হিমালয় দর্শন
বেগম রোকেয়া
১। সূচিপত্র:
ক। লেখিকা পরিচিতি
খ। উৎস
ঘ। পূর্ব কথা
ঙ। সারসংক্ষেপ
চ। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখ(MCQ) প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
ছ। অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর(SAQ)২০টি শব্দের মধ্যে প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
জ। ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ৬০টি শব্দের মধ্যে প্রতিটি প্রশ্নের মান-৩
ঝ। বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী বা বড়োপ্রশ্নোত্তর ১৫০টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও।
e-bookap পেজটি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুখবর-1st- ইউনিট,2nd ইউনিট,3nd ইউনিট,টেস্ট ফাইনাল পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্যগুরুত্বপূর্ণভাবে তোমাদের সাহায্য করবে।তাই এই সাফল্য আমাদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ক। লেখিকা পরিচিতি:
১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের রংপুর জেলার পায়রা বন্ধ গ্রামে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর
বাবা ছিলেন জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলি সাবের। পূর্ববঙ্গের এক সম্ভ্রান্ত বংশে তাঁর জন্ম। তার
তাঁর ছেলেবেলা থেকেই মনে দেশাত্মবোধ ও সমাজ কল্যাণের ভাবনা জন্ম নিয়েছিল। সেই সময়ে
মুসলিম সমাজের অনুশাসন মেনে রোকেয়া ও তার বোনেদের বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়নি।
বাড়িতেই তাদের আরবি ও উর্দু শেখানো হতো। রোকেয়ার দাদা ইব্রাহিম খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন।
তিনি রকেয়াকে বাড়িতে গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখাতে। রোকেয়ার চাওয়া পাওয়া ছিল অসীম।
১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৮ বছর বয়সে ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে
রোকেয়ার বিয়ে হয়। রোকেয়া স্বামী ছিলেন উদার মনের মানুষ। রোকেয়াকে তিনি লেখাপড়ায় উৎসাহ
দিতেন। স্বামীর আগ্রহে রোকেয়া একদিন সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে রোকেয়ার স্বামীর
মৃত্যু নামে ভাগলপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল নামে একটি মেয়েদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল নামে পরিচিত। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে
রোকেয়া'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম,নামে একটি মুসলিম নারী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।১৯০২
খ্রিস্টাব্দে পিপাসা নামক একটি বাংলা গল্পের মাধ্যমে রোকেয়ার সাহিত্য জগতে প্রবেশ। তার
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হল-মতিচুর,পদ্মরাগ,অবরোধবাসিনী প্রভৃতি।রকেয়ার স্মরণে বাংলাদেশ সরকার
তার পৈতৃক ভিটের উপরেই বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র নামক একটি গণ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন
করেছেন। এছাড়াও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বেগম রোকেয়া
বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়।১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ৯ ডিসেম্বর ভোরবেলা এই বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক সাহিত্যিকের
জীবনাবসান হয়।
খ। উৎস:
বেগম রোকেয়া রচিত'হিমালয় দর্শন,নামক রচনাটি তাঁর'কূপমন্ডুকের হিমালয় দর্শন,গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
গ। পূর্ব কথা:
সমতলবাসী লেখিকা বেগম রোকেয়া হিমালয় দর্শন করতে গিয়ে হিমালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং
সেখানকার অধিবাসীদের জীবন যাপনের পরিচয় দিয়েছেন। যাত্রা পথের মনমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী স্মরণ
করে লেখিকা ভক্তি ভরে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।
ঘ। বিষয় সংক্ষেপ:
শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে হিমালয়ান রেলগাড়িতে আকাবাকা পর্বতময় অতিক্রম করে যখন উপরে
উঠেছিলেন লেখিকা বেগম রোকেয়া, তখন পথের দুই ধারে দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। তার মনে হচ্ছিল সে
যেন মেঘের মধ্যে দিয়ে চলেছেন। চারপাশের সবুজ চা বাগান প্রাকৃতিক সভাকে আরো বাড়িয়ে
দিয়েছিল। যাত্রা পথে অনেকগুলি জলপ্রপাত এবং ঝরনা চোখে পড়েছিল। তার মনে হচ্ছিল হিমাদ্রির
পাষাণ হৃদয় বিদীর্ণ করে তারা যে,কোথা থেকে কোথায় চলেছে তা যেন কেউ জানে না-এইসব প্রাকৃতিক
দৃশ্য দেখে লেখিকা বিস্মিত হয়েছিলেন।
৪০০০ ফিট উপরেও এতটুকু ঠান্ডা ছিল না। অবশেষে তাঁরা কার্শিয়া স্টেশনে পৌঁছালেন। সেখান
থেকে তার বাড়ি খুব কাছে,বাড়ি পৌঁছাতে তার বেশি সময় লাগবে না।
কার্শিয়াং অঞ্চলে তখনও শীত পড়েনি,খানিকটা বসন্তকালের মতো আবহাওয়া। লেখিকারা ঝরনার জল
ফিলটারে ছেঁকে ব্যবহার করেছিলেন। ঝরনার জল দেখতে খুব স্বচ্ছ কাঁচের মতো। সেখানকার
আবহাওয়া স্বাস্থ্যকর। সূর্য ডোবার মুখের আলো আর বায়ু যেন এক অসাধারণ সৌন্দর্যের জগত সৃষ্টি
করেছিল। সেই সৌন্দর্য দেখতে দেখতে তিনি আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন।
শুধু যে মেঘ রাজ্যের সৌন্দর্য দেখেছেন তা নয়,তাঁর পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের গাছ,বনভূমির সৌন্দর্য
লেখিকাকে মুগ্ধ করেছিল। এখানেই লেখিকা প্রথম ঢেঁকি গাছ দেখেছিলেন। জঙ্গল বড়ো ভয়ংকর কিন্তু
সেই জঙ্গলে বাঘ বা সাপ নেই শুধু আছে জোঁক। এখানকার স্ত্রী লোকেরা জোঁকে ভয় পায় না। এখানে
সাধারণত ভুটিয়াদের বাস। মহিলা ভুটিয়ারা সাত গজ লম্বা কাপড় খাগড়ার মতো করে পড়ে, আর
তাদের গায়ে থাকে জ্যাকেট। আর মাথায় বিলিতি শাল। পিঠে দু-এক মন বোঝা নিয়ে তারা অনাসে
পর্বতের উপর- নিচ করতে পারে।
ভুটিয়ানিরা নিজেদের পাহাড়নি বলে, অন্যদিকে সমতলের মানুষদের'নীচেকা আদমি বলে,পরিচয় দেয়।
এরা কাজ করে, সাহসী ও সত্যবাদী।
হিমালয়ের সৌন্দর্য রকেয়াকে মুগ্ধ করেছে। পার্বত্য উপত্যকার অনাবিল সভা দেখতে দেখতে তার মনে
হয়েছে মানুষের কাছে এই হিমালয় কত বৃহৎ কত বিস্তৃত ও মহান। কিন্তু যিনি এই হিমালয় সৃষ্টি
করেছেন সেই স্রষ্টার কাছে এই হিমালয় কত তুচ্ছ। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় দেহ
মনে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি বাড়ে।
ঙ। নামকরণ:
হিমালয় দর্শন একটি ভ্রমণ মূলক বৃত্তান্ত। তাই নামকরণের ক্ষেত্রে বিষয় গত ব্যঞ্জনাকেই প্রাধান্য দেওয়া
হয়েছে। সমতলবাসী এক মহিলার প্রথম হিমালয় দেখার বিস্ময় ও আনন্দই রচনাটির মূল উপজীব্য। এর
সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পার্বত্য ঝর্ণা গাছপালা মানুষ ও প্রাকৃতিক দৃশ্য গুলি।
শিলিগুড়ি স্টেশনে নেমে সেখান থেকে কার্শিয়াং এবং কার সঙ্গে নিকটবর্তী গন্তব্য স্থলে পৌঁছানো হলো
এই ভ্রমণ বৃত্তান্তের বিষয়। হিমালয়কে প্রথম দেখার যে অনুভূতি রচনাটিতে প্রকাশ পেয়েছে তা হিমালয়
দর্শন নামে যথাযথভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই রচনায় লেখিকা শুধু হিমালয়ের সভাকে দুচোখ ভরে
দেখেছেন তা নয়। সেই সঙ্গে হিমালয়ের অন্তরের বিরাজমান শিল্পী স্বয়ং ঈশ্বরকেও অনুভব করেছেন।
চ। সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখ(MCQ) প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১।
ক) সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল
খ) রোকেয়া মেমোরিয়াল স্কুল
গ) মুসলিম আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়
ঘ) রোবোয়া ইনস্টিটিউশন
উত্তর:(ক) সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল
২। হিমালয় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে লেখিকা ও তার সঙ্গীরা প্রথমে যে স্টেশনে পৌঁছালেন সেটি হল-
ক) জলপাইগুড়ি
খ) কাঠগুদাম
গ) কার্শিয়াং
ঘ) শিলিগুড়ি
উত্তর:(ঘ) শিলিগুড়ি
৩। শিলিগুড়ি থেকে লেখিকা পাহাড়ে চড়েছিলেন-
ক) ড্রাম হিমালয়ম রেলগাড়িতে
খ) ইস্টার্ন হিমালয়ান রেলগাড়িতে
গ) হিমালয়ান রেলগাড়িতে
ঘ) বেঙ্গল হিমালয়ান রেলগাড়িতে
উত্তর:(গ) হিমালয়ান রেলগাড়িতে
৪। লেখিকা নদী বলে ভুল করেছিলেন-
ক) কালো কালো মেঘ দেখে
খ) শ্বেদ কুজ্ঝটিকা দেখে
গ) চায়ের বাগান থেকে
ঘ) রাস্তাঘাট দেখে
উত্তর: শ্বেত কুজ্ঝটিকা দেখে
৫। কার্শিয়াং স্টেশনের উচ্চতা-
ক) ৪৬৬৪ ফুট
খ) ৪৭৬৪ ফুট
গ) ৪৮৬৪ ফুট
ঘ) ৪৯৬৪ ফুট
উত্তর:(গ) ৪৮৬৪ ফুট
৬। কার্শিয়াং স্টেশন থেকে লেখিকার বাসা-
ক) বহুদূরে
খ) অল্প দূরে
গ) বাসে চেপে যেতে হয়
ঘ) আরো উপরে
উত্তর:(খ) অল্প দূরে
৭। এদেশের স্ত্রী লোকেরা ভয় পায় না-
ক) বাঘে
খ) ভাল্লুকে
গ) সাপে
ঘ) জোঁকের
উত্তর:(ঘ) জোঁকের
৮। লেখিকার ভুটিয়ানি চাকরানীর নাম-
ক) বুলি
খ) ভালু
গ) মালু
ঘ)কালু
উত্তর:(খ) ভালু
৯। ঘুটিয়ানীরা মাথা ঢাকে-
ক) রঙিন কাপড় দিয়ে
খ) বিলাতি শাল দিয়ে
গ) চাদর দিয়ে
ঘ) টুপি দিয়ে
উত্তর:(খ) বিলাতি শাল দিয়ে
১০। ভুটিয়ানিদের পেশা-
ক) চাষ করা
খ) রাস্তা প্রস্তুত করা
গ) পাথর বহন করা
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর:(গ) পাথর বহন করা
১১। ঘুটিয়ারিরা নিজেদের পরিচয় দেয়-
ক) সমতলবাসী বলে
খ) পাহাড়নি বলে
গ) সাহসিনী বলে
ঘ) অবলা বলে
উত্তর:(খ) পাহাড়নি বলে
CONTENTS:
আরো পড়ুন:
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের প্রশ্নউত্তর Click Here
ইলিয়াস গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
দাম গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
নব নব সৃষ্টি প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click Here
হিমালয় দর্শন গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
ভাঙার গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here
আবহমান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
আমরা কবিতা প্রশ্ন উত্তর click Here
খেয়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর click Here
আকাশের সাতটি তারা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
রাধারানী গল্পে প্রশ্ন উত্তর Click Here
চন্দ্রনাথ গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-1 click Here
চন্দ্রনাথ গল্পের প্রশ্ন উত্তর part-2 click
ব্যোমযাত্রীর ডায়েরির প্রশ্ন উত্তর Click Here
কর্ভাস গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
Teles of Bhola grandpa Lesson1 Unit 1 Click Here
Teles of Bhola grandpa Unit 2 Click Here
All about a Dog Lesson 2-Unit -1 -Click Here
All about a Dog Lesson 2 Unit 2 Click Here
Autumn poem Lesson 3 Part 1 Click Here
A Day in the zoo Lesson 4 Part 1 Click Here
All Summer in a Day Lesson 5 part 1 Click Here
আবহমান কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
0 Comments