১। সূচিপত্র:
ক।লেখক পরিচিতি।
খ।কবিতার উৎস:
গ।আফ্রিকা কবিতার বিষয়বস্তু
ঘ।সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখ।(MCQ) প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
ঙ।অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।(SAQ)-২০টি শব্দের মধ্যে।প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
চ।ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।৬০টি শব্দের মধ্যে।প্রতিটি প্রশ্নের মান-৩
ছ।বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্নোত্তর।১৫০টি শব্দের মধ্যে।প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫
ebookপেজটিছাত্রছাত্রীদেরজন্যসুখবর-1stইউনিট,2ndইউনিট,3ndইউনি,টেস্ট,ফাইনাল
পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণভাবে তোমাদের সাহায্য করবে।তাই এই সাফল্য আমাদের
কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ক।কবি পরিচিতি:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ৭ই মে (২৫শে বৈশাখ)কলকাতায় জোড়াসাঁকড় ঠাকুর পরিবারেরবীন্দ্রনাথের
জন্ম।তার পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদাদেবী।তিনি ঠাকুরবাড়িথেকে
প্রকাশিতভারতীওবালকপত্রিকায়নিয়মিতলিখতেনদীর্ঘজীবনেপ্রচুরকবিতাগান,ছোটগল্পন্প্ন্ক
লিখেছেন,ছবি এঁকেছেন।এশিয়ার মধ্যে তিনি প্রথমনোবেল পুরস্কার পান ১৯১৩ সালে'song
offering,জন্য। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত আরবাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁর রচনা।কবির
প্রথম জীবনে লেখা কাব্যগ্রন্থ গুলি হল,- সন্ধ্যা সংগীত,প্রভাত সঙ্গীত,ছবি ও গান,ভানুসিংহ
ঠাকুরের পদাবলী এবং কড়ি ও কোমল।গীতাঞ্জলি পর্বের প্রধান তিনখানি কাব্যগ্রন্থ-
গীতাঞ্জলী,গীতিমাল্য ও গীতালি।তাঁর শেষ পর্বের কাব্যগ্রন্থ গুলি হল-রোগশয্যায়,আরোগ্য
ইত্যাদি।১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে৭আগস্ট কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়।
খ।কবিতার উৎস:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থে থেকে 'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।
গ।আফ্রিকা কবিতার সংক্ষেপ বিষয়বস্তু:
১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে ইতালির সাম্রাজ্যবাদী শাসক মুসোলিনি ইথিওপিয়া আক্রমণ করেন।এই
ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে আফ্রিকা কবিতাটি রচিত হয়।কবিতায় আফ্রিকার
সৃষ্টির ইতিহাসটি বর্ণিত হয়েছে। আফ্রিকার ভৌগোলিক পরিবেশের ভয়ঙ্কর রূপকে
আপনকরে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিল।সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আফ্রিকা নিজেরপায়ে
দাঁড়াতে শিখল। ইউরোপীয় সভ্যমানুষের কাছে চিরকাল আফ্রিকার অধিবাসীরা অপরিচিত
ছিল। তারপর ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের থাবা পরল স্বাধীন আফ্রিকার উপর।ক্রীতদাসে
পরিণত হলো হাজার হাজার আফ্রিকাবাসী।লোহার হাতকড়ি পরিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হল
অন্য দেশে,ঔপনিবেশিক প্রভুদের দাস হিসেবে। ইউরোপের হাটে বাজারে মানুষ
কেনাবেচার খেলায় মেতে উঠলো। আফ্রিকার অধিবাসীরা পরিণত হলো ইউরোপের হাটে-
বাজারে।অত্যাচারিত কালো মানুষের রক্ত আর অশ্রুতে আফ্রিকার মাটি হলো কাদায়
পরিণত হলো। আফ্রিকার অধিবাসীদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার দেখে কবি ঠিক থাকতে
পারেননি।তাই কবি যুগান্তরের কবিকে আহবান করে বলেছেন"দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর
ধারে"বলেছেন আফ্রিকার কাছে ক্ষমা চাইতে। কেননা,অন্যায় দেখে চুপ থাকা সবচেয়ে বড়
অপরাধ।"ক্ষমা করো"এই অমোঘ উচ্চারণই সভ্যতার শেষ পূর্ণবাণী হবে বলে কবির বিশ্বাস।
ঘ।সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখ(MCQ)প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১।আদিম যুগ কেমন ছিল?-
ক) ভীরু
খ) উদ্ভ্রান্ত
গ)বোকা
ঘ)চন্ডাল
উত্তর:(খ)উদ্ভ্রান্ত
২।আদিম যুগে স্রষ্টা নিজের প্রতি কি ছিল?-
ক)অভিমান
খ)অসন্তোষ
গ) গর্ব
ঘ)আনন্দে
উত্তর:(খ)অসন্তোষ
৩।আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিল-
ক)সমুদ্রের ঢেউ
খ।ধরিত্রী
গ)সমুদ্রের বাহু
ঘ)নদীর বাহু
উত্তর:(গ)সমুদ্রের বাহু
৪।কোথা থেকে আফ্রিকাকে চিনি নিয়ে গেল?
ক)প্রাচী ধরিত্রীর বুক
খ)ব্রহ্মাণ্ডে
গ)এশিয়া
ঘ)ইউরোপ
উত্তর:(ক)প্রাচী ধরিত্রী বুক
৫।আফ্রিকার অন্তঃপুরে আলো ছিল-
ক) কৃপণ
খ) দুর্বোধ
গ) নগ্ন
ঘ)সূর্যহীন স্থান
উত্তর:(ক) কৃপণ
৬।আফ্রিকা বিদ্রুপ করেছিল-
ক) নতুন সৃষ্টিকে
খ) শঙ্কাকে
গ) অসুন্দরকে
ঘ) ভীষণকে
উত্তর:(ঘ) ভীষণকে
৭।'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,-ওরা হল-
ক) ইউরোপীয়
খ) আমেরিকান
গ) জঙ্গি জাতি
ঘ) এশিয়ান
উত্তর:(ক) ইউরোপীয়
৮।ওদের নখ তীক্ষ্ণ-
ক)বাঘের চেয়ে
খ) নেকড়ের চেয়ে
গ) হায়নার চেয়ে
ঘ) চিতার চেয়ে
উত্তর:(খ)নেকড়ের চেয়ে
৯। আফ্রিকার ক্রন্দন কেমন?
ক) বীভৎস
খ) বিকট
গ) ভাষাহীন
ঘ) সমবেত
উত্তর:(গ) ভাষাহীন
১০।অরণ্যপথে ধূলি পঙ্কিল হল-
ক) রক্তে মিশে
খ) অশ্রুতে মিশে
গ) ঘামে ভিজে
ঘ) রক্তে অশ্রুতে মিশে
উত্তর:(ঘ) রক্তে অশ্রুতে মিশে
১১।'দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে,-'মানহারা মানবী,বলতে বোঝানো হয়েছে-
ক) বিশ্বমাতাকে
খ) ভারতবর্ষকে
গ) আফ্রিকাকে
ঘ) ঘনছায়াবৃতাকে
উত্তর:(গ)আফ্রিকাকে
১২।'সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পূর্ণবাণী,-সভ্যতার শেষ পূর্ণবাণী হল-
ক) ভালোবাসো
খ) মঙ্গল কর
গ) ক্ষমা করো
ঘ) ঘৃণা কর
উত্তর:(গ) ক্ষমা করো
ঙ।অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।(SAQ)-২০টি শব্দের মধ্যে। প্রতিটি প্রশ্নের মান-১
১।'উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে,-কি ঘটেছিল?
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'পত্রপুট, কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা, কবিতাটি
নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে, উদভ্রান্ত আদিম যুগে স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর সৃষ্টিকে নিখুঁত
করার জন্য,সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করেছিলেন।
২।'ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা,- কে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল?
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'পত্রপুট, কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা,কবিতাটি
নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,স্রষ্টা নিজের সৃষ্টির প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে যখন প্রাকৃতিক পটভূমি
বদলাচ্ছিল,সেই সময় উত্তাল সমুদ্র পৃথিবীর ভূ-ভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে
গিয়েছিল।
৩।'কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে,-কৃপণ আলো কথার অর্থ কি?
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'পত্রপুট, কাব্য গ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা' কবিতাটি
নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে বনস্পতি ঘেরা আফ্রিকা ছিল ঘন ছায়া আবরণে ঢাকা। সূর্যের আলো
সেখানে পৌঁছাতে পারত না।কৃপণ আলো বলতে সূর্যের কম আলোকে বোঝানো হয়েছে।
৪।'এল মানুষ ধরার দল,- কাদের মানুষ ধরার দল বলা হয়েছে?
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,অত্যাচারী ইউরোপীয় দল,যারা আফ্রিকার কালো মানুষদের লোহার চেনে
বেঁধে তাদের হাটে বাজারে বিক্রি করা হতো।তাদের মানুষ ধরার দল বলা হয়েছে।
৫। "পঙ্কির হলো ধূলি"-আফ্রিকার ধুলো কিভাবে পঙ্কিল হল?
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা,কবিতাটি
নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,অত্যাচারী ইউরোপীয়রা আফ্রিকার কালো মানুষদের বন্দি করে, ক্রীতদাস
বানিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরই রক্ত আর চোখের জলে আফ্রিকার ধুলো যেন কাদা হয়ে
ঠেছিল।
৬।'নখ যাদের তীক্ষ্ণ'কাদের নখকে, কেন তীক্ষ্ণ বলা হয়েছে?
উত্তর:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,ইউরোপীয় শাসকদের নখ আফ্রিকার জঙ্গলের নেকড়েদের চেয়েও
তীক্ষ্ণ,এবং বিষাক্ত।কারণ-তাতে ছিল ঘৃণা ও হিংসার বিষ।
৭।'এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে,- ওরা কারা?
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,ওরা-বলতে ইউরোপীয় শাসকদের বলা হয়েছে,যারা আফ্রিকার কালো
মানুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে হাটে বাজারে বিক্রি করা হতো।
৮।"এসো যুগান্তরের কবি"-যুগান্তের কবিকে আহবান করা হয়েছে কেন?
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা'কবিতাটি
নেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য অংশে,যুগের কবিরা,আফ্রিকার উপরে ইউরোপীয়দের শাসন এবং অত্যাচারের
বিরুদ্ধে তাঁরা চুপ ছিলেন।তাই আজ তাদের আফ্রিকার কাছে স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
চ। ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ৬০টি শব্দের মধ্যে। প্রতিটি প্রশ্নের মান-৩
১।'হায় ছায়াবৃতা,- ছায়াবৃতা কে? তাকে ছায়াবৃতা বলা হয়েছে কেন?
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।আলোচ্য অংশটিতে 'আফ্রিকা,কে ছায়াবৃতা বলা হয়েছে।
ছায়াবৃতা শব্দটির অর্থ-ছায়া দ্বারা ঢাকা।আফ্রিকা মহাদেশের এক ঘন ছায়া জঙ্গলে ঘেরা।
সূর্যের আলো পর্যন্ত ঢুকতে পারে না।প্রকৃতি যেন তাকে অন্ধকার মহাদেশ হিসেবে গড়ে
তুলেছে।সূর্যের আলো সেখানে ঢুকতে পারে না বলেই আফ্রিকাকে 'ছায়াবৃতা,বলা হয়েছে।
তার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে আফ্রিকার জীবনযাত্রা।
২।'নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে,- যাদের বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের নখ নেকড়ে এর চেয়ে তীক্ষ্ণ কেন?
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'আফ্রিকা,কবিতায়- যাদের বলতে,ইউরোপীয়
শাসকদের বলা হয়েছে।
পৃথিবী সৃষ্টির সময় আফ্রিকা ছিল আদিম জঙ্গল বা অরণ্যে ঢাকা একটি মহাদেশ।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশগুলি আফ্রিকার গুপ্তধনের ওপর থাবা বসালো। ইউরোপীয় শাসকরা
আফ্রিকার কালো মানুষ গুলোকে লোহার চেনে বেঁধে নিয়ে যাবার সময় তাদের চোখের জল
ও রক্তে আফ্রিকার ধুলো কাদায় পরিণত হয়। ইউরোপীয় শাসকরা ছিল হিংস্র প্রাণীর চেয়েও
ভয়ংকর।
৩।'এলো মানুষ ধরার দল,-কবি কাদের সম্পর্কে বলেছেন? তাদের 'মানুষ ধরার দল,বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।
আলোচ্য অংশটিতে কবি বলেছেন,আফ্রিকা ওপর হিংস্ররের মতো অত্যাচার যারা
করেছিল,তারা ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন দেশগুলির কথা বলেছেন।
ইউরোপীয় শাসকদের দল,আফ্রিকার ওপর অমানবিক শোষণ চালাচ্ছিল, তখন আফ্রিকার
কালো মানুষের ঘামে এবং রক্তে চোখের জলে আফ্রিকার পথের ধুলো কাদায় পরিণত হয়।
এই কালো মানুষদের শিকলে বেঁধে নিয়ে যাতা নিয়ে যাওয়া হতো ইউরোপের হাটে বাজারে
এবং সেখানে কেনা বেচা চলত।এ এক মানবতার চরম অপমান।
৪।'চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে,-
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'আফ্রিকা,কবিতায় আদিম আফ্রিকার ইতিহাসকে
চরম অপমান করা হয়েছে।
ইউরোপীয় শক্তিরা আফ্রিকার কালো মানুষদের গোলামে পরিণত করেছিল। ইউরোপীয়
শাসকরা যখন আফ্রিকার কালো মানুষগুলোকে লোহার চেনে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময়
তাদের চোখের জল ঘাম এবং রক্তে আফ্রিকার পথ কাঁদায় পরিণত হয়েছিল।এইভাবে
আফ্রিকার ইতিহাসকে অপমান করা হয়েছে।
৫।'কবির সঙ্গীতে বেজে উঠেছিল/সুন্দরের আরাধনা,- এই বেজে ওঠার তাৎপর্য কি?
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা'কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।আলোচ্য অংশটিতে,অত্যাচারিত ইউরোপীয় শক্তিরা আফ্রিকাকে কৌশলে দখল
করে অমানবিক শোষণ চালাত। আফ্রিকানদের লোহার চেনে বেঁধে নিয়ে যেত এবং
ইউরোপের বাজারে কেনা বেচা চলতো তাদেরকে যখন নিয়ে যাওয়া হত তাদের রক্ত ঘামে
আফ্রিকার পথ যেন কাদায় পরিণত হতো। একদিকে আফ্রিকা বাসীর চরম দুর্দিন অত্যাচার,
ঠিক তেমনি অন্যদিকে একই সময়ে ইউরোপের সভ্য সমাজে ঈশ্বরের আরাধনা চলত এবং
শিশুরা যেন ঠিক সেই সময়ে মায়ের কোলে খেলত। তাই কবির সঙ্গীতে বেজে উঠত
সুন্দরের আরাধনা।
৬।'সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাডায়,-সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তে কি ঘটেছিল?
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে 'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।আলোচ্য অংশে,ইউরোপিয়ান শক্তিরা যখন আফ্রিকার কালো মানুষদের ক্রীতদাসে
পরিণত করেছে,ঠিক সেই মুহূর্তেই ইউরোপিয়ান শক্তিরা নতুন দিনের স্বপ্ন দেখেছিল।
সমুদ্রপাড়ে ইউরোপীয়দের নিজেদের পাড়ায় পাড়ায় দেবতার মন্দিরে পুজোর ঘন্টা
বাজছিল। শিশুরা মায়ের কোলে খেলছিল এবং কবির সংগীতের বেজে উঠেছিল সুন্দরের
আরাধনা।সমুদ্রপারের এই দৃশ্যে সভ্যতার বিপরীত দিকে ধরা পড়ে রবীন্দ্রনাথের চোখে।
৭।'ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে,-কাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল? ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে কোথায় রেখেছিল?
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত 'আফ্রিকা,কবিতায় পৃথিবী সৃষ্টির সময় আফ্রিকা
ছিল এক ঘন অরণ্যে ঢাকা ছায়া ময় একটি মহাদেশ।সেই আফ্রিকা ঘন ছায়াময় ঢাকা
থাকায় সূর্যের আলো সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। কবি যার নাম দিয়েছেন কৃপণ
আলোর অন্তঃপুর। এই কৃপণ আলোর অন্তঃপুর আফ্রিকাকে কেড়ে নিয়ে গিয়েছিল
ইউরোপীয় শাসকদের দল।
ছ।বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী বা বড়ো প্রশ্নোত্তর।১৫০টি শব্দের মধ্যে।প্রতিটি প্রশ্নের মান-৫
১।'হায় ছায়াবৃতা,-ছায়াবৃতা বলার কারণ কী? তার সম্পর্কে কবি কী বলেছেন সংক্ষেপে লেখ।
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থথেকে'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।
আলোচ্য অংশটিতে,নিবিড় ঘন অরণ্য ঘেরা আফ্রিকায় সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না।তাই
আফ্রিকাকে ছায়াবৃতা বলা হয়েছে।
কবি আফ্রিকার জন্মের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু তুলে ধরেছেন।ঘন অরণ্য ঘেরা ভূখণ্ডে
আফ্রিকার জন্ম। আফ্রিকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল।ঈশ্বর নিজের খেয়ালে
ভাঙ্গা গড়ার কাজ করে, ঠিকমতো না হলে তিনি আবার নতুন সৃষ্টিকে ধ্বংস করে গড়তে
থাকে। তাই ঈশ্বর সমুদ্রের বাহু পৃথিবীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।এভাবেই
নতুন আফ্রিকা মহাদেশের জন্ম হয়।।এই কারণে আফ্রিকার ঘন অরণ্যে সূর্যের আলো
প্রবেশ করতে পারে না।এখানে প্রকৃতি যেন আফ্রিকাকে পাহারা দিয়ে রেখেছে। কবি যেন
বলেছেন'কৃপণ আলোর অন্তঃপুর। প্রকৃতি যেন আফ্রিকা মহাদেশকে অন্ধকারময় দেশে
সৃষ্টি করেছে। সেই অন্ধকারময় অরণ্যে সূর্যালোকের আলো সেই অরণ্যকে ভেদ করে নিচে
আসতে পারে না। তাই আফ্রিকা মহাদেশকে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ বলা হয়।
২।'চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে,-তোমার বলতে কার কথা বলা হয়েছে?
তার অপমানিত ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত'পত্রপুট,কাব্যগ্রন্থ থেকে'আফ্রিকা,কবিতাটি নেওয়া
হয়েছে।আলোচ্য অংশটিতে,কবি'তোমার,-বলতে আফ্রিকার কথা বলা হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর আফ্রিকা কবিতায় অপমানিত ইতিহাস বলতে,সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের
অত্যাচারের ফলে আফ্রিকার অধিবাসীদের বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার ইতিহাসকে বুঝিয়েছেন।সভ্য
ইউরোপীয়রা দীর্ঘদিন।আফ্রিকার নিজস্ব ঐতিহ্য সংস্কৃতি তারা স্বীকার করত না।কিন্তু
উনবিংশ শতকে ইউরোপীয়রা আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন শুরু করে এবং পুরো আফ্রিকা
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উপনিবেশে পরিণত হয়।আফ্রিকার সম্পদের সন্ধান পেতে
ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী দল শুরু করল মানবিক লাঞ্ছনা।আফ্রিকার সহজ সরল
মানুষগুলোকে লোহার হাতকড়ি পরিয়ে মানুষ ধরার দল তাদের পরিণত করল ক্রীতদাসে।
আফ্রিকার এই সাধারণ মানুষের রক্ত ও অশ্রুতে আফ্রিকার পথ কাঁদায় পরিণত হয়।
সাম্রাজ্যবাদী দস্যুদের কাটা মারার জুতোর তলার কাদার পিণ্ড আফ্রিকার অপমানিত
ইতিহাসের চিরচিহ্ন দিয়ে গিয়েছে।
৩।"দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে"।—কবি কাকে এই আহ্বান করেছেন?কীভাবে সে
মানহারা হয়েছে নিজের ভাষায় লিখো।
উত্তর:রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘আফ্রিকা, কবিতায় কবি যুগান্তের কবির উদ্দেশ্যে এই আহ্বান
করেছেন।
আলোচ্য অংশে কবিদেখেছেনমানবসমাজেচিরকালআফ্রিকারউপরঅপমানিত,অবহেলিত।
কোন এক সময়ে আফ্রিকা-এশিয়ার সঙ্গে থাকলেও একসমযেআফ্রিকার পুরো
ভৌগোলিকটা আলাদা হয়ে যায়। আফ্রিকা অন্ধকারাচ্ছন্ন দেশ বলেপরিচিত হয়। ইউরোপীয়
সাম্রাজ্যবাদী শাসকের অমানুষিক অত্যাচারের ফলে আফ্রিকাবাসীর জীবন শেষ হয়ে যায়।
সাম্রাজ্যবাদী সভ্য মানুষের দল নিজেদের হিংস্রতার প্রকাশঘটিয়ে, আফ্রিকার কালো
মানুষদের লোহার চেনে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের চোখের জল এবং রক্ত দিয়ে
আফ্রিকার পথের ধুলো কাদায় পরিণত হয়েছিল। এই কালো মানুষদেরইউরোপের হাটে
বাজারে বিক্রি করা হতো। তাদের অমানবিক অত্যাচারের ফলে আফ্রিকারইতিহাস
অপমানিত হল। এইভাবে আফ্রিকা মানহারা হয়েছিল।
৪।'আফ্রিকা,কবিতায় আফ্রিকার নিপীড়িত মানুষের প্রতি রবীন্দ্রনাথের যে দরদ ও
ভালোবাসার পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে,তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘আফ্রিকা,কবিতায় ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী সভ্য মানুষেরা
কীভাবে আফ্রিকার কালো মানুষদের পশুর মতো ব্যবহার করেছে, তাতে আফ্রিকার
ইতিহাসকে কলুষিত করেছে।
কবি মনে করেছেন, স্রষ্টা নিজেই যখন আপন সৃষ্টির ভাঙা-গড়া খেলায় মেতে উঠেছে
তখনই সমুদ্র আফ্রিকাকে যেন ছিনিয়ে গেল প্রাচীন পৃথিবীর বুক থেকে।শক্তিশালী
ইউরোপীয়রা থাবা বসাল আফ্রিকার ওপর। আফ্রিকার কালো মানুষদের ইউরোপের হাটে
বাজারে কেনা বেচায় তারা মেতে উঠল। আফ্রিকাবাসীরা পরিণত হল ইউরোপীয়দের
গুলাম। তারা লোহার শিকলে বেঁধে তাদের নিয়ে যাওয়া হল ইউরোপের হাটে-বাজারে।
ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী অত্যাচারিত দল কালো মানুষের রক্ত আর অশ্রুতে আফ্রিকার মাটি
কাঁদাতে পরিণত হলো। ইউরোপীয়দের অমানবিক অত্যাচার দেখে কবি স্থির থাকতে
পারেননি। তাই যুগান্তের কবিকে দুঃখের সঙ্গে আহ্বান করে তিনি বলেছেন-"দাঁড়াও ওই
মানহারা মানবীর দ্বারে"-তিনি বলেছেন আফ্রিকার কাছে ক্ষমা চাইতে।কেননা অন্যায় দেখে
চুপ থাকা সবচেয়ে বড়ো অপরাধ।'ক্ষমা করো,-এই বাণী উচ্চারণ করলে তাদের পূর্ণ শান্তি
হবে বলে কবির বিশ্বাস।
Contents:
আরো পড়ুন:
জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর Click Here
অভিষেক কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click Here
নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
কোনি গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click Here
the passing away of bapu question answer
Unit 1 Click Here
The passing away of bapu question answer
unit 2 Click Here
The passing away of bapu question answer unit 3 Click Here
My Own True family poem Lesson 4 Click Here
শসার স্বাস্থ্য উপকারিতা click Here
efits for health click hair
মধুর উপকারিতা click here
শব্দ দূষণ click here
একাদশ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় সেমিস্টার
নুন কবিতা প্রশ্ন উত্তর click here
প্রবন্ধ রচনা দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান Click here
একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রবন্ধ রচনা click here
বাংলার উৎসব প্রবন্ধ রচনা Click here
বিজ্ঞান ও কুসংস্কার প্রবন্ধ রচনা Click here
গাছ আমাদের বন্ধু প্রবন্ধ রচনা Click here
মোবাইল ফোনের ভালো মন্দ প্রবন্ধ রচনা Click here
বইমেলা প্রবন্ধ রচনা Click here
একটি গাছ একটি প্রাণ প্রবন্ধ রচনা Click here
বাংলা ব্যাকরণ কারক ও অকারক সম্পর্ক Click here
সমাসের প্রশ্ন উত্তর Click here
বাক্যের প্রশ্ন উত্তর Click here
ন্যাস্টিক চলনের প্রশ্ন উত্তর Click here
উদ্ভিদ হরমোনের প্রশ্ন উত্তর Click Here
চোখ click here
স্নায়ুর প্রশ্ন উত্তর Click here
অগ্ন্যাশয় এর প্রশ্ন উত্তর Click here
0 Comments