাইকেলকে ব্যাহত করে এবং স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।


গ) সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও। প্রশ্নের মান-2


১. অতিবেগুনি রশ্মি (UV রশ্মি) কীভাবে ক্ষতিকারক হতে পারে?

উত্তর: UV রশ্মি ত্বকে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ত্বকের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে।


২. সূর্যের অতিরিক্ত আলোতে থাকা শরীরের জন্য কী ক্ষতিকারক হতে পারে?

উত্তর: অতিরিক্ত সূর্যের আলো ত্বকের ক্যান্সার, সানবার্ন, ত্বকের আগের চেয়ে বেশি বয়সের লক্ষণ এবং চোখের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।


৩. সানস্ক্রিন কীভাবে আমাদের রক্ষা করে?

উত্তর: সানস্ক্রিন UV রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়, ত্বকে সানবার্ন এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।


৪. অতিরিক্ত আলোতে থাকা চোখের জন্য কী ক্ষতিকারক হতে পারে?

উত্তর: অতিরিক্ত আলোতে থাকা চোখে দৃষ্টিহীনতা, মাচন এবং রেটিনার ক্ষতি ঘটাতে পারে।


৫. অতিরিক্ত UV রশ্মির কারণে ত্বকে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: ত্বকে সানবার্ন, কালো দাগ, বার্ধক্য এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


৬. UV রশ্মি কোন সময় সবচেয়ে ক্ষতিকারক হতে পারে?

উত্তর: দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত UV রশ্মি সবচেয়ে ক্ষতিকারক হয়।


৭. রাতে অতিরিক্ত আলোতে থাকার কারণে কী সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: রাতে অতিরিক্ত আলো ঘুমের সমস্যা এবং মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।


৮. অতিরিক্ত UV রশ্মি চোখের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে?

উত্তর: অতিরিক্ত UV রশ্মি চোখের রেটিনা, কর্নিয়া এবং লেন্সকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


৯. অতিরিক্ত আলোতে থাকার ফলে শরীরে কী ধরনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: অতিরিক্ত আলো শরীরের হরমোনাল ব্যালান্সে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন ঘুমের সমস্যা ও মেজাজ পরিবর্তন।


১০. সানবার্ন কী এবং এটি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

উত্তর: সানবার্ন হলো ত্বকের ক্ষতি যা অতিরিক্ত সূর্যালোতে থাকার কারণে ঘটে। এটি সানস্ক্রিন ব্যবহার, ছাতা ব্যবহার ও দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়।



CONTENTS:

আরো পড়ুন:

ছন্দে শুধু কান রাখো কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

পাগলা গনেশ গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here

বঙ্গভূমির প্রতি কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

একুশের কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here

আত্মকথার প্রশ্ন উত্তর Click Here

খোকনের প্রথম ছবি প্রশ্ন উত্তর Click Here

কুতুব মিনারের কথা প্রশ্ন উত্তর Click Here


মেঘ চোর গল্পের প্রশ্ন উত্তর প্রথম Part Click Here

মেঘ চোর গল্পের প্রশ্ন উত্তর দ্বিতীয় Part Click Here

কাজী নজরুলের গান Click Here 

স্মৃতিচিহ্ন কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

নোট বই কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

চিরদিনের কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

ভানুসিংহের পত্রাবলী প্রশ্ন উত্তর click Here 

রাস্তায় ক্রিকেট খেলা প্রশ্ন উত্তর click Here 

গাধার কান গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here 

ভারত তীর্থ কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here 

স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী গল্পের প্রশ্ন উত্তর click Here 

Health benefit of butter water click Here 


চিন্তাশীল নাটকের প্রশ্ন উত্তর click here 

দেবতাত্মা হিমালয় প্রশ্ন উত্তর click here 

পটলবাবু ফিল্মস্টার গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here 


বাংলা ব্যাকরণ কারক ও অকারক সম্পর্ক Click here 


অস্থি বা হাড়ের কার্যাবলী Click here 

থাইরয়েড গ্রন্থির প্রশ্ন উত্তর Click here 


মশা কয় প্রকার ও কী কী Click here 

Eye বা চোখের প্রশ্ন উত্তর  Click here 


অগ্ন্যাশয় এর প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি ও স্বরধ্বনির প্রশ্ন উত্তর Click here 

ব্যঞ্জনধ্বনি প্রশ্ন উত্তর Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর part-1 Click here 

ধ্বনি পরিবর্তনের প্রশ্ন উত্তর Part-2 Click here 

শব্দ গঠনের প্রথম পর্যায় উপসর্গ ও অনুসর্গ প্রশ্ন উত্তর Click here 

শব্দ গঠনের দ্বিতীয় পর্যায় ধাতু ও প্রত্যয় প্রশ্ন উত্তর Click here 


পদ কয় প্রকার ও কি কি Click here 
পদের দ্বিতীয় ভাগ- বিশেষণপদ Click here 


পদের চতুর্থ ভাগ অব্যয় পদ Click here 



মেলা প্রবন্ধ রচনা Click here 


 আলোর প্রশ্ন উত্তর Click here 
















Post a Comment

0 Comments